রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ফের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত, বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাতে এ হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাজধানী কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত এবং তিন শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন। শহরের আটটি জেলায় আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যাঞ্চলীয় নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় দিনিপ্রো শহরে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা সংস্থা।
এদিকে, হামলার স্থানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় দফা হামলায় এক উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন।
হামলায় একটি দোতলা আবাসিক ভবন এবং একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।
সারা রাত এবং আজ (মঙ্গলবার) ভোর পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েকদিন আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জনগণকে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
কিয়েভের পোদিলস্কি জেলায় একটি নয়তলা ভবনের উপরের তলাগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিমান হামলার সতর্কতা বহাল থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় সময় আজ ভোর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল।
সোলোমিয়ানস্কি জেলায় ২০ তলা ও ২৪ তলা দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী বিপুলসংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখনও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।