বিশেষ সংবাদ
কোটি টাকার ইজারা দিয়েও চিলমারী নদীবন্দরে নেই প্রত্যাশিত যাত্রীসেবা
হাজারো যাত্রীর পদচারণায় প্রতিদিন মুখর থাকে কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী নদীবন্দর। রৌমারী, রাজীবপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষের নৌপথে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ঘাট এটি। তবে দীর্ঘদিনেও এখানে নিশ্চিত হয়নি ন্যূনতম যাত্রীসেবা। নেই যাত্রীছাউনি, গণশৌচাগার কিংবা পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বয়স্কদের।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত চিলমারী নদীবন্দর একসময় দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌবন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের পরিক্রমায় এর জৌলুস কিছুটা কমলেও গুরুত্ব কমেনি একটুও। প্রতিদিন রৌমারী, রাজীবপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ নৌপথে যাতায়াতের জন্য এই ঘাট ব্যবহার করেন।
সরেজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নৌকার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন। তীব্র রোদ কিংবা বৃষ্টিতে তাদের জন্য নিরাপদ কোনো অপেক্ষালয় নেই। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অসুস্থ, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
শুধু যাত্রীছাউনির অভাবই নয়, চিলমারী নদীবন্দরে কোনো গণশৌচাগারও নেই। রৌমারী কিংবা রাজীবপুরের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে দুই-তিন ঘণ্টার নৌযাত্রা শেষে ঘাটে আসা যাত্রীরা প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ হয় সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনের সময় অনেককে বাধ্য হয়ে আশপাশের বাড়িতে যেতে হয়। আবার কেউ কেউ লোকলজ্জা এড়িয়ে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম সারতে বাধ্য হচ্ছেন।
রৌমারী উপজেলা থেকে আসা বেলাল হোসেন বলেন, ‘অনেক দূর থেকে নৌকায় করে আসি। ঘাটে এসে বসার বা সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কোনো টয়লেট নেই। নারীদের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টের। এত বড় ঘাটে অন্তত একটি গণশৌচাগার থাকা উচিত।’
একই উপজেলার শাহারিয়ার নাজিম বলেন, ‘নৌকার জন্য অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি এলে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়। যাত্রীদের জন্য দ্রুত ছাউনি ও বসার ব্যবস্থা করা দরকার।’
ঘাট-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী নদীবন্দর দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫০টি নৌকা চলাচল করে। প্রতিটি নৌকায় গড়ে ৮০ থেকে ১০০ জন যাত্রী থাকেন। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল থাকলেও পর্যাপ্ত আসন, সুপেয় পানি কিংবা শৌচাগারের সুবিধা নেই।
চলতি অর্থবছরে চিলমারী নদীবন্দর ঘাটটি থেকে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও যাত্রীসেবায় কোনো দৃশ্যমান উন্নতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছর ঘাট থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হচ্ছে। অথচ যাত্রীদের বসার জায়গা নেই, টয়লেট নেই, পানির ব্যবস্থা নেই। এত বড় একটি ঘাটে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
এদিকে, চিলমারী নদীবন্দর উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পের কাজও এগোচ্ছে ধীরগতিতে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলমান বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৪ শতাংশ বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, আলাদাভাবে গণশৌচাগার নির্মাণের কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই। তবে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেটির কাজ শেষ হলে টার্মিনালটি চালু করা হবে এবং তখন যাত্রীরা সব সুবিধা পাবেন।
ঈদের আগেই টার্মিনালটি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুর হাসান বলেন, ‘চিলমারী নদীবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’
৬২ দিন আগে
ভারী যান চলাচল বন্ধ, পুরোপুরি কাজ আসছে না ১২৪ কোটির দ্বিতীয় তিস্তা সেতু
বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ লালমনিরহাটের চার উপজেলার সঙ্গে বিভাগীয় নগরী রংপুরের যোগাযোগ সহজ করতে তিস্তা নদীর ওপর ১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ‘দ্বিতীয় তিস্তা সেতু’। সেতুটির সঙ্গে রংপুর নগরীকে যুক্ত করতে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কও। কিন্তু সেতু ও সড়ক নির্মাণের পরও এর সুফল পাচ্ছে না পণ্যবাহী ভারী যানবাহনগুলো।
সেতুর ওপর দিয়ে বাস ও ট্রাকসহ ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী যানকে লালমনিরহাট জেলা সদর হয়ে রংপুরে যেতে হচ্ছে। এতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে পরিবহন খরচ ও সময়, যার প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ ভোক্তার ওপরও।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এলাকার সঙ্গে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরকে যুক্ত করা ৮৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার সঙ্গে রংপুরের যোগাযোগ সহজ করাই ছিল এই সেতু নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, রংপুর নগরীর বুড়িরহাট থেকে গঙ্গাচড়ার শংকরদহের সিরাজুল বাজার পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। কিন্তু ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো এখন প্রত্যাশিত কাজে আসছে না।
লালমনিরহাট এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সেতুটির উদ্বোধন করা হলেও নাজুক সড়কের কারণে প্রথম চার বছর ভারী যান চলাচল করতে দেওয়া হয়নি। পরে ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি সব ধরনের যানবাহনের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়।
কিন্তু বছর না ঘুরতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সদস্যরা ভারী যান চলাচল বন্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।
আন্দোলনের মুখে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের আদেশে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সেতুর উত্তর প্রান্তে প্রতিবন্ধক খুঁটি বসিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় বলা হয়েছিল, আঞ্চলিক মহাসড়কটি পুনর্নির্মাণ করে ভারী যান চলাচলের উপযোগী না করা পর্যন্ত প্রতিবন্ধক বহাল থাকবে। তা না হলে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপে সড়কটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে ভারী যান চলাচল বন্ধের প্রায় দেড় বছর পার হলেও সড়কটি পুনরায় চালুর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সড়ক নির্মাণের পরও কেন বন্ধ ভারী যান চলাচল?
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রংপুর কার্যালয় জানায়, প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বুড়িরহাট থেকে শংকরদহের সিরাজুল বাজার পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কটির নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হয়।
দরপত্র অনুযায়ী, কার্পেটিং করা পাকা সড়কটির প্রস্থ ১৮ ফুট। এর দুই পাশে ৩ ফুট করে মোট ৬ ফুট ইট বিছানো এবং আরও ৩ ফুট করে দুই পাশে মোট ৬ ফুট মাটি বিছানোসহ সড়কটি প্রশস্ত করা হয়।
নির্মাণের পর ভারত থেকে আমদানি করা পাথরসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ভারী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাস চলাচলও শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরে সড়কের দুই পাশের ইট ও মাটি ধসে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর আবারও ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির প্রভাব ও সিন্ডিকেটের কারণেও সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, সড়কটি ভারী যান চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় তারা এর বিরোধিতা করছেন।
অতিরিক্ত পথে বাড়ছে পরিবহন খরচ
সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্রেশ্বর এলাকায় সংযোগ সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে লোহার পাইপ দিয়ে প্রতিবন্ধক তৈরি করা হয়েছে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে বাস বা ট্রাক চলাচল করতে পারছে না।
পিকআপ, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস কোনোরকমে চলাচল করলেও বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসগুলোকে কাকিনা বাজার হয়ে লালমনিরহাট জেলা সদর ঘুরে রংপুরের কাউনিয়া তিস্তা সেতু দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
আমদানিকারক ব্যবসায়ী ও ট্রাক-ট্যাংক লরি শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য, বুড়িমারী থেকে রংপুরের দূরত্ব মহিপুরের দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ব্যবহার করলে প্রায় ৯০ কিলোমিটার। কিন্তু বর্তমানে লালমনিরহাট শহর হয়ে রংপুরে যেতে পাড়ি দিতে হচ্ছে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার। অর্থাৎ প্রায় ৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট হয়ে রংপুরে আসতে একটি ট্রাকের ভাড়া পড়ে ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা। অথচ দ্বিতীয় তিস্তা সেতু দিয়ে এলে ভাড়া পড়ত ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। অতিরিক্ত পথের কারণে ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের প্রায় দুই ঘণ্টা অতিরিক্ত সময়ও ব্যয় হচ্ছে।
ট্রাকচালক সাকিব বলেন, সড়কটি বন্ধ থাকায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। সবার দিক বিবেচনা করে সড়কটি খুলে দেওয়া উচিত।
রংপুর নগরীর চেকপোস্ট এলাকার ব্যবসায়ী রাজ মাহমুদ বলেন, শতকোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটি ব্যবসায়ীদের কোনো কাজে আসছে না। পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। দ্রুত ভারী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া দরকার।
সেতুটি কি শুধু ভ্যান, অটো আর টেম্পুর জন্য?
রংপুর জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, তারা আশা করেছিলেন মহিপুর সেতু হলে শ্রমিকদের কষ্ট কমবে। কিন্তু সেতু হওয়ার পরও তারা এর সুবিধা পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, ‘সেতুটি কি শুধু পথচারী, ভ্যান, অটো আর টেম্পুর জন্য করা হয়েছে? ভারী যানবাহন কেন বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই আমাদের স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। জনস্বার্থ ও শ্রমিক-মালিকদের সুবিধার্থে এটি অবিলম্বে খুলে দেওয়া উচিত।’
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, হাতীবান্ধা-রংপুর রুটে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন দরিদ্র মানুষ থ্রি-হুইলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। হাইওয়েতে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা বিকল্প এই রুট ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, মাঝেমধ্যেই পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা পথটি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তাদের সমস্যা তৈরি করেন। এর আগেও সড়কটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন বাস-ট্রাক চলাচলের কারণে সড়ক ভেঙে যায় এবং ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক প্রশস্ত ও মজবুত করা হলে বাস-ট্রাক চলায় আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
এই পরিবহন শ্রমিক নেতার দাবি, বর্তমান অবস্থায় ভারী যান চলাচল শুরু হলে পাঁচ থানার হাজার হাজার রোগী যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। এসব বিষয় বিবেচনা করেই ভারী যানবাহন বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে এলজিইডি লালমনিরহাট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাওছার আলম বলেন, আন্দোলনের পর বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেতু বা সড়কের মূল কাঠামোতে কোনো সমস্যা নেই।
ফলে, একদিকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতু ও সংযোগ সড়ক পড়ে রয়েছে ভারী যান চলাচলের বাইরে, অন্যদিকে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পণ্যবাহী যানকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫০ কিলোমিটার পথ ঘুরে রংপুরে যেতে হচ্ছে। এতে যে উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ হচ্ছে—সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
৬৩ দিন আগে
মান্দায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের শ্রমিক মজুরির ৫০ লাখ টাকা নিয়ে প্রশ্ন
দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য নেওয়া নওগাঁর মান্দা উপজেলার দুই ইউনিয়নের খাল পুনঃখনন প্রকল্পে প্রায় ৫০ লাখ টাকার শ্রমিক মজুরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া ৪০ দিন মেয়াদি এ প্রকল্পে কাগজে-কলমে প্রতিদিন ২৫০ জন অতিদরিদ্র শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের পুরো সময়ে কোনো দিনমজুরকে খাল খননের কাজে দেখা যায়নি।
সরকারের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় কুসুম্বা ও ভারশো ইউনিয়নে ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের এ প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় কুসুম্বা ইউনিয়নের হারকিশোর মৌজার বিল উথরাইল সেতু থেকে বাদলঘাটা সেতু এবং ভারশো ইউনিয়নের বাকাপুর মৌজার বাকাপুর দফাদার মোড় থেকে প্রধান সড়ক হয়ে বিল উথরাইল পর্যন্ত খাল পুনঃখননের কথা ছিল।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি, জলাবদ্ধতা কমানো এবং অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। প্রকল্পের মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা শ্রমিকদের মজুরি এবং বাকি অর্থ এক্সকাভেটর পরিচালনা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বরাদ্দ ছিল।
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। তবে খাল পুনঃখননের চেয়ে এখন শ্রমিকদের তালিকা ও মজুরির হিসাব নিয়েই বেশি প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে প্রকৃত অতিদরিদ্র শ্রমিকদের পরিবর্তে স্বচ্ছল ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, মুদি দোকানদার, সচ্ছল কৃষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের নাম শ্রমিকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাস্তবে শ্রমিক দিয়ে কাজ না করিয়েই প্রতিদিন দুই ইউনিয়নে ১২৫ জন করে মোট ২৫০ জন শ্রমিক কাজ করেছে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
অবশ্য প্রকল্পের ৪০ দিনে ১০ হাজার শ্রমিক-দিবসের মধ্যে মাত্র ৬১ শ্রমিক-দিবস অনুপস্থিত দেখিয়ে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে জেলার অন্যান্য উপজেলায় একই ধরনের প্রকল্প শেষে ফেরত দেওয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা।
কাজে শ্রমিক দেখেননি স্থানীয়রা
প্রকল্প এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিক দিয়ে খাল খননের বিষয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।
ভারশো গ্রামের বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান দেওয়ান বলেন, তিনি প্রকল্প এলাকা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। প্রকল্পের কাজ চলার এক মাসের বেশি সময়ে তিনি কোনো দিনমজুরকে খাল খননের কাজ করতে দেখেননি।
৬৫ দিন আগে
কুমারখালীর একমাত্র খেলার মাঠ এখন জলাভূমি, হারিয়ে যাচ্ছে খেলাধুলার পরিবেশ
একটা সময় সকাল-বিকেল মুখর থাকত কুমারখালী উপজেলা পরিষদের একমাত্র খেলার মাঠটি। শোনা যেত বুটের শব্দ। ফুটবল, ক্রিকেট আর ভলিবলের উত্তেজনায় সারা বছর সরগরম থাকত মাঠ। ব্যায়ামপ্রেমীদেরও নিয়মিত আনাগোনা ছিল। ঈদ এলে এখানেই অনুষ্ঠিত হতো উপজেলার সবচেয়ে বড় জামাত। সরকারি সভা-সেমিনার থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সবকিছুরই প্রাণকেন্দ্র ছিল মাঠটি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন মাঠে নেই খেলার বল, নেই খেলোয়াড়দের ছোটাছুটি। আছে পানি, কচুরিপানা আর হাঁটুসমান আগাছা। বছরের প্রায় আট মাসই থাকে জলাবদ্ধতা। পানিতে ডুবে আছে ঈদগাহের মিনার। মাঠজুড়ে ঘুরে বেড়ায় গরু-ছাগল। আর মাঠের পাশের সড়কে বসে তরুণরা মোবাইল ফোনে গেম খেলে সময় পার করেন। এভাবেই ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারাচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলার মাঠটি।
উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার উত্তরে দুর্গাপুর এলাকায় মাঠটির অবস্থান। এর এক পাশে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অন্য পাশে কুমারখালী আদর্শ মহিলা বিদ্যালয় ও আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠটির পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেন নেই। আশপাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ ও পুকুর খননের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ। ফলে প্রতি বর্ষায় মাঠটি তলিয়ে যায়। বর্ষা শেষ হলেও মাঠ থেকে পানি সরতে সময় লাগে আরও কয়েক মাস। এ কারণে বছরের বড় একটি সময় মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের বুকজুড়ে স্থির পানি। কোথাও কোথাও পানির ওপর কচুরিপানায় ফুটে আছে সাদা-বেগুনি রঙয়ের ফুল। মাঠের বিভিন্ন অংশে বড় বড় দুর্বা ঘাস ও আগাছার জঙ্গল। কেউ কেউ গবাদিপশুর জন্য সেখান থেকে ঘাস কাটছেন। মাঠের এক কোণে নানা বয়সী কয়েকজনকে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায়।
৬৭ দিন আগে
গাইবান্ধায় এক মাসে তিন নদীর পেটে ৯ স্কুল, ভাঙনের মুখে আরও ৬
ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যেই মাত্র এক মাসে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেছে ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে এসব বিদ্যালয়ের অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ভাঙনের মুখে। সব মিলিয়ে ১৫টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গেল মঙ্গলবার সকালে তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলেছে। এতে লাখ লাখ টাকার বিল তোলা হলেও বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ‘স্কুলটি রক্ষার জন্য অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবাই ঘোরে টাকার পেছনে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রক্ষায় লোক দেখানো কাজ করে বিল তুলে চম্পট দেয়। শেষ পর্যন্ত তিস্তা নদীর পেটে চলে গেল স্কুল ভবন। এতে শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেল।’
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টি রক্ষায় পাউবোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানানো হয়েছিল। পরে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা ভাঙন ঠেকাতে পারেনি। এরই মধ্যে তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয় ভবনটি নদীগর্ভে চলে যায়।
এদিকে, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনেও চলতি মৌসুমে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার চর চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর খাটিয়ারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর উপজেলার মোল্লারচর এলাকার সীতাসতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ফুলছড়ি উপজেলার চর পিপুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কটকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট নয়টি বিদ্যালয় গত এক মাসে তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনে এসব বিদ্যালয়ের অনেক স্থাপনা ও আসবাবপত্র নদীতে চলে গেছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি, বেঞ্চ ও অন্যান্য সামগ্রী স্থানীয় শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, নদীগর্ভে বিলীন হওয়া নয়টি বিদ্যালয়ের অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর ত্রৈমাসিক পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়নি। সরকারি হিসাবে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত থাকার কথা বলা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।
স্থানীয়রা জানান, কোনো কোনো বিদ্যালয়ের জন্য নির্জন স্থানে অস্থায়ীভাবে চালা তৈরি করা হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল বা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ। অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষকদের উপস্থিতিও নেই। আবার চরাঞ্চলের প্রভাবশালীদের মধ্যে বিদ্যালয়গুলো কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নিয়েও টানাপোড়েন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ভাঙনের মুখে থাকা আরও ছয়টি বিদ্যালয় নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এগুলো হলো: চর পশ্চিম খাটিয়ারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেতকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাউয়াবাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কটিয়ারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌরীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর ডাকুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এসব বিদ্যালয়ের আঙিনা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ও ভাঙন পৌঁছে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যালয়গুলো নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের টিন, বেড়া ও খুঁটি খুলে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলো রক্ষায় স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করা হলেও প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলার পর কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনের কারণে ওই এলাকার অনেক মানুষ নিজেদের বসতভিটা, বাড়িঘর ও আবাদি জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখন বিদ্যালয়গুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস বলেন, ‘ভাঙনে বিলীন হওয়া স্কুলগুলো সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। যেসব স্কুলের ভবন সরানো সম্ভব হয়নি, সেগুলো শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিগগিরই স্থানান্তর করা হবে।’
নদীভাঙনে স্কুল বিলীন হলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটা স্বাভাবিক নয়। অনেক বিদ্যালয় নির্জন স্থানে অস্থায়ী চালার নিচে কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় আসবাব নেই। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিত যান না বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ বিদ্যালয়ের জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
৬৮ দিন আগে
এসএসসিতে যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় খোকসার রওনক, চালান না ফেসবুক
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২২১ নম্বর পেয়ে যশোর বোর্ডের মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে রওনক হাসান। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য—এই ডিজিটাল যুগে এসেও রওনকের নেই কোনো স্মার্টফোন, নেই ফেসবুক অ্যাকাউন্টও। অবসর সময়টা কাটায় সে বই আর খাতার সঙ্গে।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম রমনাথপুর। গ্রামটি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে, গড়াই নদীর ওপারে উপজেলা শহর। সেখানেই অবস্থিত উপজেলার একমাত্র সরকারি বিদ্যালয়—খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন বাইসাইকেলে এই পথই পাড়ি দিতেন রওনক হাসান। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। আর সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তির পুরস্কারই পেয়েছে সে।
রওনক রমনাথপুর গ্রামের শিক্ষক দম্পতি হাসানুল হাবীব ও রূপালী খাতুনের প্রথম সন্তান।
রওনক বলে, ‘আমার কোনো স্মার্টফোন নেই, ফেসবুক অ্যাকাউন্টও নেই। অবসর সময়ে বই পড়তাম। গান গাইতেও ভালো লাগে। শিক্ষকরা এবং বাবা-মা সবসময় পাশে ছিলেন।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিন প্রকৌশল (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং) নিয়ে পড়াশোনা করা তার স্বপ্ন।
ছেলেটির ভাষ্য, সে নিয়মিত ৫-৬ ঘণ্টা পড়াশোনা করত। প্রাইভেট-কোচিংয়েও খুব একটা পড়েনি। তবে স্কুল কামাই করত না সাধারণত।
রওনকের সফলতায় গর্বিত বাবা-মা
রওনকের মা রূপালী খাতুন রমনাথপুর মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। বাবা হাসানুল হাবীব কুমারখালীর ডাঁসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক। সন্তানের সাফল্যে তারা আজ গর্বিত।
বাবা বলেন, ‘সে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। মোবাইল-ফেসবুকের দিকে ঝোঁক ছিল না। আমরা শুধু পাশে থেকে সাহস দিয়েছি। ওর এই সাফল্য আমাদের এলাকার জন্য গর্বের।’
মা বলেন, ‘রওনক খুবই অনুগত। তাকে কখনও পড়ার কথা বলা লাগে না। প্রতিদিন নিজের ইচ্ছামতো ৫-৬ ঘণ্টা নিয়মিত পড়াশোনা করত সে।’
‘ভেবেছিলাম সে পরীক্ষায় ভালো করবে। তবে বোর্ডের দ্বিতীয় হবে তা কল্পনার বাইরে ছিল,’ বলেন রূপালী খাতুন। সেই সঙ্গে ছেলেও ভবিষ্যত সাফল্য কামনায় সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
৬৯ দিন আগে
জরাজীর্ণ সেই কাঠের সেতুটিও ভেঙে গেছে, ডিঙি নৌকাই এখন ভরসা
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকায় নদী পারাপারের জন্য নির্মিত কাঠের সেতুটি ভেঙে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, নদী পারাপারের জন্য নির্মিত কাঠের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি সেতুটির একাংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। সেতু ভেঙে যাওয়ায় এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতু না থাকায় সত্যিই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।
প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকাগুলো মূলত কৃষিনির্ভর। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকরাও উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো হাট-বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকা কিংবা ব্রিজের অবশিষ্ট অংশ ব্যবহার করে নদী পারাপার করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
৭০ দিন আগে
খোলা আকাশের নিচে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম, বৃষ্টি নামলেই বন্ধ পাঠদান
একটু বৃষ্টি নামলেই বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান। হঠাৎ কালো মেঘ জমলেই বইখাতা গুটিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। আবার প্রচণ্ড রোদে খোলা আকাশের নিচেই চলছে ক্লাস। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একটি নতুন ভবনের অভাবে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভবন সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই শিক্ষকদের পাঠদান করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বাধ্য হয়ে খোলা স্থানে ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি শুরু হলেই ভিজে যায় বইখাতা ও শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় পাঠদান বন্ধ রেখে বাড়ি ফিরে যেতে হয় তাদের।
বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে সরকারিকরণ হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো ভবন ২০২১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ভবনটি নিলামে বিক্রি করে অপসারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
৭১ দিন আগে
শখের রঙিন মাছ চাষে লাখপতি পটুয়াখালীর ইমন
শখের বশে শুরু করেছিলেন রঙিন মাছ চাষ। প্রথম দিকে একের পর এক মাছ মারা গেলেও হাল ছাড়েননি পটুয়াখালী শহরের তরুণ উদ্যোক্তা মেহেরাব ইমন। অনলাইন থেকে জ্ঞানার্জন করে নিজেই করেছেন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সেই শখই এখন পরিণত হয়েছে সফল ব্যবসায়। তার বাড়ির আঙিনায় গড়ে তোলা খামারে রয়েছে হাজারো রঙিন মাছ। বর্তমানে সেখান থেকে তিনি মাসে আয় করছেন লাখ টাকারও বেশি। ইমনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন স্থানীয় অনেক তরুণ।
পটুয়াখালী পৌর শহরের কলাতলা এলাকায় বাড়ির আঙিনায় গড়ে উঠেছে রঙিন মাছের এই ব্যতিক্রমী খামার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি প্লাস্টিকের বোতল ও জারে খেলা করছে নানা রঙের বেটা, মলি, গাপ্পি, সোর্ডটেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। লাল, নীল, হলুদসহ নানা রঙের মাছের সমারোহে পুরো খামারজুড়েই যেন উৎসবের আমেজ।
২০২১ সালে পড়াশোনা শেষ করে শখের বশে বেটা মাছ চাষ শুরু করেন ইমন। পরের বছর পটুয়াখালী শহরের বটতলা মসজিদ এলাকায় পৈতৃক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলেন মাছের খামার।
ঢাকায় বোনের বাসায় গিয়ে বিভিন্ন রঙের বেটা মাছ দেখে আগ্রহ তৈরি হয় তার। পরে বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করে প্রথম পাঁচ জোড়া মাছ কিনে চাষ শুরু করেন তিনি। তবে শুরুতেই বড় ধাক্কা খান। পরিচর্যার অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রায় সব মাছ মারা যায়। কিন্তু ব্যর্থতায় দমে যাননি তিনি। অনলাইন থেকে বিভিন্ন তথ্য ও কৌশল শিখে নিজেই শুরু করেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
৭২ দিন আগে
চিলমারীর চরাঞ্চলে শিক্ষকসংকট চরমে, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে দিয়েই তিন শ্রেণির পাঠদানসহ দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে। একই ইউনিয়নের দক্ষিণ নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ২০২২ সাল থেকে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে।
অতি সম্প্রতি মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম একাই তিন শ্রেণির পাঠদান করছেন। এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া বুঝিয়ে দিয়ে অন্য শ্রেণিতে ছুটে যেতে হচ্ছে তাকে। এর পাশাপাশি দাপ্তরিক কাগজপত্র তৈরি, মিড-ডে মিলের হিসাব, উপস্থিতি রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং সরকারের বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের নথিপত্রে মাসুমা আক্তার নামে আরেকজন শিক্ষক থাকলেও ২০২৩ সালে যোগদানের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে তিনি চিলমারী সদরের একটি বিদ্যালয়ে প্রাক্কলনে (ডেপুটেশন) চলে যান। দুই শিক্ষকবিশিষ্ট বিদ্যালয় থেকে একজনকে অন্যত্র প্রাক্কলনে পাঠানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
দুই বছর আগে অবসরে যাওয়া বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, তার সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ২৫০ জন। শিক্ষকসংকটের কারণে তা কমে বর্তমানে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসি মনি বলে, ‘একজন স্যার সবাইকে বেশি সময় দিতে পারেন না, তাই আমরা ভালো শিখতেও পারছি না।’
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক শিশু শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
৭২ দিন আগে