বাংলাদেশ
দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
আধুনিক স্বাস্থ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও একটি হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই দুটি মেশিন ব্যবহারোপযোগী ও বাজারজাত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় সংশ্লিষ্টরা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি চিকিৎসা যন্ত্রের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা দেবে।
আলাদা দুইটি বিশেষজ্ঞ দল ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরি করেছে বলে সভায় জানানো হয়। সভায় সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এগুলো দেশের সব হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা যাবে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় যন্ত্র দুটি তুলনামূলক কম খরচে বাজারজাত করা সম্ভব হবে, যা স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করতে ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই দুটি চিকিৎসা যন্ত্র সফলভাবে উৎপাদন ও ব্যবহার শুরু হলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভেন্টিলেটর মেশিনটি গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম। এ কারণে এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
অন্যদিকে হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটি শ্বাসতন্ত্রের সাধারণ সমস্যাজনিত রোগীদের জন্য ব্যবহার উপযোগী। এই যন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। ফলে বিদ্যুৎ-সুবিধাবঞ্চিত এলাকা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহনের সময় অ্যাম্বুলেন্সেও এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ডা. মামুন শিবলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির আইনি সুরক্ষা কেবল তার দায়িত্বকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য: তথ্য উপদেষ্টা
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আইনি সুরক্ষা কেবল তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত কার্যকর থাকে। দায়িত্ব শেষ হলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে কি না? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি কার্যক্রম শুরু করা যায় না। তবে এই সুরক্ষা কেবল তার দায়িত্বকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য। তিনি দায়িত্ব ছাড়ার পর, দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা পরে সংঘটিত কোনো অভিযোগ বা আইনগত বিষয়ে প্রয়োজন হলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি বর্তমান বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে এ মন্তব্য করছেন না, বরং এটি একটি সাধারণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা। এ বিষয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আদালত সরকার নয়, আদালত একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ সব আদালতেই জনগণ ন্যায়বিচারের জন্য যেতে পারেন।
তিনি বলেন, কোনো কোনো মামলায় সরকার একটি পক্ষ হতে পারে, তবে আদালত স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রেই সরকার কোনো মামলার পক্ষও থাকে না।
৬ দিন আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএমের নবনিযুক্ত মিশন প্রধানের সাক্ষাৎ, মানবপাচার প্রতিরোধ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশে নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ড সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে আইওএমের সঙ্গে দুই দশকের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার, মানবপাচার প্রতিরোধ, সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার মোকাবিলা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের তথ্য জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
বৈঠকে আইওএমের মিশন প্রধান জানান, সংস্থাটির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল উগোচি ড্যানিয়েল আগামী ১ থেকে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ সফর করবেন। এ উপলক্ষে আগামী ৪ আগস্ট ইউএন হাউস বাংলাদেশে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবনিযুক্ত মিশন প্রধানকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইওএমের যৌথ উদ্যোগে প্রণীত সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা (ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট-আইবিএম) কৌশলের জাতীয় বৈধকরণ কার্যক্রম প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আইওএম তাদের অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করা হয়।
এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন কার্যক্রম এবং এতে আইওএমের কারিগরি সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়। আইওএম নীতিগত সহায়তা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. লরা টম-বন্ডের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এটি প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, আইওএমের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (গভর্নমেন্ট) ড. এস এম মোরশেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে পদক্ষেপ নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সরকার জনগণের স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা জানান, সরকার জনস্বাস্থ্যের এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু টুথপেস্টেই নয়, বরং একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা ব্যাধির মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। টুথপেস্ট ব্যবহার না করলেও পরিবেশের বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্ট মাইক্রোপ্লাস্টিক ইতোমধ্যে আমাদের নিত্যদিনের খাবার ও পানিতে মিশে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এক্ষেত্রে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। শুধু টুথপেস্ট বা নির্দিষ্ট কোনো একক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে যেহেতু এটি ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে, তাই সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিশ্চয়ই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, আমরা লক্ষ করছি যে জনগণের মধ্যে এখন স্বাস্থ্য সচেতনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। আর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার সবসময়ই জনস্বার্থ রক্ষা ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) সম্প্রতি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে। তাদের গবেষণায় ২৬টি নমুনায়, অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য বাজারজাত কয়েকটি টুথপেস্টেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
৬ দিন আগে
সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর
দেশে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যা একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৭১৩ জন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৩২৮ জন (৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ) এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৪ হাজার ৩৬ জন (৫৪ দশমিক ৮০ শতাংশ)।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯২৩ জন (২৬ দশমিক ১১ শতাংশ)। যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৯২৭ জন (১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ)। মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৮৪১ জন (৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ)। এছাড়া বাইসাইকেল ও রিকশার আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৫১৯ জন (৭ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে নিহত হয়েছেন ১৫৪ জন (২ দশমিক ৯ শতাংশ)।
সড়কভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মহাসড়কে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৮২ জন (২০ দশমিক ১২ শতাংশ), আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ১৪৯ জন (২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ), শহরের সড়কে ১ হাজার ৭৮৬ জন (২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ) এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৪৭ জন (২৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ)।
পথচারী শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে জাতীয় মহাসড়কে নিহত হয়েছেন ২৫১ জন (১৩ দশমিক ৫ শতাংশ), আঞ্চলিক সড়কে ৪০৯ জন (২১ দশমিক ২৬ শতাংশ), শহরের সড়কে ৫৩৭ জন (২৭ দশমিক ৯২ শতাংশ) এবং গ্রামীণ সড়কে ৭২৬ জন (৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ)।
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মূলত স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এবং বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কা বা চাপায় নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে। অন্যদিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে।
এতে আরও বলা হয়, বাইসাইকেল আরোহীরা থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল ও অনিরাপদ মালবাহী যানবাহনের ধাক্কায় গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কে বেশি নিহত হয়েছে। আর অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে দুর্ঘটনার জন্য ব্যক্তিগত অসতর্কতাকে দায়ী করা হয়েছে।
বছরভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৬৯৩ জন, ২০২০ সালে ৭১৯ জন, ২০২১ সালে ৯৩৬ জন, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৮৫ জন, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৫৩ জন, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭৩ জন, ২০২৫ সালে ১ হাজার ১৪ জন এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯১ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
এছাড়া গত সাড়ে সাত বছরে অসাবধানে রেললাইন পারাপার এবং কানে হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে আরও ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থী নিহতের পেছনে ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ও অনিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণার ঘাটতি, শিক্ষার্থীদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা এবং অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সংস্থাটি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরে অন্তত একবার সড়ক নিরাপত্তা ক্যাম্পেইনের আয়োজন, সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ক্লাস পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো ঠেকাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব অহিংস আন্দোলন হয়েছিল। তবে আট বছর পেরিয়ে গেলেও সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সংস্থাটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার অভাব, সমন্বয়হীন উদ্যোগ, সড়ক পরিবহন আইনের কার্যকর প্রয়োগ না হওয়া এবং পরিবহন খাতের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতি ঘটছে না।
৬ দিন আগে
যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে ইসি প্রস্তুত আছে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে, সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল প্রায় এক ঘণ্টা ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সিইসি বলেন, বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। সূর্য উঠলে জানতে পারবেন।’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য ভোটার তালিকা চেয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনকে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়।
সংসদ অধিবেশন চলাকালে ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। আর সংসদ অধিবেশন না থাকলে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশনকে ভোটের অন্তত সাত দিন আগে সংসদ সদস্যদের একটি সভা আহ্বান করতে হবে।
নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংসদ সদস্যদের তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করবে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন সিইসি। সমান ভোট পড়লে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে এবং এ বিষয়ে সিইসির ঘোষণাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
৬ দিন আগে
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিশুদের নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তাদের নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আজকের শিশুরাই হবে আগামী দিনের ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, খেলোয়াড় ও দেশ গড়ার কারিগর।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ অংশ নেওয়া শিশুদের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই ইভেন্ট হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। যারা প্যান্ডেলের নিচে বসে আছে, যারা গ্যালারিতে বসে আছে, তারা হচ্ছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ।’
সরকারপ্রধান বলেন, দেশে অনেক সমস্যা রয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এসব সমস্যার পাশাপাশি বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেটিও দেখতে হবে।
তিনি বলেন, শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। স্কুলগুলোতে ধীরে ধীরে উন্নত পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিশুদের নিজেদেরও প্রস্তুত হতে হবে।
৭ দিন আগে
অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা মানবিক বাংলাদেশে অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটে ‘ওয়ার্ল্ড হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ বছর বিশ্বের ১৭১টি দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রকাশ করুন, দ্রুত নির্ণয় করুন, জীবন বাঁচান’।
মন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নয়, সার্বিক উন্নয়নেও বদ্ধপরিকর। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
সমাজে বসবাসরত মূক ও বধির ব্যক্তিরাও যে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটে নবনির্মিত অডিটরি ভারবাল থেরাপি (এভিটি) সেন্টারের উদ্বোধন করেন।
এ সময় জানানো হয়, যেসব শিশু জন্মগতভাবে বা পরবর্তীকালে শ্রবণশক্তি হারিয়েছে এবং অন্য কোনো উপায়ে যাদের শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তাদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ব্যয়বহুল কক্লিয়ার ইমপ্লান্টেশন সার্জারি করা হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এভিটি সেন্টারে থেরাপির মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিকভাবে কথা বলা শেখানো হবে। সেই সঙ্গে বিভাগীয় পর্যায়েও এভিটি সেন্টারের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি মাথা ও ঘাড়-সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অনুদানের চেক ও চিকিৎসা-সহায়ক ডিভাইস বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মনোয়ার হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাজহারুল শাহীন এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হেড অ্যান্ড নেক সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফর।
৭ দিন আগে
কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের নতুন প্রেস সচিব উম্মে মারুফা
বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের বিশেষ প্রতিনিধি উম্মে মারুফাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
তাকে নিয়োগ দিয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর তারিক চয়নকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বতী সরকার।
এরপর তার দায়িত্বের মেয়াদ আরও এক বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দেখিয়ে গত বুধবার (২২ জুলাই) পদত্যাগ করেন তারিক চয়ন।
৭ দিন আগে
সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের কমপক্ষে দুই বছর এক কর্মস্থলে রাখার নির্দেশ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ প্রশাসনে কর্মরত সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের প্রশাসনিক বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত ঘন ঘন বদলি বা পদায়ন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কমপক্ষে দুই বছর একই কর্মস্থলে রাখার জন্য বলা হয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, সকল বিভাগীয় কমিশনার ও দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসনে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে সার্ভেয়ার ও কানুনগো পদে কর্মরত জনবল রয়েছে। এ দুটি পদ রাজস্ব প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। কিন্তু লক্ষ করা যায়, সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের ঘন ঘন কর্মস্থল বদলির কারণে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সার্ভেয়ার ও কানুনগো পদে কর্মরতদের কমপক্ষে দুই বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে একই কর্মস্থলে থাকা প্রয়োজন।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বদলির তদবির করা চাকুরির বিধিবিধানের পরিপন্থী কাজ। তাই প্রশাসনিক বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া স্ব-স্ব কর্মস্থল বা পদায়ন করা স্থান থেকে অন্যত্র বদলি বা পদায়ন না করার জন্য চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৭ দিন আগে