ইরান
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৫
হরমুজ প্রণালিতে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যে নৌযানগুলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বলে দাবি করছে, সেগুলো আসলে যাত্রীবাহী নৌকা ছিল।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের করা এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করেছে। ব্র্যাড কুপার বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার সময় তাদের মিশনে বাধা দেয় আইআরজিসির ৬টি নৌযান। সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ওই নৌযানগুলোকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানে ৭টি নৌকায় তারা হামলা চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে পরিচালিত মার্কিন অভিযান নাজুক এই যুদ্ধবিরতিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। এ অভিযানের ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসির নৌযানে হামলা করেছে, এমন দাবি তোলার পর তেহরান তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে দেখা গেছে, মার্কিন হামলায় আইআরজিসির কোনো নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) দুটি যাত্রীবাহী ছোট নৌকা ওমান উপকূলের খাসাব থেকে ইরানের উপকূলে যাচ্ছিল। পথে মার্কিন বাহিনী নৌকা দুটিতে হামলা চালায়।
ওই সামরিক কমান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নৌকাগুলো ঘটনাস্থলে ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা ৫ জন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন।
তিনি দাবি করেন, ‘এই অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
ইরানের এই অভিযোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরান এই জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এদিকে, ইরান এখন কঠোরভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হরমুজ প্রণালির যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পূরণ করতে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনী বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, অনুমতি ছাড়া এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আরও জানানো হয়, মার্কিন বাহিনী যদি এই জলপথের কাছে আসে বা প্রবেশ করে, তাহলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল। ইরান জাহাজটির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়াও ইরানি সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত ভূখণ্ডে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের এসব হামলায় পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আমিরাত ফুজাইরাহর একটি বড় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান করা দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ এইচএমএম নামুও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, একটি বিস্ফোরণে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন লেগে গিয়েছিল।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেসট্রয়ারের সহায়তায় সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ‘ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় উপসাগর ছেড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, সোমবার হরমুজে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় হামলার ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, চলমান রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অশুভ শক্তির প্ররোচনায় আবারও সংকটে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ইরানের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম পরিচালনাকারী মার্কিন জাহাজে হামলা হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আগের চেয়ে এখন আমাদের কাছে অনেক বেশি উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাটি আছে। এসব ঘাটিতে বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা সেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করব।
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনায় ট্রাম্প
যুদ্ধের ইতি টানতে ইরানের নতুন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ মার্চ) সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রস্তাব নিয়ে পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি যে তাদের এই প্রস্তাব প্রাসঙ্গিক হবে। কারণ বিগত ৪৭ বছরে তারা মানবতা এবং বিশ্বের প্রতি যে নির্দশন দেখিয়েছে, তার যথেষ্ট মূল্য এখনও পরিশোধ হয়নি।’
ইরানের আধা-সরকারি দুটি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং ফার্স জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান ৯ দফা মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পাকিস্তান এর আগেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখনও এই নতুন প্রস্তাব নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি নতুন পরিকল্পনাও উত্থাপন করেছেন।
জাহাজ কোম্পানিগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ দিলে জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান জাহাজে হামলা ও হুমকির মাধ্যমে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। পরে ইরান তাদের উপকূলঘেঁষা পথ দিয়ে কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে এবং কখনও কখনও এর জন্য ফিও আদায় করেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, কেবল নগদ অর্থ নয়, ডিজিটাল সম্পদ, বিনিময়, অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বা অন্য কোনো পণ্য বা সেবার বিনিময়, এমনকি দাতব্য অনুদান বা ইরানি দূতাবাসে অর্থ প্রদান করলেও জাহাজ কোম্পানিগুলো ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে। এর ফলে তেল রপ্তানি থেকে আয় কমে গিয়ে দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। আজ (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার ও যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ খুলে দেবে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেয় এবং চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটায়, তবে হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করবে ইরান। একইসঙ্গে দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) যুদ্ধে মধ্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত দুইজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ-ভিত্তিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন বলে মনে হচ্ছে না। পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকানদের কাছে পৌঁছানো এই প্রস্তাবে সেই মতবিরোধগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে, যার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়েছিল। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এমন কোনো চুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত নেই।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের পার পেয়ে যেতে দিতে পারি না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা যেন এমন হয় যা তাদের যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড় থেকে নিশ্চিতভাবে বিরত রাখে।’
একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থায় আটকে আছে। যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। মার্কিন অবরোধের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে তাদের তেল বিক্রি করা থেকে বিরত রাখা, যাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যেখানে তেল সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় তেহরানকে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।
অন্যদিকে, প্রণালিটি বন্ধ থাকায় ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এটি তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে, যারা তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই জলপথ ব্যবহার করে।
অবরোধ অবসানের নতুন দাবি
মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে সার, খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা বাড়ছে। সোমবার নতুন করে অবরোধ অবসানের দাবি করেছে বিভিন্ন দেশ।
ইরানের প্রস্তাবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, তার যুদ্ধে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।
প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, চলতি সপ্তাহে ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়েছে। ইরানের এই প্রস্তাবের কথা প্রথম প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়া সফরে রয়েছেন। মস্কো দীর্ঘকাল ধরে তেহরানের প্রধান সমর্থক। রাশিয়া ইরানকে এখন কোনো সাহায্য করবে কি না বা করলে কী ধরনের সাহায্য করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলবোঝাই ট্যাঙ্কারগুলো উপসাগরে আটকা পড়ে আছে, কারণ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ কেন্দ্রে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই।
সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (অপরিশোধিত তেল) তেলের বাজারদর ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারের উপরে গিয়ে ঠেকেছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার দামের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবিতে অনেক দেশের
বাহরাইনের নেতৃত্বে একটি যৌথ বিবৃতিতে বেশ কিছু দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এই চাপের প্রভাব এখন খালি তেলের ট্যাঙ্কে, খালি তাকে (দোকানের শেলফ) এবং শূন্য থালায় গিয়ে পড়ছে।’
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস কোনো কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে নামার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সংঘাতের সমস্যা সবসময় একই রকম; এটি কেবল যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে নয়, আপনাকে এ থেকে বেরোনোর পথও জানতে হবে।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারোট সব পক্ষেরই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে হামলা করার পর এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রণালি হলো বিশ্বের ধমনী। এগুলো কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
রাশিয়ায় পুতিনের সঙ্গে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকের বৈঠক
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ৭ এপ্রিল করা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন, যার ফলে লড়াই অনেকটা থেমেছে। কিন্তু একটি স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। পুতিন ইরানি জনগণের প্রশংসা করে বলেছেন যে তারা সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য লড়ছেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে।
আরাঘচি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভির একজন সাংবাদিককে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নেতারা এই যুদ্ধে তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি। এ কারণেই তারা আলোচনার জন্য বলছে। আমরা এখন এটি বিবেচনা করছি।’
পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, তখনই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এ সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে এই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করেন এবং ফোনে আলোচনার পরামর্শ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার মতে, ইরান ওমানের সঙ্গে প্রণালিটি ভাগ করে নেয়। তারা এখন ওমানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে যাতে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের একটি ব্যবস্থা চালু করা যায়। তবে ওমানের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান নতুন আলোচনার আগে মার্কিন অবরোধ অবসানের দাবিতে অনড়। পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মধ্যকার এই বিশাল দূরত্ব ঘুচানোর চেষ্টা করছেন।
তেহরান অনেক ভালো প্রস্তাব দিয়েছে: ট্রাম্প
শনিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি পাকিস্তানে প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করার পর তেহরান একটি অনেক ভালো প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে তার অন্যতম শর্ত হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। অপরদিকে, ইরান দাবি করে আসছে যে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে ফেলতে চায়, যা বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন এবং লেবাননে ২ হাজার ৫২১ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছিল ইরান যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর থেকে। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ১২ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য, ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ৬ জন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এই সাময়িক বিরতি সত্ত্বেও উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় চলা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।
৭ দিন আগে
ইরান সরাসরি আলোচনা নাকচ করলেও ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিরা শনিবার পাকিস্তানে যাবেন। তবে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
চুক্তি সম্পাদনের এই সর্বশেষ প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে যখন একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি অধিকাংশ লড়াই থামিয়ে রেখেছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পাকিস্তানের তৎপরতা
চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য ইসলামাবাদের অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ রক্ষা করে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকের জন্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে পাঠাবেন। কিন্তু আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরপরই তার মন্ত্রণালয় জানায় যে, যেকোনো আলোচনা হবে ‘পরোক্ষ’, যেখানে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় আরাঘচি এবং ট্রাম্পের এই দুই প্রতিনিধির মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেছেন, উইটকফ ও কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট যাতে তারা ইরানিদের কথা শুনতে পারেন।
লেভিট বলেন, আমরা গত কয়েক দিনে ইরানের কাছ থেকে কিছু অগ্রগতি লক্ষ করেছি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ঠিক কী শুনছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
এদিকে, হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, ট্রাম্প ‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছেন। এর ফলে অ-মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা সহজ হবে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেল-গ্যাস সরবরাহ সহজ করতে তিনি গত মার্চ মাসে প্রথম ৬০ দিনের জন্য এই আইন মওকুফ করেছিলেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এই প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। সামরিক বাহিনীকে মাইন স্থাপন করতে পারে এমন ছোট নৌকাগুলো দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
এই খবরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ব্যারেল প্রতি ১০৩ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা এখনও ২৮ ফেব্রুয়ারির (যুদ্ধ শুরুর দিন) তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের এই সংকট এখন বিশ্বের অর্ধেক পথ দূরের পানামা খালসহ বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।
১০ দিন আগে
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন দফার শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকা অবস্থায় এবং পূর্বনির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ পদক্ষেপের ফলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত প্রশমিত হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু তেহরান আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় সাড়া না দেওয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পরিকল্পিত ইসলামাবাদ সফর স্থগিত করে হোয়াইট হাউজ।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ইরান এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে উভয় দেশই এর আগে সতর্ক করেছিল যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে তারা পুনরায় লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত।
উভয় দেশকে আলোচনায় বসাতে মরিয়া পাকিস্তান
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় রাজি করাতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
পরবর্তীতে শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের অনুরোধ সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন যে, আরও আলোচনায় বসবেন কি না সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি এর কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের’ কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধকেই ইঙ্গিত করে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর আপাতত স্থগিত করায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার মঙ্গলবার বিকেলে ওয়াশিংটনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প যেকোনো সময় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, পুনরায় বিমান হামলা শুরু করা ছাড়াও ট্রাম্পের হাতে আরও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।
এখনও অনড় উভয় পক্ষ
এদিকে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, বুধবারের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে প্রচুর বোমা বর্ষণ শুরু হবে। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক বলেছিলেন যে, তেহরানের কাছে রণক্ষেত্রের নতুন কিছু তুরুপের তাস রয়েছে যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার হুমকি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি এই অঞ্চলের তেল শিল্প ধ্বংস করে দেবেন। জেনারেল মজিদ মৌসাভি একটি ইরানি নিউজ সাইটকে বলেন, যদি দক্ষিণের প্রতিবেশীরা শত্রুকে ইরানের ওপর হামলা চালাতে তাদের স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদনকে তাদের বিদায় জানাতে হবে।
আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ
জাতিসংঘে নিযুক্ত তেহরানের দূত মঙ্গলবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত বলে তেহরান কিছু সংকেত পেয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানান, অবরোধের অবসানই ইরানের শান্তি আলোচনায় ফেরার প্রধান শর্ত। তিনি বলেন, যখন এটি ঘটবে, আমি মনে করি তখনই পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
যুদ্ধের পূর্বে বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালিটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ আরোপ করেছিল।
এই প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম মঙ্গলবার ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের দিন) থেকে ৩০ শতাংশেরও বেশি।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, জাহাজগুলোকে আবারও কোনো বাধা ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
গত সপ্তাহের শেষের দিকে ইরান জানিয়েছিল যে তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাব পেয়েছে, তবে তারা এটিও জানিয়েছিল যে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে গেছে।
ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীসমূহ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় গত দফার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর আরোহণ
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, এশিয়ায় ইরানি অপরিশোধিত তেল পাচারের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পেন্টাগন জানিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ‘এম/টি টিফানি’ নামক জাহাজে আরোহণ করেছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী জাহাজটিতে ঠিক কোথায় তল্লাশি চালানো হয়েছে তা জানায়নি, তবে জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী মঙ্গলবার টিফানি শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবর্তী ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছিল। পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, আন্তর্জাতিক জলসীমা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নয়।
এর আগে, গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছিল, যা ছিল অবরোধ চলাকালীন প্রথম কোনো জাহাজ আটকের ঘটনা। তেহরানের যৌথ সামরিক কমান্ড এই সশস্ত্র অভিযানকে জলদস্যুতা এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
আলোচনা নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানও আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে। এর আগে, ১১ ও ১২ এপ্রিল প্রথম দফার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
পাকিস্তান জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, চীন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
এদিকে, পুরো ইসলামাবাদজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে এবং টহল বৃদ্ধি করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, মহাসচিব এই যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধিকে উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতি এবং আস্থা তৈরির একটি প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হবে
লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর তারা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা একে ইসরায়েল কর্তৃক প্রকাশ্য ও নথিবদ্ধ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংস করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, তারা হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘বাফার জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল বজায় রাখতে চান—যেখানে অনেকগুলো গ্রামের বাসিন্দাদের এখনও ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলি, লেবাননি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। পর্দার আড়ালের এই আলোচনার গুরুত্ব বিবেচনায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা সরাসরি কূটনৈতিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ইসরায়েল বলছে, এই আলোচনার লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং লেবাননের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে যৌথ হামলা চালানোর দুই দিন পর ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়। লেবাননে এই লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে এক ১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
১৩ দিন আগে
ইরান আলোচনায় বসলে মার্কিনিদের নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভ্যান্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ঘনিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে তেহরান পুনরায় আলোচনায় বসতে রাজি হলে মঙ্গলবার একটি মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ দলের প্রধান হিসেবে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনারও পাকিস্তান যাবেন।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এখনও একটি গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। তেহরান মার্কিন কর্মকর্তাদের অগঠনমূলক এবং পরস্পরবিরোধী সংকেত নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা মনে করছে, এটি তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ইরানিরা শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে না।
তবে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তেহরান আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে। খবর পাওয়া গেছে যে, ভ্যান্স উপস্থিত থাকলে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবারও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ থাকতে পারেন।
গালিবাফ পরে বলেন, হুমকির মুখে থাকা অবস্থায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা অংশ নেবে না। মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা রণক্ষেত্রে নতুন কার্ড (তুরুপের তাস) উন্মোচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, ট্রাম্প তার নিজস্ব কল্পনায় এই আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চাইছেন অথবা নতুন করে যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, ট্রাম্প তার সেই পুরনো দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং এমনকি ইরানি নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এবং তার দল এখনই রওনা হচ্ছে এবং সেদিন সন্ধ্যায় তারা ইসলামাবাদ পৌঁছাবে—এমন কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিলেন। অবশ্য পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যদিও সোমবার ভ্যান্সের রওনা হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট আসলে মঙ্গলবার সকালে রওনা হবেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের এই দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামীকাল (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকিও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন সময় বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হবে। ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি করার সুযোগ দিতে তিনি বিরতির সময় আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছেন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর পরেই পুনরায় বোমা হামলা শুরু হতে পারে। তবে তিনি এও বলেছেন, আমি তাড়াহুড়ো করে কোনো খারাপ চুক্তি করব না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ব্যর্থ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। তবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে এবং তাদের ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করার দাবিতে রাজি হয়নি বলে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ইরানিরা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাসের ঘাটতি রয়ে গেছে এবং তারা এই নিশ্চয়তা চেয়েছিল যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছালে তাদের ওপর আর হামলা করা হবে না। যদিও পাঁচ সপ্তাহের যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়েছে, তবে তেহরানের নেতৃত্ব বিশ্বাস করে না যে তারা পরাজিত হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান রবিবার থেকেই সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে; দেশটির রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণপরিবহন চলাচল স্থগিত করেছে। ইসলামাবাদের বিদ্যুৎ বোর্ডও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আলোচনা চলাকালীন শহরে লোডশেডিং বন্ধ রাখা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক হরমুজ প্রণালি দ্বিমুখীভাবে বন্ধ রাখার ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে পাকিস্তানের শহরগুলোতে দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর টোল আদায়ের ইরানের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিলেন। গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করে, যা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার পথে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তুসকা নামক জাহাজটির ক্রুরা ছয় ঘণ্টা ধরে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর সেটিকে জব্দ করা হয়। একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে গোলাবর্ষণ করে জাহাজের ইঞ্জিন বিকল করে দেওয়া হয় এবং এরপর হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে ইউএসএস ত্রিপোলির মেরিন সেনারা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ইরান শুক্রবার সাময়িকভাবে তাদের অবরোধ তুলে নিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার না করায় শনিবার তারা পুনরায় তা কার্যকর করে। শনিবার ওই অঞ্চলে একটি ট্যাঙ্কারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হামলা চালায় এবং দ্বিতীয় একটি কন্টেইনার জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবারে ১৮টি জাহাজ চলাচল করলেও সোমবারে মাত্র তিনটি ট্যাঙ্কার প্রণালি পার হয়েছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ ডলার বেড়ে ৯৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ওই অঞ্চলে নতুন করে তৈরি হওয়া বিপদেরই প্রতিফলন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে প্রথম আলোচনা হবে।
এদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের সীমান্ত-সংলগ্ন একটি অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে বলেছে এবং লিটানি নদী এলাকার কাছাকাছি না যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ওই এলাকায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর পোস্ট করা একটি মানচিত্রে সীমান্তের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে থাকা ২১টি গ্রামের ওপর দিয়ে একটি লাল রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।
১৪ দিন আগে
‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ হরমুজ পারাপারে তেহরানকে অনুরোধ ঢাকার
বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন নিরাপদে পার হতে পারে, সেজন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ আহ্বান জানান।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন এবং রবিবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জানান, পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ (সোমবার) জানিয়েছে, এই বিষয়ে দুই নেতা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবেন। ড. খলিলুর বর্তমানে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস সফর করছেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই উপসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান ঘটনাবলি নিয়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সব পক্ষকে সংযম, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে তেহরান সফর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রাকে নিরাপদে যাতায়াতের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কাজে লাগানোর জন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ইরান যখন জাহাজ হরমুজ পাড়ি দেওয়ার অনুমতি পাওয়া ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তখন আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ছিলাম।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অনুসরণ করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলার জয়যাত্রার পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল বহনকারী বাংলাদেশগামী আরেকটি জাহাজের নিরাপদ যাত্রার সুবিধার্থে অনুরোধ করেন। প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাযথ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বর্তমান সংকটে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পরে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলামকে ইরান দূতাবাসে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার জন্য পাঠানোর জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
ইরানি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর ব্যবস্থা করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি প্রশংসা জ্ঞাপন করেন।
ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর উল্লেখ করেন, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে ইরান থেকে আজারবাইজানে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ইরান সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
১৫ দিন আগে
ট্রাম্প ও তেহরানের অদূরদর্শী প্রচারণায় থমকে গেছে শান্তি প্রক্রিয়া
মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের পক্ষ থেকে একের পর এক অদূরদর্শী ও অবিবেচনাপ্রসূত বার্তার কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির পথে অর্জিত অগ্রগতি থমকে গেছে।
এই ভুল পদক্ষেপগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর পুনরায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করবে। দেশটি তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশই দেশের বাইরে রপ্তানি করতে দেবে না।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার খোলার পরপরই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন। তিনি লিখেছিলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা কর্তৃক পূর্বঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।
তার এই ঘোষণার ফলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক ধাক্কায় ১২ ডলার কমে যায়। দুপক্ষকে ফের আলোচনার টেবিলে নেওয়ার চেষ্টায় থাকা পাকিস্তানও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের শর্তাবলি নির্ধারণের লক্ষ্যে ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা তিন দিন ধরে তেহরানে অবস্থান করছিলেন।
দ্য গার্ডিয়ানের কূটনীতিক সম্পাদক প্যাট্রিক উইন্টুরের ভাষ্য, আরাগচির পোস্টটি সম্ভবত ভুলভাবে সাজানো অথবা অসম্পূর্ণ ছিল, যা ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তোলে তেলের দরপতন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে খবরটিকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা করা। ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে রাজি হয়েছে তেহরান।
ইরানের ভেতরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, আরাগচির পোস্টটি বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল। ইরানি সংসদ সদস্য মোর্তজা মাহমুদী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি না থাকলে আরাগচিকে তার এই অসময়ের বক্তব্যের জন্য অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হতো।
১৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধের ঘোষণা ইরানের
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তারা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আবারও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেওয়ার পর তেহরান এই পদক্ষেপ নিল।
যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জাহাজ থেকে গুলি চালানো হয়েছে। একটি ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজও এই জলপথে আক্রান্ত হয়েছে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া যৌথ সামরিক কমান্ডের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার তেহরান প্রণালিটিকে তার পূর্ববর্তী অবস্থায় (বন্ধ) ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এটি এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরান থেকে যাওয়া এবং ইরানের দিকে আসা জাহাজগুলো চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে, তবে এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ এবং আইআরজিসির নৌ কমান্ড এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
শনিবার ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গত সপ্তাহের আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু আমাদের মধ্যে এখনও বড় দূরত্ব রয়ে গেছে। কিছু বিষয়ে আমরা অনড়... তাদেরও কিছু রেড লাইন (চরম সীমা) আছে। তবে এই অমীমাংসিত ইস্যুগুলো মাত্র একটি বা দুটি হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের খুব ভালো আলোচনা চলছে। তবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা জিম্মি করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের মিত্র ইসরায়েলের প্রশংসা করে বলেন, অন্য মিত্ররা সংঘাত ও চাপের মুহূর্তে তাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। তবে শনিবারের আলোচনার অবস্থা নিয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
আট সপ্তাহে পা দেওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতটি লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তুরস্কের আন্তালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী খতিবজাদেহ বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সহজ করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধ চাপিয়ে দিতে পারে না।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসির নৌ কমান্ড লিখেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান থেকে আসা-যাওয়া জাহাজের চলাচল হুমকির মুখে থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির অবস্থা আগের মতোই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান। এর আগে, ৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, ওমানের উত্তর-পূর্বে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ট্যাঙ্কারকে আইআরজিসির দুটি গানবোট ধাওয়া করে গুলি চালায়। জাহাজের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, এর আগে রেডিওতে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তবে ট্যাঙ্কার ও ক্রুরা নিরাপদ আছেন এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যার আগের দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ পুরোদমে বহাল থাকবে। ট্রাম্প তখন জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি—যা বুধবার শেষ হওয়ার কথা, তা আর নাও বাড়ানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এর সময় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। শনিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উভয় পক্ষের মাঝে একটি চুক্তি হতে পারে।
শনিবার সকালে প্রণালিটি সামান্য সময়ের জন্য খোলা থাকার সময় অন্তত আটটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার এই পথ অতিক্রম করেছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রবিবার জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে লড়াই চলাকালীন তাদের একজন সেনা নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
১৬ দিন আগে
হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ ঘোষণা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আবারও নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
এর এক দিন আগেই (শুক্রবার) বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি খুলে দিয়েছিল ইরান। তবে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর পাল্টে যায় তাদের অবস্থান।
ট্রাম্প বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, বিশেষ করে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত অবরোধ ‘পূর্ণমাত্রায় বহাল থাকবে’।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে... এবং এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তারা আরও জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এতে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ বৈশ্বিক সরবরাহে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে যখন ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।
অন্যদিকে, উত্তেজনা বাড়লেও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২২ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময়সীমার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনও একটি চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
চলমান সংঘাতে ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন, লেবাননে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন, ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ডজনখানেকের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্যও নিহত হয়েছেন।
১৭ দিন আগে