ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরাকের সীমান্ত খোলার প্রথম দিনই অজস্র ইরানি উত্তর ইরাকে প্রবেশ করেছেন। বর্তমানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইরানে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে পৌঁছেছে নিত্যপণ্যের দাম। তাই তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে খাদ্যদ্রব্যসহ ইন্টারনেট পরিষেবা পেতে, আত্মীয়দের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করতে এবং কাজের অনুসন্ধানে ইরাকে প্রবেশ করছেন তারা।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ মার্চ) সীমান্ত খোলার প্রথম দিন থেকেই উত্তর ইরাক সীমান্তে এ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
ইরাকে পাড়ি জমানো ইরানিরা জানিয়েছেন, অনবরত বিমান হামলা এবং খাদ্যের লাগামহীন দামের কারণে জীবন চালানো কঠিন হয়েছে উঠেছিল। তাই বাধ্য হয়েই দেশ ছেড়েছি।
উচ্চ দ্রব্যমূল্যের কারণে সৃষ্ট সমস্যায় ইরানকে সহযোগিতা করতে ইরাকের কুর্দি অঞ্চল থেকে পণ্যবোঝাই অসংখ্য ট্রাক হাজি ওমেরান ক্রসিং দিয়ে ইরানে প্রবেশ করছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু করার আগেও ইরানি কুর্দিরা নিয়মিতভাবে ইরান থেকে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কুর্দি অঞ্চলে যাতায়াত করতেন। পারিবারিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গভীর সম্পর্ক এবং সীমান্ত জটিলতা তেমন না থাকার কারণে দুই অঞ্চলের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্য ও যাতায়াত চলত। তবে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইরানিদের কাছে ইরাকের কুর্দি অঞ্চল একটি অন্যতম ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।
খিদির চোমানি নামে ইরানে পণ্য পরিবহনকারী এক ট্রাকচালক বলেন, ‘এই সীমান্ত বন্ধ থাকলে ধনী-গরিব-শ্রমিক সবার ওপরই প্রভাব পড়বে।’
আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার কারণে সীমান্তটির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল।