নিজ অফিস কক্ষে খুন হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি যাদের এজাহারভুক্ত আসামি করেছি, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই। তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে বলেন—প্রমাণ করার দায়িত্ব নাকি আমার! প্রমাণ করতে হবে আমাকে! ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বলেন—প্রমাণ করেন আপনারা।’
আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এই অভিযোগ করেন। নিহতের চার সন্তান, পরিবার ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, এই হত্যার বিষয়ে সেখানকার শিক্ষার্থীদের বক্তব্য আমি ওসিকে দেখাতে গিয়েছিলাম। উনি (ওসি) বলেন এটা আপনিই দেখেন। কত দেখতে পারবেন ইউটিউবে! এতে আমার দেখার কাজ নেই।
ওসিকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, ছিঃ ছিঃ! লজ্জার কথা। এই ওসি তদন্ত করে বিচার করবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না।
নিহতের স্বামী আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী সাদিয়ার সঙ্গে তার সহকর্মী শ্যামসুন্দর সরকার, বিশ্বজিৎ কুমার ও হাবিবুর রহমান একটি দিনের জন্যেও ভালো ব্যবহার করেননি। তারা যদি প্রমাণ করতে পারেন, একটি দিন তারা ভালো ব্যবহার করেছেন, কাজে সহযোগিতা করেছেন, তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেব।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অস্বচ্ছতার দিকে ইঙ্গিত করে ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সরকার লাখ লাখ টাকা তছরূপ করেছেন। প্রশাসন বারবার চিঠি দিয়েছে, একটিবার তার হিসাব দেননি। কই প্রশাসন তো কিছু বলেনি? বিশ্বজিতের (মামলার ২ নম্বর আসামি) মতো একজন কর্মকর্তা সাদিয়াকে বলেছিলেন—আমরা যেভাবে বলব, সেখানে সাক্ষর করবেন। কতটা ক্ষমতাবান হলে তারা এভাবে বলতে পারেন?
মানববন্ধনে অংশ নেয় নিহতের চার শিশু সন্তান। তাদের বয়স দেড় থেকে ৯ বছরের মধ্যে। সবচেয়ে বড় কন্যা ইফফাত তায়েবা বলেন, আমার মাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার খুনিদেরও যেন সেভাবে হত্যা করা হয়। মাকে ছাড়া আমার ছোট ভাইবোনগুলো সারা রাত ঘুমায় না। মা আমাদের কত আদর করে ঘুম পাড়াতো! আমরা এখন মাকে কোথায় পাব?
নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিট্যাকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক। মানববন্ধনে আসা তার সহকর্মীরা বলেন, এই মানববন্ধন আমাদের করার কথা নয়। এটা করা উচিত ছিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের, কিন্তু একজন শিক্ষকও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাননি। এটা বড় লজ্জার কথা। একজন সামান্য কর্মচারীর হাতে শিক্ষক খুন হলো নিজের অফিস কক্ষে, অথচ তার কোনো সহকর্মী এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাননি। এটা বড় লজ্জার কথা।
সমাজকল্যাণ বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন, এখন থেকে সাত মাস আগে ক্যাম্পাসে খুন হলেন শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ। সেই খুনের রহস্য এখনও উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই ম্যামকে খুন করা হলো। এই ক্যাম্পাস আর কারো জন্যই নিরাপদ নয়।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ (বুধবার) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষিকা আসমা সাদিয়ার কক্ষে ফজলুর রহমান নামের এক কর্মচারী তাকে হত্যা করেন। পরে ওই ব্যক্তি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।