বাংলাদেশ
খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ইনুর আপিল
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ।
এর আগে একই মামলায় ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আপিল করে প্রসিকিউশন। ফলে খালাস চেয়ে ইনুর আপিল ও তার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে প্রসিকিউশনের আপিল—দুটি আবেদনই এখন আপিল বিভাগে বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি—৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, আন্দোলনকারী রাইসুল হকসহ অন্য ভুক্তভোগীদের গুরুতর আহত ও নির্যাতন করা এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায় ইনুর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগেও তাকে দণ্ডিত করা হয়। এসব অভিযোগে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল।
ইনুর বিরুদ্ধে আট অভিযোগ
মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেন।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ইনু নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা দেন।
তৃতীয় অভিযোগে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তালিকা তৈরি এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।
চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং সরকারের নেওয়া হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়। এ দুটি অভিযোগে ইনুকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠ মামলায় ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়। সপ্তম অভিযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। এই দুই অভিযোগেই ইনুর বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হয়েছে।
অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা দেন ইনু। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
১৪ দিন আগে
টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ২০ ইউনিট
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের স্টেশন অফিসার তালহা বিন জসিম জানান, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১৪ মিনিটের দিকে প্রতিষ্ঠানটির ইউনিট-২-এ আগুন লাগে।
এরপর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায় এবং আগুন নেভাতে ইউনিট পাঠায়।
টঙ্গী, উত্তরা, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন, মিরপুর, কুর্মিটোলা, রাজেন্দ্রপুর ও পূর্বাচল ফায়ার স্টেশন থেকে আসা ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
১৪ দিন আগে
নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার জন্য স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার (মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যান) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে প্রবেশের আগে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটি পরিদর্শন করেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু)।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নিচে রাখা পরীক্ষাগারটির ভেতরে প্রবেশ করে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া দেখেন তিনি।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষাগারটির কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে জানান।
কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
১৪ দিন আগে
সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠছে মন্ত্রিসভায়
বাংলাদেশ সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে স্থানান্তরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সচিবালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।
জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে অতীতে একটি মাস্টারপ্ল্যান ছিল। সে অনুযায়ী নীতিগত কাজ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে।
বর্তমান সচিবালয়ে গাড়ি পার্কিং ও স্থানসংকটের কারণে প্রায়ই জটিলতা তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক মন্ত্রণালয়ের দপ্তর মূল ভবনের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখতে হচ্ছে। এছাড়া সচিবালয়ের বেশির ভাগ ভবন ১৯৬০-এর দশকে তৈরি হওয়ায় সেগুলো বেশ পুরোনো হয়ে গেছে।
ভূমিকম্পসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব ভবনের মেরামত এবং স্থায়ী বিকল্প খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সব দিক বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ে নতুন স্থানে পুরোপুরি স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে বর্তমান সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রাথমিক ও মূল কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
১৪ দিন আগে
ভূমিদস্যু ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের
পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩) ডিএমপি সদর দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ও সদর দপ্তর) মো. ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
এ সময় অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে অপরাধের কারণ চিহ্নিত করতে হবে এবং সে অনুযায়ী অপরাধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
সভায় রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও অপরাধের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হয়।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন কমিশনার।
রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকায় আরও দ্রুত ও কার্যকর বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। অপরাধ প্রতিরোধ ও সামাজিক অপরাধ কমাতে এ কার্যক্রমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
১৪ দিন আগে
স্থানীয় নির্বাচনে কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার: শাহে আলম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার বিন্দুমাত্র কোনো কলঙ্ক নিতে চায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার ও প্রশাসন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার এবং প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন যাদের দায়িত্ব দেবে, মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বলা হবে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ দেশে দীর্ঘদিন ধরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়নি। আমরা চেষ্টা করব, মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন পায়।
নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কমিশনের। সরকার ও প্রশাসন যাতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করে, সেটিই সরকারের অবস্থান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি বরাদ্দ দেওয়া অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে আনেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে। কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে বরাদ্দের অর্থ পরবর্তী অর্থবছরে চলে যেতে পারে।
মীর শাহে আলম বলেন, আমরা প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। এখন তারা নির্বাচন শেষ করতে না পারলে বাজেট আমাদের রয়ে যাবে, পরের অর্থবছরে চলে যাবে। এই সিদ্ধান্তটা তাদের নিতে হবে।
আগামী জুনের মধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান মীর শাহে আলম।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত চললে বাকি নির্বাচনগুলো জুনের মধ্যে আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই জবাব দিতে পারবে। নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব কমিশনের। সরকার শুধু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার অনুরোধ জানাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই বৈঠকে প্রাথমিকভাবে কিছু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বাকি নির্বাচনগুলোর তারিখ ও আয়োজনের পদ্ধতিও সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবে কমিশন।
১৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী-ডাচ মন্ত্রীর আলোচনায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, তিস্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যু
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সফররত নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা, তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।
বৈঠকে তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনা এবং এ বিষয়ে জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস—উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র। ফলে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নেদারল্যান্ডসের ভূমি পুনরুদ্ধার-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার এটা উপযুক্ত সময়, বিশেষ করে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
১৫ দিন আগে
এমসিজে ক্লাবের সদস্যপদ আবেদন শুরু বুধবার
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সদস্যপদ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে এমসিজে ক্লাব লিমিটেড।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে সদস্যপদের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে জানিয়েছে ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা কমিটি।
আগ্রহীরা ক্লাবের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে ফি জমা দিয়ে www.mcjclub.com ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ক্লাবের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে রয়েছে।
দেশের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, মিডিয়া স্টাডিজ, যোগাযোগ, ব্রডকাস্ট, টেলিভিশন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২৭ বছর।
ক্লাবটির সাধারণ সদস্যপদের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে সরকার নির্ধারিত শুল্ক ও অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জসহ মোট ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।
এছাড়া সদস্যপদ নীতিমালা মেনে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সংরক্ষিত নির্দিষ্ট কিছু সদস্য নম্বর পাওয়া যাবে।
ক্লাবটির পরিচালনা পর্ষদ প্রথম ২০০ জন সদস্যকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্লাবের কার্যক্রমের শুরুতে যুক্ত হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের নাম ক্লাব প্রাঙ্গণে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হবে।
এমসিজে ক্লাব লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসনাত সুমন বলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সামাজিক ক্লাব গঠনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভব করছিলেন তারা। কয়েক দফা বৈঠক ও পর্যালোচনার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্লাবের সভাপতি হাসনাইন খুরশেদ বলেন, সদস্যপদের আবেদনগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই শেষে আবেদনকারীদের সদস্যপদ নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ক্লাবটি সম্প্রতি যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্লাবটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ক্লাব পরিচালকরা জানান, ভবিষ্যতে সদস্যদের সঙ্গে করপোরেট খাতের যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্য ও তাদের পরিবারের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
১৫ দিন আগে
প্লট দুর্নীতি: সাবেক রাজউক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালত এ রায় দেন। বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।
মামলার রায়ে আটজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেক ধারায় তাদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়।
আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দিয়েছেন আদালত।
প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে।
তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
১৫ দিন আগে
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯৫৪
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৯৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এ মৃত্যুর পর চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নতুন মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুই ও তিনজন করে মারা গেছে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার মধ্যে খুলনা বিভাগে দুজন এবং চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ৯৭ হাজার ২৯৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
১৫ দিন আগে