আইনশৃঙ্খলা
অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন সেনাপ্রধান
৯ দিনের সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
রবিবার (৪ অক্টোবর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গতকাল (শনিবার) তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
আইএসপিআর জানিয়েছে, সফরের প্রথম পর্যায়ে সেনাপ্রধান অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠেয় ‘দ্য চিফ অব আর্মি সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড ল্যান্ড ফোর্সেস ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স এক্সপোজিশন ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়া মেলবোর্নে অবস্থিত ডিকিন ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করবেন তিনি।
পরবর্তীতে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ইউএস আর্মি (এইউএসএ) অ্যানুয়াল মিটিং অ্যান্ড এক্সপোজিশন’-এ যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে যাবেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সফরকালে সেনাপ্রধান উভয় দেশের প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৪ দিন আগে
সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রিমান্ডে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল-বেরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
আদালত সূত্র জানায়, গতকাল (শুক্রবার) গ্রেপ্তারের পর আজ (শনিবার) রিমান্ড শুনানির জন্য আখতারুজ্জামানকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দরের ঘটনায় আখতারুজ্জামানের পেছনে কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কি না এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৮) বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। একই সময়ে ট্রলি সংকট দেখা দিলে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করে আখতারুজ্জামান অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এছাড়া যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগে মামলায় রয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে দুবার বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন তিনি।
২৫ দিন আগে
উত্তরায় ডিজিএফআই সদস্য সেজে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৩
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদস্য পরিচয়ে উত্তরায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ ৫৯ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল মাহবুব ওরফে মাসুম (৪২), সোহেল মির্জা (৪১) ও মো. সজিব (৩৬)।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) আকতার হোসেন শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে এসব তথ্য জানান।
ডিসি আকতার বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার একটি টহল দল সেক্টর-৪-এর ৩ নম্বর সড়কের একটি ভবনের দশম তলার একটি ফ্ল্যাটে যায়।
পুলিশ জানায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দেন এবং ফ্ল্যাটের মালিক কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।
একপর্যায়ে কথিত ওই মামলা মীমাংসার জন্য তারা জাহেদীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। ভয় পেয়ে তিনি এক লাখ ৫৯ হাজার টাকা দেন। পরে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।
এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক সন্দেহভাজনের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের একটি পরিচয়পত্র পায়। জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজনরা ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের একটি ভুয়া পরিচয়পত্র, একটি মোটরসাইকেল, নগদ এক লাখ ৫৯ হাজার টাকা, একটি ওয়াকিটকি ও এক জোড়া হাতকড়া উদ্ধার করা হয়ে।
এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠাতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২৫ দিন আগে
ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতার সুযোগ পাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দেশে কোনো ‘অপশক্তি’কে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’
এছাড়া দেশে যৌথ অভিযান পরিচালনার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক মোকাবিলায় পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আনসারের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
নতুন আনসার সদর দপ্তর সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর পাওয়ার বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এবার পূরণ হতে যাচ্ছে।
আনসার সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। খিলগাঁওয়ে বিদ্যমান আনসার সদর দপ্তরে জায়গার সংকট এবং যাতায়াত-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা দূর করতে বরাদ্দ পাওয়া জায়গায় আধুনিক ও বৃহৎ পরিসরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনবল কাজ করছে।
তিনি বলেন, নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে এটিই দেশের সবচেয়ে বড় বাহিনী।
কেন্দ্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে ডরমিটরি, ব্যারাকসহ অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও বিভিন্ন জাতীয় সংকটের সময় আনসার বাহিনীর অবদান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি তাদের আর্থিক ও অন্যান্য দাবিগুলো ধীরে ধীরে পূরণের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয় না; যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ফৌজদারি মামলাও করা হবে।
ঢাকার যানজট ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ব্যবস্থার উন্নয়নে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা সম্পন্ন হচ্ছে এবং সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে।
এছাড়া বিভিন্ন কাজের জন্য একসঙ্গে পুরো সড়ক খনন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর পরিবর্তে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করে দ্রুত সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে বলা হয়েছে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৭ দিন আগে
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত: প্রসিকিউটর
শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবির কথা জানান।
এদিন মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি নেওয়া হয়। তবে তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী রবিবার (৪ অক্টোবর) দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা এদিন আংশিক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার বাকি জবানবন্দি আগামী রবিবার উপস্থাপন করা হবে। তার সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপন শেষ হবে। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে নিজেদের সাক্ষ্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। এরপর যুক্তিতর্ক হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আমরা যেসব অভিযোগ এনেছিলাম, ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যে প্রতিটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত কর্মকর্তা তার জবানবন্দিতে মামলার তদন্ত কীভাবে পরিচালনা করেছেন, কার কার জবানবন্দি নিয়েছেন, কোথায় কোথায় গেছেন এবং কী কী তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন, সেসব তুলে ধরছেন। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণও তিনি আদালতের সামনে উপস্থাপন করছেন।
তিনি আরও বলেন, এ মামলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তাও সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের কর্মকাণ্ড এবং তিনি কীভাবে কথিত অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তার বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।
মামলার সাক্ষ্যগুলোতে র্যাবের কর্মকর্তাদের ধীরে ধীরে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও জানান প্রসিকিউটর।
২৮ দিন আগে
চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের তালিকা পুলিশের কাছে সবসময় থাকে এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং আরও জোরদার করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কতজন সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার হচ্ছে, তা পুলিশ বিভাগ নিয়মিত সংগ্রহ করছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে।
এ সময় বিচ্ছিন্ন ঘটনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার অব্যাহতভাবে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি। এখানে কোনো একটা বা দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে নিয়ে এসে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করাটা ঠিক হবে না।
এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখছে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, গ্রেপ্তার করছে এবং মামলা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, হচ্ছে।’
মিরপুরের একটি ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।
ওই ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে অপরাধীদের কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তা বিবেচনায় না নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২৮ দিন আগে
মিরপুরে সংঘর্ষের পেছনে সমন্বয়ের অভাব থাকতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হওয়া সংঘর্ষে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল বলে মনে করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পুলিশের সহায়তা নিয়ে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তিনি যতটুকু জানতে পেরেছেন, তা থেকে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানতে পেরেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিটি করপোরেশন বা রাজউকের কর্মকর্তারা পুলিশের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করেননি। সেখানে সমন্বয়ের অভাব ছিল বলে তার কাছে মনে হয়েছে।
এর আগে ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। একপর্যায়ে হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়।
এ সময় সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় হকারদের হাতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৮ দিন আগে
কামরাঙ্গীরচরে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে সৎবাবার মৃত্যুদণ্ড
ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে তার সৎবাবাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তকে সাজার পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ওই সৎবাবা ১৩ বছরের কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আদালত তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে, যদি এই অপরাধের জন্য যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়া না হয়।
তিনি আরও বলেন, এমন অপরাধ কেবল এই ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই নয়, ভুক্তভোগী যে সমাজের অন্তর্ভুক্ত, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে। সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া আদালতের দায়িত্ব।
৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ‘ঘৃণ্য অপরাধ’ করেছেন উল্লেখ করে বিচারক বলেন, একটি ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা বিচারকের দায়িত্ব। সেই হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হলো।
এদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী বা তার আইনি উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করতে জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী তার মা ও সৎবাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকত এবং সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। মায়ের অনুপস্থিতে সৎবাবা তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং সন্তান জন্ম দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তোভোগির মা ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
২৮ দিন আগে
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ফের রিমান্ডে
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে ফের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো. জেহাদ হোসেন রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার চার মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি অডিও ডিভিডিতে ধারণ করে জব্দ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অডিওতে থাকা নমুনা কণ্ঠস্বরের সঙ্গে আসামির কণ্ঠস্বরের তুলনামূলক পরীক্ষার জন্য তাকে ফের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসান ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে তাদের রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই রাকিবুলকে ওসির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়।
২৯ দিন আগে
সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এবং গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রস্তাব করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনটির খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খসড়া সংশোধনী বিলটি এর আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী সাইবার পরিসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আইনটি যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে। খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষকসহ অনেকে মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত ইতোমধ্যে সংকলন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজকের (সোমবার) বৈঠকটি ছিল সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফার পরামর্শ সভা। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় সম্পাদকদের লিখিতভাবে অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এই আইন অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।’
সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।’
প্রস্তাবটি উপযুক্ত মনে হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যেসব সুপারিশ আসবে, সেগুলোর সঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে নিশ্চয়তা দেন মন্ত্রী।
এছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে কোনো ব্যক্তি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে থাকবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আরও সুপারিশ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ১৫ দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিদ্ধান্তের পর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তখনও সবাই মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। মতামত গ্রহণযোগ্য হলে সেগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে এবং পরে মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে বিল আকারে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সংসদে গেলেও বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করবেন। সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম থেকে মতামত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যে আইনের মাধ্যমে আমরা সমাজের সর্বস্তরের লোকজনকে রক্ষা করতে পারব, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করতে পারব।’
সাইবার স্পেসে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ করছে এবং যেসব কর্মকাণ্ড সমাজে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
৩০ দিন আগে