খেলাধুলা
৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’: মাহ্দী আমিন
৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এতে অংশগ্রহণ করবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, সকল ছেলে শিক্ষার্থীর জন্য এটি বাধ্যতামূলক। আর মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ঐচ্ছিক। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে তাদের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো—এখানে ন্যায্যতা থাকবে, সমতা থাকবে এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমে আসবে। সেই লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগামীর নেতৃত্ব দেওয়ার যে গুণাবলি, মেধা এবং মননশীলতা রয়েছে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আজ (সোমবার) সর্বসম্মতিক্রমে এখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের সহযোগিতা প্রদান করবে। যেসব মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হবে, সেসব মাঠ সেভাবেই প্রস্তুত করা হবে।
তিনি বলেন, সচিবরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে সভা করবেন। স্থানীয় মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সকল শিক্ষা বোর্ডে পরিদর্শন করবেন। তিনি প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেখানে যার সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এখানে দুইজন সচিব রয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রয়েছেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব রয়েছেন। তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাইমারি স্কুল গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে যে ফরম্যাট ছিল, এখানেও একই ফরম্যাট অনুসরণ করা হবে। আমরা যেহেতু বলছি, সারা বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই, তাই প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা পর্যায়, তারপর বিভাগীয় পর্যায় এবং সবশেষে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে আমরা প্রত্যাশা করছি প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি, প্রাইমারি স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালেও ইনশাআল্লাহ আমরা তার উপস্থিতি আশা করছি। এই ফুটবল টুর্নামেন্টের বৈশিষ্ট্য হলো, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এর পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। সে কারণেই প্রাইমারি স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি আমরা এটিকে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ বলছি। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এই আয়োজনকে অনুপ্রাণিত করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যেখানে যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, আমরা সমন্বিতভাবে তা নিশ্চিত করব।
সারা দেশ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় যারা ভালো করে, তাদের সঠিক মূল্যায়ন ও অনুপ্রেরণা জোগালে তা তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের পথকে আরও প্রশস্ত করবে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জাতীয় পর্যায়ে তাদের সাফল্যের যাত্রাকে সুগম করতে গণমাধ্যমে তাদের অর্জনগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মাহ্দী আমিন। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিভা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রচারণার আওতায় আনতে মিডিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি।
তিনি সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালার প্রণয়ন এবং সুষ্ঠু আয়োজনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাঙ্গনে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও শিক্ষার একটি ত্রিপাক্ষিক বিপ্লব সৃষ্টি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রাথমিক পরিকল্পনা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সূচি প্রস্তুত করে তা গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এছাড়া প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করার টার্গেট রয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, এটিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে একাধিক মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে। এই সমন্বিত আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি বিশাল আয়োজন, তাই প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, এই সুপরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সৃজনশীল ক্রীড়া ও মেধার সঠিক বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে আগামী বাংলাদেশের কাণ্ডারি হিসেবে আমাদের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধার সাক্ষর রাখতে ও উঠে আসতে সক্ষম হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রমুখ।
১৮ ঘণ্টা আগে
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অলিম্পিয়ান তৈরি করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
দেশের তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে এনে অলিম্পিক পদকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, এই প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
রবিবার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার উপলক্ষে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েক দিন আগে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, বাংলাদেশ অলিম্পিকে কবে পদক পাবে? সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, ৫ থেকে ১০ কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের অলিম্পিয়ান তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আটটি ইভেন্ট থেকে বাছাই হওয়া প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সরকারি খরচে বিকেএসপিতে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সাভারের বিকেএসপির পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ের শাখাগুলোও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে এসব খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে, যারা সুযোগের অভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে পারেনি। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে তারা জাতীয় স্টেডিয়াম, জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্স ও আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।
তিনি জানান, গত ২ মে সিলেট থেকে একযোগে ৬৪ জেলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় শেষে এখন জাতীয় পর্ব চলছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। প্রথম আসরের ফাইনাল শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় আসরের জন্য ১ জুলাই থেকে অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, এশিয়ান গেমসের পর আর্চারি, শুটিং, সাঁতার ও বক্সিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। টুর্নামেন্টের আগে নয়, সারা বছর প্রশিক্ষণের মধ্যেই খেলোয়াড়দের রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে অলিম্পিকের মতো আসরে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিভাইস-আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ এবং জেলা শহরের মাঠগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় ছাড়াই এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিগত সরকার যেভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিল, আমরা সেই দুর্নীতি দমন করে বিনা খরচে ও দুর্নীতিমুক্তভাবে বিশ্বকাপ বাংলাদেশের মানুষের কাছে উপহার দিতে পেরেছি।’
বাংলাদেশ কবে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে?—এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট কোনো সময় বলা সম্ভব নয়। তবে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে এবং একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে খেলবে, সেই স্বপ্ন তিনি নিজেও দেখেন।
এ সময় বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারের জন্য তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর কাছে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই এবার বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে। এ সাফল্যের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফল।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার শুধু বিনা খরচেই নয়, বিজ্ঞাপন বাজার থেকে সরকারের আয় করার মতো লাভজনক উদ্যোগে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসসহ বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নেতৃত্বে খেলাধুলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
৮ দিন আগে
চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হবে খেলাধুলা, থাকবে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আগামী বছর থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হবে। এ বিষয়ে পৃথক পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠে ব্যবহারিক পরীক্ষারও ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে বিতর্ক, কোরআন তেলাওয়াত, সংগীত, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে শিক্ষার অংশ করা হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর রূপনগর আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু বইভিত্তিক পড়াশোনার ওপর নির্ভর না করে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যেখানে পড়াশোনা ভয়ের বিষয় না হয়ে আনন্দের বিষয় হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল একটি আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। খেলাধুলার ওপর লিখিত পরীক্ষা থাকবে, পাশাপাশি মাঠে ব্যবহারিক পরীক্ষাও নেওয়া হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলার মাধ্যমে তারা মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে থাকবে। একই সঙ্গে মাদকসহ নানা সামাজিক অপরাধ থেকেও তাদের দূরে রাখা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, রাজধানীসহ সারা দেশে খেলার মাঠের সংকট দূর করতে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যেখানে খালি সরকারি জমি থাকবে, সেখানে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ করছে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে আমিনুল হক বলেন, ‘প্রতিদিনের পাঠদানের শুরুতে অন্তত পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করুন। একজন শিক্ষার্থী বড় ডিগ্রি অর্জন করলেও যদি তার মধ্যে সততা, মানবিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ না থাকে, তবে সেই শিক্ষার প্রকৃত মূল্য থাকে না।’
তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তাই শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো উসকানিতে বিভ্রান্ত হবে না। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বাবা-মা ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করবে। তোমরাই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই ভুল পথে পরিচালিত না হয়ে জ্ঞান, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার বাজেট বরাদ্দ করেছে। এই বরাদ্দ যেন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কল্যাণে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৪ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ মইনুল হক এবং বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ইসহাক হোসেন।
১৪ দিন আগে
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে দারুণ লড়াই হবে: ব্রিটিশ হাইকমিশনার
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ম্যাচে ‘দারুণ এক লড়াই হবে’ মন্তব্য করে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেছেন, মানুষের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলার এক ‘অসাধারণ ক্ষমতা’ রয়েছে ফুটবলের, যা বাংলাদেশে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘দুই দলই খুবই শক্তিশালী এবং তাদের দলে কিংবদন্তি খেলোয়াড় রয়েছেন। ইংল্যান্ডে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের মতো তারকা আছেন, আর আর্জেন্টিনায় আছেন লিওনেল মেসি। মাঠে এত প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকায় আমি নিশ্চিত, এটি দারুণ এক ফুটবল ম্যাচ হবে।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায় শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য ইংল্যান্ডের।
এ সময় ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশে মানুষের উন্মাদনার প্রশংসা করে সারাহ কুক বলেন, ‘এখানে ফুটবলের প্রতি মানুষের আবেগ অবিশ্বাস্য।’
তিনি বলেন, ‘বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে বসে খেলা দেখা, প্রিয় দলকে সমর্থন করা কিংবা একসঙ্গে খেলাটি উদযাপন করা—ফুটবল এমন এক বন্ধন তৈরি করে, যা সীমান্তের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।’
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘এ কারণেই ফুটবল যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের খেলা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, বাংলাদেশের অনেক মানুষ আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করবেন। তবে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় যত ইংল্যান্ডের পতাকা দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে, এখানে ইংল্যান্ডের সমর্থকও কম নন। একটি অসাধারণ ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’
ইংল্যান্ডকে সমর্থন করা বাংলাদেশিদের ধন্যবাদ জানিয়ে সারাহ কুক বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে সমর্থন করার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থন আমরা সত্যিই মূল্যায়ন করি।’
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ দলটির জন্য অনেক বড় প্রেরণা। বাংলাদেশেও এত মানুষ ইংল্যান্ডের সমর্থন করেন, তা দেখে তিনি আনন্দিত।
খেলার ফল নিয়ে অনুমান করতে এক প্রশ্নের জবাবে সারাহ কুক বলেন, ‘আমি আগেভাগে কিছু বলতে চাই না। তবে ইংল্যান্ড যদি ফাইনালে ওঠে, তাহলে নিশ্চয়ই অনেক উদযাপন হবে। আমরা সবাই আশা করছি, এ বছর ফুটবল ঘরে ফিরবে।’
২০ দিন আগে
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের নিবন্ধন শুরু হচ্ছে ১ জুলাই
দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করার লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ অলিম্পিক ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দুই মাসব্যাপী নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের সম্পৃক্ত করতে স্কুল, ক্লাব ও জেলা ক্রীড়া অফিসের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার প্রতিযোগিতার পরিধি তৃণমূল পর্যায়ে আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রথম আসরে শুধু উপজেলা দলগুলো জেলা পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও এবার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড দল সরাসরি উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।
৩৫ দিন আগে
ব্রাজিলের ৩-০ গোলের দাপুটে জয়, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল হাইতি
ফিলাডেলফিয়ায় হাইতি জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের একটি দাপুটে জয় নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। এই হারের ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল হাইতি, অন্যদিকে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হলো।
ব্রাজিলের হয়ে চমৎকার পারফর্ম করে দুটি গোল করেছেন মাথেউস কুনহা, আর ভিনিসিয়াস জুনিয়র করেছেন একটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া হাইতির চলতি আসর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত হলো।
এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমার্ধে খেলতে নেমেই কুনহা দ্রুতই দলে তার অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা প্রমাণ করেন। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের হতাশাজনক ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে তিনি বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। আজকের ম্যাচে ভিনিসিয়াসের একটি শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে গোল করে ডেডলক ভাঙেন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে ভিনিসিয়াসের একটি নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের জোরালো শটে বল টপ কর্নারে পাঠিয়ে ব্রাজিলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহা। তার এই জোড়া গোল লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে উপস্থিত ৬৮ হাজারেরও বেশি দর্শকের মাঝে থাকা বিপুলসংখ্যক ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।
এর আগে, রাফিনহার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় এবং প্রথমার্ধেই তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই ধাক্কা সত্ত্বেও পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখে দক্ষিণ আমেরিকান দলটি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ভিনিসিয়াস ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন, যা ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নির্ধারণ করে দেয়। সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ নেওয়া দলটি এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
স্টেডিয়ামের ভেতরের পরিবেশ ছিল বেশ প্রাণবন্ত। হাইতির সমর্থকরা যখন তাদের ঐতিহ্যবাহী গান গাইছিলেন, তখন ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা তাদের দেশের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাস উদযাপন করার পাশাপাশি কিংবদন্তি ফুটবল আইকন পেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন।
আগামী বুধবার ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল তাদের গ্রুপ ‘সি’-এর মিশন শেষ করবে।
এদিকে, পায়ের পেশির (কাফ) চোটের কারণে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও মাঠে নামতে পারেননি।
৪৫ দিন আগে
টাইগারদের হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়
চট্টগ্রামে লড়াকু বাংলাদেশকে মাত্র ৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের ছুড়ে দেওয়া ১৯৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১৮৯ রানে থমকে যায়।
হাই-স্কোরিং ম্যাচের শেষ ওভারে চরম নাটকীয়তার মাঝে নিজের স্নায়ু ধরে রাখেন অ্যারন হার্ডি। শেষ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। তবে হার্ডির করা শেষ বলে ৩৫ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় আউট হলে ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
শেষ ৬ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২৩ রান। ওভারটিতে দুটি ওয়াইড দেওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ের কাছে একটি ছক্কা ও একটি চার হজম করে বসেন হার্ডি। তবে অজি পেসারের করা শেষ স্লোয়ার বলটি কাভার করতে গিয়ে ডিপ লং-অন অঞ্চলে টিম ডেভিডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়, আর তাতেই নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার জয়।
১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই ১ উইকেটে ৭২ রান তুলে উড়ন্ত সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ১৫ বলে ৩০ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাট রেনশর শিকার হন। এরপর মিডল ওভারে ৩৩ বলে ৪২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের হাল ধরেন সাইফ হাসান।
অন্যদের মধ্যে সৌম্য সরকার দ্রুত ১৫ রান এবং পারভেজ হোসেন ইমন ২২ বলে ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। ১৩তম ওভারে ২ উইকেটে ১৩০ রান তুলে বাংলাদেশ যখন ম্যাচ জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্রুত গতিতে ইমন ও সাইফের বিদায় স্বাগতিকদের রান তোলার গতিতে বড় ধাক্কা দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস তার ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা টেনে ধরেন। অন্যদিকে হার্ডি ৪০ রান খরচায় নেন ২ উইকেট, যার মধ্যে ছিল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ উইকেটটি। এছাড়া অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই মাত্র ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল সফরকারীরা। লেগ-স্পিনার নাসুম আহমেদ মাত্র ২৭ রান দিয়ে তুলে নেন জশ ইংলিশ (১১) ও নিখিল চৌধুরীর (৮) উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমানও শুরুর দিকে আঘাত হেনে যথাক্রমে কুপার কনোলি ও অধিনায়ক মিচেল মার্শকে সাজঘরে পাঠান।
তবে চতুর্থ উইকেটে ৯৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে অজিদের ম্যাচে ফেরান রেনশ ও ডেভিড। ২৬ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলার পথে চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকান ডেভিড। পরে তিনি আব্দুল গফফার সাকলাইনের বলে আউট হন। সাকলাইন ৪ ওভারে ৫৩ রান দেন।
শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৮৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রেনশ। পাঁচটি ছক্কা ও চারটি চারে সাজানো তার এই নান্দনিক ইনিংসটিই সফরকারীদের ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের পুঁজি এনে দেয়।
৪৫ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ২ হাজার ফুট আর্জেন্টিনা পতাকা নিয়ে সমর্থকদের শোভাযাত্রা
ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনা পতাকা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থক অংশ নেন। এ সময় আকাশি-সাদা রঙে ছেয়ে যায় শহরের প্রধান সড়কগুলো।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের টাউন ফুটবল মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। পরে শহিদ হাসান চত্বর (চৌরাস্তা মোড়), কোর্ট মোড়, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন ফুটবল মাঠে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা সারিবদ্ধভাবে ২ হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনা পতাকা বহন করেন। এ সময় প্রিয় দলের জার্সি, বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে স্লোগান দেন তারা। বিশ্বকাপের গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এ আয়োজনের নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কণ্ঠশিল্পী শান্ত আহমেদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক শামসুজ্জোহা রানা, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জিসান আহমেদ এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আদিব জোয়ার্দ্দার।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থক শেখ লিটন বলেন, চুয়াডাঙ্গায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংখ্যা অনেক। বিশ্বকাপ এলেই আমরা সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। এবারও আমরা আশা করছি, আর্জেন্টিনা ভালো খেলবে এবং শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে থাকবে।
৪৮ দিন আগে
‘নীল হাঙ্গর’দের রক্ষণে কাটা পড়ল স্পেন
কাবো ভের্দে বা কেপ ভার্দ যে নামেই ডাকুন, ফুটবলের দুনিয়ায় দেশটির একটি ডাকনাম রয়েছে ‘তুবারোঁইস আসুইস’, বাংলায় যার অর্থ ‘নীল হাঙর’। তবে আক্রমণে নয়, রক্ষণাত্মক ফুটবল দিয়ে তারা শক্তিশালী স্পেনকে যে কামড় দিল, ফুটবলপ্রেমীরা তা মনে রাখবে বহু দিন।
পুরো ম্যাচের ৭৪ শতাংশ বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে মোট ২৭টি আক্রমণ শানাল বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় সেরা দল স্পেন। কিন্তু আকাঙ্ক্ষিত একটি গোলের দেখা পেল না কোনোভাবেই। ফলে অপ্রত্যাশিত গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ‘শিরোপার অন্যতম দাবিদার’ তকমা নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা লা রোহাদের।
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে এই ফলাফল তাই কেপ ভার্দের জন্য জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর এই ঐতিহাসিক ফলাফলের কেন্দ্রে ছিলেন একজন মানুষ—৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক হোসিমার দিয়াস ভোসিনিয়া।
৫ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটির ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে এসেছেন পেদ্রো লেইতিয়াও ব্রিতো ‘বুবিস্তা’। ৭০ বছর বয়সী বুবিস্তা কেন ২০২৫ সালে আফ্রিকার বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তার প্রমাণ তিনি দিলেন সবচেয়ে বড় মঞ্চেই। স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে এমন শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণাত্মক কৌশল সাজিয়ে তিনি কার্যত দাবার ছকে আটকে ফেলেন দে লা ফুয়েন্তেকে।
৪৯ দিন আগে
দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ডাচদের রুখে দিল জাপান
বিশ্বকাপের মঞ্চে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করে পরের ধাপে পৌঁছানো যে কতটা কঠিন তা বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই প্রস্তুত ছিল জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাদের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট—ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর সুযোগের অপেক্ষা। পুরো ম্যাচজুড়ে সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করল এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধিরা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও তাই ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে ডাচদের হতাশ করা ড্রয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জাপান।
বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে এফ গ্রুপের প্রথম ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচের সবগুলো গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫১তম মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইকের হেডারে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যাওয়ার ৬ মিনিট পর জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা। তবে ৬৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচে ফের এগিয়ে গিয়েছিল শক্তিমত্তা ও মাঠের পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা ডাচরা। এর ৮৯ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে জাপানের সমর্থকদের আনন্দে ভাসান দাইচি কামাদা।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে থাকে নেদারল্যান্ডস, অন্যদিকে মাথা ঠান্ডা রেখে ডাচ আক্রমণ রুখে দেওয়ায় মনোযোগী হয় জাপান। তবে তৃতীয় মিনিটে ডনিয়েল মালেনের শট থেকে ভালো একটি সুযোগ এসেছিল ডাচদের, অবশ্য গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির নৈপুণ্যে শুরুতেই পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায় জাপান।
শুরুর দিকে নিজেদের অর্ধেই ব্যস্ত থাকতে হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে জাপান। ১৫তম মিনিটে দাইজেন মায়েদার নিচু ক্রস থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল তারা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডাচ রক্ষণ তা নস্যাৎ করে দেয়।
৫০ দিন আগে