আইনশৃঙ্খলা
সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, তা নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কার্যকরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক না কেন, তা সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে। রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যে সমস্ত সন্ত্রাসী দেখিয়েছে, তাদের যথাযথভাবে দমন করা হবে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলাকারী ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের সর্বশেষ আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সলিমপুর, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরসহ পার্শ্ববর্তী সমগ্র এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সেজন্য এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিকল্পিত সরকারি স্থাপনা ও অ্যাকাডেমি নির্মাণের লক্ষ্যে আজ সব বিভাগীয় প্রধানদের সাথে ম্যাপ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের বর্তমান কারাগারটি বায়েজিদ লিঙ্ক রোডের পাশের ওই এলাকায় স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ শিগগিরই স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারা অধিদপ্তর প্রথমে কারাগারের নির্ধারিত স্থানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করবে যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি। অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য কোন স্থানে কী স্থাপনা করা হবে, তাও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
১৯ দিন আগে
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। আগামী ৪০ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আজ ভোরে হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একটি অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ১১ জন মায়ের মধ্যে ছয়জনের নবজাতক সন্তান মারা যায়। শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। বাকি পাঁচ নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।
অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তারা ওয়ার্ডে ‘সাফোকেটিভ’ বা শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের উপস্থিতি পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসি জটিলতা বা ভেন্টিলেশন সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, এসি বন্ধ করলে সেখানে আর কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের একজন উপপরিচালক এবং অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কমিটি নবজাতকদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, ওয়ার্ডের পরিবেশ উপযুক্ত ছিল কি না এবং এসি বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না—সেসব বিষয় তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করবে।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সেবায় গাফিলতি, ব্যবস্থাপনায় অবহেলা বা অবকাঠামোগত কোনো ত্রুটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে
ঈদুল আজহা সামনে রেখে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই: র্যাব ডিজি
পবিত্র ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। তবে কোনো হুমকি না থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র্যাব ডিজি এসব কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাব ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হুমকি অনুভব করিনি। তবে হুমকি না থাকলেও আমাদের নিজস্ব যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে, সেটি জোরদার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের প্রধান প্রধান জামাতগুলোতে নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দেশব্যাপী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্টের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ঈদে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলক কমে যাওয়ায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের ঝুঁকি থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাত্রিকালীন নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাত্রিকালীন টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কোরবানির পশুর হাট ও জাল টাকা রোধে র্যাবের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে র্যাবের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জাল টাকা প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে ও জাল টাকা প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান চলমান আছে। কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন কেউ জোরপূর্বক নির্দিষ্ট কোনো হাটে নিয়ে যেতে বাধ্য করতে না পারে, সে বিষয়েও বিশেষ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো প্রতিরোধে র্যাবের সাইবার উইং সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে র্যাব প্রধান বলেন, ঈদ ও কোরবানিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ যেন কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিতে না পারে, সে লক্ষ্যে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং সার্বক্ষণিকভাবে চালু রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপচেষ্টা চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে র্যাবের ক্যাম্পে কেএনএফের হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে র্যাব ও পুলিশের বিশেষ ক্যাম্প কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গেই কাজ করছে। র্যাবের ক্যাম্পে মূলত কোনো হামলা হয়নি। আমরা নতুন একটি ক্যাম্প করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলাম, সেখানে তারা অতর্কিত হামলা করেছে। এর পেছনে আমাদেরও কিছু অসাবধানতা বা দুর্বলতা ছিল।
তিনি আরও বলেন, ইয়াসিন বাহিনী বা অন্য কেউ র্যাবের চেয়ে শক্তিশালী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আর সেখানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
র্যাব ডিজি বলেন, দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য র্যাব সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
২৪ দিন আগে
ঈদে সার্বিক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক তদারকিতে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার যেকোনো ধরনের অনিয়ম, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে। অতীত সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও তৎপর রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ‘ন্যাশনাল অপারেশন মনিটরিং সেন্টার’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মনিটরিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ঈদের সাত দিন আগে থেকে সাত দিন পর পর্যন্ত দেশের মহাসড়ক, পশুর হাট, যমুনা ও পদ্মা সেতুসহ সব এক্সপ্রেসওয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় থাকবে। পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি যেসব স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেখানে পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা কম হয়েছে। যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার বেশিরভাগই অসচেতনতা ও ব্যক্তিগত গাফিলতির ফল। নওগাঁয় লোহার রডবাহী ট্রাকে ছাদে যাত্রী বহনের ঘটনায় দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভাড়া বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ করায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ সময় নিরাপদ যাতায়াতে জনগণকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুমোদনহীন কোনো হাট বসতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি মিরপুরে মেট্রোরেল লাইনের নিচে বসা একটি অবৈধ পশুর হাট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাল নোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে বিভিন্ন পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে ‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’ তৈরির অপচেষ্টা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার এবং দাগী আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ওই এলাকায় পুলিশ অ্যাকাডেমি, র্যাব অ্যাকাডেমি, পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং কারাগারসহ সমন্বিত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ত্রাসীদের ঔদ্ধত্য কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের দীর্ঘ যানজটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ম্যানুয়াল টোল আদায়ের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানে ডিজিটাল অটোমেশন চালুর জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হবে। গাড়িতে কার্ডভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় পদ্ধতি চালু এবং ব্যবহারকারীদের জন্য প্রণোদনার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
সাভারে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আহ্বান করে তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, গত তিন মাসে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। মাদক চক্র ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে যুগোপযোগী নতুন আইন আনা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের জন্য আরও একটি যুগান্তকারী আইনি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘১৮৬৭ সালের মান্ধাতা আমলের জুয়া আইন বাতিল করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন, যুগোপযোগী ও আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই আইনটি পাসের জন্য বিল আকারে পেশ করা হবে।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান। এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
মাদক আইনের সংস্কার এবং মামলার জট নিরসন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঢাকা জেলায় প্রায় ৮০ হাজার এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় বিপুল পরিমাণ মাদক মামলা অমিমাংসিত (পেন্ডিং) রয়েছে। এই মামলার আধিক্য বিবেচনা করে বিশেষ ‘মাদক ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হবে।
মন্ত্রী দেশের জন্য আরও একটি যুগান্তকারী আইনি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ১৮৬৭ সালের মান্ধাতা আমলের জুয়া আইন বাতিল করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন, যুগোপযোগী ও আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই আইনটি পাসের জন্য বিল আকারে পেশ করা হবে।
পাসপোর্টে আসছে পরিবর্তন
পাসপোর্টে পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, আসন্ন নতুন পাসপোর্টগুলোতে আগের মতো ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ (ইসরায়েল ব্যতীত) শব্দগুচ্ছ পুনর্স্থাপন করা হবে। এটি দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রাণের দাবি ও বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত।
মুক্ত গণমাধ্যমের চর্চা
মুক্ত গণমাধ্যমের গুরুত্ব উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমাজের সর্বাঙ্গীণ সংস্কার ও অগ্রগতির জন্য স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য। তবে ফ্রিডম অব প্রেস এবং বাকস্বাধীনতা চর্চার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে যৌক্তিক বিধিনিষেধ থাকা দরকার।
তিনি বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাগামহীন অপব্যবহার, হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং কৃত্রিম ন্যারেটিভ তৈরির মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে পরামর্শমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের যাতায়াত প্রসঙ্গ
বিএসআরএফ উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেট ব্যবহারের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন বিধায় সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে স্ক্রুটিনি (যাচাই-বাছাই) করতে হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ ও সিভিল কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুততম সময়ে এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) নেতারাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ দিন আগে
প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে ভারত, প্রত্যাশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বন্দি বিনিময় ও প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন।
রবিবার (২৪ মে) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
শেখ হাসিনা দেশে আসবেন বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, উনার ট্রাভেল পাস চাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনা হচ্ছে; এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তুতি বা কোনো তথ্য আছে কি না—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমি আরও অনেক আগে বলেছি। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তার প্রত্যর্পণের জন্য অনেক আগেই বারবার চিঠি পাঠিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা এখনো চাই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী ভারত সরকার তাকে ফেরত পাঠাবে। আমরা তো চাই তিনি বিচারের মুখোমুখি হোন।
জুয়া ও অনলাইন বাজি ঠেকাতে নতুন আইন
সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বাজি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, আশা করি ইনশাআল্লাহ আগামী অধিবেশনেই সেই আইনটি আমরা পাব। এখন পর্যন্ত যে আইনটি আছে, সেটা একদম মান্ধাতা আমলের। ১৮৬৭ সালের বোধহয় একটি আইন আছে।
বর্তমান বাস্তবতায় অনলাইন জুয়া, অফলাইন জুয়া ও ইন্টারনেটভিত্তিক বাজির মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় পুরোনো আইন বাতিল করে আধুনিক ও যুগোপযোগী আইন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপে উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
২৬ দিন আগে
রামিসা হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
এর আগে সকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ডিএনএ প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
এর আগে, আজ (রবিবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।
মামলার নথি অনুযায়ী, রামিসা আক্তার তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার মেয়ে। অভিযুক্ত সোহেল রানা পার্শ্ববর্তী একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ছিলেন। তিনি শিশুটিকে কৌশলে তার কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রামিসার ছিন্নভিন্ন মরদেহ বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তার কাটা মাথা বাথরুমের একটি বালতির ভেতর থেকে পাওয়া যায়।
ঘটনার সময় স্বপ্না আক্তারকে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
২৬ দিন আগে
ডিএনএ রিপোর্ট প্রাপ্তির ভিত্তিতে ঈদের পরপরই রামিসা হত্যার বিচার শুরু: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিএনএ রিপোর্ট দ্রুত পাওয়া গেলে এবং ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হলে রামিসা হত্যা মামলার বিচার ঈদের পরপরই শুরু করা যাবে। এ মামলার বিচার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্রাক সেন্টার অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস সময় লাগে। তবে রামিসা হত্যা মামলার রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘২৫ মে থেকে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হবে। তার আগেই যদি ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যায় এবং ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়, তাহলে ঈদের পরপরই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।’
রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলের পর বিচার শেষ করতে কতদিন লাগতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিলের পর বিচার শেষ করতে এক মাস সময় লেগেছিল। এছাড়া ১৯৪৮ সালের মুলুক চাঁদ মামলার উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে মামলায় একদিনেই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদ্যমান আইনের বিধান অনুসরণ না করে চার্জশিট দাখিল করা হলে প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে ফ্যাটাল ইনজুরি (গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের ঘাটতি) থেকে যেতে পারে। এ ধরনের মামলায় ডিএনএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। আমাদের যখন ডিএনএ পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে, তখন তা অবশ্যই করা উচিত।’
বিচার দ্রুত সম্পন্নে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ এবং দেশ-বিদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা, সেই প্রত্যাশা পূরণে আমরা সক্ষম হব বলে আশা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা কোনো ভুল পথে এগিয়ে যাই, তাহলে আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন, গাইড করবেন। এ বিষয়ে আমাদের কোনো কার্পণ্য থাকবে না।’
শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের অংশ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলেও তা কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
এ সময় নেত্রকোনায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি আইনমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি জানান, সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েসসহ অনেকে।
মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সরকারি আইনগত সহায়তা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন।’
বৈষম্যবিরোধী আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইনে কোনো বৈষম্য থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করা হবে। আমরা সমান্তরালভাবে কাজ করতে চাই।’
২৭ দিন আগে
রামিসা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা হলে দৃঢ় হাতে দমন করা হবে: আমিনুল হক
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হলে দৃঢ় হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীস্থ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি বিএনপিও চায়, তবে তা অবশ্যই আইনের মধ্য দিয়েই হতে হবে।
আমিনুল হক বলেন, ‘রামিসা হত্যাকাণ্ডে আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই। দেশের মানুষও সেটাই চায়। কিন্তু একটি গোষ্ঠী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উসকানি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য ন্যায়বিচার নয়, বরং অস্থিরতা সৃষ্টি করা।’
তিনি জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেন, একটি মহল অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও উসকানিমূলক স্লোগানের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আমিনুল বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন আপনারা। এখন সবাইকে জামায়াত সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। তারা গোপনে সংগঠিত হয়ে মানুষের ভেতরে ঢুকে বিভ্রান্তি ও ক্ষতির চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাক্স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশে বিশ্বাস করি। কিন্তু কেউ যদি সেই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে অপকর্ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’
নিজ দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যেখানেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা হবে, সেখানেই দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অন্যায়কারী সে যে দলেরই হোক, তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।’
দলের অভ্যন্তরীণ মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দিন শেষে আমরা সবাই বিএনপির আদর্শের কর্মী। একজন সহকর্মীর ওপর আঘাত এলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার পাশে দাঁড়াতে হবে।’
এর আগে, সকালে পল্লবী ও রূপনগর থানার পঙ্গু ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইলচেয়ার প্রদান করেন আমিনুল হক।
২৮ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে যে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসবেন, তার ফিরে আসার জন্য মিছিল হচ্ছে। আপনারা পর্যবেক্ষণ করছেন কি না?—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিরে আসার কার্যক্রম কী? আমরাও তো তাকে ফেরত চাই, সেটা আইনিভাবে।
তিনি বলেন, আমরা তো তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি বাংলাদেশে মামলার মুখোমুখি হন।
রাজধানীর মিরপুরে চাঞ্চল্যকর রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রীকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মূল আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ ও ‘রি-অ্যাক্টিভ’ উভয় পদ্ধতিতে কাজ করছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানগুলো মূলত ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যাতে অপরাধ সংঘটিত না হয়। অন্যদিকে ধর্ষণ বা হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধের ক্ষেত্রে ‘রি-অ্যাক্টিভ’ ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার এবং তদন্ত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
২৯ দিন আগে