আইনশৃঙ্খলা
রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা: আয়াসসহ রিমান্ডে ৪
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে থাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি কালি দিয়ে মোছার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। সেই সঙ্গে আয়াস ও তার সহযোগী সাকিবুল হাসানের তিন দিন করে এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গতকাল (শনিবার) শিল্পকলা একাডেমির সামনে আয়াসের নেতৃত্বে একটি দল রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, এ মামলায় গ্রেপ্তার রিমি রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে গেলে এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। তখন রিমি বলেন, তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। এ সময় পুলিশের বাধার মুখে আয়াসের নেতৃত্বে স্লোগানও দেন তারা। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা করেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ফুটপাত-সংলগ্ন দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগহসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
১৬ দিন আগে
মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার মামলায় ২৬ জনের বিচার শুরু
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
রবিবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
মামলায় পুলিশ সদস্য, কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ মোট ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে এবং বাকি ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।
কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম ও তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী ইরফানুল হক গাজী।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক এডিসি কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক এডিসি মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল আবু ছায়েম, সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার ও সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান।
এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজ, ফরিদ আহমেদ, ডি এম শামীম, আনিছুর রহমান নাঈম, আফছার উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আল সোহেল, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ওরফে সাথিল ও তুরাগ থানা যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ওরফে মিঠু পলাতক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা করছিলেন বিইউপির এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। একই সঙ্গে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন তিনি। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হলে আন্দোলনকারীদের কয়েকজন তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরায় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বিইউপির এমবিএ শিক্ষার্থী মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন।
একই অভিযোগে উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) দিয়ে পিষ্ট করে হত্যার পর তার দেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর জখম করার অভিযোগও রয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আবারও নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। তবে সেদিন আদেশ না দিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৩ সেপ্টেম্বরও আদেশ পিছিয়ে ১১ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এম লিটন আহমেদ। পলাতক আসামিদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম। এছাড়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী শহিদুল ইসলামসহ আসামিদের অন্য আইনজীবীরাও শুনানিতে অংশ নেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন ছিল না; বরং এগুলো পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এখন ট্রাইব্যুনালে এসব অভিযোগের বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
১৭ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় আটক ৩
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের বিপরীতে আগারগাঁও বাইপাস সড়কের প্রবেশমুখে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে আজ শনিবার আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়।
মোটরসাইকেলে করে জাহাঙ্গীর গেটের দিক থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে আসা দুই যুবক আগারগাঁও বাইপাস সড়কের প্রবেশমুখে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেন। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়। খবর পেয়ে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিস্ফোরিত ককটেলটি নিষ্ক্রিয় করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান ইউএনবিকে বলেন, ঘটনার পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করেছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে আরও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলেও জানান উপ-কমিশনার।
এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
১৮ দিন আগে
১ কোটি টাকার নকল ও অনুমোদনহীন ওষুধ-সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ নকল ও অনুমোদনহীন ওষুধ এবং ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন আবদুল্লাহ আল-মামুন (৪২), মো. সাজু (৩৩) ও মো. সজীব (২৬)।
অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (মঙ্গলবার) ডিবির ওয়ারী বিভাগের একটি দল মোহাম্মদপুরে ঢাকা উদ্যান এলাকার সি ব্লকে একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে সিরাপ, ক্যাপসুল, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, হাইজিন ওয়াশ, সাবান, পাউডার ও ট্যাবলেটের পাশাপাশি খালি মোড়ক, বোতল, লেবেল ও অন্যান্য প্যাকেজিং সামগ্রী রয়েছে।
১৯২ বোতল কিডজ ওমেগা লিকুইড সিরাপ, ১০০ বাক্স ল্যাক্টোফ্লেক্স ক্যাপসুল, ৩০০ পাতা ওসিয়ার্ক-সিডি ক্যাপসুল, ৮০০ বোতল কিডিকেয়ার সিরাপ প্লাস, ৭০ বোতল পিডিয়া ভক্স কিড সিরাপ, ১০ বোতল নিউট্রামাইড সিরাপ, ৩০টি ফেসি গ্লো ফেসওয়াশ ও ১৫০টি ডিটক্স প্লাস শ্যাম্পু জব্দ করা হয়।
এছাড়া ৩০০টি লেবেলবিহীন সিরাপের বোতল, ১০০টি লেবেলবিহীন সাদা ট্যাবলেট, ৫০০টি খালি সবুজ ক্যাপসুলের খোলস, ৪০০টি সাদা প্লাস্টিকের কনটেইনার এবং বিভিন্ন ধরনের খালি মোড়ক ও লেবেল জব্দ করে ডিবি।
তিনটি সিলিন্ডার, দুটি ক্যাপসুল ভরার মেশিন, ক্যাপসুল ভরার মেশিনের ছয়টি যন্ত্রাংশ ও দুটি লেবেল লাগানোর ছাঁচও জব্দ করা হয়েছে।
জব্দ করা সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
শফিকুল ইসলাম বলেন, জব্দ করা শিশুদের পণ্যগুলো তাদের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে পাওয়া কিছু ওষুধ বাংলাদেশে সাধারণত পাওয়া যায় না এবং এগুলো প্রতিবেশী কোনো দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বিদেশি এসব ওষুধ বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছিল কি না এবং সেগুলো কোনো ওষুধের দোকান বা অন্য বিক্রয়কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, ডিবি তা-ও তদন্ত করছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে ডিবিকে জানিয়েছেন, তারা তিন মাসের বেশি সময় ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কাজে ব্যবহৃত ফ্ল্যাটটিও প্রায় তিন মাস আগে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করা হয়েছে।
২১ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধ: হানিফসহ ৪ আসামির রায় যেকোনো দিন
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির রায় যেকোনো দিন ঘোষণা হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী ও কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। তবে আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। এই চার আসামির বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আজ (বুধবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে আসামিপক্ষ।
আসামিপক্ষে আজ যুক্তি উপস্থাপন করেন সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করা হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আদালত।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে প্রসিকিউশন।
গত বছরের ২ নভেম্বর এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। আর ২৫ নভেম্বর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ। ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।
২১ দিন আগে
নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: শর্তসাপেক্ষে গোলাম মহিউদ্দিনের জামিন
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী জামিন পেয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পাঁচ দিনের মাথায় সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালত তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন।
এদিন বিচারক আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে তার জামিনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিনের আদেশ দেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তাকে গ্রেপ্তারের পর এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইসিবি চত্বর এলাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার পর মামলাটি করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি প্রকল্প এলাকায় ঢুকে গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরা, পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল লুট ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
হামলায় সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ কয়েকজন আহত হন। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। এতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এর আগে মামলার তিন আসামি মামুন, আসলাম ও মুন্নার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই সুব্রত দেবনাথ তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
২২ দিন আগে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ডনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আবেদনে তাকে নির্দোষ দাবি করে সাতটি যুক্তি তুলে ধরেন তার আইনজীবী।
এর মধ্যে মামলার দুটি সুরতহাল প্রতিবেদন, দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা ও রাসায়নিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা হয়।
জামিন আবেদনে বলা হয়, আশরাফুল হক ডন ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং তাকে অহেতুক হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
গত ৯ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে আইন অনুযায়ী জামিন পাওয়ার দাবিও জানানো হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, ডন শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না। আদালতে উপযুক্ত জামিনদার দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
আসামিপক্ষের আবেদনে শুনানির সময় অন্যান্য বক্তব্য মৌখিকভাবে আদালতে উপস্থাপনের কথা উল্লেখ করে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ডনের জামিন মঞ্জুরের আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে শুনানি শেষে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
২৩ দিন আগে
সাবেক তথ্যমন্ত্রী ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
এর আগে গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় ইনুকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করায় সব মিলিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী, ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগে প্রতিটিতে তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়।
রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের অভিযোগ ইনুর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে জানানো হয়। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সহযোগিতার দায়েও তাকে দণ্ডিত করা হয়। অপর একটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তির দায় প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাজা দেওয়া হয়।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। এখন খালাস পাওয়া অভিযোগসহ প্রমাণিত অভিযোগে দেওয়া সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। আবেদনটি এখন আপিল বিভাগ বিবেচনা করবে।
ইনুর বিরুদ্ধে আট অভিযোগ
মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেন।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ইনু নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা দেন।
তৃতীয় অভিযোগে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তালিকা তৈরি এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।
চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং সরকারের নেওয়া হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়। এ দুটি অভিযোগে ইনুকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠ মামলায় ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়। সপ্তম অভিযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। এই দুই অভিযোগেই ইনুর বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হয়েছে।
অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা দেন ইনু। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
২৩ দিন আগে
এবার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল
ঢাকার আদাবর থানা এলাকায় পোশাককর্মী রুবেল হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এ আদেশ দেন।
গত বছরের ২৫ জুন জনগণের ‘ভোট ছাড়াই’ নির্বাচন সম্পন্ন করা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিএনপির করা মামলায় কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ।
পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত জামিন দিলে কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন সাবেক এ সিইসি।
এর মধ্যেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর রুবেল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েক শ ছাত্র-জনতা আদাবরের রিং রোড এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালান। এতে গুলিবিদ্ধ রুবেলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলা করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
২৩ দিন আগে
সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর
বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৪ অক্টোবর) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আখতারুজ্জামানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
গত শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর গতকাল (শনিবার) তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৮) বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। একই সময়ে ট্রলি সংকট দেখা দিলে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করে আখতারুজ্জামান অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগ মামলায় রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে দুবার বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন তিনি।
২৪ দিন আগে