বাংলাদেশ
উন্নয়নকাজে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেছেন, সততা বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে কিংবা প্রকল্পে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে টেন্ডার বাতিল করা হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে কর্তৃপক্ষের উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠু ও সততার সঙ্গে হচ্ছে কি না, তা পরিদর্শনের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও যাচাই করা হবে। উন্নয়ন কাজে কোনরূপ অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্লাকলিস্টেড (কালো তালিকাভূক্ত) করা হবে।
পাশাপাশি, ঠিকাদারি ও নির্মাণ কাজে যাতে কোনোরকম অনিয়ম-দুর্নীতি না হয়, সে বিষয়ে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের সচেতন করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশকে দূর্নীতিমুক্ত করে নতুনভাবে সাজাতে কম মুনাফায় সবোর্চ্চ মান ঠিক রেখে প্রকল্পের কাজ নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করতে হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. আব্দুল গোফফার, প্রকৌশলী আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার, পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, মো. মেহেদী হাসানসহ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত ঠিকাদারদের প্রতিনিধিরা।
৬ দিন আগে
সচিব হলেন দুই কর্মকর্তা
সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন সরকারের দুই কর্মকর্তা। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এ দুই কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একজন হলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব (অতিরিক্ত সচিব) মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। পদোন্নতির পর তাকে একই বিভাগে সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামানও সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতির পর তাকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
৬ দিন আগে
জুলাই শহিদদের গেজেট ও কবর সংরক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদদের মধ্যে যারা এখনও গেজেটভুক্ত হননি, তাদের দ্রুত তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে শহিদের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও পাকাকরণের উদ্যোগও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহিদ পরিবারের বিভিন্ন সমস্যার কথা নোট করে নিয়েছি এবং সেগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সফরসূচি অনুযায়ী পাঁচটি শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা থাকলেও পরে আরও দুটি শহিদ পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৩০ জুলাই শহিদ হলেও ওই ব্যক্তিকে এখনও গেজেটভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট সব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংসদেও আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ২ হাজার হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৮৪৩ জনকে গেজেটভুক্ত করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হলে দুই বছর পর এসে শহিদের সংখ্যা নির্ধারণে এমন বেগ পেতে হতো না এবং বর্তমান পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হতো না।
ইশরাক হোসেন বলেন, যারা এখনও তালিকাভুক্ত বা গেজেটভুক্ত হননি, অথচ জুলাই আন্দোলনে শহিদ হয়েছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মাতুয়াইল কবরস্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে জুলাই আন্দোলনের ১৭ জন শহিদকে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও তাদের কবর স্থায়ী করা হয়নি, পাকাকরণ করা হয়নি এবং স্থায়ীভাবে বরাদ্দও দেওয়া হয়নি। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সারা দেশে শহিদদের কবর স্থায়ী ও পাকা করার জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল। বাস্তবে সেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির ছায়া দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, কবরগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব কবর স্থায়ী করা হবে, পাকাকরণ করা হবে এবং স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এখনও গেজেটভুক্ত হতে পারেননি, তাদের শনাক্ত করে গেজেটভুক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে ভুয়া বা জাল কাগজপত্র দিয়ে কেউ গেজেটভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন না।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে তিনি নিজেই ১২টি গেজেট বাতিল করেছেন। তদন্তে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জুলাই আন্দোলনের পক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে শহিদ হননি; বরং তারা ফ্যাসিবাদের ব্যানারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর তাদের গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, এখনও যদি কেউ প্রতারণার মাধ্যমে গেজেটভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে কেউ তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ দিন আগে
আহত জুলাই যোদ্ধা সুজনের নবজাতক মেয়ের জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় আহত জুলাই যোদ্ধা মো. সুজনের নবজাতক শিশুকন্যা সাইফা নুর সুবহার জন্য উপহার পাঠিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের পরিকল্পনায় আমরা বিএনপি পরিবারের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকার কেরানীগঞ্জে সুজনের বাসায় যান।
আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটিতে ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।
দলটি মো. সুজনের নবজাতক কন্যা সন্তানের খোঁজখবর নেয় এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উপহার প্রদান করে। এছাড়া তারা জুলাই যোদ্ধা সুজনের শারীরিক অবস্থা এবং পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মোস্তাকিম বিল্লাহ, ফরহাদ আলী সজিব, রুবেল আমিন, শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, বনানী থানা বিএনপি নেতা সাইয়াম সিকান্দার পাপ্পু, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান ও আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
৬ দিন আগে
জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ ও দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা প্রশিক্ষণেও জাপানের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।
তিনি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে জাপানের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং পরিবহন খাতে আরও বেশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ জানান। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মতো আরও একটি শিল্প পার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন এবং চলমান ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলবিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো, জাপানের সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
৬ দিন আগে
সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের তিন বছরের কারাদণ্ড
দুদকের মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এস কে সুর চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ আয়েশা নাসরিন এ দণ্ড দেন।
এস কে সুর সাজা শুনে বিস্মিত হয়ে বলেন, ‘তিন বছরের সাজা! এই মামলায় না এক বছরের সাজা হয়?’
দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তরিকুল ইসলাম তরিক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৫ জুলাই মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, এস কে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তার ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদের হিসাব বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়।
তিনি গত বছরের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন। কিন্তু আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি তিনি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও মেয়ে নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর মামলা করেন।
গত বছরের ২৫ অগাস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন।
গত ৬ নভেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
৬ দিন আগে
মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো
বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান সানকো। প্রতিষ্ঠানটি দেশের মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার (৩০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলতে চায়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সানকোর প্রতিনিধি দলের এক বৈঠকে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিষয়টি জানানো হয়। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সানকোর প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশে তাদের বিদ্যমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদার ভিত্তিতে তারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আগ্রহী। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তুরস্ক থেকে টেক্সটাইল পণ্য সরবরাহ করলেও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বাজার, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং রপ্তানি সক্ষমতার কারণে দেশে উৎপাদন স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
সানকো প্রতিনিধিদল জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় কাপড় উৎপাদন, ফ্যাব্রিক প্রসেসিং এবং উচ্চমূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড) টেক্সটাইল পণ্য তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশে তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্রেতা রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন সুবিধা চালু হলে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান টেক্সটাইল কারখানাগুলোও প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে উপকৃত হবে।
তারা আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। নির্মাণকাজ শুরুর পর আনুমানিক ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
বৈঠকে সানকোর পক্ষ থেকে জ্বালানি সুবিধা, গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করার বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করা হয়। তারা জানায়, আধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কয়লাবিহীন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।
সানকোর প্রতিনিধিরা বলেন, একটি আধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদন কেন্দ্র শুধু বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে না, বরং বাংলাদেশের বস্ত্র খাতকে সাধারণ উৎপাদন থেকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
তারা আরও বলেন, গ্রামীণ ও শিল্পাঞ্চলে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। একটি সফল প্রকল্প অন্য উদ্যোক্তাদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
বৈঠকে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে সানকোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সরকার দেশের শিল্পখাতে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সানকোর এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পাট খাতে নতুন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
৬ দিন আগে
নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থার উদ্যোগ
দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ১০ বছরের বাজার, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট আগেভাগেই শনাক্ত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে এই প্রযুক্তি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন-বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বর্তমানে কৃষি, খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে কাজ করছে। এসব পণ্যের কোনটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, কোনটি আমদানিনির্ভর এবং কোনটির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় রয়েছে—তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অনেক সময় সরবরাহ সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি উৎসে সমস্যা তৈরি হলে যাতে হঠাৎ সরবরাহ ঘাটতি তৈরি না হয়, সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সরকার ভর্তুকি দিয়ে কমাবে কি না, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যেন বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় উৎপাদন, মৌসুমি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়মিত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো বছর দেশে ডালের উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ফসল ঘরে ওঠার আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেসব দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি ও রপ্তানি সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের জানতে হবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে কখন আমদানি করলে ভালো হবে এবং কোন বাজারে দাম তুলনামূলক সুবিধাজনক থাকবে।
এ লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই ব্যবস্থা ১০ বছরের বাজার তথ্য, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সভা করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু এআইভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ পাওয়া সম্ভব হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় একটি তথ্য পেতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করতে হতো এবং আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত। এআই ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারবে।
তিনি জানান, এআই ব্যবস্থা আগাম জানাতে পারবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করা সুবিধাজনক হবে, কোন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা কতটুকু রয়েছে এবং কখন ক্রয় করলে বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সারা বছর গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একা এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। কৃষি, খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। যেসব সংস্থা এ কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে, তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক তথ্য উৎস ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ তৈরি করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুরুতে এ ব্যবস্থার উন্নয়নে সময় লাগলেও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করার পর এটি মানুষের চেয়ে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বিশ্লেষণ দিতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, দ্রুত ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।
সভায় ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
৬ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ প্রাণহানি, আক্রান্ত ৯০৪
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৯০৪টি শিশু।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৩৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮২৮টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১০৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭৯৯। এই সময়ে ৭৮৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭৬৮টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৬০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪১ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ২৩৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৬ দিন আগে
মাদকবিরোধী অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সবাইকে নিয়ে আমরা মাদকবিরোধী অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই। শুধু আইন করে শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাদকের অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছি। সকলকে নিয়ে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই এবং এটি ছাড়া আমার মতে বিকল্প কোনো পথ নেই। শুধু আইন করে শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ঠাকুরগাঁওয়ে আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিতে যাচ্ছি, সেই পদক্ষেপের ফলে আমরা অবশ্যই কিছুটা ইতিবাচক ফল লাভ করব। আমরা চাই এ ব্যাপারে সকলে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন। মূল কাজ হচ্ছে প্রচার করা যে মাদক খারাপ জিনিস। এভাবে মানুষের সামনে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গামসহ অন্যরা।
৬ দিন আগে