বাংলাদেশ
সাভারে ইয়ামিন হত্যা: ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে গুলির পর পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ফেলে শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এ নিয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আসামিরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া, সাভার উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান, মিজানুর রহমান জিএস মিজান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
এদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ও কনস্টেবল মাসুদ মিয়া কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আসহাবুল ইয়ামিন সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে শান্তিপূর্ণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা চালান পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় ইয়ামিনকে ধরে টেনে পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে বুকের বাঁ পাশে গুলি করেন তারা। গুলিতে তার বুকের বাঁ পাশে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।
একপর্যায়ে ইয়ামিনকে টেনে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে রেখে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য গাড়িটি এপাশ থেকে ওপাশ প্রদক্ষিণ করতে থাকেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। প্রায় মৃত অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে একজন পুলিশ সদস্যকে বের করে তার পায়ে পুনরায় গুলির নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়, ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে পায়ে গুলি না করে রাস্তার ওপরের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে টেনে নিয়ে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে দেন। গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে তখনও নিঃশ্বাস নিতে দেখা যায়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
৮ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১১৬০
দেশে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৬০টি শিশু।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭২৫টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮২০টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৭০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৯০। এই সময়ে ৯৪১টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৩২টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৪৪২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ২৩৯ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ৪৬৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৮ দিন আগে
চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর, কমিটি গঠনের নির্দেশ
বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এই খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় দেশের বিভিন্ন চা বাগানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের সংকট, জ্বালানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু দাবি ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং চা শিল্পকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ শিল্পের বিকাশে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী চা বাগান মালিকদের বিদ্যমান ঋণের দায় সহজীকরণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি চা বাগানে চাষের অনুপযোগী জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানান এবং এ ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী চা শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং চা শিল্প-সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চা বাগান মালিক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ: আইপিসির বিশ্লেষণ
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্লেষণভুক্ত মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সংকটে রয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সময় তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)’–এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আইপিসি হলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার তীব্রতা ও ব্যাপ্তি বিশ্লেষণ এবং শ্রেণিবিন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কাঠামো। এর বিশ্লেষণ সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিকল্পনায় একটি অভিন্ন প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করে।
সম্প্রতি ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও তদারকি ইউনিটের (এফপিএমইউ) নেতৃত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় এই বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ ও পর্যালোচনা করা হয়। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওরাঞ্চল, কয়েকটি উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি।
কর্মশালায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণকে নীতি ও বিনিয়োগের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইপিসির এই বিশ্লেষণ আমাদের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে সাহায্য করবে।’
খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘কার্যকর নীতিনির্ধারণে তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, এই আইপিসি প্রতিবেদনের ফলাফল নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী এবং মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
৮ দিন আগে
সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, যোগ্যতা, সততা ও নেতৃত্বের গুণাবলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সময়োপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর ও সক্ষমতাভিত্তিক সশস্ত্র বাহিনী গঠার লক্ষ্যে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখাও তুলে ধরেছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে ‘সেনা সদর নির্বাচনি পর্ষদের’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যতমদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলেও আমি বিশ্বাস করি।’
পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাই হোক প্রধান মাপকাঠি
সেনাসদর সিলেকশন বোর্ডের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।
‘এক্ষেত্রে প্রথমেই আমার আহ্বান, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পেশাগত যোগ্যতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, দূরদর্শিতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি—সেনাবাহিনীর জন্য উপযুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচনে এসব বিষয়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এর পাশাপাশি মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি।’
শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা অর্থাৎ ফিজিক্যাল ফিটনেস এবং ফিজিক্যাল অ্যাপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত মার্কিন জেনারেল নরম্যান সোয়ার্জকফের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘দি মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দি লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়ার’, অর্থ্যাৎ, ‘শান্তিকালীন সময়ে তুমি যত বেশি ঘাম ঝরাবে, যুদ্ধকালীন সময়ে তত কম রক্তপাত হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সুতরাং, সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই কোনো আপসের সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’
৮ দিন আগে
হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১০০ শয্যার আবাসন ব্যবস্থার ঘোষণা প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বিদেশে গমনেচ্ছু প্রবাসীদের জরুরি প্রয়োজনে অবস্থান ও রাত্রিযাপনের সুবিধার্থে হজ্জ ক্যাম্পে ১০০ শয্যার পৃথক আবাসন ব্যবস্থা চালু করা হবে। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে এবং ধর্মমন্ত্রীর প্রস্তাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর আশকোনাস্থ ‘হজ্জ ক্যাম্প’ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের সুবিধার্থে বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত ‘ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার’-এ ৪৯ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যেকোনো সংকটকালীন মুহূর্তে কিংবা আকস্মিক ফ্লাইট বাতিল হলে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হজ্জ ক্যাম্পে আরও ১০০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ৫০টি এবং নারীদের জন্য পৃথক ৫০টি বেড থাকবে। এই উদ্যোগের সার্বিক অর্থায়ন করবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড’।
বর্তমান সরকারের প্রবাসীবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। যুদ্ধবিগ্রহ বা বৈরী আবহাওয়াসহ নানা কারণে অনেক সময় ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হয়। এমন মুহূর্তে বিমানবন্দরে প্রবাসীরা যে আবাসন সংকটে পড়েন, হজ্জ ক্যাম্পে এই শয্যা ব্যবস্থা প্রবাসীদের সেই দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব করবে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং হজ্জ ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
৮ দিন আগে
সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ দেখছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের মতো কিছু দেখছি না। আইন অনুযায়ী তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সবই পাবেন। নিরাপত্তাও পাবেন।’
রবিবার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা আছে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য সেখানে দেখি নাই।’
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বৈরাচারের শেষ সময়, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের সময়েও তিনি সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা তার সহযোগিতা পেয়েছি।
দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেই সময় সংবিধান অনুযায়ী তার দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) ছিল। দায়িত্বের বাইরে কোনো সময়ের বিষয়ে যদি কারও কোনো অভিযোগ থাকে, সেটা আইন অনুযায়ী চলবে।
রাষ্ট্রপতির কথিত ফোনালাপের অডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা পত্রিকায় দেখেছি। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। আর আজকের ইন্টারনেটের যুগে কারও সঙ্গে কথা বলতে লন্ডনে যেতে হয়, এটা আমার কাছে অলীক মনে হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আইন অনুযায়ী যা যা সুযোগ পাবেন, সবই পাবেন। এসএসএফ, পিজিআরের নিরাপত্তা ছয় মাস পর্যন্ত পাবেন। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাও আইন অনুযায়ী তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।
এলডিপির এক নেতার ‘তিন রাজনৈতিক দল এক হলে সরকার এক সপ্তাহও টিকবে না’ মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এক সপ্তাহ পরে কী হয়, সেটার জন্য অপেক্ষা করি। সব বিষয়ে মন্তব্য করার মতো যোগ্য আমি নই।
সিলেট সীমান্তে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চোরাচালানের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই খতিয়ে দেখব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথ যাত্রার দিন মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি সদৃশ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ধর্মীয় কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টিকে সে দৃষ্টিতে দেখছে না।
তিনি বলেন, রথযাত্রা ও উল্টো রথ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। ঘটনাক্রমে ওই দিন ডিভাইসটি পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আনসার সদস্যদের সতর্কতায় ডিভাইসটি শনাক্ত হয়। পরে পুলিশ এলাকা ঘিরে রাখে এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় দায়িত্বশীল আনসার সদস্যদেরও পুরস্কৃত করা হবে।
অনুষ্ঠানে দুই ট্রাফিক সার্জেন্ট ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার করে মালামাল উদ্ধার এবং এক প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ উদ্ধার করে সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আর্থিক পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটা তাদের সারা জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে থাকবে। তারা উপলব্ধি করবে, জনসেবামূলক কাজ করলে রাষ্ট্র তাদের সম্মান দিচ্ছে। এতে পরিবারের সম্মান বাড়বে, সমাজে মর্যাদা বাড়বে। ফলে তারা আরও উৎসাহিত হবে।
এ বছরের পুলিশ সপ্তাহে কেন পুলিশ পদক দেওয়া হয়নি, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ পদক প্রদানের যে তালিকাটা খুব তাড়াহুড়োর সঙ্গে করা হয়েছিল, সেটা যাচাই করতে গিয়ে কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। দুয়েকটি ক্ষেত্রে কিছু অনিয়মও পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই করে বিশুদ্ধ করার পর পদক দেওয়া হবে।
৮ দিন আগে
‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ নির্বাচনি পর্ষদের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনে স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ও আহত সেনাসদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
৮ দিন আগে
ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত বাসভবন থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত বাসভবন সুধাসদন থেকে মো. শাকিল (২০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত শাকিলের বাড়ি মোহাম্মদপুরের জিগাতলা শিবপুর টালি অফিস এলাকার ২৯৫/জি/এইচ/এ/৭ নম্বর বাসায়। তার বাবার নাম সেকান্দার আলী মাতুব্বর এবং মায়ের নাম আসমা বেগম।
ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওয়াদুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এসআই ওয়াদুজ্জামান বলেন, কী কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
৯ দিন আগে
পেশাদারত্ব বজায় রাখতে সাংবাদিকদের তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা এমন একটি প্রক্রিয়া, যা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, বরং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন হওয়া উচিত।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬-এর একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মনি দীক্ষিত, দ্য হিন্দুর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দারসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো বিষয় সংবাদ নয়, সেটি কেবল মতামত হতে পারে। তিনি সমাজকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ ও চ্যালেঞ্জের ধরন ভিন্ন হলেও এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে একই রকম। তারা স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
পরে দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র, শিল্প ও সেবা খাতের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই নিয়ে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। এ প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলনে প্রযুক্তিবিদ প্রণব যোগেন্দ্র ব্রহ্মভট্ট, ব্যারিস্টার তাসমিয়া রহমান প্যাটেল, টেরি কে রুপার্টসহ দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
৯ দিন আগে