নিহত
ময়মনসিংহে পিকআপ-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত
ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা বাবা ও ছেলে ছিলেন।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর অঞ্চলিক সড়কের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আলালপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফুলপুর উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর (৩৮) ও তার চার বছরের ছেলে রোহান। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। তারা ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি ফুলপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ময়মনসিংহ-ফুলপুর সড়কের আলালপুর নামক এলাকায় পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা ও ব্যক্তি ও তার ছেলে নিহত হন।
এসআই ফরিদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছি। সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১ ঘণ্টা আগে
ঈদের দিন সুদানের গ্রামে চালানো হামলায় নিহত ২৭
সুদানের উত্তর কর্ডোফান অঞ্চলে একটি গ্রামে ঈদুল আজহার সময় চালানো হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দেশটির চিকিৎসকদের সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক । এ হামলার জন্য আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) বাহিনীকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক অভিযোগ করে, আধাসামরিক আরএসএফ বাহিনী বৃহস্পতিবার নর্থ কর্ডোফানের বারাহ শহরের পশ্চিমে অবস্থিত আল-মুররাহ এলাকার কয়েকটি গ্রামে হামলা চারিয়েছে। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে হামলা চালানো হয় ।
সংগঠনটি জানায়, সামপ্রতিক যুদ্ধের কারণে সুদানে সাধারণ মানুষ যে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই হামলা চলমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত চলে আসছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এই দুই বাহিনীর মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে কর্ডোফান অঞ্চল সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ফ্রন্টে তাদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা বর্তমানে পশ্চিম দারফুর অঞ্চল এবং দক্ষিণ সুদানের সীমান্তঘেঁষা কর্ডোফান অঞ্চলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই দুই অঞ্চলই তেলক্ষেত্র ও স্বর্ণখনিতে সমৃদ্ধ। এছাড়া বারাহ শহর নিয়েও আরএসএফের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক তাদের বিবৃতিতে জানায়, গ্রাম ও বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা এবং এভাবে নাগরিকদের হত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ সুদানের সাউথ কর্ডোফানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট নর্থ বাহিনী এবং ওতোরো গোত্রের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে ৬১ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ টি শিশুও ছিল।
এছাড়া গত সপ্তাহে মধ্য দেশটির একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় ২৮ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও কয়েক ডজন মানুষ।
সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, সেই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ।
যুদ্ধের ফলে দেশটির বহু এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সুদানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
২০ ঘণ্টা আগে
মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে সংঘর্ষে ঝিনাইদহে একজন নিহত
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো ও সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে দেলোয়ার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের বরইতলা মাঠের মধ্যে একটি শরবত ও চায়ের দোকানের পাশে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানান হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার।
পাখিমারা গ্রামের লাল্টু এবং হরিশপুর গ্রামের শুভর মধ্যে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো ও সাইড দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি উভয় পক্ষের গ্রামবাসী জানতে পারলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা করে। এতে হরিশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, শুভ ও আবু তালেব আহত হন। আহতদের কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দেলোয়ার হোসেন মারা যান।
পুলিশ জানায়, পাখিমারা গ্রামের লাল্টু, মশা ফকির, মাহাবুব ও বাদশার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে হরিশপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় হরিশপুর গ্রামের খয়বর মন্ডলের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের গলায় মারাত্মক আঘাত লেগে ছিদ্র হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) ভোরে দেলোয়ার মৃত্যুবরণ করেন।
ওসি অসিত কুমার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। এখনও থানায় কোনো মামলা হয়নি। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
১ দিন আগে
ইরাকে নিহত প্রবাসী শ্রাবনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
ইরাকে নিহত বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা মোহাম্মদ শ্রাবনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ইসলাম ওবায়েদ।
শুক্রবার (২৯ মে) ভোর পৌনে ৫টায় মরদেহ বহনকারী তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করলে সরকারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তা গ্রহণ করা হয়।
নিহত মোহাম্মদ শ্রাবন মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ নলি মিয়ার ছেলে। জীবিকার সন্ধানে প্রায় ১০ বছর আগে তিনি ইরাকের বাগদাদে যান।
সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চলাকালীন বাগদাদে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি নিহত হন। তার এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাগদাদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সরকারি প্রক্রিয়ায় তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। গত ২৭ মে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে বাগদাদ বিমানবন্দর থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি পাঠানো হয়। পরে তুরস্কে ২৯ ঘণ্টার ট্রানজিট শেষে ফ্লাইটটি আজ (শুক্রবার) সকালে ঢাকায় পৌঁছায়।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতের বাবা, স্ত্রী ও কন্যার কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মরদেহ পরিবহন ও দাফন-কাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকাসহ প্রাপ্য অন্যান্য আর্থিক সহায়তা পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ২৫ মে বাগদাদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) পারভেজ আলম চৌধুরী দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে মোহাম্মদ শ্রাবনের মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
১ দিন আগে
গাজীপুরে ট্রান্সমিটারের তার ছিঁড়ে নিহত এক, দগ্ধ ৩
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ট্রান্সমিটারের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছে। এতে আরও ৩ জন দগ্ধ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে ) সকালে কোনাবাড়ীর পারিজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিউল ইসলাম (১৭) রাজশাহী জেলার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে ছিল। সে ওই বিদ্যালয়-সংলগ্ন সেলিম মিয়ার বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করত।
দগ্ধ তিনজন হলেন— কোনাবাড়ী থানাধীন পারিজাত এলাকার মো. সোহান এর ছেলে তালহা (১০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৫৬)। তিনি বর্তমানে পারিজাত এলাকার গাউছুল আজম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরজন কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানাধীন সড়কঘাটা গ্রামের জামরুল ইসলামের ছেলে মো, নিরব (১০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের নামাজ শেষে ওই বিদ্যালয়-সংলগ্ন কাকলি নিবাসের সামনে হঠাৎ বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারে ত্রুটি দেখা দেয়। একপর্যায়ে ট্রান্সমিটারের তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। এ সময় তারের সংস্পর্শে এসে রবিউল ইসলাম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ঘটনাস্থলেই তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায় এবং মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরও তিনজন ঝলসে গেছে। আহতদের প্রথমে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। অপর একজন বর্তমানে তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জানিয়ে কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
১ দিন আগে
কেনিয়ায় গার্লস স্কুলের হোস্টেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৬ শিক্ষার্থী নিহত
কেনিয়ায় মেয়েদের একটি আবাসিক স্কুলের ডরমিটরিতে (হোস্টেল) রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এতে আরও ৭৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে কেনিয়ার গিলগিল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির শিক্ষা মন্ত্রী জুলিয়াস ওগামবা জানান, গিলগিল এলাকার উতুমিশি নামের মেয়েদের স্কুলটিতে আগুন লাগার ঘটনায় ৭৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। স্কুলটিতে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।
তিনি বলেন, এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নির্ণয় করা যায়নি। স্কুলটির অগ্নি নিরাপত্তা নির্দেশিকা যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে দেশটির পুলিশ জানিযেছে, তারা স্কুলটিতে উদ্ধার অভিযান এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উতুমিশি স্কুলটি রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
কেনিয়ার সরকারি এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কেনিয়া পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয়। এখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা অনেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্তান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্যক্তি ওয়ামবুই নদেরিতু বলেন, সে সময় ডরমিটরির তত্ত্বাবধায়ক দুটি দরজার মধ্যে একটি দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তবে তখন তিনি শিশুদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য আগে থেকে কোনো সতর্ক সংকেত দেননি।
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় দরজাটি বন্ধই ছিল। আমার চাচাতো বোন সেখান থেকে পায়ে আঘাত পেয়ে জীবন নিয়ে কোনোভাবে বের হতে পেরেছে। পরে আমাদের জানানো হয়েছে, সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং অনেক শিশু আহত হয়েছে।’
কেনিয়া রেড ক্রস জানায়, স্কুলটির আহত শিক্ষার্থীদেরউদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিযেছে, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সহায়তা দিতে তারা মানসিক সহায়তা দল নিয়োজিত করেছে।
কেনিয়ায় স্কুল অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২০০১ সালে। তখন মাচাকোস কাউন্টির একটি ডরমিটরি অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালে মধ্য কেনিয়ার একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন শিক্ষার্থী পুড়ে মারা যায়। পরে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।
এর আগে, ২০১৭ সালে নাইরোবির একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওই ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
১ দিন আগে
গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ জন নিহত
গোপালগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সৃষ্ট দু্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা খুলনা মহাসড়কে শহরতলীর বেদগ্রামে এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস শহরের বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসটি গতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বাসটি রাস্তার ওপর উল্টে যায় এবং সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এর ফলে মোটরসাইলের দুই আরোহীসহ ৪ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতাল থেকে ১২ বছরের আরও একটি শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
প্রাথমিকভাবে হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে নিহতদের মধ্য একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী, একটি শিশু এবং ৩ জন পুরুষ রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ জামান ও পুলিশ সুপার হাবীবুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় নছিমনের ধাক্কায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা নিহত
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইঞ্জিনচালিত নছিমনের ধাক্কায় টিক্কা মোল্লা (৫৬) নামে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জিলাপীতলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত টিক্কা মোল্লা খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খোকসার দিক থেকে আসা একটি নছিমন কুমারখালীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ঝালমুড়ির মালামালবোঝাই ভ্যান নিয়ে টিক্কা মোল্লা সড়ক পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ বেপরোয়া গতিতে আসা নছিমনটি ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ভ্যানসহ সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কের উত্তর পাশে গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল টিক্কা মোল্লার মরদেহ। পাশে পড়ে ছিল ঝালমুড়িসহ দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ভ্যানটি।
প্রত্যক্ষদর্শী আশকার হোসেন বলেন, ঝালমুড়ি বিক্রেতা টিক্কা মোল্লা সড়কের দক্ষিণ পাশ থেকে উত্তর দিকে আসছিলেন। এ সময় হঠাৎ বেপরোয়া গতিতে একটি গরুবোঝাই নছিমন এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ভ্যানসহ সড়কে ছিটকে পড়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কলেজছাত্র ইরফান রানা বলেন, জিলাপীতলা মোড়ে বাজার আছে। তবুও সড়কে স্পিডব্রেকার নেই। আবার নছিমনটির গতিও ছিল অতিরিক্ত। অতিরিক্ত গতি আর স্পিডব্রেকার না থাকায় আজ ঝালমুড়ি বিক্রেতার প্রাণ গেল।
নিহতের স্বজন মিন্টু হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতো দুপুর ২টার দিকে ঝালমুড়ি বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আমার দুলাভাই। পরে দুর্ঘটনার খবর শুনে এসে দেখি রাস্তার ধারে তার মরদেহ পড়ে আছে; ভ্যানটিও ভেঙে গেছে। তার পরিবারে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান আছে বলে জানান তিনি।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, নছিমনের ধাক্কায় একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা ঘাতক নছিমনটি আটক করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণ গেল জেলের, আহত ২
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় ঘোড়াউত্রা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় সাইদুর রহমান (৩০) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। এ সময় তার দুই ভাইকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।
বুধবার (২৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার মুশুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইদুর রহমান উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের ধলাই এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে। আহত দুই ভাই হলেন আনিছুর রহমান (২৭) ও আতাউর রহমান (২৫)।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে তারা তিন ভাই ঘোড়াউত্রা নদীতে রিংজাল (চায়না দুয়ারি) দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র বল্লম ও দা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে আনিছুর ও আতাউরকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে সাইদুর রহমানকে নদীর পানিতে ফেলে বল্লম দিয়ে আঘাত করে।
একপর্যায়ে সাইদুর পানিতে ডুবে গেলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন ভাইকে উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইদুরকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ-আল-শাফী জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাইদুরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে বিষয়টি থানায় অবহিত করা হয়।
এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, আমরা খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলছে।
২ দিন আগে
বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে নিহত
বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের শাজাহানপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলআরোহী এক ব্যক্তি ও তার চার বছরের মেয়ে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী।
সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহাসড়কের শাজাহানপুরের বনানী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একটি মোটরসাইকেল পর্যটন মোটেলের বিপরীত পাশে বনানী এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি অজ্ঞাত গাড়ি মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলআরোহী মো. আনিসুর রহমান (৩৫) ও তার চার বছরের মেয়ে আয়েশা নিহত হন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আনিসুর রহমানের স্ত্রী মোছাম্মত পুষ্পা আক্তার। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত পুষ্পা আক্তারের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহত আনিসুর রহমান পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মো. এরশাদ আলীর ছেলে ছিলেন।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিক ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাইওয়ে পুলিশ শেরপুর দুর্ঘটনার বিষয়টি তদারকি করছে। ঘাতক গাড়ি ও চালককে শনাক্তে কাজ চলছে।
৪ দিন আগে