আইনশৃঙ্খলা
সাভারে ১১ অবৈধ বালু বিক্রির প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা পরিবেশ অধিদপ্তরের
ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ও বালুরঘাট এলাকায় বায়ুদূষণের দায়ে অবৈধ বালু বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
সোমবার (৭ জুলাই) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দীপংকর বরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।
জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রয়েছে আনাবিয়া ট্রেডার্স, কনফিডেন্ট ট্রেডার্স, নিউ ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, শাহাদাত এন্টারপ্রাইজ, ফাহিম এন্টারপ্রাইজ, খান এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স হাজী এন্টারপ্রাইজ, শ্যামল এন্টারপ্রাইজ, শ্যামল এন্টারপ্রাইজ, মা ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ এবং ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ।
প্রতিষ্ঠানগুলো আমিনবাজার, বালুরঘাট, সাভার, ঢাকায় অবস্থিত এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কিশোর কুমার দাসের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। এছাড়া, প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক নয়ন কুমার রায়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ ও র্যা-০৪ এর একটি চৌকস দল প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়েছে।
বায়ুদূষণ রোধে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
৩৪৭ দিন আগে
অধস্তন আদালত বিকেন্দ্রীকরণে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
উপজেলা পর্যায়ে আদালত বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে কিছু দিকনির্দেশনাসহ সবাই একমত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অধস্তন আদালত বিকেন্দ্রীকরণে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের বৈঠকের দ্বিতীয় পর্যায়ের দশম দিনের শেষে সাংবাদিকদের তিনি এমন তথ্য দিয়েছেন।
অধস্তন আদালতের ক্ষেত্রে কিছু কিছু বিষয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যেমন, জেলা সদরে অবস্থিত উপজেলায় আদালত প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন নেই। যেহেতু, সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সদর উপজেলা আদালত জেলা সদরে জেলা জজকোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া যায়, তাতে জেলা সদরে উপজেলা আদালত প্রতিষ্ঠা হয়ে যায় ‘
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে—যেগুলো ব্রিটিশ আমালের চৌকি হিসেবে চিহ্নিত ছিল—সেগুলো, দ্বীপাঞ্চল ও কিছু কিছু উপজেলায় আদালত প্রতিষ্ঠিত আছে। সেই সংখ্যাটা ৬৭, যেটা আমরা পরিসংখ্যানে পেয়েছি। কম-বেশিও হতে পারে। এগুলো প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তবে সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নির্মাণ করা প্রয়োজন।’
‘যেসব উপজেলা জেলা সদরের খুব কাছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা যেহেতু আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে, সে জন্য কোনো উপজেলা সদর উপজেলা হেডকোয়ার্টার্সের ১৫ বা ২০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকলে সরকারিভাবে আরেকটি স্থাপনা নির্মাণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাস ও তা রক্ষণাবেক্ষণ করা খুবই ঝামেলাপূর্ণ ব্যাপার। সেই বিবেচনায় একটি বিস্তারিত জরিপ পরিচালনা শেষে সেসব উপজেলা সদর বা হেডকোয়ার্টার্সে আদালত স্থাপনের প্রয়োজন নেই বলে মতামত দেওয়া হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘উপজেলার দূরত্ব, জনঘনত্ব ও অর্থনৈতিক অবস্থা, যোগাযোগ, কোন কোন উপজেলায় কত মামলা আছে ও অন্যান্য বিষয়াবলি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। এরপর একটি জরিপ কার্যক্রম করে পর্যায়ক্রমে সমস্ত উপজেলায় আদালত স্থাপনে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।’
‘আইনি সহায়তা উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করার বিষয়েও একটা ঐকমত্য এসেছে। মোটামুটি এই বিষয়গুলো নজরে রেখে উপজেলা আদালত কিংবা অধস্তন আদালত বিকেন্দ্রীকরণে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’
বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিগত দিনে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ বিভাগীয় শহরে স্থাপনের বিষয়ে যে আলাপ হয়েছিল, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে সেই একই বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমরা বলেছি, হাইকোর্টে স্থায়ী বেঞ্চ বিভাগীয় শহরে স্থাপনের বিষয়ে বিচার বিভাগের সাথে আলোচনা করতে হবে।’
‘কারণ এ বিষয়ে ১৯৮৮ সালে সুপ্রিমকোর্টের একটি রায় আছে, সেই সংবিধান সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন সেটা স্থাপিত হয়নি। সামনে যাতে একই জটিলতায় পড়তে না হয়, সে জন্য আমরা বলেছি—বিচার বিভাগের সাথে আলোচনা করে, তাদের সম্পৃক্ত করে একটি সমাধানে আসতে হবে। সেই দায়িত্ব জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সরকারের।’
আরও পড়ুন: নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশ তত পিছিয়ে যাবে: সিলেটে মির্জা ফখরুল
এরআগে উপজেলা পর্যায়ে আদালত প্রতিষ্ঠা করা হলেও তা তুলে দেওয়া হয়েছে, এখন সেটা আবার পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার প্রতিষ্ঠা করা হলে তখনকার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও জাতীয় সেন্টিমেন্টের সাথে একমত হয়ে উপজেলা পর্যায়ের আদালত কিছুটা ব্যতিক্রম ছাড়া তুলে দেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হয়। সেই বিষয়ে তখন কোনো আপত্তি জাতীয়ভাবে আসেনি। তবে বর্তমানে যে ৬৭টি আদালত আছে, সেটাও তখনকার সিদ্ধান্ত। এটা তখনকার অবস্থা। কিন্তু তার ৩৫ বছর পরে সময়ের প্রয়োজনে সেই বিবেচনা পাল্টাতে হয়েছে।’
জরুরি অবস্থা ঘোষণা সংক্রান্ত বিতর্ক সংসদে হওয়া উচিত: বিএনপি
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের বিদ্যমান অনুচ্ছেদ ১৪১ এর ক, খ ও গ ধারাগুলোতে কোন সময়ে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন, কীভাবে করবেন, সেটা বিবৃত আছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণাকালে নাগরিকদের কী কী মৌলিক অধিকার সাসপেন্ডেন্ট থাকবে, সেগুলো বিষয়ে বলা আছে। কতদিন জরুরি অবস্থা রাখা যাবে, সংসদে কতদিন পরে উপস্থাপন করতে হবে, সংসদ বিদ্যমান না থাকলে কী করতে হবে, ইত্যাদি সেখানে বলা আছে।
‘এরসাথে আরও দুতিনটি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো, জাতিসংঘের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্র হিসেবে যে চুক্তিগুলো আছে, সেই বিষয়ে, মানবাধিকার কিছু বিষয়ে নাগরিকের কী কী মৌলিক অধিকার বহাল রাখা যায়, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব ছিল, পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে একটি বিস্তারিত বিতর্কের মধ্য দিয়ে আলোচনাক্রমে সেটা নির্ণয় করা যাবে। কারণ এটা অনেক বিস্তারিত। সংবিধানের এসব অনুচ্ছেদের অনুকূলে আইনও প্রণয়নও করা হতে পারে। সেগুলো সেখানেই বিবেচনা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিস্তারিত বিষয়ে না গিয়ে আজ দুটি বিষয়ে একমত হওয়া গেছে: প্রথমত, জরুরি অবস্থা ঘোষণা সংক্রান্ত বিধানাবলীতে পরিবর্তন ও সংশোধনী আনতে আমরা সবাই একমত। দ্বিতীয়ত, এ বিষয়ে সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে জরুরি আইন ঘোষণার কোনোভাবে অপব্যবহার করা না হয়। সেই বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে।’
‘তবে আমাদের প্রস্তাব, বিস্তারিত আলোচনাগুলো জাতীয় সংসদে হওয়া উচিত। সংসদে বিস্তারিত বিতর্কের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিধানে পরিবর্তন বা সংশোধনী আনা যাবে। প্রয়োজনে, সেটার অনুকূলে আইনও প্রণয়ন করা যাবে।’
জরুরি অবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জরুরি অবস্থা জারি করা হলেও সেখানে জনগণের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে যাতে বিধিনিষেধ না আসে, তেমন একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মানে, জরুরি অবস্থা জারি করা যাবে, তবে এসব মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারে হস্তক্ষেপ করা যাবে না।’
‘আমরা আলোচনা করেছি, জরুরি অবস্থা জারি করার অর্থ হচ্ছে কিছু কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত করতে হবে। জরুরি অবস্থা কি শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় জারি করা হয়? রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করার জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা যাবে না। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম নজির আছে। যেমন, কোথাও ভূমিকম্প কিংবা মহামারি হলো, বা কোথাও দুর্ভিক্ষ হলো, বিভিন্ন কারণে জরুরি অবস্থা সীমিতভাবে ওই অঞ্চলের জন্য করা যায়। এই প্রস্তাবও আমরা দিয়েছি।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভৌলিক অখণ্ডতার প্রশ্ন আছে, যদি বিদ্রোহ দেখা যায়, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে জরুরি অবস্থা জারি করা যায়, যেটা সারা দেশের জন্য হয়ত প্রযোজ্য হবে না। এগুলো পরবর্তী বিবেচনার বিষয়।’
৩৪৭ দিন আগে
যমুনা অভিমুখে বিডিআরের চাকরিচ্যুত সদস্যরা, কাকরাইলে পুলিশের বাধা
রাজধানীর শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার অভিমুখে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়েছেন পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা। কাকরাইল মসজিদের সামনে পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস সেল ব্যবহার এবং লাঠিচার্জ করে তারেদ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তিন দফা দাবি নিয়ে যমুনা ঘেরাও’র ঘোষণা দিয়ে পদযাত্রাটি শুরু করেছিল তারা।
সোমবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের সামনে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুলিশি বাধার মুখে পড়েন।
পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর বিডিআর মেম্বার’ ব্যানার নিয়ে তিন দফা দাবিতে এ দিন বেলা ১১টার দিকে শাহবাগ জাদুঘরের সামনে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা অবস্থান নেন। এরপর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যমুনাভিমুখে যাত্রা শুরু হয় তাদের। এতে, পুলিশ বাধা দিলে পুনরায় শাহবাগ মোড় হয়ে মৎস্য ভবন আসেন তারা। মৎস্য ভবন মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
বিক্ষোভের সময় চাকরিচ্যুত এক বিডিআর সদস্যদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: মব সন্ত্রাস জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি: অ্যাটর্নি জেনারেল
চাকরিচ্যুত এক বিডিআর সদস্য বলেন, ‘আমাদের চাকরি ফেরত দেওয়া হোক। যেসব নির্দোষ বিডিআর সদস্য জেলে আছেন, তাদের মুক্তি দেওয়া হোক।’
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশি ব্যারিকেড অতিক্রম করে কাকরাইল মসজিদের সামনে গেলে আবারও পুলিশি বাধার সামনে পড়েন চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা। এসময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের চলে যেতে দশ মিনিটের আলটিমেটাম দেয়। কিন্তু চাকরিচ্যুতরা পিছু না হটে কাকরাইল মোড়ে বসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এসময়, তাদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং জলকামান ব্যবহার করে।
এ বিষয়ে, রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক জানান, চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা যমুনাভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে, পুলিশ জলকামান ব্যবহার ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের তিন দফা দাবি হলো— চাকরিচ্যুতদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে চাকরিতে পুনর্বহাল, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের বিভিন্ন ধারা বাতিল, বিডিআর নাম পুনর্বহাল এবং কারাগারে বন্দি থাকা বিডিআর সদস্যদের মুক্তি।
৩৪৭ দিন আগে
লালমনিরহাটে শ্রেণিকক্ষ থেকে ‘ঋণগ্রস্ত’ স্কুল কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার
লালমনিরহাট সদরের হাড়িভাঙ্গা দরগারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ক্লাসরুম থেকে স্কুল কর্মচারীর (দপ্তরি) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তিনি ১১ লাখ টাকা ঋণে ছিলেন।
সোমবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে আটটার দিকে সাইফুল ইসলাম’র (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের হাড়িভাঙ্গা গ্রামের কসাইটারি এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। সাইফুল তিন সন্তানের জনক ছিলেন। একই সঙ্গে দপ্তরি ও নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করতেন তিনি ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (সোমবার) সকালে স্কুলের এক শিক্ষিকা জরুরি প্রয়োজনে সাইফুলকে ফোন দেন। তাকে ফোনে না পেয়ে ওই শিক্ষিকা সকাল ৮টার দিকে স্কুলে এসে প্রধান ফটক খোলা পান।
পরে স্কুলে প্রবেশ করে একটি শ্রেণিকক্ষের ফ্যানের সঙ্গে সাইফুলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীরা ছুটে এসে স্কুল প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে সাইফুল আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
ঘটনার খবর পেয়ে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। সাইফুল প্রায় ১১ লাখ টাকা ঋণে জর্জরিত ছিলেন এবং বসতবাড়ির ৪ শতক জমিও বিক্রি করেছেন। এ ছাড়াও, তার পরিবারে কলহ চলছিল। হতাশার কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
৩৪৭ দিন আগে
মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার: ৭ আসামি কারাগারে, একজনের জবানবন্দি
কুমিল্লার মুরাদনগরের একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আট আসামির মধ্যে ৭ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পাশাপাশি মামলার এজাহারের ৩ নম্বর আসামি বাচ্চু মিয়া মেম্বার আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তার বক্তব্য রেকর্ডের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়।রবিবার (৬ জুলাই) বিকালে চাঞ্চল্যকর তিন খুনের ঘটনায় ঢাকায় র্যাবের হাতে আটক ৬ জনকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামি ৬ জন হলেন—বাচ্চু মিয়া, রবিউল আওয়াল, আতিকুর রহমান, বায়েজ মাস্টার, দুলাল ও আকাশ।
৫ নং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিদ্দিক আজাদ এসব আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের সব প্রস্তুতি আছে, মব মোকাবিলায় সচেষ্ট সরকার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এর আগে শনিবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর হাতে আটক ২ আসামি— নাজিমুদ্দিন বাবুল ও ছবির আহমেদকে পুলিশের মাধ্যমে আদালতে হাজির করা হলে আমলি আদালত ১১ এর বিচারক মমিনুল হক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ৪ জুলাই বাঙ্গরাবাজার থানা এলাকার কড়ইবাড়িতে মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে নিজ বাড়ির সামনে রোখসানা বেগম রুবি, তার মেয়ে জোনাকি আক্তার ও ছেলে রাসেল মিয়াকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।এই ঘটনায় রুবির মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত এই মামলায় সেনাবাহিনী ও র্যাব মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে।
কুমিল্লার আদালত পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বলেন, এ মামলায় মোট আটজনকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় দুজনকে এবং রবিবার বিকেলে ছয়জনকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে মামলার তিন নম্বর আসামি বাচ্চু মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।
৩৪৮ দিন আগে
মব সন্ত্রাস জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি: অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘মব সন্ত্রাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি।’
শনিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর এফডিসিতে ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আওয়ামী শাসনামলে তথাকথিত সুশীল সমাজ স্বৈরাচারের পদলেহন করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
আরও পড়ুন: মব জাস্টিস এখন মানবতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: তারেক রহমান
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি নামে বিতার্কিকদের একটি সংগঠন এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দলকে হারিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক দল বিজয়ী হয়।
৩৪৯ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ‘কটূক্তি’ করা সেই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
কুষ্টিয়ায় জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিমূলক ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ফারজুল ইসলাম রনি নামে ট্রাফিক পুলিশের সেই সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (৫ জুলাই) কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকালের দিকে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জুলাই বিপ্লবকে অবমাননা করে পোস্ট করেন কুষ্টিয়া ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ফারজুল ইসলাম রনি। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে ছাত্রসমাজ। এরপর তাকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল এবং কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনার পর গতরাতেই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আরও পড়ুন: ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় থাইপ্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত
তিনি বলেন, ‘ওই পুলিশ সদস্য ছুটিতে গিয়ে এই পোস্ট করেন। তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এরপর তিনি আর কাজে ফেরেননি; আত্মগোপনে রয়েছেন।’
কুষ্টিয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক শেখ শাহাদাত আলী বলেন, ‘ফারজুল ইসলাম রনি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার দহকুলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই থেকে কুষ্টিয়া ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। ছুটিতে গিয়ে ফেসবুকে ওই পোস্ট দেন তিনি।’
৩৪৯ দিন আগে
মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার: অবশেষে মামলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ২
কুমিল্লার মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। মামলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লালসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতে নিহত রুবি বেগমের মেয়ে রিক্তা আক্তার মামলাটি করেন।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে আকবপুর এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন— সবির আহমেদ ও নাজিমউদ্দীন বাবুল।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে কড়ইবাড়ি গ্রামে মোবাইল চুরির সন্দেহে খলিলুর রহমানের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া কিছু বলতে নারাজ পুলিশ।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জের সাবেক এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয় গ্রেপ্তার
আটক দুজনকে সেনা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেছেন, আটক দুজনকে আজই কুমিল্লা আদালতে তোলা হবে।
এদিকে, শুক্রবার রাতে পুলিশের তত্ত্বাবধায়নে কয়েকজন মাদরাসা শিক্ষার্থীকে দিয়ে নিহতদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।
৩৪৯ দিন আগে
নূর ও রাশেদের বিরুদ্ধে জাপার মামলা গ্রহণের নির্দেশ আদালতের
বরিশালে জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর-রাশেদসহ দলটির শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার(৩ জুলাই) আদালত মামলাটি এজাহারভুক্ত করতে বরিশাল কোতোয়ারি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, জাপার বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মামলার আইনজীবী আব্দুল জলিল।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূরকে। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, বরিশাল জেলা সভাপতি এইচএম শামীম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হাসান, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা ৭০-৮০ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আব্দুল জলিল জানান, ৩১ মে রাতে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে জাপার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পর তারা থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে আদালতে অভিযোগ জানানো হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অভিযোগপত্র থানায় পাঠানো হয়েছে। ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) ডলি আদালতের আদেশ গ্রহণ করেছেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘জাপার মামলা-সংক্রান্ত আদালতের কোনো কাগজপত্র এখনো হাতে পাইনি। তবে ডিউটি অফিসার যদি গ্রহণ করে থাকেন, তা হলে যথাসময়ে আমরা তা হাতে পাব।’
গণঅধিকার পরিষদ বরিশাল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘জাপার অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় আদালতে মামলা করার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে এমন কিছু হয়ে থাকলে আইনগতভাবেই তা মোকাবিলা করা হবে।’
গত ৩১ মে বিকালে বরিশাল নগরীতে জাপার একটি মিছিলে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। এসময় জাপার পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিরোধে গণঅধিকারের কর্মীদের মারধর করা হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে গণঅধিকার পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জোটবদ্ধ হয়ে জাপা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই ঘটনার জবাবে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা জাপা চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও করেন।
৩৫০ দিন আগে
বড় ভাইয়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে মুরাদনগরের সেই ঘটনার ভিডিও ছড়ানো হয়: র্যাব
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে ছিল দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব। ওই নারীকে নিয়েই পূর্বশত্রুতার জেরে বড় ভাই ফজর আলীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে ওই ঘটনা ঘটান ছোট ভাই শাহ পরান (২৮)।
শুক্রবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) কুমিল্লার বুড়িচং থানার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১ এর একটি দল। সে সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহ পরান গত ২৬ জুন সংঘটিত এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। বড় ভাই ফজর আলীর হাতে আগে প্রকাশ্যে অপমানিত হওয়ায় প্রতিশোধ নিতে একটি মব গঠন করে এই নারকীয় ঘটনা ঘটান তিনি। পরে সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় বসতঘরের দরজা ভেঙে নারীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৫
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, বেশ কিছুদিন ধরে ওই নারীকে উত্যক্ত করে আসছিলেন ফজর আলী ও শাহ পরান। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে কয়েক মাস আগে গ্রাম্য সালিশে জনসম্মুখে শাহ পরানকে চড়-থাপ্পড় মারেন ফজর আলী। সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে সুযোগ খুঁজতে থাকেন শাহ পরান।
ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফজর আলী ৫০ হাজার টাকা সুদের লেনদেনের অজুহাতে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। টের পেয়ে ইমো অ্যাপে মেসেজ দিয়ে অন্যদের ডেকে আনেন শাহ পরান। এর প্রায় ২০ মিনিট পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাহ পরান ও তার সঙ্গে থাকা আবুল কালাম, অনিক, আরিফ, সুমন, রমজান এবং আরও আট থেকে দশজন অজ্ঞাত সহযোগী ওই ঘরে হানা দেন। তারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ফজর আলীকে মারধর করেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে ফজর আলীকেও তারা এই কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করেন। এরপর নৃশংস ওইসব দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে পুলিশ ও র্যাব মিলে এ পর্যন্ত অভিযুক্ত ফজর আলীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ধর্ষণ শিকার নারীর ভিডিও সামাজিকমাধ্যম থেকে সরাতে নির্দেশ
এরপর গত ২৯ জুন মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে ভুক্তভোগীর পরিবার।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন অভিযুক্তরা। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, শাহ পরান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায় স্বীকার করেছে। তাকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩৫০ দিন আগে