দেশে খাদ্যশস্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
আজ (বৃহস্পতিবার) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত ১৩ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে স্বাভাবিক সময়ে ১৪ লাখ টন এবং দুর্যোগকালীন সময়ে ১৫ লাখ টন নির্ধারণ করা হবে।
খাদ্যশস্যের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিসর সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও বলা হয়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৫ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারকে প্রতি কেজি ১৫ টাকা মূল্যে মাসে ৩০ কেজি করে ৬ মাসে মোট ৯ লাখ ৯০ হাজার টন চাল বিতরণ করা হবে।
একই কর্মসূচির আওতায় অপুষ্টি নিরসন ও জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারে দেশের ৩০০টি উপজেলায় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ পুষ্টিচাল (ফর্টিফায়েড রাইস) বিতরণ করা হবে।
সভায় জানানো হয়, গত পাঁচ অর্থবছরে সরকারি খাতে গড়ে ৩২ লাখ ৩২ হাজার টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ লাখ ৮ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি খাদ্যশস্যের চাহিদা বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা মজুতও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি পরিস্থিতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্নের সময় দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে বলে সভায় আশ্বাস দেওয়া হয়।
এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বর্তমান খাদ্যশস্য মজুত সক্ষমতা ৩০ লাখ টন বাড়ানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
সভায় খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।