বিশ্ব
সবে তো শুরু, আরও দেখতে পাবেন: শুল্কারোপ নিয়ে ট্রাম্প
রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর জন্য আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি রাশিয়ার তেল কেনার অভিযোগে ভারতের ওপর তিনি অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয় বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (১০ আগস্ট) ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘সবে তো শুরু, আপনারা আরও অনেক কিছু দেখতে যাচ্ছেন। আরও অনেক নিষেধাজ্ঞা (সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা) আসতে যাচ্ছে।’
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান ট্রাম্প।
এর আগে, শান্তিচুক্তি করার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তা না হলে এই অর্থনৈতিক শাস্তি কার্যকর হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার তেল আমদানি করায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’: ভারত
ট্রাম্পের আগে বাইডেন প্রশাসনও রাশিয়ার ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, তবে তাতেও যুদ্ধ থামানো যায়নি। ট্রাম্প নিজের শুল্ক হাতিয়ারকে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যবহার করেছেন। তিনি ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ বা গৌণ শুল্কারোপ শুরু করেছেন। অর্থাৎ এই শুল্কের মাধ্যমে ট্রাম্প তৃতীয় পক্ষের দেশগুলোকে এমন একটি অবস্থানে ফেলেছেন যেখানে রাশিয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো এক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে।
শুল্কের মুখে রয়েছে চীনও
রাশিয়ার জ্বালানি পণ্যের সবচেয়ে বড় ত্রেতা হলো চীন। দেশটির সঙ্গে বর্তমানে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তারা এসব আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। তবে তা সত্ত্বেও দেশটির ওপর নতুন করে শুল্কারোপের হুমকি দেওয়া বাদ দেননি ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘আমি যাদের ওপর শুল্কারোপ করতে যাচ্ছি, চীনও তাদের মধ্যে থাকতে পারে। আমি জানি না আসলে। এই মূহুর্তে কিছু বলতে পারছি না।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ ও অযৌক্তিক একতরফা নিষেধাজ্ঞার বরাবরই বিরোধিতা করে আসছে চীন।
দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ সিএনএনকে বলেন, ‘শুল্কযুদ্ধে কোনো বিজয়ী নেই। জবরদস্তি ও চাপ প্রয়োগ কোনো সুফল বয়ে আনবে না।’
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আরোপিত পাল্টাপাল্টি শুল্ক কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে রাখতে বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোর জন্য কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন না করলে কম্পিউটার চিপে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার থেকে তেল কেনার কারণে বুধবার (৬ আগস্ট) ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে আগের ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কসহ ভারতীয় পণ্যে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার থেকে ২১ দিন পর এই নতুন শুল্কহার কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
ভারতকেও এ বিষয়ে আগেভাগে হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তখন তার অভিযোগ ছিল, রাশিয়া থেকে তেল কিনে ইউক্রেনে হামলায় মস্কোকে সহায়তা করছে ভারত। ভারতের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে চীন।
২৬৭ দিন আগে
যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের’ সমর্থনে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ৪৬৬
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে ব্রিটিশ সরকার সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করার পর লন্ডনে সংগঠনটির সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে। সেই বিক্ষোভ থেকে চার শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় শনিবার (৯ আগস্ট) রাতে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্কয়ার এবং হোয়াইটহলে বিক্ষোভরতদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাত ৯টা পর্যন্ত প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থনের অভিযোগে ৪৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে পাঁচজনসহ অন্যান্য অভিযোগে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) বিকেলে পার্লামেন্ট স্কয়ারে ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ নামের এক প্রচার সংগঠন এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। সেখানে প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার হাতে জড়ো হয় হাজারখানেক মানুষ।
ওই সংগঠনের এক মুখপাত্র বলেন, গ্রেপ্তার ও সম্ভাব্য কারাবাসের ঝুঁকি নিয়েই বহুসংখ্যক মানুষ আজ রাস্তায় নেমেছে। (গাজায়) অব্যাহত গণহত্যায় (যুক্তরাজ্য) সরকার যেভাবে জড়িত, তাতে মানুষ কতটা ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত— তারই প্রমাণ এই জনসমাগম।
আরও পড়ুন: তথ্য ফাঁসের পর গোপন প্রকল্পে যুক্তরাজ্যে স্থানান্তরিত হাজারো আফগান
গতকাল দুপুর ১টা নাগাদ পার্লামেন্ট স্কয়ারের বাইরের সবুজ চত্বরের পাশে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থকরা পোস্টার হাতে জড়ো হতে থাকে। তাদের মধ্যে এক নারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবারই প্রিয়জন আছে, কিন্তু আপনারা ভুল মানুষকে গ্রেপ্তার করছেন।’
তিনি পার্লামেন্টের দিকে নির্দেশ করে বলেন, ‘ওখানে যান। যারা গণহত্যায় জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করুন।’
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক নারী দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) বিমানে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সদস্যদের কর্মকাণ্ড ছিল একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি। তা মোটেও সন্ত্রাসবাদ নয়।
তার দাবি, ওই বিমানগুলোই আসল সন্ত্রাসী। বিমানগুলো গাজায় গিয়ে শিশুদের হত্যা করেছে।
ওই নারী আরও বলেন, ‘আমি কেবল একটা কাগজের টুকরো ধরে আছি। এ তো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হতে পারে না। বরং ইচ্ছা করে ২০ লাখ মানুষকে অনাহারে রাখা হলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’
২৬৮ দিন আগে
গাজার ‘পূর্ণ দখল’ প্রস্তাব ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পূর্ণ গাজা উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা।
শুক্রবার ( ৮ আগস্ট) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানা যায়। গাজায় প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই অভিযান শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) গাজা দখল অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করবে। এটি গাজা পূর্ণ দখল অভিযানের প্রথম ধাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা কয়েকমাস পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিএননের খবর অনুযায়ী, আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে বাসিন্দাদের গাজা ছেড়ে চলে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য উপত্যকায় ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
গাজার ভবিষ্যৎ কী?
এর আগে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।
তবে দীর্ঘমেয়াদে দখলে রাখার পরিকল্পনা নেই জানিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা গাজাকে নিজেদের দখলে রাখতে চাই না। আমরা সেখানে একটি নিরাপত্তা বলয় চাই।’
নেতানিয়াহু জানান, তিনি গাজার শাসনভার আরব বাহিনীর হাতে তুলে দিতে চান, যারা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হবে না। গাজাবাসীকে এই ব্যবস্থা ভালো জীবন দেবে বলে মনে করেন তিনি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হামাসকে সরানো এবং গাজার মানুষকে মুক্ত করে সমগ্র উপত্যকাকে বেসামরিক শাসনের আওতায় আনতেই আমরা গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে ইচ্ছুক।’
পড়ুন: শাসক পরিবর্তনে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় ইসরায়েল: নেতানিয়াহু
গাজা দখলের পরিকল্পনায় জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা
এদিকে, জাতিসংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানরা ইসরায়েলের নতুন এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেছেন, গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের এই সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের গাজায় গণহত্যা ঠেকানোর আদেশের অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই পরিকল্পনাকে ‘মারাত্মক ভুল’ আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার’ আহ্বান জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের এমন পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
২৭০ দিন আগে
সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করলেন রুশনারা আলী
সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের গৃহহীনতা-বিষয়ক মন্ত্রী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক রুশনারা আলী। পুরোনো ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে ব্যক্তিগত একটি সম্পত্তির ভাড়া রাতারাতি ৭০০ পাউন্ড বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় আবাসন-বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার কয়েক ঘণ্টা পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন রুশনারা। বাড়িটি বিক্রি না হওয়ার পর বেশি দামে পুনরায় ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ভাড়াটেদের উচ্ছেদের ঘোষিত কারণের মধ্যে বিরোধিতা নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তিনি চাপে ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী। গত বছর লেবার পার্টি সরকার গঠনের পর গৃহায়ন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি হন তিনি।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ‘দ্য আই পেপার’ এর এক প্রতিবেদনে এই বিতর্ক শুরু হয়। তাতে বলা হয়, গত নভেম্বর মাসে রুশনারা আলীর পূর্ব লন্ডনের বাড়িটির ভাড়াটেদের জানানো হয়েছিল, তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি নবায়ন করা হবে না, কারণ বাড়িটি বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে। এরপরই ওই সম্পত্তিটি ভাড়া দিতে পুনরায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তবে আগের ভাড়ার চেয়ে মাসিক ৭০০ পাউন্ড বেশি চাওয়া হয়।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভাড়াটেদের অধিকার-সংক্রান্ত এমন একটি আইন আগামী বছর কার্যকর হওয়ার কথা যেখানে সম্পত্তি বিক্রির জন্য ভাড়াটেদের উচ্ছেদ করে পরে বেশি ভাড়ায় পুনরায় ভাড়া দেওয়া যাবে না। তাছাড়া নির্দিষ্ট মেয়াদে ভাড়ার চুক্তিও করা যাবে না।
আরও পড়ুন: অবশেষে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক
রুশনারা আলীকে নিয়ে এই বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক বলেন, তিনি ‘ভণ্ডামি ও স্বার্থসেবামূলক’ একটি সরকার পরিচালনা করছেন। রুশনারার পদত্যাগকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে রুশনারার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভাড়াটেরা তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি অনুযায়ী ছিলেন। সম্পত্তি বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে থাকতে পারেন বলেও জানানো হয়েছিল, কিন্তু ভাড়াটেরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি এবং সম্পত্তি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন
কিয়ের স্টারমারকে লেখা পদত্যাগপত্রে রুশনারা আলী লিখেছেন, তিনি সব আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলেছেন এবং গুরুত্ব সহকারে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি পদে থাকলে বিষয়টি সরকারের উচ্চাভিলাষী কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেবে। তাই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগের পর রুশনারার শ্রম ও নিবেদনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। তার অনুপস্থিতি হাউজিং, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আশাপ্রকাশ করেন, রুশনারা আলী পেছন থেকে সরকারে সমর্থন অব্যাহত রাখবেন এবং বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি আসনের জনগণের সেবা করে যাবেন।
এর আগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরেক এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এই ঘটনা সরকারি পদে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার তালিকায় আরেকটি সংযোজন।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে টিউলিপের চিঠি
২০১০ সালে লেবার পার্টির মনোনয়নে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন রুশনারা। গতবছরের নির্বাচনে তিনি টানা পঞ্চমবারের মত পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।
রুশনারার জন্ম ১৯৭৫ সালে সিলেটে। মাত্র সাত বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে চলে যান লন্ডনে।
বাংলাদেশে রুশনারার পৈতৃক নিবাস সিলেটের বিশ্বনাথের বুরকি গ্রামে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও দর্শন পড়েছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। তিনি পরামর্শক সংস্থা ইয়ং ফাউন্ডেশনের সহযোগী পরিচালক।
২৭০ দিন আগে
শাসক পরিবর্তনে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় ইসরায়েল: নেতানিয়াহু
ইসরায়েল পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাসকে সরিয়ে গাজার শাসনভার আরব বাহিনীর হাতে তুলে দিতে চান তিনি।
তবে এমন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও গাজায় এখন পর্যন্ত আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন তিনি।
গাজা পুরোপুরি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হামাসকে সরানো এবং গাজার মানুষকে মুক্ত করে সমগ্র উপত্যকাকে বেসামরিক শাসনের আওতায় আনতেই আমরা গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে ইচ্ছুক।’
‘আমরা গাজাকে নিজেদের দখলে রাখতে চাই না। আমরা সেখানে একটি নিরাপত্তা বলয় চাই।’
নেতানিয়াহু জানান, তিনি গাজার শাসনভার আরব বাহিনীর হাতে তুলে দিতে চান যারা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হবে না। গাজাবাসীকে এই ব্যবস্থা ভালো জীবন দেবে বলে মনে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমোদন পাওয়ার আশা করছিলেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো। তবে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার যেকোনো প্রস্তাবে পূর্ণ মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেতে হবে। তবে রবিবারের আগে তেল আবিববের পূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠক হবার সম্ভাবনা কম।
আরও পড়ুন: স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করবে না হামাস
এদিকে, গত ২২ মাসের ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর নতুন এই পরিকল্পনার খবর আসার পর গাজায় বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে থাকা মাইসা আল-হেইলা নামে এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘দখল করার মতো কিছুই আর বাকি নেই। গাজা বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই।’
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, গাজায় দুই ধাপের একটি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সেখানকার প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্য গাজায় বেসামরিক অবকাঠামো স্থাপনের জন্য সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে এই পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২–এর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি দখল নিয়ে আশঙ্কায় থাকা সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করতে এই প্রস্তাবকে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের বদলে সীমিত অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবার কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হামাসকে আলোচনায় ফেরাতে চাপ সৃষ্টি করা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা খোলা চোখে ভিয়েতনাম মডেলের দিকে এগোচ্ছি।’
এদিকে, ইসরায়েলের এই পরিকল্পনাকে যুদ্ধবিরতি আলোচনার বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য অভ্যুত্থান’ বলে অভিহিত করেছে হামাস।
হামাস কর্মকর্তা ওসামা হামদান আল জাজিরাকে বলেছেন, গাজা শাসনের জন্য গঠিত যেকোনো বাহিনীকে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত ‘দখলদার বাহিনী’ হিসেবেই গণ্য করবে।
এই পরিকল্পনার বিষয়ে জর্ডানের এক সরকারি সূত্র জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিরা যা চাইবে, আরব দেশগুলো তাতেই সম্মতি দেবে। তাছাড়া গাজার নিরাপত্তা ‘বৈধ ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানের’ দ্বারাই পরিচালিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আমরা ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছি: ক্ষুধার্ত গাজাবাসীর আর্তনাদ
নেতানিয়াহু এমন এক সময়ে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, যখন গাজা যুদ্ধ থামাতে এবং সেখানে আরও মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ছে।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যে ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা।
এমন পরিস্থিতিতে গাজা উপত্যকা নিয়ে নেতানিয়াহুর নতুন এই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কি ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
২৭০ দিন আগে
সেই ‘সুপারম্যান’ এখন মার্কিন অভিবাসন এজেন্ট
ক্রিপটন নামের ধ্বংসপ্রাপ্ত এক গ্রহ থেকে পৃথিবীতে আসা কাল্পনিক চরিত্র সুপারম্যান। যিনি দিনের বেলায় সাংবাদিক, আর গোপনে বিখ্যাত লাল-নীল পোশাক পরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন এক সুপারহিরো হিসেবে।
অসাধারণ শক্তি, উড়তে পারা, এক্স-রে দৃষ্টি, বুলেটপ্রুফ শরীর এবং অতিমানবিক নৈতিকতার জন্য কোটি ভক্তের প্রিয় হিরো সুপারম্যান হয়ে ওঠেন বিশ্বজুড়ে ন্যায়ের প্রতীক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমিকস, সিনেমা, টিভি সিরিজ, অ্যানিমেশন ও গেমে সুপারম্যান চরিত্রটি নানা রূপে উঠে এসেছে।
সেই জনপ্রিয় চরিত্রের একটি রূপ— ১৯৯০’র দশকের টিভি সিরিজ লোইস অ্যান্ড ক্লার্ক: দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চারস অব সুপারম্যান-এ সুপারম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করা অভিনেতা ডিন কেইন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টে (আইসিই) যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (৬ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজের একটি টকশোতে এই ঘোষণা দেন ডিন কেইন। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্পের ‘গণ-নির্বাসন’ পরিকল্পনাতেও সমর্থন জানান তিনি।
ফক্স নিউজে জেসি ওয়াটারসের অনুষ্ঠানে ডিন কেইন বলেন, ‘আমি আগে থেকেই একজন রিজার্ভ পুলিশ অফিসার। তবে আগে আইসিইর অংশ ছিলাম না। সম্প্রতি আমি আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমাকে শিগগিরই এজেন্ট হিসেবে শপথ করানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশ তৈরি হয়েছে দেশপ্রেমিকদের হাতে। আমি বিশ্বাস করি, আইসিই সঠিক কাজ করছে।’
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রশাসন আইসিই-এর জন্য ৭৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৯ সালের মধ্যে ১০ হাজার নতুন এজেন্ট নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রাও রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের কথিত ‘বিগ বিউটিফুল ওয়াল’ প্রকল্প থেকেই এই বরাদ্দ এসেছে।
পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন না করলে কম্পিউটার চিপে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আইসিই প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই অভিযানে অনিবন্ধিত অভিবাসী, আইনি সুরক্ষাপ্রাপ্ত বাসিন্দা, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরাও গ্রেপ্তার হচ্ছেন। আইসিইর বিরুদ্ধে নিয়মিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে, কারণ এসব অভিযানে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে না বলে দাবি রয়েছে।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ হচ্ছে। প্রতিবাদকারীদের গ্রেপ্তার এবং আইসিই-র কর্মকাণ্ড ভিডিও ধারণকারীদেরও অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
সশস্ত্র মুখোশধারী আইসিই এজেন্টদের শুধু লস অ্যাঞ্জেলেস নয়, অন্যান্য শহরেও সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করতে দেখা গেছে। তাঁরা প্রায়শই সাদা পোশাকে থাকেন এবং তাঁদের শনাক্ত করার উপায় থাকে না।
সাম্প্রতিক সময়ের নতুন সুপারম্যান চলচ্চিত্রে চরিত্রটিকে একজন ‘ইমিগ্র্যান্ট’ হিসেবে উপস্থাপন করায় ডিন কেইন এর তীব্র সমালোচনা করেন।
কেইনের ভাষায়, ‘সুপারম্যান তো স্পষ্টভাবেই একজন এলিয়েন। অবশ্যই সে অভিবাসী। কিন্তু আমাদের দেশে নিয়মকানুন আছে। সবাইকে আমরা চাইলেই ঢুকতে দিতে পারি না।’
নব্বইয়ের দশকের লোইস অ্যান্ড ক্লার্ক: দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চারস অব সুপারম্যান সিরিজে টেরি হ্যাচার অভিনীত লোইস লেন চরিত্রের বিপরীতে সুপারম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেন ডিন কেইন।
আইসিই-তে যোগদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করি, আরও অনেকে আমার মতো এগিয়ে আসবেন এবং এই দেশকে রক্ষায় সাহায্য করবেন।’
২৭১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন না করলে কম্পিউটার চিপে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন না করলে কম্পিউটার চিপ ও সেমিকন্ডাক্টরে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (৭ আগস্ট) ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইলেকট্রনিক পণ্য, গাড়ি, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য ডিজিটাল পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে অ্যাপলের সিইও টিম কুকের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, আমরা চিপ ও সেমিকন্ডাক্টারে প্রায় ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর কথা ভাবছি। যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো শুল্ক দিতে হবে না।
ট্রাম্প প্রশাসনের আগের সিদ্ধান্তে ইলেকট্রনিক পণ্য শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।
ট্রাম্প আরও বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় চিপ সংকটের কারণে গাড়ির দাম বেড়ে গিয়েছিল এবং তা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছিল।
ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। টেক জায়ান্ট অ্যাপল ও অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে চিপ উৎপাদনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের অভিষেকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৃহৎ প্রযুক্তি খাত মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এসেছে। এর মধ্যে শুধু টেক জায়ান্ট অ্যাপলই ৬০০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
পড়ুন: ভারতকে ট্রাম্পের শাস্তি, শুল্ক বেড়ে দাঁড়াল ৫০ শতাংশ
বুধবার ট্রাম্প ও কুকের বৈঠকের পর, বাজারে অ্যাপলের শেয়ারমূল্য ৫ শতাংশ বেড়েছে এবং লেনদেন শেষ হওয়ার পর আরও ৩ শতাংশ বেড়েছিল।
মার্কিন এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া এবং ইন্টেল-এর শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। চিপ নির্মাতাদের সংগঠন সেমিকন্ডাক্টর ইন্ড্রাস্টি অ্যাসোসিয়েশনও ট্রাম্পের এই নতুন সিদ্ধান্তে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্স জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। গত অর্থবছরে চিপের বিক্রি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
ট্রাম্প বলছেন, উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকিই প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপন করতে বাধ্য করবে। এতে কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমতে পারে এবং মোবাইল ফোন, টিভি, ফ্রিজসহ অনেক পণ্যের দাম বাড়তে পারে— তবুও ট্রাম্প মনে করেন, দেশীয় উৎপাদনই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
২৭১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধ সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল কিনতে কেন অনড় ভারত
রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে বন্ধু রাষ্ট্র ভারতকে নিষেধ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তবে ভারত তা শোনেনি। ফলে নয়াদিল্লির ওপর নেমে এসেছে ট্রাম্পের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কের খড়গ। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে নানা মহলে চলছে বিভিন্ন আলোচনা।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে এক কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি। একদিকে ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে ভারতের এই দ্বিমুখী নীতি হতাশার। মস্কোর ওপর ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশ নানাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও ভারতের মতো বিশাল অর্থনীতির একটি দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখায় তাদের সেসব নিষেধাজ্ঞা অনেকটা দুর্বল হয়ে যায় বলে মনে করে তারা। আর এসব বিষয় নিয়েই চটেছেন ট্রাম্প।
ভারতের এই ‘গাছ থেকে খাওয়া, তলা থেকেও কুড়ানো’ নীতি নিয়ে আর ধৈর্য ধরতে পারছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ফলে মোদির কাছে তার স্পষ্ট দাবি, ভারতের নির্দিষ্ট একটি পক্ষ নিতে হবে।
নিজের এই দাবি জোরদার করতে রাশিয়ার থেকে ভারতের সস্তায় তেল কেনার বিষয়টিকে কাজে লাগাচ্ছেন ট্রাম্প। আর এখানে তিনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন তার বহুল আলোচিত বাণিজ্যনীতি। ফলে এতদিন ‘বন্ধু’ দাবি করে এলেও ধীরে ধীরে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাচ্ছেন ট্রাম্প ও মোদি।
রাশিয়ার থেকে তেল কেনার কারণে বুধবার (৬ আগস্ট) ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে আগের ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কসহ ভারতীয় পণ্যে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার থেকে ২১ দিন পর এই নতুন শুল্কহার কার্যকর হবে।
এর আগে, এ বিষয়ে ভারতকে হুমকিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তখন তার অভিযোগ ছিল, রাশিয়া থেকে তেল কিনে ইউক্রেনে হামলায় মস্কোকে সহায়তা করছে ভারত।
আরও পড়ুন: ভারতকে ট্রাম্পের শাস্তি, শুল্ক বেড়ে দাঁড়াল ৫০ শতাংশ
সামাজিক যোগাযাগামাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘কেবল বিপুল পরিমাণে রুশ তেল কিনেই থেমে থাকছে না ভারত, তারা সেই তেলের বড় একটি অংশ খোলা বাজারে বিক্রি করে বিশাল মুনাফা করছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র কত মানুষকে হত্যা করছে, এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যাথা নেই।’
এদিকে, অন্যান্য দেশ শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে যেখানে উঠেপড়ে লেগেছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপকে ‘অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছে নয়াদিল্লি। কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে এখনও সার ও রাসায়নিকসহ অন্যান্য পণ্য কিনছে বলে দাবি করেছে ভারত।
রুশ তেলের ওপর ভারতের এই নির্ভরশীলতা কেন
বহুদিন ধরেই রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে আসছে ভারত। ভারতের ১৪০ কোটির জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই তেল আমদানি করা হয়ে থাকে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বর্তামানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ব্যবহারকারী দেশ হয়ে উঠেছে ভারত। এমনকি ২০৩০ সালের মধ্যে তেল ব্যবহারে তারা চীনকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।
বাণিজ্য বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতের মোট আমদানির ৩৬ শতাংশই হলো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল।
অন্য কোথাও থেকে কেন তেল কিনছে না দিল্লি
২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর ইউরোপের অধিকাংশ দেশ রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে রাশিয়ার তেলের প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে চীন, ভারত ও তুরস্ক।
জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক কেন্দ্রের সহযোগী অধ্যাপক অমিতাভ সিং জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় পড়ে তেল বিক্রির ওপর বড় ধরনের ছাড় দেয় রাশিয়া। সেই ছাড়েই তেল কিনছে ভারত, অন্য কোনো দেশ থেকে এত কম মূল্যে যা সম্ভব নয়। এটি পুরোপুরি একটি ‘অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করে ভারত। তবে ইউক্রেন ও তার মিত্ররা এটিকে তীব্র সমালোচনার চোখে দেখছে।
যদিও গত কয়েক বছর ধরে ভারত অন্যান্য উৎস থেকেও তেল কিনতে শুরু করেছে, তবে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে সেই শূন্যতা সহজে পূরণীয় নয় বলে মনে করেন অমিতাভ সিং।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার তেল আমদানি করায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’: ভারত
কেপলারের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক মুইউ জু বলেন, নিজেদের মোট তেলের চাহিদার ৮০ শতাংশই আমদানি করে থাকে ভারত। বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদকদের জোট ওপেক কিছু বাড়তি উৎপাদন ক্ষমতা রাখলেও রাশিয়া দৈনিক সমুদ্রপথে যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করে, সেই পরিমাণ তেল উত্তোলন করাটা তাদের জন্য কঠিন।
এর আগে, ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল ভারত। দৈনিক ৪ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেন কিনত দিল্লি।
অমিতাভ সিং বলেন, ‘আসলে আমাদের হাত এখন বাঁধা। তেলের বাজার পরিচালনার জন্য ভারতের খুব বেশি পরিসর অবশিষ্ট নেই।’
তার মতে, অন্তত এখনই ট্রাম্পের দাবির কাছে দিল্লির নত হওয়ার সম্ভাবনা কম। মোদি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং আগের মতো মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির পথ খুঁজবে। তবে রুশ তেলের বাজার থেকে রাতারাতি বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়।
২৭১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে চীন সফরে যাচ্ছেন মোদি
শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিতব্য সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার চীনে অবস্থান করার কথা রয়েছে।
এর মাধ্যমে সাত বছর পর চীন সফর করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর আগে, এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতেই ২০১৮ সালে সর্বশেষ চীন সফর করেছিরেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবারের সম্মেলনের আয়োজক। সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও অংশ নিতে পারেন। চীন সফরের পর ভারত-জাপান সম্মেলনে অংশ নিতে টোকিও সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মোদির।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি ভারত সরকার।
টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে ভারত সফর করবেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একইসঙ্গে সীমান্ত ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনাও করবেন ই।
এসসিও সম্মেলনে ১০ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও ইউরেশীয় এই জোটকে পুরোপুরি সমর্থন করে না ভারত, তবে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার এবং আফগানিস্তানে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ মোকাবিলায়ে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখে নয়াদিল্লি। তাছাড়া ভারতকে তার কৌশলগত স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরারও সুযোগ দেয় এসসিও।
এমন একটি সময়ে এই সফর হতে যাচ্ছে যখন চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে ভারতের টানাপোড়েন চলছে।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার তেল আমদানি করায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’: ভারত
রাশিয়ার থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শুল্কারোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর ফলে আগের ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কসহ ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার মতে, মোদি যদি চীন সফর করেন, তাহলে সেখানে পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার সম্ভাবনাও প্রবল। তাছাড়া এবার ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের জন্য মোদি নিজেই রুশ প্রেসিডেন্টকে ভারতে স্বাগত জানাতে পারেন।
এদিকে, গালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারত সংঘর্ষের পর এটি হবে মোদির প্রথম চীন সফর। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি।
২৭১ দিন আগে
রাশিয়ার তেল আমদানি করায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’: ভারত
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে দাবি করে একে ‘অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছে নয়াদিল্লি।
বুধবার (৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করায় ভারতকে লক্ষবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আমরা আগেই পরিষ্কার করেছি। বাজারের বাস্তবতার ভিত্তিতে এবং ভারতের ১৪০ কোটির জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই তেল আমদানি করা হয়ে থাকে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কারোপ অত্যন্ত দুঃখজনক, বিশেষ করে যখন অনেক দেশই নিজেদের জাতীয় স্বার্থে একই কাজ করছে।’
আরও পড়ুন: ভারতকে ট্রাম্পের শাস্তি, শুল্ক বেড়ে দাঁড়াল ৫০ শতাংশ
‘আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, এসব পদক্ষেপ অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য।’
ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।
২৭১ দিন আগে