সরকার
বর্ষায় সড়কের ভাঙন রোধে ‘রাবারাইজড’ বিটুমিন ব্যবহারের পরিকল্পনায় সরকার
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সড়ক নষ্ট হওয়া ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে দেশের ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন বা পলিমার মডিফাইড বিটুমিন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেবে মালয়েশিয়া।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাবারাইজড বিটুমিন সাধারণত সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। মালয়েশিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও তাদের কার্পেটিং করা সড়ক সহজে নষ্ট হয় না। কারণ, তারা বিটুমিনের সঙ্গে রাবার ব্যবহার করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সড়ক নষ্ট হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাই পর্যায়ক্রমে দেশের ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বর্ষা মৌসুমে যাতে রাস্তাগুলো বৃষ্টির সময় নষ্ট হয়ে না যায়, সে কারণে আমরা প্রযুক্তিটা পর্যায়ক্রমে শুরু করব। প্রযুক্তিটা আমাদের কাছে সহজলভ্য না হওয়ায় মালয়েশিয়া আমাদের কারিগরি সহায়তা দেবে।
রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের প্রযুক্তি বাংলাদেশে নতুন নয় জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৫ সালে যখন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন, তখন বগুড়া সদরের নির্বাচনি এলাকায় আমরা মালয়েশিয়া থেকে এই পলিমার মডিফাইড বিটুমিন অর্থাৎ রাবারাইজড বিটুমিন নিয়ে এসে দুই কিলোমিটার রাস্তা পাইলটিং করেছিলাম। ওই সময় বর্তমান স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব সচিব শহীদুল হাসান এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। পরীক্ষামূলকভাবে নির্মাণ করা ওই সড়ক এখনও ভালো আছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যে গ্রামীণ রাস্তাগুলো আমরা মেরামত করব, রক্ষণাবেক্ষণ করব বা নতুন রাস্তা তৈরি হবে তখন সেগুলোতে রাবারাইজড কার্পেটিং বিটুমিন দ্বারা কার্পেটিংয়ের জন্য আমরা এগিয়ে যাব।
বৈঠকে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান বা ইভি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এছাড়া সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বিনিয়োগ করবে দেশটি। পাশাপাশি হালাল খাদ্য খাতেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
৬ দিন আগে
৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে।
এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ে জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের তদারকি ও সমন্বয়ের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী ইকবাল হাসান মাহমুদ রাজশাহী ও নাটোর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা এবং আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এবং জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এবং সাচিং প্রুকে কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মো. শরিফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী, শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব।
মো. রাজীব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর, মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম এবং ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল এবং ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি, মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ এবং আলহাজ্ব মো. জি কে গউস সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মিঞা নুরুদ্দিন আহম্মেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)-কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও উন্নত রাখতে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
এছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেবেন তারা। প্রয়োজনবোধে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিদ্যমান ক্ষমতা এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনায় সরকার
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শিল্প অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং মান্দারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে চীনের গুয়াংডংয়ে ‘কারিগরি শিক্ষা সেতুবন্ধন ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-বাণিজ্য মেধা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।
কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প ও শিক্ষার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের মূল অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখতে মান্দারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষক সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বসহ দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা বিনিময় জোরদার করা উভয় দেশের সংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তার মতে, এ ধরনের সহযোগিতা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আরও টেকসই ও পারস্পরিক সুবিধাজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বকে টেকসই করতে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলা অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সীমান্তপারের ই-কমার্স, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি ও আধুনিক লজিস্টিকসে পারদর্শী মানবসম্পদ তৈরি করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
চীনের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এমন যুগোপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা হবে, যারা সরাসরি বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে জানান তিনি।
এ লক্ষ্যে উভয় দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, নিয়মিত ফ্যাকাল্টি সহযোগিতা ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চীনের আধুনিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে বৃত্তি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়ানোও সরকারের অন্যতম পরিকল্পনা বলে জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, চীনের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আধুনিক শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার আলোকে কারিগরি পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাস, আন্তর্জাতিক মানের কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন এবং যৌথ সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
পাশাপাশি চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারদের সঙ্গে বাংলাদেশের পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চীনা শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে দুই দেশের মধ্যে আধুনিক কর্মসংস্থান বিনিময় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরপরই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চীনা শিল্পাঞ্চলগুলোতে ইন্টার্নশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
৯ দিন আগে
২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের
চালক ও পথচারীদের সচেতন করার পাশাপাশি কার্যকর আইন প্রয়োগ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় সড়ক দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবা ও হাইওয়ে টহল কার্যক্রমের জন্য ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স এবং ৮০টি হাইওয়ে প্যাট্রোল মোটরসাইকেল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি রোধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সড়ক নিরাপত্তায় নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত নতুন নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি মহাসড়ক-সংলগ্ন বাজার স্থানান্তর, আঞ্চলিক সড়কের সংযোগস্থলে প্রয়োজনীয় ডাইভারশন নির্মাণ এবং সড়কে স্পষ্ট মার্কিং ও সাইনেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
১২ দিন আগে
ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ করছে সরকার: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার বা তার জোটের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়েই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, গুম, খুন ও নজিরবিহীন দুর্নীতির এক চরম বিধ্বস্ত অবস্থার মধ্যে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।
বিগত সরকারের সময় দেশের সার্বিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চারদিকে ছিল অরাজকতা-নৈরাজ্যের এক ধূসর পরিবেশ। কে কখন গুম হয়ে যাবে, কে কখন অদৃশ্য হয়ে যাবে, তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না। বিচারবহির্ভূত হত্যা লেগেই ছিল এবং প্রত্যেকটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তিনি আরও বলেন, কেউ খালের ধারে, কেউ নদীর ধারে, কেউ পুকুরের ধারে—প্রতিদিন একটার পর একটা মরদেহ পাওয়া যেত। সে মরদেহ উপজেলা চেয়ারম্যানের হতে পারে, সাবেক এমপির হতে পারে, কোনো ছাত্রনেতার হতে পারে কিংবা কোনো যুবনেতার হতে পারে। যারা গত সরকারের রাজনৈতিক মতামতের ভিন্নমত পোষণ করত, তাদের ওপরও নির্যাতন হয়েছে। একজন সাবেক এমপিকে নৌকার মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘এই নৈরাজ্যের ঘন অন্ধকারের মধ্যে একটি বিপুল তরঙ্গের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ৫ আগস্ট পেলাম এবং একটি পরিবর্তন ঘটল। কিন্তু যে লিগ্যাসি বা ধারাবাহিকতা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছিল, সেটি রাতারাতি নির্মাণ বা পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেল, উড়ে গেল এবং সেটা উড়ে বেড়াল কোথায়? ফিলিপাইনের জুয়ার আসরের ক্যাসিনোর মধ্যে। সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক—একটার পর একটা ব্যাংক লোপাট হয়ে গেল। অর্থনীতিতে এক কঠিন অবস্থা তৈরি হয়েছিল।
রিজভীর ভাষায়, লোক দেখানো কিছু মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট, মেগা দুর্নীতির রূপকথার সমস্ত গল্প আমরা সেই সময় শুনে এসেছি। সেই পরিস্থিতির পর আজকে নতুন একটি সরকার এসেছে। যে সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার করেছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় প্রথম দিন বা দ্বিতীয় দিন থেকেই সেগুলো বাস্তবায়নের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, সেই কর্মকাণ্ডগুলো অব্যাহত রেখেছেন। দিনরাত নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কোনো ধরনের কমতি করছেন না।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনা সরকারের উন্নয়নের গতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন দুর্যোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সুষ্ঠ উন্নয়নের যে গতি, সেখানে অনেকটা বাধা হয়েছে। কিন্তু সে বাধা থাকার পরেও সেটাকে অতিক্রম করে এই সরকার জনগণের স্বস্তির জন্য এবং জনগণের কল্যাণের জন্য তার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
রিজভীর ভাষ্য, আজকে বিভিন্ন সেক্টরে যে সমস্ত সংকট আমরা দেখি, সেই সংকটগুলো উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় যে নির্দেশনা, সে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, একটা দেশে মহামারি আসতে পারে, নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে, বন্যা আসতে পারে, ভূমিকম্প হতে পারে। কিন্তু জনগণের একটি সরকার সেগুলোকে মোকাবিলা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াই হচ্ছে সেই সরকারের ব্রত। কারণ এই সরকার নির্বাচিত সরকার। আর নির্বাচিত সরকার হওয়ার কারণেই প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আজকের অনুষ্ঠানটি সেই জবাবদিহিতারই একটি অংশ।
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহত্তর জবাবদিহিতা কার কাছে? জনগণের কাছে। আর জনগণের কাছে জবাবদিহিতা কীভাবে হয়? একটি সরকারের পার্লামেন্টের মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মাধ্যমে।’
রিজভী বলেন, ছয় মাসে সরকারের অগ্রগতি, অর্জন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
১৯ দিন আগে
গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন স্থাপনে সরকার সর্বোচ্চ মানদণ্ড দেখিয়েছে: মাহ্দী আমিন
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ মানদণ্ড দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, এই সময়ে কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি এবং সরকারের ধৈর্য ও সহনশীলতার কারণে দেশে মতপ্রকাশের সুযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন দেখেছি; যেখানে একটি বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। আমরা দেখছি সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা, অনেক সময় অনেকে সেই সীমা লঙ্ঘন করেছে। আমরা দেখেছি কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, অশোভন আচরণ করা হয়েছে, কিন্তু তারপরও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে ধারণ করেই এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।’
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর জনগণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী ও দলকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়া সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের ডামি ভোটের নির্বাচন পেরিয়ে এই প্রথমবারের মতোই জনগণ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে, নিজেদের পছন্দের দলকে ভোট দিতে পেরেছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, খালেদা জিয়ার জানাজা ও নির্বাচনি প্রচারণায় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিফলন এসব ঘটনাতেও দেখা গেছে। গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতেও একই ধরনের জনসম্পৃক্ততা দেখা গেছে বলে তিনি জানান।
১৯ দিন আগে
মৎস্যখাদ্য উৎপাদনে গাইডলাইন মেনে চলতে সময় বেঁধে দিল সরকার
মাছের খাদ্য উৎপাদনে সরকারি গাইডলাইন (দিকনির্দেশনা) মেনে চলতে উৎপাদনকারীদের দুই মাস সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। মৎস্যখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বাজারে থাকা পণ্য পরিদর্শন ও পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এবারে মৎস্যপক্ষের মূল প্রচারণা ‘নিরাপদ মাছ উৎপাদন করতে হবে’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যেই আমাদের যে সমস্ত ফিড (প্রাণিখাদ্য) উৎপাদনকারীরা আছেন, তাদের জন্য সরকারের একটা গাইডলাইন আছে। ওই গাইডলাইন অনুযায়ী তাদের ফিড উৎপাদন করতে হবে।
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এরই মধ্যে তাদের সঙ্গে সচিবালয়ে সভা করেছি। তাদের আমাদের সরকারের গাইডলাইন অনুযায়ী মাছের খাদ্য উৎপাদন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। সভায় গাইডলাইনের বাইরেও কিছু বিষয়ে কথা হয়েছে তাদের সঙ্গে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দেখেছি এবং তাদের ঠিক দুই মাস সময় দিয়েছি। খাদ্য উৎপাদনে সরকারি নির্দেশনার বাইরে যেসব সমস্যা রয়েছে তা দুই মাসের ভেতরে ঠিক করার জন্য আদেশ দিয়েছি। তাদের বলেছি, সরকারি গাইডলাইনের বাইরে কোনো অবস্থাতে খাদ্য উৎপাদন করতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, আমরা খাদ্য উৎপাদন মিলগুলো পরিদর্শন করব। মাঠ পর্যায়ে তাদের যে পণ্য আছে, বিক্রয়কেন্দ্রে তা আমরা পরীক্ষা করতে যাব।
নির্ধারিত দুই মাস সময়সীমার মধ্যে আরও দেড় মাস আছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আমিন উর রশিদ বলেন, আমরা ফুডের (প্রাণী খাদ্য) ব্যাপারে, বিশেষ করে মৎস্য খাদ্য, মুরগির খাদ্য, হাঁসের খাদ্য, গোখাদ্য, ছাগলের খাদ্য, এমনকি সবজির গুণগত ফুডের প্রশ্নে প্রচণ্ডভাবে অবগত। এটাই আমাদের এই সরকারের একটা প্রধান গুরুত্ব।
তিনি বলেন, যতটুকু খাদ্য উৎপাদন করা হয়, সেটা যেন সত্যিকারের অর্থে মানুষের কল্যাণে আসে—এ ব্যাপারে আমরা খুব সচেতন, এই সরকার প্রচণ্ড সচেতন।
হাঁস-মুরগির খামারের নিচে মাছ চাষ নিরুৎসাহিত করা হবে
হাঁস-মুরগির খামারের নিচে মাছ চাষের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ঐকমত্য পোষণ করে বলেন, মুরগি বা হাঁসের খামার এবং নিচে মাছের চাষ—এটা বৈজ্ঞানিক নয়। সরকারিভাবে এটাকে আমরা কখনও উৎসাহিত করিনি। কিছু লোক হয়তো স্ব-উদ্যোগে এ ধরনের কাজ করেছে, আমাদেরও নজরে পড়েছে। তবে এটার সংখ্যা যে খুব বেশি তা নয়।
যারা এ ধরনের প্রকল্প করছে, তাদের নিরুৎসাহিত করা সরকারের পরিকল্পনা আছে। এরই মধ্যে এ পদ্ধতির ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী।
২৩ দিন আগে
সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমাচ্ছে সরকার, তিন দিনের মধ্যে দিতে হবে রপ্তানির তথ্য
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রপ্তানিতে কঠোর হচ্ছে সরকার। আগে অনুমোদন দেওয়া রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে তা কমানো বা সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করেছে, সে তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারিকৃত চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের স্মারকে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগে দেওয়া রপ্তানি অনুমোদনের পরিমাণ হ্রাস বা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এজন্য অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।
মূলত যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমতি পাওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারেনি কিংবা আংশিক রপ্তানি করেছে, মূলত তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় গত ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টি সহ মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
গত ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, অনুমতি পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রপ্তানি করতে পারেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আংশিক রপ্তানি করেছে। ফলে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে মন্ত্রণালয়।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিল মালিকের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত রয়েছে। বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল না ছেড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার কারণেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে বলে অভিযোগ তাদের।
সব পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে রপ্তানির অনুমতি পেয়েও যারা নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি পারেনি, তাদের অব্যবহৃত কোটা বহাল রাখার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করবে সরকার। এজন্যই জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রকৃত রপ্তানির তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এসব তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদিত রপ্তানি কোটা কমানো বা সমন্বয়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে একদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অন্যদিকে প্রকৃত সক্ষম রপ্তানিকারকদের সুযোগ অব্যাহত রাখার মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে সরকার।
২৩ দিন আগে
সরকারের ১৮০ দিনে মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে বলে কোনো সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মন্ত্রিসভার রদবদল ১৮০ দিনের পর হবে, সরকারের দিক থেকে এ ধরনের কোনো কিছু বলা বা ইঙ্গিত করা হয়নি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হতে পারে। কারও কাছে অনেক বেশি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকলে সেখানেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব ১৮০ দিন পূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
উপদেষ্টা বলেন, ‘এই ইভালুয়েশন (মূল্যায়ন) চলতে থাকবে। এটা ১৮০ দিন নয়; দ্বিতীয় বছর, তৃতীয় বছর বা যেকোনো সময় হতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার চাইবে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে। কোথাও কোনো সমস্যা তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন।’
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন বলেও এ সময় জানান ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, ‘১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিকে অ্যাড্রেস করবেন—এমন একটি সম্ভাবনা আছে এবং সেটার বেশিই আছে, সম্ভাবনা হচ্ছে সেটা করতে যাচ্ছেন। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি সবকিছু।’
এদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ব্রিফ করেছেন। ওই ব্রিফিং থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত শক্তভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের যে রিয়েল অ্যালাইনমেন্টের (সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস) কথা বলছি, সেটার অনুকূল পরিবেশ ভারতের দিক থেকে তৈরি করতে হবে।’
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি ধারণা ও সন্দেহ রয়েছে যে, তার সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে ভারতের সঙ্গে এক ধরনের যোগাযোগ ও সহযোগিতা পেয়েছে।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘যাকে আমরা দেশে এনে বিচার করতে চাই, তিনি সেখানে বসে সংবাদ সম্মেলন করছেন। তাকে প্রত্যর্পণের কথা ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চুক্তি আছে। একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আমরা দেশে এনে আইনের আওতায় আনতে চাই। এই বিষয়গুলো ভারতকে আন্তরিকভাবে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, দুই দেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত।
২৫ দিন আগে
জাতীয় স্বার্থ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিভেদ থাকা উচিত নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলেও জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজ মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি গণতন্ত্র, ন্যায় ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার বিজয়ের দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার সুতীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। ফ্যাসিবাদী সরকার পালাতে বাধ্য হয়। দেশ মুক্ত হয়, সূচিত হয় নতুন প্রভাত।’
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, সজল, রাব্বি, মেরাজ, এলেম, তাইম, নাইমা, ছোট্ট শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ সব শহিদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। তার কথায়, ‘এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনো বিভাজন, কোনো বিদ্বেষ কিংবা কোনো সংকীর্ণ স্বার্থ আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।’
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল, তেমনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানও ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যতদিন গণতন্ত্র থাকবে, ততদিন মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও অক্ষুণ্ন থাকবে।’
জুলাই শহিদ পরিবার ও আহতদের বিষয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের এই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জুলাইতে যারা আত্মাহুতি দিয়েছে সেসব পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা। এটাই সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। যারা আহত হয়েছে, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে, অঙ্গ হারিয়েছে, তাদের সুস্থ করে তোলা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।’
অনুষ্ঠানে এক মাকে তার দৃষ্টিশক্তি হারানো ছেলেকে নিয়ে উপস্থিত হতে দেখে আবেগাপ্লুত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই যুবক গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চোখ হারিয়েছে। যদি তারা যথাযথ মর্যাদা না পান এবং সামান্য চাওয়া-পাওয়ার জন্যও মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, তবে সেটি জাতির জন্য লজ্জার।’
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা মন খারাপ করবেন না। এই সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়ই সম্মান আপনারা পাবেন। আমরা সেই সম্মান আপনাদের দেব। আমাদের যতটুকু সাধ্য আছে সবকিছু উজাড় করে দেব আপনাদের কল্যাণের জন্যে।’
সবার সহযোগিতা কামনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই নির্বাচিত সরকার ভুল করলে আপনারা শুধরে দেবেন।’
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আর আওয়ামী লীগ হতে পারব না, হতেও চাই না। আওয়ামী লীগকে দেখেন, তাদের কোনো অনুশোচনা নাই। এত অন্যায়-অবিচার, খুন, গুম, মানি লন্ডারিং, হত্যা, নির্যাতন, আয়নাঘর—এসবের জন্য তারা কোনো লজ্জাবোধ করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলাতক ফ্যাসিস্ট আবার বলে যে ডিসেম্বর মাসে দেশে এসে পদার্পণ করবেন। আমরা অপেক্ষায় আছি। আসেন, দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাল্লাহ রাজপথে।’
নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন ৮২ বছর বয়সে আরেকটা করব, বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের জনগণের জন্য সুশাসন ও গণতন্ত্র চিরস্থায়ী করে যাব।’
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্র আছে, কিন্তু এমন নাগরিক খুব কম আছে যারা উদ্যত বন্দুকের সামনে আবু সাঈদের মতো দুই হাত তুলে দাঁড়াতে পারে। আমরা সেই জাতি। তাদের নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি।’
মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে ঐক্য, দেশপ্রেম, সততা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন আমরা শহিদদের রক্তে অর্জিত এই নতুন সম্ভাবনাকে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের দৃঢ় অঙ্গীকারে রূপান্তরিত করি।’
বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জুলাই শহিদ পরিবারের প্রতিনিধি ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা তাদের প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
দুপুর ১২টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
৩০ দিন আগে