বিশ্ব
বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীসহ নিহত ৫
ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্যটির উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ব্যক্তিগত বিমানটিতে থাকা আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি দলীয় র্যালিতে যোগ দিতে ব্যক্তিগত বিমানে করে মুম্বাই থেকে নিজ শহর বারামতি যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। মুম্বাই থেকে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে জরুরি অবতরণের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে তাতে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। টেলিভিশনের ফুটেজে ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের (ডিজিসিএ) প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়, মাঝারি আকারের লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটিতে ছিলেন পাওয়ারের দুই স্টাফ সদস্য ও দুই ক্রু সদস্য। দুর্ঘটনায় সবাই নিহত হয়েছেন।
রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের অংশ হিসেবে রাজ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজ্যের চিনি উৎপাদন অঞ্চলে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। গ্রামীণ ভোটারদের সংগঠিত করার সক্ষমতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাওয়ারকে একজন নিবেদিতপ্রাণ জনসেবক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মোদি বলেন, ‘প্রশাসনিক বিষয়ে তার গভীর উপলব্ধি এবং দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের ক্ষমতায়নে তার আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। তার অকালমৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও শোকের। তার পরিবার ও অগণিত শুভানুধ্যায়ীকে আমার সমবেদনা।’
১৪২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড়ের প্রভাবে ৩০ জনের মৃত্যু
ভয়াবহ তুষার ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তীব্র ঠান্ডা ও ঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় তাপমাত্রার চরম অবনতি হয়। ঝড়ের কারণে গতকাল দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে এবং দক্ষিণের বিভিন্ন অঞ্চল তুষারের চাদরে ঢেকে যায়। বহু মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভয়াবহ ঠান্ডার মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য হন।
বাতাসের মান নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান ও দেশটির আবহাওয়া অফিসের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, আরকানসাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ১ ফুটের বেশি তুষারের আস্তরণ জমেছে। এর ফলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, অসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায় এবং বেশিরভাগ স্কুলগুলোই বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা দপ্তর জানায়, পিটসবার্গের উত্তরের এলাকাগুলোতে কোথাও কোথাও ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। সোমবার গভীর রাত থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত বাতাসের সঙ্গে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রচণ্ড শীত শিগগিরিই কমার কোনো লক্ষণ নেই। সোমবার জানানো হয়, নতুন করে আর্কটিক অঞ্চল থেকে হিমশীতল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় ইতোমধ্যে বরফ ও তুষারে ঢাকা এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা আরও দীর্ঘ সময় ধরে হিমাঙ্কের নিচে থাকবে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে দেশটির পূর্ব উপকূলে আবারও একটি তুষার ঝড় আঘাত হানতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটিতে তীব্র ঠান্ডায় সপ্তাহজুড়ে মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ম্যাসাচুসেটস ও ওহাইয়োতে তুষার পরিষ্কারকারী গাড়ির (স্নোপ্লো) চাপায় নিহত দুই ব্যক্তিও রয়েছেন। এছাড়া রয়েছে আরকানসাস ও টেক্সাসে স্লেডিং দুর্ঘটনায় নিহত কয়েকজন কিশোর। সর্বশেষ কানসাসে একটি পানশালার বাইরে এক নারীর মরদেহ তুষারে ঢাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।
লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জানিয়েছে ‘পাওয়ার আউটেজ ডটকম’। এর মধ্যে বেশিরভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনাই ঘটেছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে। সপ্তাহজুড়ে হিমবৃষ্টি ও ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি করেছে সেখানে। উত্তর মিসিসিপি ও টেনেসির কিছু এলাকায়ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ পরিষেবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।
১৯৯৪ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ তুষার ঝড়ের কবলে পড়েছে মিসিসিপি। সেখানকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাট, কম্বল, বোতলজাত পানি ও জেনারেটর পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
মিসিসিপির গভর্নর টেট রিভস জানান, অন্তত ১৪টি বাড়ি, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ২০টি সরকারি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৪৩ দিন আগে
দুই দিনে শতাধিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ভেনেজুয়েলা
নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির কারাগারগুলো থেকে গত সপ্তাহের শেষ দুই দিনে বেশ কয়েকজন কয়েদিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মাদুরো বন্দি হওয়ার পর ওইসব ভিন্নমতাবলম্বীকে মুক্তি দিতে দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনাল এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির সভাপতি আলফ্রেদো রোমেরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিকে পথে ফেরানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত ৮ জানুয়ারি থেকে মোট ২৬৬ জন রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। আর গত দুই দিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে অন্তত ১০০ জনকে।
গত ৩ জানুয়ারি একটি বিশেষ অভিযানে মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে তার স্থলাভিষিক্ত হন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। তিনিই বর্তমানে দেশটির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
এদিকে, নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ভেনেজুয়েলা তার রাজনৈতিক বন্দিদের দ্রুত মুক্তি দিচ্ছে, যা আগামী অল্প সময়ের মধ্যে আরও বাড়বে। এই শক্তিশালী মানবিক পদক্ষেপে সম্মত হওয়ায় আমি ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানাতে চাই!’
১৪৩ দিন আগে
মেক্সিকোয় ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১১
মেক্সিকোর একটি ফুটবল মাঠে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দেশটির রাজধানী মধ্য মেক্সিকোর একটি ফুটবল মাঠে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সালামাঙ্কার মেয়র সেজার প্রিয়েতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ফুটবল ম্যাচের শেষে বন্দুকধারীরা সেখানে হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে একজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই হামলাকে শহরে চলমান ‘অপরাধের ঢেউয়ের’ অংশ আখ্যা দিয়েছেন মেয়র। সেই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিনি প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
গুয়ানহুয়াতো প্রদেশের প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, তারা এ ঘটনা তারা তদন্ত করছে এবং ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিচ্ছে।
গত বছর মেক্সিকোর গুয়ানহুয়াতোতে সর্বাধিক হত্যকাণ্ড ঘটেছে। সান্তা রোজা দে লিমা নামের স্থানীয় একটি অপরাধী দল সেখানকার শক্তিশালী জালিস্কোর নিউ জেনেরেশন কার্টেলের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে।
মেয়র বলেন, ‘দু্র্ভাগ্যজনকভাবে কিছু অপরাধী গোষ্ঠী কর্তৃপক্ষকে বশে আনতে চাচ্ছে। তবে তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।’
মেক্সিকো সরকারের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ১৭.৫ জনকে হত্যা করা হয়। এটি ২০১৬ সালের পর থেকে দেশটিতে সবচেয়ে কম হত্যাকাণ্ডের হার। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই তথ্য দেশটির সার্বিক অপরাধের চিত্র তুলে ধরতে পারেনি।
১৪৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ৮ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে ৮ আরোহী নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ নামের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বিমানের যাত্রীদের অবস্থা সম্পর্কে তারা প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। এফএএ ও জাতীয় পরিবহন সুরক্ষা বোর্ড দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে।
রবিবার দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে ব্যাঙ্গরেও টানা তুষারপাত হয়। এই মধ্যে নিউ ইংল্যান্ডসহ দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে রাতে ঝড় হয়। ঝড়ের মধ্যে পড়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এক বিবৃতিতে ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি উড্ডয়নের সময় জরুরি কর্মীরা বিমানবন্দরে ছিলেন। তবে বিমানটি ছেড়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই বিমানবন্দরটি ওরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন, ডিসি এবং শার্লট, উত্তর ক্যারোলিনার মতো শহরগুলোতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। বোস্টন থেকে এটি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
গত সপ্তাহজুড়ে প্রবল ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে শিলাবৃষ্টি এবং তুষারপাত হয়েছে। এর ফলে বহু বিমান ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অসংখ্য বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দেশটির বেশিরভাগ অংশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিমানের ফ্লাইট শনাক্তকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটওয়্যার ডটকমের তথ্য অনুসারে, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং আরও অন্তত ২০ হাজার ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়েছে। ঝড়ের কারণে ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর, উত্তর ক্যারোলিনা, নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দরগুলোতেও দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে।
বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ হলো একটি চওড়া আকৃতির ব্যবসায়িক জেট বিমান যা ৯ থেকে ১১ জন যাত্রীর জন্য তৈরি। এটি ১৯৮০ সালে ওয়াক-অ্যাবাউট কেবিনসহ প্রথম ব্যক্তিগত জেট হিসেবে চালু হয় এবং এয়ারচার্ট সার্ভিস ডটকমের তথ্য অনুসারে, এটি বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ব্যক্তিগত বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
১৪৪ দিন আগে
ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে: রাষ্ট্রদূত
ইরান কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধের পক্ষে নয়, তবে আক্রান্ত হলে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ইরানে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ও পরবর্তীতে সংঘটিত হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাষ্ট্রদূত জালিল। এ সময় তিনি দেশটিতে চলমান সংঘর্ষ ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।’
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া ব্যবসায়ীদের আন্দোলন প্রথমদিকে স্বাগত জানালেও পরবর্তীতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দমন করতে ইরানের সরকার বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছিল দাবি করেন তিনি।
তার কথায়, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি চাপে আছে। বৈদেশিক মূদ্রার বিপরীতে ইরানের মুদ্রার মান নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে আমদানিকারকরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করেন যা ইরানের বিদ্যমান আইনে বৈধ। কিন্তু সপ্তাহখানেকের মধ্যে একটি পক্ষ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, পুলিশ স্টেশনসহ আন্দোলনে যোগ দিতে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাবাহিনীগুলো অ্যাকশনে যায়।
‘এরপর সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী আন্দোলনকারীদের ভেতর ঢুকে যায় এবং তাদের হাতে শতাধিক পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিরাপত্তাবাহিনীর কিছু সদস্যকে গলা কেটে হত্যাও করা হয়। হাসপাতালে হামলা করে নার্স হত্যা, একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থানে যায়।’
তিনি বলেন, ‘নজরদারি ডিভাইসের মাধ্যমে কথোপথন শুনে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জবানবন্দিসহ বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চত হয় যে, এটি কোনো সাধারণ আন্দোলন নয়, বরং তা সরাসরি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা নির্দেশিত সরকার পতনের সহিংস পরিকল্পনা।’
ইরানের পরিস্থিতিনি বর্তমানে শান্ত আছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ইন্টারনেট সেবাও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
১৫১ দিন আগে
গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দিলে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিদলীয় মার্কিন কংগ্রেস প্রতিনিধি দল ডেনমার্কের রাজধানীতে যখন উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে, তার মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।
গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলে আসছেন, ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও তিনি বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে না এলে তা ‘অগ্রহণযোগ্য’ হবে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উদাহরণ দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে তিনি কীভাবে ইউরোপীয় মিত্রদের ওষুধ খাতে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও আমি তা করতে পারি। যদি দেশগুলো গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে একমত না হয়, তাহলে আমি তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি। কারণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন। তাই আমি তা করতেই পারি।’
এর আগে অবশ্য গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ক আরোপের কথা বলতে শোনা যায়নি তাকে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকে গভীর মতপার্থক্যের নিরসন না হলেও একটি ‘কার্যকরী দল’ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়, যার উদ্দেশ্য নিয়ে পরে ডেনমার্ক ও হোয়াইট হাউস ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রকাশ করে।
ইউরোপীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডেরই। চলতি সপ্তাহে ডেনমার্ক জানিয়েছে, মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
যে সম্পর্ক ‘লালন করতে হবে’
কোপেনহেগেনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের একটি দল শুক্রবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেনসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রতিনিধি দলের নেতা ডেলাওয়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস স্বাগতিকদের বলেন, ‘২২৫ বছর ধরে একজন ভালো ও বিশ্বস্ত মিত্র এবং অংশীদার থাকার জন্য ধন্যবাদ।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও কীভাবে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আমাদের শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, এই সফর বহু দশকের দৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন এবং ‘এটি এমন একটি সম্পর্ক, যা আমাদের লালন করতে হবে।’
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে কোনো সম্পদ হিসেবে নয়, আমাদের একটি মিত্র হিসেবে দেখা দরকার। আমি মনে করি, এই প্রতিনিধিদলের কাছ থেকেও সেটিই শোনা যাচ্ছে।’
তবে এই সুর হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বানকে ন্যায্যতা দিতে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, দুর্লভ খনিজ সম্পদে ভরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চীন ও রাশিয়ার নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। আবার হোয়াইট হাউস এই ভূখণ্ড বলপ্রয়োগে দখল করার সম্ভাবনাও নাকচ করেনি।
শুক্রবারের বৈঠকে অংশ নেওয়া গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিক ও ডেনিশ পার্লামেন্ট সদস্য ওহা খিমনিৎস বলেন, ‘সত্যি বলতে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর হুমকি নিয়ে আমরা অনেক মিথ্যা ও অতিরঞ্জন শুনেছি। আমার মতে, বর্তমানে যে হুমকিগুলো আমরা দেখছি, তার বেশিরভাগ যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেই আসছে।’
মারকাউস্কি ব্যয় ও ভোটারদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা জোর দিয়ে বলা জরুরি—যখন আমেরিকার জনগণকে জিজ্ঞেস করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল করার ধারণাটি ভালো কি না, তখন বিপুল সংখ্যক, প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার বলেছে, আমরা মনে করি না যে এটি ভালো ধারণা।’
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিনের সঙ্গে মারকাউস্কি একটি দ্বিদলীয় বিল উত্থাপন করেছেন, যাতে কোনো ন্যাটো সদস্যরাষ্ট্রের সম্মতি বা নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া গ্রিনল্যান্ড কিংবা কোনো সার্বভৌম ন্যাটো ভূখণ্ড সংযুক্ত বা নিয়ন্ত্রণে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্র দপ্তরের তহবিল ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের সমালোচনায় ইনুইট কাউন্সিল
চলমান এই উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ডবাসীদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন মঙ্গলবার বলেন, ‘যদি আমাদের এখানে ও এখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে হয়, সেক্ষেত্রে আমরা ডেনমার্ককে বেছে নিচ্ছি। আমরা ন্যাটোকে বেছে নিচ্ছি। আমরা ডেনমার্ক রাজতন্ত্রকে বেছে নিচ্ছি। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেছে নিচ্ছি।’
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাস্কা, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও রাশিয়ার চুকোটকা অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইনুইটের প্রতিনিধিত্ব করা নুকভিত্তিক সংস্থা ইনুইট সার্কামপোলার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে থাকতে হবে—হোয়াইট হাউসের এমন ধারাবাহিক বক্তব্য ‘গ্রিনল্যান্ডের মানুষের সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি তাদের দৃষ্টি এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।’
সারা ওলসভিগ নুকে অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে বলেন, বিষয়টি হলো ‘বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তি কীভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল জনগোষ্ঠীগুলোর দিকে তাকায়। আর সেটি সত্যিই উদ্বেগজনক।’ গ্রিনল্যান্ডের আদিবাসী ইনুইটরা আবারও ঔপনিবেশিক শাসন চান না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
১৫৩ দিন আগে
থাইল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ে নিহত ২২
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও ৬৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দেশটির নাখন রাতচাসিমা প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রদেশের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, দ্রুতগতির উড়াল রেলপথ নির্মাণে ব্যবহৃত ক্রেনটি ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশগামী চলন্ত ট্রেনটির ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে আগুন ধরে যায়।
১৫৬ দিন আগে
অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিক্ষোভে ইরানে নিহত অন্তত ৩৫
ইরানে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
আজ মঙ্গলবারও (৬ জানুয়ারি) বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ জানায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, চার শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য রয়েছেন। দেশটির ৩১টির মধ্যে ২৭টি প্রদেশের ২৫০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সমগ্র ইরানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কর্মীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে বিক্ষোভকারী সংগঠনটি। ফলে অস্থিতিশীল পরিবেশেও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারে তারা। অতীতেও বিক্ষোভের সময় নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের জন্য তারা পরিচিত।
দেশটির আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স সোমবার গভীর রাতে জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ বাহিনীর অন্তত ৪৫ সদস্য রয়েছেন আহতদের তালিকায়।
ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে’, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।
গেল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্পের এসব মন্তব্য হেলায় উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের দীর্ঘদিনের মিত্র ছিলেন মাদুরো।
অবশ্য ট্রাম্প কীভাবে এবং আদৌ হস্তক্ষেপ করবেন কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তার মন্তব্যের পর ইরান থেকে তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
এটিকে ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। সে বছর পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে চলমান আন্দোলন এখনও আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভের মতো ব্যাপক ও তীব্র হয়নি। সঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে আটক হওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে আমিনির মৃত্যু হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে কয়েক দফা বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্প্রতি ১২ দিনের যুদ্ধের পর তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি। গত ডিসেম্বরে ইরানি রিয়ালের মান ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখে নেমে আসে। এরপরই শুরু হয় বিক্ষোভ।
কিন্তু চলমান বিক্ষোভের প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ বিষয়ে খুব কম তথ্য দিচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে শুধু অল্প সময়ের জন্য রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি বা গুলির শব্দ শোনা যায়। পাশাপাশি ইরানে সাংবাদিকদের চলাচলে অনুমতির বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। মাঝে মধ্যেই তাদের হয়রানি কিংবা গ্রেপ্তারের খবর শোনা যায়।
এসবের মধ্যেও বিক্ষোভ থামছে না বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ‘দাঙ্গাবাজদের উপযুক্ত জায়গায় রাখা উচিত।’
১৬৪ দিন আগে
ভেনিজুয়েলার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের ওপর ট্রাম্পের ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ ঘোষণা
ভেনিজুয়েলায় প্রবেশকারী এবং সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সকল তেলের ট্যাঙ্কারের ওপর সর্বাত্মক অবরোধের নির্দেশ জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপ প্রয়োগ তৎপরতার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে অবরোধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতার অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলার উপকূলবর্তী প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে বিভিন্ন জাহাজের ওপর ইতোমধ্যে বেশ কিছু সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলা বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে ক্যারিবিয়ান সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ভেনিজুয়েলা উপকূল থেকে একটি তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, ট্যাঙ্কারটিতে ভেনিজুয়েলার প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডকে ‘প্রকাশ্যে চুরি’ এবং ‘আন্তর্জাতিক দস্যুবৃত্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অবরোধের ঘোষণা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ভেনিজুয়েলা মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধে অর্থায়নের জন্য এই তেল ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে (ভেনিজুয়েলা উপকূলে) সামরিক শক্তি আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় নৌবহর দিয়ে ভেনিজুয়েলাকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এই বহর আরও বড় হবে এবং তারা (ভেনিজুয়েলা) এমন এক ধাক্কা খাবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি... আজ আমি ভেনিজুয়েলায় আসা-যাওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সকল তেলের ট্যাঙ্কারের ওপর “সর্বাত্মক ও সম্পূর্ণ অবরোধ”-এর নির্দেশ দিচ্ছি।’
তবে কীভাবে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে এবং গত সপ্তাহের মতো জাহাজ আটকানোর কাজে কোস্ট গার্ডকে ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ওই অঞ্চলে হাজার হাজার সৈন্য এবং একটি বিমানবাহী রণতরীসহ প্রায় বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
১৮৪ দিন আগে