রাজনীতি
প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক কৃষি খাত গড়তে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরে একগুচ্ছ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার।
এ লক্ষ্যে ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষিযন্ত্রের সম্প্রসারণ এবং জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় গবেষণা, প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিকে আধুনিকায়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান আবুল কালাম।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই কৃষি খাত গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি যেমন: রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন, জিপিএস, স্যাটেলাইট তথ্য ও বিগ ডাটাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা আরও কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক হবে।
তারেক রহমান বলেন, তথ্যনির্ভর ‘প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার’ বা নির্ভুল কৃষি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুষম, নিরাপদ ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে পুনর্বিন্যাস ও বিকশিত করা হবে।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের কোন এলাকায় কোন সময়ে কোন ফসল ভালো হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে।
সংসদ নেতা বলেন, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে দেশের কৃষি আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে পরিণত হবে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২৬ দিন আগে
আপিল বিচারাধীন থাকলে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই: সংসদে আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি শাস্তি মওকুফ বা ক্ষমা প্রার্থনা করলে তা আইন ও সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল’ দায়ের হওয়া মামলার রায় প্রত্যাহার বা দণ্ড মওকুফের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান মো. আব্দুল আলীম। জবাবে আইনমন্ত্রী মামলা প্রত্যাহার ও দণ্ড মওকুফ-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি বিধান তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। কোনো মামলায় আপিল বিচারাধীন থাকলে প্রথমে সেই আপিলের নিষ্পত্তি হতে হবে। আপিল নিষ্পত্তির পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’
এ সময় সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদেও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবে এবং আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করবে। ফলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই; তবে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সাজার মওকুফ বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা লাভের সুযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটির কাছে আসে। সেখানে প্রতিটি মামলা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর বিষয়ে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আদালতে ৪৬,৩৯,৪৭৬টি মামলা বিচারাধীন
দেশে কত মামলা এখন বিচারাধীন রয়েছে—যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের আদালতগুলোয় বর্তমানে ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ লাখ ১৩ হাজার ২৬৩টি দেওয়ানি এবং ২৮ লাখ ২৬ হাজার ২১৩টি ফৌজদারি। এক বছরে উচ্চ আদালতে ৬৩ হাজার ৩০৯টি এবং অধস্তন আদালতে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
তিনি জানান, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২১ হাজার ৬৫২টি দেওয়ানি ও ১৭ হাজার ৬১টি ফৌজদারি মামলাসহ মোট ৩৮ হাজার ৭১৩টি মামলা বিচারাধীন ছিল। হাইকোর্ট বিভাগে ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮ দেওয়ানি ও ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৩ ফৌজদারি মামলাসহ মোট ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১ টি মামলা বিচারাধীন। সেই সঙ্গে ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন ছিল, যার মধ্যে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি এবং ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি। গত এক বছরে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৪৯ হাজার ৭৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২ লাখ ২৬ হাজার ১১টি।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বর্তমানে (গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত) ২১ হাজার ৬৫২টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮টি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন। দেশের অধস্তন আদালতে বর্তমানে দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি। এ মামলার মধ্যে ৫ বছরের অধিক পুরোনো মামলার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৪টি।
ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে দেশের ২০টি জেলায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু থাকায় ওই জেলাগুলোয় উল্লেখযোগ্যভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই জেলাগুলোর আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করার হার ৬২ দশমিক শূন্য ৮৩ শতাংশ কমেছে। এই উদ্যোগ সফল হওয়ায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার আইনি বাধ্যবাধকতা পর্যায়ক্রমে ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় কার্যকর হবে।
জামালপুর-৫ আসনের শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের আদালতগুলোয় (গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত) ৩ হাজার ৬২৫টি অর্থ ঋণ মামলা বিচারাধীন।
সংরক্ষিত আসনের মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে ৫ জন, হাইকোর্ট বিভাগ ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া অধস্তন আদালতে ২ হাজার ৬২০ জন বিচারকের পদের বিপরীতে ১ হাজার ৯৬৪ জন কর্মরত আছেন।
২৭ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা
রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা কামনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ সহযোগিতা চান। বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে উভয়ে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করতে উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২৭ দিন আগে
আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, অক্টোবরে ইউপি নির্বাচনের পরিকল্পনা: উপদেষ্টা জাহেদ
আগামী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পৃথক রোডম্যাপ করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে এগুলো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সারা দেশকে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল—এই চার ভাগে ভাগ করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করবে ইসি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এটা সবসময় একটা খুবই আলোচিত ইস্যু ছিল আমাদের, সেটা হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আদৌ হবে কিনা। যেহেতু সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে, তাই কেউ কেউ এভাবে বলার চেষ্টা করতেন। কিন্তু আমরা বারবার বলেছি, আমাদের মন্ত্রী সবসময় বলেছেন যে, এটা এই বছরের মধ্যেই শুরু হবে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, নির্বাচন হওয়ার জন্য একটা বিশেষ সময় লাগে। আমরা চেষ্টা করি, বেশি সংখ্যক নির্বাচন শুষ্ক মৌসুমে, শীতের মৌসুমে করতে।’
তিনি আরও বলেন, অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরু হবে। আর শুরু হওয়ার পর সব ধাপের নির্বাচন শেষ করতে সাধারণত ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগে। অনেকেই মনে করেন এখন থেকে ১০-১২ মাসের মধ্যে নির্বাচন শেষ হবে। বিষয়টি তা নয়। অক্টোবর থেকে শুরু হলে ২০২৭ সালের অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে।
২৭ দিন আগে
১৮ বছর নির্যাতনের পর অস্থিরতা স্বাভাবিক, ধৈর্য ধরুন: নেতাকর্মীদের দুদু
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন–সংগ্রাম ও নির্যাতনের কারণে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রবিবার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে অসুস্থ তিন প্রবীণ নেতা—মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং জুলাই আগস্ট আন্দোলনের আহতদের আরোগ্য কামনায় আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমাদের তিনজন প্রবীণ জননেতা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান এবং ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন। তাদের আরোগ্য লাভের জন্য আপনারা আজকের দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে শরিক হয়েছি। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, বিএনপির ছোট, বড় নেতাকর্মীরা ১৮ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের প্রাপ্তির খাতা ছিল শূন্য। শুধু নেতাকর্মীরাই নন, তাদের পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, শেখ হাসিনার আমলে তারা সেই সুযোগ পাননি। এ কারণে একধরনের অস্থিরতা থাকতেই পারে। তবে নেতা কর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে।
দুদু বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, বর্তমান সরকার তাদের বিষয়ে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তার দাবি, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহিদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার। তার মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই। অথচ এই পরিবারই সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে।’
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সেই নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। একইভাবে ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন।
কৃষক দলের সাবেক এই আহ্বায়ক বলেন, অনেকে অনেক ধরনের জনপ্রিয়তার দাবি করেন। আমি কাউকে ছোট করছি না। কিন্তু দেশবাসী গণ–অভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপিকেই গ্রহণ করেছে। কারণ, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা বিএনপিকেই ভোট দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এক ১১ এর নির্যাতনে তারেক রহমান নিহতও হতে পারতেন, তবে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন। আর বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, এমনকি চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ এমন একটি হিংস্র নেতৃত্বের অধীনে ছিল। সেই বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরিত করতে হবে।
সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুদু বলেন, একটি মহল বিভিন্ন স্থানের ছোটখাটো ঘটনাকে বড় ঘটনায় রূপ দিতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের নেতা মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাব, আল্লাহর কাছে দোয়া করব। কারণ, তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য।
তিনি বলেন, আজকের দোয়া অনুষ্ঠানে সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন, যেন এই তিন নেতা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সেবায় ও দলের কর্মকাণ্ডে ফিরে আসতে পারেন।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন খান পিপিএমের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
২৯ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের শারীরিক খোঁজ নিলেন আলাল
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক খোঁজ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
শনিবার (৪ জুলাই) মালয়েশিয়ায় আলাল ও তার সহধর্মিণী মির্জা আব্বাসের সঙ্গে দেখা করেন।
সাক্ষাৎ শেষে আলাল বলেন, মির্জা আব্বাস বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
মির্জা আব্বাস তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
৩০ দিন আগে
এমপি মনির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ছাত্রদল সভাপতির
জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনির বক্তব্যকে ‘অযাচিত’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাকিব লেখেন, ‘প্রিয় নিলোফার চৌধুরী মনি আপা, এমপি, আপনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সারথি ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করলাম।’
নিলোফার চৌধুরী মনিকে উদ্দেশ করে রাকিব আরও লেখেন, ‘আমরা অবগত রয়েছি, আপনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণকারী একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। তাই জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যে আপনি আরও বেশি সংযত ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন সেটাই প্রত্যাশা করি।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার চালিয়েছিলেন কারা।
তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই আমি বলতে চেয়েও বলতে পারি না। কারণ অনেক কিছু বললে অনেকের কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না। যারা আজ কথা বলে, তারা কখন কোথায় কীভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেখা করে এই কাজগুলো করেছিল? তাদের কতটা ভূমিকা ছিল? যাদের বলা হয় যে তারাই (আন্দোলনের) মেইন; এই আন্দোলনে কারা মেইন ছিল, কেউ জানে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের একজন আরেকজনকে চেনে নাই। পাশে হাঁটতে গেছে, আন্দোলন করতে গেছে; পাশের একজন পড়ে গেছে। মনে করছে যে নরমাল পড়েছে। আসলে সে মারা গিয়েছে। গুলিটা সামনে থেকে আসছে না পিছন থেকে আসছে, সেটাও জানে না। গুলির কোনো শব্দ হয় নাই, এটা স্নাইপারের গুলি ছিল। অনেকেই যারা পড়ে গেছে।’
তখন সঞ্চালক প্রশ্ন করেন, ‘তার মানে এটা কি কোনো ডিজাইন ছিল বা ষড়যন্ত্র?’ জবাবে নিলোফার চৌধুরী বলেন, ‘ডিজাইন তো অবশ্যই ছিল, ষড়যন্ত্র কিনা আমি বলতে পারবো না।’
জুলাই আন্দোলনে এমন নিঃশব্দে হত্যাযজ্ঞ কারা চালিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘কারা মারল, কেউ জানে না। সামনে কোনো পুলিশও ছিল না। পুলিশের গুলি হলে তো সামনেই হতো। হতে পারে কোনো বাসা থেকে টার্গেট করে, ওপরতলা থেকে টার্গেট করে হয়তো গুলি করা হয়েছে। আমার নিজের কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর নাই।’
৩২ দিন আগে
‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রচিত ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন খণ্ডে প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।
বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক কালাম ফয়েজী রচিত গ্রন্থটিতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্ব, উন্নয়ন দর্শন এবং জাতীয় জীবনে তার বহুমাত্রিক অবদান তুলে ধরা হয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
৩২ দিন আগে
মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমলেও মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা না থাকায় এখন ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি গণমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে গত এপ্রিল ও মার্চ মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয় বা এই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারপরও কতটুকু উন্নয়ন হবে, তা আমরা জানি না। তারপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেন সারা দেশ মুগ্ধ হয়ে শোনে। আমি একজন আইনের শিক্ষার্থী, আমিও উনার ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু উনার এই মুগ্ধতা যদি উনি উনার মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন এবং তার মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে, তাহলে এটি ছাঁটাই করার... প্রস্তাব আমি রাখতাম না।’
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর আগেও তিনি সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি ডেটাসহ তুলে ধরেছেন। খুনের চিত্র, ধর্ষণের চিত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র, ডাকাতির সংখ্যা মাসওয়ারী দিয়েছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে এই পর্যন্ত সমস্ত ডেটায় আমরা ঐতিহাসিকভাবে এগিয়ে আছি, উন্নত আছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের কেস রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি ধর্ষণের চিত্র পেয়েছি। তার একটা কারণ আছে, আগে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা রেকর্ড করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে। এখন থানায় গেলেই অথবা অনলাইনে জিডিসহ অন্যান্য কিছু দায়ের করতে পারেন। এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স নেই। যার কারণে সংখ্যাটা একটু বেড়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে সুখের কথা হলো, ধর্ষণ যেখানেই হোক, শিশু হোক, নারী হোক, যে অবস্থাতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিভাগ গ্রেপ্তারসহ চার্জশিট প্রদানের জন্য এবং মামলায় সহযোগিতা করার জন্য সাক্ষী উপস্থাপনসহ ট্রায়েলের সমস্ত ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।
তিনি বলেন, পল্লবী শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে। এটা বাংলাদেশের রেকর্ড। তনু হত্যার আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তার করা সক্ষম। বাকিগুলোও হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ দলীয় পরিচয় দেখে কাউকে গ্রেপ্তার করে না; অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে। বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আমরা কখনও প্রাধান্য দেব না। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকা দরকার।
মন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সবাই কাজ করে। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয় না। এ সময় সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ডগ স্কোয়াড, অস্ত্র ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইনের পরিবর্তে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
৩৪ দিন আগে
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি
ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি এ তথ্য জানায়।
আজ (মঙ্গলবার) রাত ১১টা থেকে এ কর্মসূচির সূচনা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণ, শহিদ ও আহতদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সকল অংশীজনদের অবদানের স্বীকৃতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কর্মসূচির প্রথম ধাপে আগামী ১ জুলাই প্রথম প্রহরে জাতীয় শহিদ মিনারে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শিরোনামে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল।
৩৪ দিন আগে