মাছের খাদ্য উৎপাদনে সরকারি গাইডলাইন (দিকনির্দেশনা) মেনে চলতে উৎপাদনকারীদের দুই মাস সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। মৎস্যখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বাজারে থাকা পণ্য পরিদর্শন ও পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এবারে মৎস্যপক্ষের মূল প্রচারণা ‘নিরাপদ মাছ উৎপাদন করতে হবে’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যেই আমাদের যে সমস্ত ফিড (প্রাণিখাদ্য) উৎপাদনকারীরা আছেন, তাদের জন্য সরকারের একটা গাইডলাইন আছে। ওই গাইডলাইন অনুযায়ী তাদের ফিড উৎপাদন করতে হবে।
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এরই মধ্যে তাদের সঙ্গে সচিবালয়ে সভা করেছি। তাদের আমাদের সরকারের গাইডলাইন অনুযায়ী মাছের খাদ্য উৎপাদন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। সভায় গাইডলাইনের বাইরেও কিছু বিষয়ে কথা হয়েছে তাদের সঙ্গে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দেখেছি এবং তাদের ঠিক দুই মাস সময় দিয়েছি। খাদ্য উৎপাদনে সরকারি নির্দেশনার বাইরে যেসব সমস্যা রয়েছে তা দুই মাসের ভেতরে ঠিক করার জন্য আদেশ দিয়েছি। তাদের বলেছি, সরকারি গাইডলাইনের বাইরে কোনো অবস্থাতে খাদ্য উৎপাদন করতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, আমরা খাদ্য উৎপাদন মিলগুলো পরিদর্শন করব। মাঠ পর্যায়ে তাদের যে পণ্য আছে, বিক্রয়কেন্দ্রে তা আমরা পরীক্ষা করতে যাব।
নির্ধারিত দুই মাস সময়সীমার মধ্যে আরও দেড় মাস আছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আমিন উর রশিদ বলেন, আমরা ফুডের (প্রাণী খাদ্য) ব্যাপারে, বিশেষ করে মৎস্য খাদ্য, মুরগির খাদ্য, হাঁসের খাদ্য, গোখাদ্য, ছাগলের খাদ্য, এমনকি সবজির গুণগত ফুডের প্রশ্নে প্রচণ্ডভাবে অবগত। এটাই আমাদের এই সরকারের একটা প্রধান গুরুত্ব।
তিনি বলেন, যতটুকু খাদ্য উৎপাদন করা হয়, সেটা যেন সত্যিকারের অর্থে মানুষের কল্যাণে আসে—এ ব্যাপারে আমরা খুব সচেতন, এই সরকার প্রচণ্ড সচেতন।
হাঁস-মুরগির খামারের নিচে মাছ চাষ নিরুৎসাহিত করা হবে
হাঁস-মুরগির খামারের নিচে মাছ চাষের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ঐকমত্য পোষণ করে বলেন, মুরগি বা হাঁসের খামার এবং নিচে মাছের চাষ—এটা বৈজ্ঞানিক নয়। সরকারিভাবে এটাকে আমরা কখনও উৎসাহিত করিনি। কিছু লোক হয়তো স্ব-উদ্যোগে এ ধরনের কাজ করেছে, আমাদেরও নজরে পড়েছে। তবে এটার সংখ্যা যে খুব বেশি তা নয়।
যারা এ ধরনের প্রকল্প করছে, তাদের নিরুৎসাহিত করা সরকারের পরিকল্পনা আছে। এরই মধ্যে এ পদ্ধতির ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী।