রাজনীতি
সরকারি ক্রয় আইন সংস্কারে সংসদে বিল পাস
দেশের সরকারি ক্রয় কাঠামোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘সরকারি ক্রয় (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট) (সংশোধন) অধ্যাদেশ- বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে এ বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এই প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য হলো প্রায় দুই দশকের পুরনো আইনটি সংস্কার করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা; যেখানে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং অর্থের সঠিক মূল্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিলটির মাধ্যমে ‘সরকারি ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’কে আইনি রূপ দেওয়া হয়েছে যা আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা হয়েছিল।
এই আইনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো এর মূল উদ্দেশ্যে। সংশোধনীতে শুধু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর নজর দেওয়ার পরিবর্তে একটি বিস্তৃত ম্যান্ডেট যুক্ত করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার, দক্ষতা, নৈতিকতা, গুণমান এবং টেকসই ক্রয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রথমবারের মতো এই আইনে টেকসই সরকারি ক্রয় ধারণাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। নতুন ১৬ ধারা অনুযায়ী, দরপত্র নথিতে এমন কোনো শর্ত যুক্ত করা যাবে না যা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে অথবা শ্রমিকের অধিকার (মজুরি, সামাজিক সুবিধা এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ) লঙ্ঘন করে।
বিলে ‘রিভার্স অকশন’ বা বিপরীত নিলামের মতো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন করা হয়েছে। এটি একটি রিয়েল-টাইম ইলেকট্রনিক বিডিং প্রক্রিয়া, যেখানে সরবরাহকারীরা কাজ পাওয়ার জন্য ধীরে ধীরে তাদের দাম কমিয়ে প্রতিযোগিতা করেন। এর ফলে সাধারণ পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, সমস্ত সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়মের যেকোনো ব্যতিক্রমের জন্য এখন থেকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) পূর্বানুমতি লাগবে।
কাঠামোগত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে বিপিপিএকে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং ভৌত সেবাকে ক্রয়ের একটি আলাদা বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত করা। আইনটি কাঠামোগত চুক্তি ব্যবহারকেও প্রসারিত করেছে, যার ফলে একাধিক সরকারি সংস্থা আগে থেকে নির্বাচিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনগুলোর জন্য সরকারি ক্রয় সহজ করতে বিলে বিধান রাখা হয়েছে যে, তারা সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় আইন বা আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে পারবে। তবে এর জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে। দেশীয় শিল্প রক্ষায় বিলে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রযুক্তি সেবার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্রে দেশীয় কোনো পরামর্শক সংস্থাকে যৌথ অংশীদার হিসেবে রাখতে হবে।
বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমীর খসরু বলেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা, সময়ানুবর্তিতা এবং মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার আইনি কাঠামো হিসেবে সরকার ২০০৬ সালের ৬ জুলাই ‘সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬’ প্রণয়ন করেছিল।
প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও সংযোজনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই আইনটি মোট পাঁচবার সংশোধন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ক্রয়ে দক্ষতা, নৈতিকতা ও গুণমান নিশ্চিত করা এবং অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারকে প্রাসঙ্গিক মনে করায় এই বিষয়গুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০০৬ সালের আইনের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ক্রয়ে মূল্যের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের ফলে প্রতিযোগিতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। ফলে একটি বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রয় কৌশল প্রণয়ন, টেকসই সরকারি ক্রয় ধারণা প্রবর্তন, সম্পদ নিষ্পত্তি, বিপরীত নিলাম এবং অবকাঠামোগত সেবাকে আলাদা ক্রয় হিসেবে গণ্য করাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ মে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘সরকারি ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল যা সরকার গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর করেছে।
১১৬ দিন আগে
শেরপুর-৩, বগুড়া-৬ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে
শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এর আগে, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইসি এই দুটি নির্বাচনি এলাকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২ মার্চ, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ছিল ৫ মার্চ এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ১৪ মার্চ।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই জয় লাভ করেন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করেছিল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসন বাদে দেশের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-২ এবং ৪ আসনের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রেখে ১২ ফেব্রুয়ারি ইসি ২৯৭ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছিল।
১১৭ দিন আগে
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন কাল
প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির বাতিল হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামীকাল (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সফল করতে তৎপর রয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের জন্য ইতোমধ্যে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে উপজেলা সদর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালিসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর-৩ আসনটি শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী—এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। এর মধ্যে শ্রীবরদী উপজেলায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৬০৪ জন এবং ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৩ জন ভোটার রয়েছেন।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন—বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মাহমুদুল হক রুবেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কাঁচি প্রতীকের মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং গারো পাহাড়ি এলাকার ৩২টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ আসনে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ১৬ প্লাটুন বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ এবং ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকছে ১ হাজার ১৫০ জন পুলিশ, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিমে ১৩৫ জন সদস্য এবং ১ হাজার ৭০৪ জন আনসার সদস্য।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শেরপুর-৩ আসনটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় সেনাবাহিনী আইন অনুযায়ী সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের ভেতরে সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এ কারণে এখানে বিজিবির উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। ভোটের দিন প্রতি ভোটকেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনি নিরাপত্তা জোরদারে র্যাবের ১০টি টিম মাঠে কাজ করছে এবং আরও ৪টি টিম রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম মোতায়েন রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৮ জন পর্যবেক্ষক থাকছেন। পাশাপাশি দুই উপজেলায় ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন। সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিমও দায়িত্বে থাকবে।
নির্বাচনি মাঠ ঘুরে সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। অন্যদিকে, এ আসনটি নিজেদের দখলে নিতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহুর্তে গত ৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা যান। পরদিন ওই আসনের নির্বাচন প্রথমে স্থগিত ও পরে বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন নতুন করে শেরপুর-৩ আসনের তফসিল ঘোষণা করে। নতুন তফসিল অনুসারে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মৃত নুরুজ্জামান বাদলের ভাই।
১১৭ দিন আগে
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তির বিধান রেখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ বিল সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা পাবেন।
বুধবার (৭ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশ দিনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যদেশের এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এই আইন পাসের ফলে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো। পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সকল অভিযোগ অবিলম্বে বাতিল করা হবে।
শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা দায়ের বা কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তা আইনত বাধা বা বারিত হিসেবে গণ্য হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজপথের বিপ্লবীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো।
এ বিলে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে বলিয়া গণ্য হবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে গণ্য হবে।
বিলের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি। আইনের বিশেষ তফসিলে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ বলতে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল কার্যাবলিকে বোঝানো হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ‘বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে চিহ্নিত করে তা এই সুরক্ষার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন ওই অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে।
সংসদে পাস হওয়া এই আইনের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর শ্রেষ্ঠত্ব বা ওভাররাইডিং ক্ষমতা। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলিই প্রাধান্য পাবে। এর ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতীতে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা আইনি কার্যধারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।
একইসঙ্গে আইনের ৫ নম্বর ধারার বিধান সাপেক্ষে, অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার জন্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা আইনত নিষিদ্ধ বা বারিত করা হয়েছে। এই আইনি রক্ষাকবচ মূলত বিপ্লবীদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আজীবনের জন্য মুক্তি প্রদান করল।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে সর্বাত্মক সংগ্রাম করেছে, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃত। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধের সময় আত্মরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে আন্দোলনকারীরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তাকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
বিল উত্থাপনের সময় আপত্তি তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিলে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বোঝানো হয়েছে। আবার সংজ্ঞা অংশে ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ আলাদা করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এনসিপির এ সদস্যের প্রশ্ন ছিল, সঙ্কীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড আর রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সংঘটিত কার্যাবলির মধ্যে পার্থক্য কে নির্ধারণ করবে?
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী এটি নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরই পড়ছে। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান কাঠামো যদি সরকারনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেখে এ ধরনের সংবেদনশীল অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিলে তা নিয়ে আস্থা তৈরি হবে না। কমিশনকে স্বতন্ত্র ও স্বশাসিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে এই আইন কাগজে থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে।
তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের অভিযোগ যখন উঠছে, তখন মানবাধিকার কমিশনও একইভাবে প্রভাবিত হবে না, সেই নিশ্চয়তা নেই। তার ভাষায়, ‘কমিশন স্বাধীন না হলে জুলাই-সংক্রান্ত সুরক্ষার এই কাঠামোও কার্যকর হবে না।’
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা দেওয়া এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ বিসয়ে তার ভাষ্য, ‘জুলাই যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এ উদ্যোগ এসেছে এবং জুলাই জাতীয় সনদেও এ বিষয়ে অঙ্গীকার রয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ এবং তাদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ নিপীড়ন চালিয়েছিল। প্রতিরোধের মুখে অনেকে প্রাণও হারিয়েছেন। সেই বাস্তবতায় তাদের জন্য আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দরকার বলেই সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করেছিল।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিল নিয়ে কারও সংশোধনী থাকলে তা আগের ধাপে আনা যেত। এই পর্যায়ে এসে মূল নীতিগত প্রশ্ন তুলে বিল উত্থাপন ‘ঠেকানোর’ সুযোগ নেই।
মানবাধিকার কমিশন বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন করতে চায়। তবে গুমবিরোধী আইন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইন এবং মানবাধিকার কমিশনের কাঠামোর মধ্যে কিছু মিল ও ‘ওভারল্যাপ’ আছে। সে কারণে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ কাঠামো চূড়ান্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। সেই কারণেই বিলটি আনা হয়েছে।
১১৭ দিন আগে
হাম মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, ২.১৯ কোটি ডোজ টিকা নিশ্চিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অব্যবহৃত মহামারি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তায় প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রোমিন ফারহানার করা হাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত মহামারি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা জরুরি কেনাকাটার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্যাভির সহায়তায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪১৯ কোটি টাকার অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বিলম্ব এড়াতে সরকার প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করছে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুকে সরাসরি হামের কারণে হয়েছে বলে যাচাই করে নিশ্চিত করেছে।
টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রাথমিক তালিকায় ঢাকা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ না থাকলেও সরকার আগাম পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানীজুড়ে এই কর্মসূচি চালাচ্ছে।
পূর্ববর্তী অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান প্রশাসন প্রায় শূন্য টিকার মজুদ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল উল্লেখ করে সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নেওয়া জরুরি আর্থিক পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্টোরেজ বা মজুদ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘কোল্ড চেইন’ মান বজায় রাখতে এখন মাল্টি-ডোজ ভায়াল (একই শিশিতে একাধিক ডোজ) ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সব বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে হামে আরও বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বেশ কিছু রুটিন টিকার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জবাবে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। টিকার মজুত এখন স্থিতিশীল হচ্ছে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
১১৭ দিন আগে
সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল-২০২৬ পাস
সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান আইনকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদে এ বিল পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর স্থলাভিষিক্ত হবে।
নতুন বিলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮ ও ২০ ধারায় উল্লেখযোগ্য সংশোধনী আনা হয়েছে। এর ফলে সরকারের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো সংগঠনের কেবল অস্তিত্বই নয়, বরং তার সম্পূর্ণ কার্যক্রম ও অনলাইন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সংশোধিত ১৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলভুক্ত করার পাশাপাশি ওই সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সুষ্পষ্ট ক্ষমতা সরকারের থাকবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, কার্যকর শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মোকাবিলার জন্য ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনটি প্রণীত হয়েছিল। এই আইনে যৌক্তিক কারণে সন্ত্রাসবাদে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তাকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তফসিলভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
তবে বিদ্যমান আইনে সংশ্লিষ্ট সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। এই ফাঁক পূরণ করে আইনটিকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। এর আগে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১১ মে ধারা ১৮ ও ২০ সংশোধনের লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
নতুন বিধান অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি, প্রকাশনা এবং মুদ্রণ সামগ্রী বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া গণমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সব ধরনের অপপ্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ সত্তাগুলো কোনো ধরনের র্যালি, সভা, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন বা জনসমক্ষে বক্তব্য দিতে পারবে না।
বিলে একটি ‘রদ ও হেফাজত’ ধারাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রদ হয়ে যাবে, তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে গৃহীত সব কার্যক্রম নতুন আইনের অধীনে বৈধ বলে গণ্য হবে।
১১৭ দিন আগে
ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী
‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি করপোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনি এলাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। আশা করছি সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে শিগগিরই তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এদিন মাইক্রোফোনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৩০ মিনিট বিলম্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বেলা ১১টার দিকে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য চারটি প্রশ্ন তালিকাভুক্ত ছিল।
১১৭ দিন আগে
শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য, ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ৪৩টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকার বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য সেলিম রেজার (সিরাজগঞ্জ-১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা খাতের ৪৩টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ মনে করে। একটি মানসম্মত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনি ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এটি সব উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
আজও মাইক বিভ্রাটের কারণে আধা ঘণ্টা দেরিতে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর এবং মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার।
এমপি সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।
ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে ১ হাজার ৫০০টি প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা এডু-আইডি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ওয়াইফাই চালু করা হবে। এছাড়া মাদ্রাসায় স্মার্ট ক্লাসরুম চালু, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, আইসিটি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আগামী ৬ মাসের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও ফ্ল্যাটার দিয়ে ডিজাইনিং, পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআইভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে সরকার।
১১৭ দিন আগে
আগামী মাস থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর চিন্তায় সরকার
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে চলমান সংকটে প্রয়োজনে আগামী মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নতুন করে সমন্বয়ের চিন্তাভাবনা করবে সরকার।
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামের এক জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে করা প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটি আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়াইনি। আগামী মাসে আমরা দামের ওপর কাজ করছি। কাজ করে যদি সমন্বয় করে দেখা যায়, দাম বৃদ্ধি করা এখনই প্রয়োজন, তাহলে আমরা আলোচনা করে মন্ত্রিসভায় নিয়ে মূল্যবৃদ্ধির কথা চিন্তা করব।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের বিধিনিষেধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের প্রিমিয়াম এবং ফ্রেইট রেটে (জাহাজ ভাড়া) অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
বর্তমান মজুদের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন ডিজেল মজুদ আছে, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ডিজেল আসবে। অকটেনের মজুদ আছে ১০ হাজার ৫০০ টন এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে আরও ৭১ হাজার ৫৪৩ টন। পেট্রোলের মজুদ বর্তমানে ১৬ হাজার টন এবং এপ্রিলের শেষ নাগাদ আরও ৩৬ হাজার টন দেশে পৌঁছাবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপালও জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলেও দেশের শিল্প কার্যক্রম, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনগুলোকে কৃষক কার্ড ইস্যু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ রোধে সরকার সব জেলা প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে প্রাপ্ত কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে।
অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযানে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা হয়েছে। এ মামলায় ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত তেলের মধ্যে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ লিটার ডিজেল, ৩৬ হাজার ৪০৫ লিটার অকটেন এবং ৭৮ হাজার ৮৯৪ লিটার পেট্রোল রয়েছে।
এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী।
১১৮ দিন আগে
হজযাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার: ধর্মমন্ত্রী
চলতি হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত, স্বাস্থ্যসেবা, ইমিগ্রেশন এবং প্রাক-যাত্রা সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদে ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে হজ ক্যাম্পের সামনে আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ চলায় হজ ক্যাম্প থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি ডেডিকেটেড ট্রাফিক রুট প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, হজযাত্রী, তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাওলা রেলগেট ও সিভিল এভিয়েশন কমিউনিটি সেন্টারের নবনির্মিত রাস্তা দিয়ে হজ ক্যাম্পে প্রবেশ করবেন এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে বের হবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, একমুখী যানচলাচল ব্যবস্থার কারণে হজযাত্রীবাহী বাসগুলো নির্ধারিত কার্গো টার্মিনাল রোড দিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করবে।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে হজ ক্যাম্পের ভেতরে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবাসহ একটি সুসজ্জিত মেডিকেল সেন্টার চালু থাকবে। সেখানে মোট ১৯ জন চিকিৎসক, ১২ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ১৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ৪ জন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া জরুরি অসুস্থ রোগীদের স্থানান্তরের জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে।
ইমিগ্রেশন সুবিধার বিষয়ে কায়কোবাদ জানান, হজযাত্রীদের বোর্ডিং ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া সৌদি সরকারের সহায়তায় ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই সৌদি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হচ্ছে, যার ফলে সৌদি আরবে পৌঁছে হজযাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
প্রাক-যাত্রা সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বোর্ডিং ও ইমিগ্রেশনের আগেই লাগেজ ট্যাগিং সম্পন্ন করা হয় যা হজযাত্রীদের ভ্রমণকে ঝামেলামুক্ত করে। বাংলাদেশ বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি যারা ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে এই বিশেষ সুবিধা উপভোগ করছে।
তদারকি ব্যবস্থার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হজ ক্যাম্পে একটি ২৪/৭ কন্ট্রোল রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের যাতায়াত ও ভ্রমণ ‘লাব্বাইক’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ট্র্যাক করা হবে। এছাড়া মন্ত্রী ও সচিবের নেতৃত্বে একাধিক মনিটরিং টিম নিয়মিত হজ ক্যাম্প ও বিমানবন্দরের সেবা পরিদর্শন করবেন।
তিনি আরও জানান, হজযাত্রীদের অভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য একটি ২৪ ঘণ্টা কল সেন্টার (১৬১৩৬) চালু থাকবে।
১১৮ দিন আগে