বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পানি শোধন প্রকল্পের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষায়িত ক্লাইমেট ফাইন্যান্স (জলবায়ু অর্থায়ন) প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ড।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জাতীয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ যখন কাজ করছে, তখন ব্যাংকযোগ্য (ব্যাংক ফাইন্যান্সের উপযোগী) সবুজ অবকাঠামো প্রকল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি ও বেসরকারি মূলধনের সমন্বয় এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রকল্প মূল্যায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
প্রাথমিকভাবে তিনটি খাতে বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো হলো—নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পানি শোধন।
· নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থানীয় পর্যায়ের সৌর ও বায়ুশক্তি এবং বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অর্থায়ন করা হবে, যাতে আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
· জ্বালানি দক্ষতা খাতে বস্ত্রশিল্পসহ উচ্চ জ্বালানি-নির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে জ্বালানির অপচয় কমানো এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
· পানি শোধন খাতে জলবায়ু সহনশীল পানি বিশুদ্ধকরণ ও শোধন অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এডগার কেয়ার্কভাইক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান ও কার্যকর পরিবর্তন আনা। প্রাতিষ্ঠানিক ও বেসরকারি মূলধনকে টেকসই ও ব্যাংকযোগ্য প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় জলবায়ু ও অবকাঠামোগত অগ্রাধিকারের বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’
তিনি জানান, প্ল্যাটফর্মটিতে একটি বিশেষ পোর্টাল রয়েছে, যেখানে প্রকল্প উদ্যোক্তারা প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে, বিনিয়োগ নির্দেশিকা পর্যালোচনা করতে, প্রকল্প মূল্যায়নের মানদণ্ড জানতে এবং তহবিলের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন কাঠামো সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।
সহ-প্রতিষ্ঠাতা থেও ওয়েস্টগেস্ট বলেন, টেকসই অবকাঠামো বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং কার্যকর মূলধন বরাদ্দের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ খান বলেন, ‘এই কাঠামোর মাধ্যমে আমরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য বাংলাদেশের নিম্ন-কার্বন ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগের একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করছি। উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে বাংলাদেশের এমন অর্থায়ন কাঠামো প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্ম নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পানি শোধন খাতে ব্যাংকযোগ্য স্থানীয় প্রকল্পের সঙ্গে বেসরকারি অর্থায়নের সংযোগ তৈরি করে সবুজ অর্থায়নের ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে এবং আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত আমদানি করা জ্বালানির ওপর বাড়তি নির্ভরতা, দেশীয় গ্যাসের মজুত কমে যাওয়া এবং শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় অনেক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পানি শোধন প্রকল্প উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয়, জমির স্বল্পতা এবং বিশেষায়িত ঋণ সুবিধার অভাবে বাস্তবায়নের পথে বাধার মুখে পড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ড প্রাথমিক পর্যায়ের প্রকল্প সহায়তা, ঝুঁকি প্রশমন এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রকল্প বাজারে আনার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
আগ্রহী প্রকল্প উদ্যোক্তা, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তহবিলের অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে বিনিয়োগ নির্দেশিকা পর্যালোচনা বা অর্থায়ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।