চট্টগ্রামে লড়াকু বাংলাদেশকে মাত্র ৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের ছুড়ে দেওয়া ১৯৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১৮৯ রানে থমকে যায়।
হাই-স্কোরিং ম্যাচের শেষ ওভারে চরম নাটকীয়তার মাঝে নিজের স্নায়ু ধরে রাখেন অ্যারন হার্ডি। শেষ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। তবে হার্ডির করা শেষ বলে ৩৫ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় আউট হলে ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
শেষ ৬ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২৩ রান। ওভারটিতে দুটি ওয়াইড দেওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ের কাছে একটি ছক্কা ও একটি চার হজম করে বসেন হার্ডি। তবে অজি পেসারের করা শেষ স্লোয়ার বলটি কাভার করতে গিয়ে ডিপ লং-অন অঞ্চলে টিম ডেভিডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়, আর তাতেই নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার জয়।
১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই ১ উইকেটে ৭২ রান তুলে উড়ন্ত সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ১৫ বলে ৩০ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাট রেনশর শিকার হন। এরপর মিডল ওভারে ৩৩ বলে ৪২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের হাল ধরেন সাইফ হাসান।
অন্যদের মধ্যে সৌম্য সরকার দ্রুত ১৫ রান এবং পারভেজ হোসেন ইমন ২২ বলে ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। ১৩তম ওভারে ২ উইকেটে ১৩০ রান তুলে বাংলাদেশ যখন ম্যাচ জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্রুত গতিতে ইমন ও সাইফের বিদায় স্বাগতিকদের রান তোলার গতিতে বড় ধাক্কা দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস তার ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা টেনে ধরেন। অন্যদিকে হার্ডি ৪০ রান খরচায় নেন ২ উইকেট, যার মধ্যে ছিল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ উইকেটটি। এছাড়া অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই মাত্র ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল সফরকারীরা। লেগ-স্পিনার নাসুম আহমেদ মাত্র ২৭ রান দিয়ে তুলে নেন জশ ইংলিশ (১১) ও নিখিল চৌধুরীর (৮) উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমানও শুরুর দিকে আঘাত হেনে যথাক্রমে কুপার কনোলি ও অধিনায়ক মিচেল মার্শকে সাজঘরে পাঠান।
তবে চতুর্থ উইকেটে ৯৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে অজিদের ম্যাচে ফেরান রেনশ ও ডেভিড। ২৬ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলার পথে চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকান ডেভিড। পরে তিনি আব্দুল গফফার সাকলাইনের বলে আউট হন। সাকলাইন ৪ ওভারে ৫৩ রান দেন।
শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৮৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রেনশ। পাঁচটি ছক্কা ও চারটি চারে সাজানো তার এই নান্দনিক ইনিংসটিই সফরকারীদের ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের পুঁজি এনে দেয়।