মধ্যপ্রাচ্য
ইরানের হয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৯ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের হয়ে যুক্তরাজ্য ও আন্তজাতিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে ৯ ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির দাবি, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবৈধ অর্থায়ন ও সহিংস তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। তাদের এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র বিভিন্ন দেশে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করছে। এসব বাহিনী-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে ইরানের হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার মতো কার্যক্রমে সহায়তা করছে। তাদের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। তাদের থামাতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান সরকারকে সমর্থন দেওয়া এই অপরাধী চক্রগুলো যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অবৈধ অর্থ লেনদেনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যুক্তরাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ৫৫০ জন ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশটির অভিযোগ, ইরান ব্রিটিশ ভূখণ্ডে হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য হামলার ষড়যন্ত্র করছে।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী সাম্প্রতিক কয়েকটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার মধ্যে ছুরিকাঘাত এবং উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনাও রয়েছে।
অপরদিকে, ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভ জানিয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইরান-সমর্থিত ২০টির বেশি প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জিন্দাশতি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অভিযোগ, তারা ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। এই গোষ্ঠী যুক্তরাজ্যে ব্যক্তি বিশেষকে হুমকি দেওয়া, হামলার পরিকল্পনা বা সরাসরি হামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রও এই নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, একজন মাদক পাচারকারী এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। তিনি ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইরানবিরোধী সমালোচকদের হত্যা ও অপহরণের কাজ করতেন।
এছাড়া, যুক্তরাজ্যে জারিংহালাম পরিবারের ৫ সদস্যকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর জারিংহালাম পরিবারের তিন ভাই মানসুর, নাসের ও ফাজলোলাহ জারিংহালাম যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, তারা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তাদের ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের প্রধান পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক ও সামরিক খাতের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ইরানে পাচার করেছেন।
এছাড়া আরও ৪ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তাদের মধ্যে দুইজন ইরানি, একজন তুর্কি নাগরিক এবং একজন আজারবাইজানি নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারীদের হুমকি দেওয়া, হামলার পরিকল্পনা এবং হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ।
১৩ ঘণ্টা আগে
হামাসের বিচারে ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন
ইসরায়েলি আইনপ্রণেতারা সোমবার একটি বিল অনুমোদন করেছেন যার মাধ্যমে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এই ট্রাইব্যুনাল ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলায় অংশ নেওয়ায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের বিচার করার এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। ওই হামলার মাধ্যমেই সর্বশেষ গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার (১১ এপ্রিল) এই বিল অনুমদিত হয়।
১২০ আসনের পার্লামেন্টে বিলটি ৯৩-০ ভোটে পাস হয় যা ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই হামলার জন্য দায়ীদের শাস্তির বিষয়ে ব্যাপক জনসমর্থন প্রতিফলিত করে। বাকি ২৭ জন আইনপ্রণেতা অনুপস্থিত ছিলেন অথবা ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, ইসরায়েল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাকে অত্যন্ত সহজ করে তুলবে এবং একটি সুষ্ঠু বিচারের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলোকে বাতিল করবে। বিবাদীরা তাদের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন, তবে সেই আপিলগুলো সাধারণ আপিল আদালতের পরিবর্তে একটি পৃথক বিশেষ আপিল আদালতে শুনানি করতে হবে।
যেহেতু এই বিলটি বিচারকদের একটি প্যানেলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে এবং এসব বিচার জেরুজালেমের একটি আদালত কক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ বিলকে ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী আডলফ আইখম্যানের বিচারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তার বিচার প্রক্রিয়াও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল।
আইখম্যানকে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল ইসরায়েলে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা। যদিও প্রযুক্তিগতভাবে গণহত্যা, যুদ্ধকালীন গুপ্তচরবৃত্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু সন্ত্রাসী অপরাধের জন্য ইসরায়েলের আইনে এখনও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বিলের বিরোধীরা আরও বলছেন যে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই বিচারপ্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা একটি তামাশা বা লোক দেখানো অনুষ্ঠান। তারা উপস্থাপিত হতে যাওয়া প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এসব প্রমাণ কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতির মাধ্যমে আদায় করা হয়ে থাকতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা ইসরায়েলে ঢুকে প্রায় ১,২০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করার মাধ্যমে এই যুদ্ধের শুরু হয়। গাজায় ইসরায়েলের পরবর্তী বিধ্বংসী হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৬২৮ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই প্রাণ গেছে অন্তত ৮৪৬ জনের।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। হামাস-নেতৃত্বাধীন সরকারি এই মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যানগুলো জাতিসংঘ এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কাছে সাধারণত নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের অংশ এবং এই বিলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সিমচা রথম্যান বলেছেন, ইসরায়েলি আইনপ্রণেতারা একটি ‘সাধারণ লক্ষ্য’ অর্জনে একত্রিত হতে পারেন।
হামোকড, আদালাহ এবং ইসরায়েলে নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাবলিক কমিটিসহ বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি মানবাধিকার গোষ্ঠী গতকাল (সোমবার) জানায়, ‘৭ অক্টোবরের ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার একটি বৈধ এবং জরুরি বাধ্যবাধকতা’ হলেও, অপরাধের যেকোনো জবাবদিহিতা অবশ্যই এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা উচিত যা ‘ন্যায়বিচারের নীতিগুলো বর্জন না করে বরং অন্তর্ভুক্ত করে।’
এই বিলটি গত মার্চ মাসে পাস হওয়া একটি আইন থেকে পৃথক, যে আইনে ইসরায়েলিদের হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সেই পদক্ষেপটিকে বৈষম্যমূলক ও অমানবিক অ্যাখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিল।
মার্চের সেই আইনটি ভবিষ্যতের মামলাগুলোর জন্য প্রযোজ্য এবং এটি পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর নয়, তাই এটি ২০২৩ সালের অক্টোবরের সন্দেহভাজনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারত না।
ইসরায়েলে নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাবলিক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটি এখনও তাদের আটক কেন্দ্রে গাজার প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনিকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটকে রেখেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অন্তত ৭ হাজার গাজাবাসী ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ৫ হাজার জনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ১ হাজার ৩০০ জনের মধ্যে তারা অন্তর্ভুক্ত নয় যারা ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা বা জিম্মি করে রাখার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক রয়েছেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৯ জন নিহত
লেবাননে ইসরায়েলের টানা বিমান হামলায় আরও অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৯ মে) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে সাকসাকিয়েহতে ইসরায়েলি হামলার খবর জানায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ওই হামলায় ‘প্রাথমিকভাবে সাতজন শহিদ হয়েছেন, যার মধ্যে একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন, তাদের মধ্যে তিনটি শিশু।’
এদিকে আইডিএফ দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় ‘সামরিক কাজে ব্যবহৃত একটি স্থাপনা থেকে পরিচালিত হিজবুল্লাহ সদস্যদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তারা আরও জানায়, হামলার আগে ‘নির্ভুল অস্ত্র ও আকাশপথে নজরদারির’ মাধ্যমে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানায় আইডিএফ।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকসাকিয়েহ শহরে ইসরায়েলের এক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ‘নিরীহ বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির খবর সম্পর্কে’ অবগত রয়েছে।
অন্যদিকে, নাবাতিয়েহ এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা এক সিরীয় নাগরিক ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, প্রথম হামলার স্থান থেকে সরে যাওয়ার পর ড্রোনটি দ্বিতীয়বার হামলা চালায়, এতে বাবা নিহত হন। এরপর ড্রোনটি মেয়েটিকে ‘সরাসরি তৃতীয়বারের মতো’ লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়। মেয়েটির জীবন রক্ষায় অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের অধিকাংশ বিমান হামলা দক্ষিণ লেবাননে হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
এদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। এতে তিনজন ইসরায়েলি সেনা সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের আলাদা করে হিসাব দেয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে সীমান্তবর্তী লেবাননের একটি অংশ দখল করে রেখেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উত্তরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্য তারা ‘হিজবুল্লাহমুক্ত নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তুলতে চায়।
এসব এলাকায় পুরো গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, চলমান ইসরায়েলি হামলার জবাবে শনিবার তারা উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে ‘হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠনের ছোড়া বিস্ফোরকবাহী ড্রোন’ শনাক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এরপর থেকে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত করার পর ২ মার্চ পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন ছোড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। মার্চের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী পুনরায় দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করে এবং সেখানে গ্রাম ধ্বংসের পাশাপাশি প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা দখলে রাখে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৭৯৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ১৭ জন সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন আরও দুই বেসামরিক ব্যক্তি।
২ দিন আগে
ইরানের একটি শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত
ইরানের রাজধানীর কাছে একটি শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।
মঙ্গলবার (৫ মে) তেহরান প্রদেশের আন্দিশেহ শহরের আরঘাভান শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে আজ (বুধবার) দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
টেলিভিশনে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন এবং বহুতল ভবনটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে।
তবে ঘটনাটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
৬ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৫
হরমুজ প্রণালিতে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যে নৌযানগুলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বলে দাবি করছে, সেগুলো আসলে যাত্রীবাহী নৌকা ছিল।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের করা এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করেছে। ব্র্যাড কুপার বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার সময় তাদের মিশনে বাধা দেয় আইআরজিসির ৬টি নৌযান। সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ওই নৌযানগুলোকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানে ৭টি নৌকায় তারা হামলা চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে পরিচালিত মার্কিন অভিযান নাজুক এই যুদ্ধবিরতিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। এ অভিযানের ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসির নৌযানে হামলা করেছে, এমন দাবি তোলার পর তেহরান তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে দেখা গেছে, মার্কিন হামলায় আইআরজিসির কোনো নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) দুটি যাত্রীবাহী ছোট নৌকা ওমান উপকূলের খাসাব থেকে ইরানের উপকূলে যাচ্ছিল। পথে মার্কিন বাহিনী নৌকা দুটিতে হামলা চালায়।
ওই সামরিক কমান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নৌকাগুলো ঘটনাস্থলে ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা ৫ জন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন।
তিনি দাবি করেন, ‘এই অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
ইরানের এই অভিযোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরান এই জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এদিকে, ইরান এখন কঠোরভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হরমুজ প্রণালির যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পূরণ করতে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনী বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, অনুমতি ছাড়া এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আরও জানানো হয়, মার্কিন বাহিনী যদি এই জলপথের কাছে আসে বা প্রবেশ করে, তাহলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল। ইরান জাহাজটির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়াও ইরানি সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত ভূখণ্ডে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের এসব হামলায় পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আমিরাত ফুজাইরাহর একটি বড় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান করা দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ এইচএমএম নামুও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, একটি বিস্ফোরণে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন লেগে গিয়েছিল।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেসট্রয়ারের সহায়তায় সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ‘ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় উপসাগর ছেড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, সোমবার হরমুজে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় হামলার ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, চলমান রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অশুভ শক্তির প্ররোচনায় আবারও সংকটে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ইরানের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম পরিচালনাকারী মার্কিন জাহাজে হামলা হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আগের চেয়ে এখন আমাদের কাছে অনেক বেশি উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাটি আছে। এসব ঘাটিতে বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা সেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করব।
৭ দিন আগে
হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে গাজায় ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি ইসরায়েলের
গাজায় খান ইউনিস ও দেইর আল বালাহর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি ড্রোনের গর্জন এবং বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিদিনই মনে দেয়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ কখনো থামবে না।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ফিলিস্তিনের পরিবারগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৮২৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে, নতুন করে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কয় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গাজার বাসিন্দারা। কারণ, হামাসকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩ মে) জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা মন্ত্রিষভার বৈঠক হঠাৎ কর বাতিল করেন। তার পরিবর্তে তিনি যুদ্ধের বিষয়ে ছোট পরিসরে আলোচনা করেছেন।
একই সময়ে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর জন্য চাপ বাড়িয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৫-কে জানান, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মধ্যে নিরাপত্তা তদারকি ও চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা বহুজাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সও ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে নতুন করে যুদ্ধ তাদের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ইসরায়েলের আর্মি রেডিও জানিয়েছে, ভূমিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যুদ্ধবিরতির আওতায় নির্ধারিত ইয়েলো লাইন ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে গাজার ৫৯ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। একইসঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি মধ্যেও তারা দখল আরও স্থায়ী করছে। ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন সীমান্ত থেকে অতিরিক্ত সেনা এনে গাজা ও পশ্চিম তীরে মোতায়েন করছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক আত্মসমর্পণের ফাঁদ
কায়রোতে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারীরা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর নতুন একটি কাঠামো মেনে নেওয়ার জন্য তীব্র চাপ দিচ্ছেন। এই পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত বোর্ড অব পিসের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ।
এ বিষয়ে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য আবদুল জব্বার সাঈদ ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম আল্ট্রা প্যালেস্টাইনকে জানান, ম্লাদেনভ এমন একটি কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে ২৮১ দিনের মধ্যে ৫টি ধাপে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে।
এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কাঠামোতে ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা, উপত্যকার পুনর্গঠন এবং গাজার সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সমর্পণকে শর্ত হিসেবে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্লেষক ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে বলেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত নতুন টেকনোক্র্যাটিক সংস্থা ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজাকে (এনজিএসি) ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী তাদের নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করছে।
আবদুল জব্বার সাঈদ আরও জানান, হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এবং পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনসহ সব ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী একযোগে এই নিরস্ত্রীকরণের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর বদলে তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ পুরোপুরি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মধ্যে প্রতিদিন ফিলিস্তিনে ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করার চুক্তি থাকলেও ইসরায়েল ট্রাক প্রবেশেও বারবার বাধা দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের নিরাপত্তার প্রশ্ন
গাজার রাজনৈতিক বিশ্লেষক উইসাম আফিফা আল জাজিরাকে বলেন, হামাস কূটনৈতিক চাপ সামাল দিতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে তাদের রাজনৈতিক অধিকার বলে মনে করে।
তিনি জানান, প্রতিরোধ আন্দোলন করা গোষ্ঠীগুলো মনে করে, তাদের নিরস্ত্র করা হলে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসান কখনোই সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রাজনৈতিক সমাধানে না এসে ফিলিস্তিনের অস্ত্রের বিষয়টিকে সামনে আনছে। অর্থাৎ, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কোনো নিশ্চয়তা না দিয়ে মানবিক সহায়তাকে শর্ত দেখিয়ে চাপ প্রয়োগ করছেন তারা।
কৌশলগত ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় যুদ্ধ ফের শুরুর এই আলোচনা করে ইসরায়েল তাদের কৌশলগত কিছু ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মামুন আবু আমের আল জাজিরাকে বলেন, এসব হুমকি মূলত একটি ধোঁয়াশা তৈরির কৌশল। হুমকির মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অক্টোবরের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন গাজায় যুদ্ধ থামিয়ে একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। এখন গাজায় আবার যুদ্ধ আবার শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া শান্তি উদ্যোগ ভেঙে পড়বে। আর ইরানকে মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আবার একাধিক দেশে সংঘাতে জড়িয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও চাপের মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েলি সাবেক সামরিক বাহিনীর প্রধান ইসরায়েল জিভের বক্তব্য উল্লেখ করে আবু আমের বলেন, ২০২৬ সালে ইসরায়েলি সেনাদের গড়ে বছরে ৮০ দিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ ফলে তাদের সেনাবাহিনীর ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ লেবাননের সংকট ইসরায়েলের জন্য এখনও ক্ষত হয়ে আছে। এই অবস্থায় গাজায় নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য বড় কৌশলগত ব্যর্থতা ডেকে আনতে পারে।
অন্যদিকে, গাজায় আটকে থাকা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্য এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন কোনো স্বস্তি বয়ে আনছে না। স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) প্রকাশিত ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৬০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সর্বশেষ রবিবার বিকেলে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে গাজার মানুষ এখন একদিকে দীর্ঘস্থায়ী ইসরায়েলি দখলদারত্ব, অন্যদিকে নতুন আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন।
৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার ও যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ খুলে দেবে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেয় এবং চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটায়, তবে হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করবে ইরান। একইসঙ্গে দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) যুদ্ধে মধ্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত দুইজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ-ভিত্তিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন বলে মনে হচ্ছে না। পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকানদের কাছে পৌঁছানো এই প্রস্তাবে সেই মতবিরোধগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে, যার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়েছিল। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এমন কোনো চুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত নেই।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের পার পেয়ে যেতে দিতে পারি না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা যেন এমন হয় যা তাদের যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড় থেকে নিশ্চিতভাবে বিরত রাখে।’
একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থায় আটকে আছে। যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। মার্কিন অবরোধের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে তাদের তেল বিক্রি করা থেকে বিরত রাখা, যাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যেখানে তেল সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় তেহরানকে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।
অন্যদিকে, প্রণালিটি বন্ধ থাকায় ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এটি তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে, যারা তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই জলপথ ব্যবহার করে।
অবরোধ অবসানের নতুন দাবি
মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে সার, খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা বাড়ছে। সোমবার নতুন করে অবরোধ অবসানের দাবি করেছে বিভিন্ন দেশ।
ইরানের প্রস্তাবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, তার যুদ্ধে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।
প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, চলতি সপ্তাহে ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়েছে। ইরানের এই প্রস্তাবের কথা প্রথম প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়া সফরে রয়েছেন। মস্কো দীর্ঘকাল ধরে তেহরানের প্রধান সমর্থক। রাশিয়া ইরানকে এখন কোনো সাহায্য করবে কি না বা করলে কী ধরনের সাহায্য করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলবোঝাই ট্যাঙ্কারগুলো উপসাগরে আটকা পড়ে আছে, কারণ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ কেন্দ্রে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই।
সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (অপরিশোধিত তেল) তেলের বাজারদর ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারের উপরে গিয়ে ঠেকেছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার দামের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবিতে অনেক দেশের
বাহরাইনের নেতৃত্বে একটি যৌথ বিবৃতিতে বেশ কিছু দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এই চাপের প্রভাব এখন খালি তেলের ট্যাঙ্কে, খালি তাকে (দোকানের শেলফ) এবং শূন্য থালায় গিয়ে পড়ছে।’
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস কোনো কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে নামার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সংঘাতের সমস্যা সবসময় একই রকম; এটি কেবল যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে নয়, আপনাকে এ থেকে বেরোনোর পথও জানতে হবে।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারোট সব পক্ষেরই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে হামলা করার পর এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রণালি হলো বিশ্বের ধমনী। এগুলো কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
রাশিয়ায় পুতিনের সঙ্গে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকের বৈঠক
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ৭ এপ্রিল করা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন, যার ফলে লড়াই অনেকটা থেমেছে। কিন্তু একটি স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। পুতিন ইরানি জনগণের প্রশংসা করে বলেছেন যে তারা সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য লড়ছেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে।
আরাঘচি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভির একজন সাংবাদিককে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নেতারা এই যুদ্ধে তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি। এ কারণেই তারা আলোচনার জন্য বলছে। আমরা এখন এটি বিবেচনা করছি।’
পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, তখনই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এ সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে এই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করেন এবং ফোনে আলোচনার পরামর্শ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার মতে, ইরান ওমানের সঙ্গে প্রণালিটি ভাগ করে নেয়। তারা এখন ওমানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে যাতে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের একটি ব্যবস্থা চালু করা যায়। তবে ওমানের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান নতুন আলোচনার আগে মার্কিন অবরোধ অবসানের দাবিতে অনড়। পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মধ্যকার এই বিশাল দূরত্ব ঘুচানোর চেষ্টা করছেন।
তেহরান অনেক ভালো প্রস্তাব দিয়েছে: ট্রাম্প
শনিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি পাকিস্তানে প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করার পর তেহরান একটি অনেক ভালো প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে তার অন্যতম শর্ত হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। অপরদিকে, ইরান দাবি করে আসছে যে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে ফেলতে চায়, যা বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন এবং লেবাননে ২ হাজার ৫২১ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছিল ইরান যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর থেকে। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ১২ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য, ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ৬ জন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এই সাময়িক বিরতি সত্ত্বেও উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় চলা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।
১৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জোরপূর্বক আলোচনায় যাবে না ইরান: পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে তেহরান কোনো জোরপূর্বক আলোচনায় অংশ নেবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক ফোনালাপে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ চলমান আলোচনার প্রতি তাদের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করছে। তাদের এসব কর্মকাণ্ড আলোচনার পথকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপ ও চলমান চাপ বন্ধ না হলে ইরানের পদক্ষেপ কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। সমাধানে আাসতে হলে ইরানের বন্দরগামী ও ইরানের বন্দর থেকে আসা জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রর আরোপিত অবরোধগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শেহবাজ শরিফ পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করেছেন যে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদ আন্তরিক এবং তারা সৎ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
এদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলটি স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইসলামাবাদ ত্যাগ করে পরবর্তী আঞ্চলিক আলোচনা করতে ওমানের মাসকাটে পৌঁছেছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের শনিবার ইসলামাবাদ সফরের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প সেই সফর বাতিল করেন।
১৬ দিন আগে
ইরান সরাসরি আলোচনা নাকচ করলেও ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিরা শনিবার পাকিস্তানে যাবেন। তবে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
চুক্তি সম্পাদনের এই সর্বশেষ প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে যখন একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি অধিকাংশ লড়াই থামিয়ে রেখেছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পাকিস্তানের তৎপরতা
চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য ইসলামাবাদের অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ রক্ষা করে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকের জন্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে পাঠাবেন। কিন্তু আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরপরই তার মন্ত্রণালয় জানায় যে, যেকোনো আলোচনা হবে ‘পরোক্ষ’, যেখানে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় আরাঘচি এবং ট্রাম্পের এই দুই প্রতিনিধির মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেছেন, উইটকফ ও কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট যাতে তারা ইরানিদের কথা শুনতে পারেন।
লেভিট বলেন, আমরা গত কয়েক দিনে ইরানের কাছ থেকে কিছু অগ্রগতি লক্ষ করেছি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ঠিক কী শুনছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
এদিকে, হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, ট্রাম্প ‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছেন। এর ফলে অ-মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা সহজ হবে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেল-গ্যাস সরবরাহ সহজ করতে তিনি গত মার্চ মাসে প্রথম ৬০ দিনের জন্য এই আইন মওকুফ করেছিলেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এই প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। সামরিক বাহিনীকে মাইন স্থাপন করতে পারে এমন ছোট নৌকাগুলো দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
এই খবরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ব্যারেল প্রতি ১০৩ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা এখনও ২৮ ফেব্রুয়ারির (যুদ্ধ শুরুর দিন) তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের এই সংকট এখন বিশ্বের অর্ধেক পথ দূরের পানামা খালসহ বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।
১৭ দিন আগে
রাতে আরাঘচির নেতৃত্বে পাকিস্তানে যেতে পারে ইরানের প্রতিনিধিদল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে আজ শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসলামাবাদের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, আরাঘচি ও পাকিস্তানি নেতৃত্বের মধ্যে শুক্রবার একাধিকবার টেলিফোনে আলোচনার পরই এই সফরের সিদ্ধান্ত আসে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই সফরটি মূলত দ্বিপাক্ষিক— অর্থাৎ আরাঘচি পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নেবেন না। সফর শেষে তিনি মস্কো ও মাস্কাটও সফর করবেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা এখনও বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে তেহরান তাদের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধের কারণে আলোচনায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফা আলোচনা অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ার দুই দিন পর ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন।
এরপর থেকে পরবর্তী আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা আলোচনায় ফিরবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অবরোধ প্রত্যাহারে অনড় অবস্থান বজায় রাখে। এমনকি ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ওয়াশিংটন তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করে। এর জবাবে ইরান দুটি জাহাজ আটক করে এবং তৃতীয় একটি জাহাজে গুলি চালায়।
ফলে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফা আলোচনা আদৌ হবে কি না—তা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
১৮ দিন আগে