পরীক্ষামূলক প্রকল্পের পর আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, চলতি মাসের ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’-ভিত্তিক ব্যবস্থা। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। কেউ দরিদ্র থেকে স্বাবলম্বী হলে বা আবার আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়লে সেই পরিবর্তনও নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।
তিনি বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহের পর ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানির আয়োজন করা হবে। এতে প্রকৃত উপকারভোগী যাতে বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যাতে অন্তর্ভুক্ত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। প্রতি মাসেই তথ্য পর্যালোচনা ও হালনাগাদের ব্যবস্থা থাকবে।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘এই কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। সবার জন্য একই নীতিমালা অনুসরণ করা হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে।’
তিনি জানান, চলতি মাসের ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হলো এই সহায়তা শুধু ভাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলা। বিশেষ করে পরিবারের নারী সদস্যরা এই অর্থ শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটিরশিল্প, সেলাই বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ দারিদ্র্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।’
তিনি বলেন, ‘কর্মসূচির প্রভাব নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। অর্থ বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ও দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মাধ্যমে স্বাধীন মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হবে। ছয় মাস পর কর্মসূচির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’
তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশের ৫৬টি স্থানে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যশোর ও নেত্রকোনার কলমাকান্দায় স্থানীয়ভাবে কিছু তথ্য সংগ্রহের সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় কার্যক্রম সফল হয়েছে এবং প্রতারণার হার ৩ শতাংশেরও কম ছিল।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়ায় তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পৃথক কমিটি কাজ করবে। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং জাতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা কমিটি পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে।
‘একজন ব্যক্তি যাতে একাধিক ভাতা না পান, সেজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হবে। পুরো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’