গাইবান্ধা, নওগাঁ ও ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দিনে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের দাড়াপাড়া গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজন নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার।
নিহতরা হলেন: হরিরামপুর পাথারেপাড়া গ্রামের আইবুদ্দির ছেলে মওলা (৩৫) এবং দাড়াপাড়া গ্রামের বছির উদ্দীনের ছেলে আজিমুদ্দীন (৬০)।
স্থানীয়রা জানান, সকালে দাড়াপাড়া এলাকায় একটি নারকেল গাছ কাটার সময় সেটি বিদ্যুতের সঞ্চালণ লাইনের ওপর পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। পরে গাছটি সরানোর চেষ্টাকালে মওলা ও আজিমুদ্দীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই মওলা নিহত হন। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় আজিমুদ্দীনকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
এদিকে, আজ দুপুরে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় কাতকইল গ্রামের বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন: কাতকইল (বিলপাড়া) গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে মাহাবুর হোসেন এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল আজিজ।
নিহত আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী বড় ভাই তোফায়েল আহমেদ জানান, সকালে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তারা। এরপর পানি শুকিয়ে সকাল ১০টার দিকে মাছ ধরে তারা বাড়িতে ফেরেন। পরে দুপুর ১টার দিকে আবারও তারা বিলে মাছ ধরার জন্য যান। সেখানে তারা আগে থেকে বৈদ্যুতিক মোটর চালু করে রেখে এসেছিলেন। এরমধ্যে কোনো একসময় মোটরের তারে লিকেজ হয়ে বিদ্যুৎ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পরবর্তী সময়ে পানিতে নামতেই প্রথমে মাহাবুর হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যান। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আব্দুল আজিজও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আজ দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাইপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন: জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তাড়াইল এলাকার রতন মিয়ার ছেলে জিসান (১৮) এবং ত্রিশাল উপজেলার বিরামপুর ভাটিপাড়া এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২২)।
ঘটনাস্থলে কর্মরত ঠিকাদার হাসান জানান, ‘একটি চারতলা ভবনের ছাদে রডের কাজ শেষ হওয়ার পর কিছু রড নিচে নামানোর প্রয়োজন হয়। শ্রমিকরা সিঁড়ি ব্যবহার না করে ছাদের পাশ দিয়ে রড নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় লম্বা একটি রড ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে চলে আসে। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদে থাকা দুই শ্রমিক নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।’
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আহত দুইজনকে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। মরদেহ পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের কাছে জানতে পারি, ভবনের নির্মাণকাজ করার সময় বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে তারা নিচে পড়ে যান।’
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।