বাংলাদেশ
মোবাইল ইউনিটে গ্রামেই হবে হৃদরোগের জটিল চিকিৎসা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, মোবাইল সার্জিক্যাল ইউনিটের মাধ্যমে হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আমূল বদলে দেওয়ার যে রূপকল্প এবং মিশন তুলে ধরেছি, এই উদ্যোগটি সেটাকে আরও বেগবান করবে। সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও পুনর্গঠন করবে, যাতে সরকারি হাসপাতালের সুবিধা প্রকৃত অর্থে সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে পারে।’
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চীন-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাত সহযোগিতার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক ‘মোবাইল মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইউনিট’ (ভ্রাম্যমাণ ভ্যান) হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘মোবাইল মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইউনিট’ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ড. মুহিত বলেন, অসংক্রামক ব্যাধি, বিশেষ করে হৃদরোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। এই চমৎকার মোবাইল ভেহিকেলটি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কাজগুলোকে শুধু ঢাকা নয়, বরং ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়ার এক দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
তিনি জানান, অসংক্রামক ব্যাধির কারণে মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব কমানোই বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতও গত ১৫ বছরে দুর্নীতি, তদারকির অভাব এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে আমরা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও পুনর্গঠন করতে চাই, যাতে সরকারি হাসপাতালের সুবিধা প্রকৃত অর্থে সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ওয়েনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই ভ্রাম্যমাণ ইউনিটটি আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতেও সহায়ক হবে।’
ড. মুহিত বলেন, আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে হাসপাতাল সম্প্রসারণ, চিকিৎসা গবেষণা এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে আমাদের অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। গবেষণা ও সেবা প্রদান উভয় ক্ষেত্রেই এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে আমাদের লক্ষ্যগুলো আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সেই সাধারণ ক্ষেত্রগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একটি স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছি, যা আমাদের বর্তমান ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনগুলো মেটাতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ উপস্থিত অন্যান্যরা।
১৩ দিন আগে
প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার পরিকল্পনায় সরকার: প্রতিমন্ত্রী
৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হবে জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করব।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, ব্যয় কাঠামো ও নীতিগত অগ্রাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ‘শিক্ষা বাজেট: বাজেটের শিক্ষা’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষা খাতের বিদ্যমান প্রবণতা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করব। ৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা হবে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। মিড-ডে মিল আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীর জন্য চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নতুন কারিকুলামের বিষয়ে তিনি বলেন, আর্থিক প্রণোদনা বৃদ্ধি করা ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং নতুন কারিকুলাম নিয়ে সরকার কাজ করছে। আমরা নতুন কারিকুলাম তাড়াহুড়ো করে করব না। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা খেলতে খেলতে শিখবে, গল্পের মাধ্যমে শিখবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গল্পের মাধ্যমে আনন্দদায়ক শিক্ষাপদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কোচিং, নোটবুক, গাইড—এসব আমরা বন্ধ করব। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। শিক্ষাটা হবে ক্যারিয়ার-কেন্দ্রিক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষকদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ সরকারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক তপন কুমার দাস। শিক্ষা বাজেটের প্রবণতা, বরাদ্দের কার্যকারিতা এবং বাস্তবায়ন ঘাটতির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বেসরকারি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে গণসাক্ষরতা অভিযানের ২১ দফা দাবি-সম্বলিত একটি স্মারকলিপি উপস্থাপন করেন।
এই ২১ টি দাবির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশ অথবা জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষার জন্য বিনিয়োগ করা। সরকারের প্রথম তিন অর্থবছরে জিডিপির ৫ শতাংশ এবং পর্যায়ক্রমে ৫ বছরের মধ্যে ৬ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা প্রণয়ন করা।
এ ছাড়াও প্রাথমিকে শিক্ষার্থীপ্রতি মাসে ন্যূনতম ৫০০ টাকা, নিম্ন মাধ্যমিকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৭০০ টাকা এবং মাধ্যমিক ও তার ওপরের শ্রেণিতে ১ হাজার টাকা করা, সমন্বিত শিক্ষা আইন করা, শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, স্থায়ী শিক্ষা কমিশন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে স্বল্পমেয়াদী কোর্সের ওপর জোর দেওয়া, নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান, দুর্যোগপ্রবণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে শিক্ষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত প্রণোদনা প্রদান, প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলগুলোকে সমাজকল্যাণের আওতায় আনা, জাতীয়ভাবে গবেষণার তথ্যসম্বলিত ডেটা ব্যাংক করা, শিক্ষায় বাণিজ্যিকীকরণ, নোটবই, গাইডবই ও কোচিং বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া, উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল সর্বজনীন করার জোর দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর)-এর ৩০ শতাংশ ব্যবহার ও ‘এডুকেশন সেইজ’ চালু করা যেতে পারে। প্রতিবেশি দেশ ভারতে এডুকেশন সেইজ (সারচার্জ) প্রবর্তন করে লক্ষাধিক কোটি টাকার ‘শিক্ষা সহায়তা তহবিল’ গঠন করা হয়েছে। আমরা যমুনা সারচার্জ দিয়ে যমুনা সেতু করেছিলাম, সেরকমই এটা।
অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ, ইএলসিজি বাংলাদেশ এর কো-চেয়ার এবং ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার এডুকেশন অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলর্মী।
উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অংশীজন শিক্ষা গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সহযোগী, প্রতিবন্ধী শিক্ষক সংগঠনের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা বাজেট নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
১৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ অনুযায়ী এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই নিয়োগের মাধ্যমে জিয়াউদ্দিন হায়দার এখন থেকে সরকারের প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা, বেতন-ভাতাদি এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সকল বিধি-বিধান অনুসরণ করবেন।
১৩ দিন আগে
১৮ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার, মূল্য নির্ধারণ
চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৮ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার। এরমধ্যে ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল, ৫ লাখ টন ধান ও এক লাখ টন আতপ চাল কেনা হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ মেয়াদে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রকিউরমেন্টের জন্য ধান ও চাল সংগ্রহ এবং গম সংগ্রহের বিষয়ে আমাদের চাহিদার বিপরীতে কী এবং আমাদের লক্ষ্যমাত্রা কী এবং আমরা কী পরিমাণ মজুদ রাখব, কী পরিমাণ নিরাপত্তা মজুদ এবং কী পরিমাণ আমদানি করব—এগুলো এবং তার মূল্য নির্ধারণ, এ সমস্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বোরো ধান ক্রয়ের জন্য আমরা কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দাম নির্ধারণ করেছি, যেটা পূর্বের দাম অর্থাৎ আগে যেভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল তেমনই। সেদ্ধ চালের ক্ষেত্রে ৪৯ টাকা কেজি প্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটাও আগের মতো। আতপ চালের ক্ষেত্রেও তাই, ৪৮ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়া গমের কেজি প্রতি আমরা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছি ৩৬ টাকা।
বোরো ধান, চাল ও গম কেনার লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চলতি বছরে বোরো সংগ্রহ মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ টন, সেদ্ধ চাল ১২ লাখ টন, আতপ চাল ১ লাখ টন ও গম ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী ৩ মে থেকে ধান ও ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
গম সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে গমের ক্ষেত্রে আমরা প্রকিউরমেন্টটা কখনও সফলভাবে এখানে করতে পারি না। কারণ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টনের মতো হলেও কৃষকরা সাধারণত সরকারের কাছে গম বিক্রি করতে আগ্রহী হন না। দেশের মোট গমের চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ টন, যার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গমের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনটা বাদ দিলে এই প্রায় ৭০-৭২ লাখ টনই আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে সরকার ৮ লাখ টনের মতো আমদানি করে, সেটা সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) এবং কোনো কোনো সময় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের ১৭-১৮ লাখ টন চাল মজুদ আছে। এর বাইরেও আমরা এ বছর আরও বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করব বলে আশা করছি। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা বোধ হয় ২৪-২৫ লাখ টন। সে হিসেবে আমাদের এখন মজুদ আছে ১৭-১৮ লাখ টন। এখন আমরা ৫ লাখ টন এই বোরো মৌসুমে প্রকিউর করব এবং সেটা চাহিদা অনুসারে, সময় অনুসারে, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুসারে আমরা সেটা বৃদ্ধি করতে পারব। সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।
১৩ দিন আগে
ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম
ঢাকার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানম।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
অন্যদিকে, ঢাকার ডিসি মো. রেজাউল করিমকে ঢাকার ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব করা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
গণমাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনেস্কোর সহায়তা কামনা তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমে নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেছেন। এক্ষেত্রে সংস্থাটির জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রীর নিজস্ব অফিসকক্ষে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে সরকারের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম বিশেষত গণমাধ্যমের উন্নয়ন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং ভুলতথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে ইউনেস্কোর উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রীকে জানান।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইউনেস্কো অপপ্রচারের বিস্তার রোধে ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদারে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে।
এই সাক্ষাতে তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার রোধ ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণের গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন। ইউনেস্কোর প্রতিনিধিও এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তাকে।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটের ব্যাগ, পোশাক দেবে সরকার
পাটশিল্প রক্ষা ও পরিবেশ দূষণ রোধে আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলার দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে।
রুমন জানান, পাটশিল্পকে রক্ষা এবং পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে মুক্ত করতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, আগামী জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুইটি করে স্কুলে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের স্কুল নির্বাচন করবে স্থানীয় প্রশাসন।
মাহদী বলেন, প্রথম মাসে এক লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাটের স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস দেওয়া হবে। সরকারের এই কার্যক্রমে প্রথম ধাপে প্রতি উপজেলার ২টি স্কুল পাবে। পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবে।
তিনি আরও জানান, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি স্থানীয় শিল্পের প্রসার ঘটাবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও ন্যায্যতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে। এই উদ্যোগ ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ও ব্যয়ে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করে কাজ করবে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, পাট শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। পলিথিনের কারণে যে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, সেখান থেকে জনগণকে সরিয়ে নিয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব পণ্য পৌঁছে দিতে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
১৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সম্মেলনকক্ষে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও জানান, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
রুমন জানান, সাক্ষাৎকালে স্কাউটের নেতারা তাদের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী স্কাউটের কর্মপরিকল্পনা শুনেছেন এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক নাগরিক হিসেবে তুলতে স্কাউটিং আন্দোলনের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
প্রতিনিধিদল আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য একটি আন্তর্জাতিক স্কাউট সম্মেলন সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্কাউট স্কার্ফ পরিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় স্কাউট প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন এবং এসব কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহসানুল হকসহ জাতীয় স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ-ইথিওপিয়া
অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইথিওপিয়া।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) ইথিওপিয়া সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেডিওন টিমোথিওসের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।
ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে মতবিনিময় করেন।
১৩ দিন আগে
সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত জবির
বৈশিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সপ্তাহে একদিন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৭৭তম বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার সকল একাডেমিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হবে। তবে, অনলাইন ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, ‘বৈশ্বিক এ দুর্যোগকালীন সময়ে আমাদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হতে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ আমাদের কাছে সবার আগে। তাদের একাডেমিক কার্যক্রম যেন বিন্দুমাত্র ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
শিগগিরই এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যয়ের একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ রাখা গেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।
সভায় বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, ছাত্র কল্যাণ পরিচালক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে