ইরান
ইরানে চিকিৎসা-প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ
ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন মেধাবী ও কৃতী শিক্ষার্থীরা স্নাতক, মাস্টার্স, পিএইচডি ও অন্যান্য উচ্চতর শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন।
চিকিৎসা, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, ইরান স্টাডিজ, মানবিক বিজ্ঞান ও ইসলামিক স্টাডিজের আবেদনকারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
স্নাতক বা অনার্স পর্যায়ে আবেদনের জন্য এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম ৭০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। মাস্টার্সে ভর্তির জন্য অনার্সে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ এবং পিএইচডি ও প্রফেশনাল ডক্টরেট পর্যায়ের জন্য মাস্টার্সে ন্যূনতম ৮০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন হবে।
বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ইরানের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকায় অবস্থিত ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
আবেদনকারীদের বয়সের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সীমা রয়েছে। অনার্স পর্যায়ে সর্বোচ্চ বয়স ২২ বছর, মাস্টার্সে ২৭ বছর এবং মেডিকেল অনার্সে ২২ বছর হতে হবে। স্পেশালাইজড ডক্টরেট, পোস্ট-ডক্টরেট ও ফেলোশিপের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৬ বছর।
আবেদনের জন্য প্রার্থীদের সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, নম্বরপত্র বা ট্রান্সক্রিপ্ট এবং কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদি বৈধ পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব নথির বৈধ বা সরকারি ইংরেজি অনুবাদও জমা দিতে হবে। সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্টে যথাযথ সিল ও স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।
পাসপোর্টের ক্ষেত্রে শুধু প্রথম পৃষ্ঠার পরিষ্কার স্ক্যান কপি গ্রহণ করা হবে। মোবাইল ফোনে তোলা অস্পষ্ট বা অনানুষ্ঠানিক ছবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃত্তির ক্ষেত্রে দুই ধরনের সুবিধা রয়েছে। বৃত্তি ‘এ’ বা পূর্ণ বৃত্তির আওতায় বিনা মূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা বা স্বাস্থ্যবীমা, একক শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা ও টিউশন ফি সহায়তা দেওয়া হবে। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে আবেদনকারীদের পূর্ণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সাধারণত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বৃত্তি ‘বি’-এর আওতায় বিনা মূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা বা স্বাস্থ্যবীমা ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা রয়েছে।
আবেদন যাচাই, প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স এবং অ্যাডমিশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পর্যালোচনাসহ পুরো প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পূর্ণ আবেদন ফাইল জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন ও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগে ০২৪১০২০৪২১-২৪ ফোন নম্বর ও [email protected] ঠিকানায় ই-মেইল পাঠিয়ে যোগাযোগ করা যাবে।
১৭ দিন আগে
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করল আরব আমিরাত
ইরানের বিরুদ্ধে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে ইউএইর এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে ইরান।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে এমন অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত তৎপরতার অংশ বলে দাবি করেছে তেহরান।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন পদক্ষেপ তাদের দেশের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ থাকবে।
এর আগে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। তার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়েছে।
পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বা এ অঞ্চলের নৌ চলাচল বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিরদ্ধে আনা এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের মধ্যে তাদের বিরদ্ধে প্রতিবেশী দেশের এ ধরনের অভিযোগ একটি একটি পরিকল্পিত তৎপরতার অংশ।
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকেও ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানান।
একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে বর্তমানে চলমান যুদ্ধের মূল্যায়ন করতে হবে।
৫৭ দিন আগে
কৌশলগত কারণে সৌদি জোটে যোগদান, ইরানকে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়: হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান কোনোভাবেই ইরানকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং হুথি হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতার অংশ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে হুথিদের হুমকি মোকাবিলার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছি। তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, মূল বিষয়টি হলো সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক শুধু হজ, ওমরাহ বা তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব ইসলাম ধর্মের দুটি পবিত্র মসজিদ—মক্কা ও মদিনার রক্ষক। এ কারণে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি সহযোগিতা চায়, এই আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্কের জায়গা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতিমূলক ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেমন চীনের বিনিয়োগ রয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
৭৪ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ের দাবি বিপজ্জনক: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এশীয় নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের দাবি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌ চলাচলের নীতির জন্য বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকের শুরুতে রুবিও এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এর প্রভাব নিয়ে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দিকে থাকলেও রুবিও আসিয়ান নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা সব সময় আসিয়ানের সঙ্গে আছি।’
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা মধ্যপ্রাচ্যে জলপথে টোল নেওয়ার নজির তৈরি করি, যেখানে কোনো রাষ্ট্র একটি আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করবে, সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল নেবে এবং কেউ সেই টোল না দিলে তাদের জাহাজ হামলার শিকার হবে, তাহলে এমন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি উদাহরণ তৈরি করবে। পরে বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠকে অংশ নিতে ম্যানিলায় অবস্থান করছেন। বুধবার ব্রিটেনের সদ্য নিয়োগ পাওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড. মিলিব্যান্ডও ম্যানিলায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে তার দপ্তর।
আসিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি রুবিও যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানকে নিয়ে গঠিত চারদেশীয় জোট ‘কোয়াড’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে প্রযুক্তি, মানবিক সহায়তা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তাসহ দেশগুলোর বিভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগে তারা নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড নেতারা জানান, তারা এ বিষয়ে একমত যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও বলেন, ‘কোয়াড আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বছরের শেষের দিকে আমরা আবারও বৈঠকে বসব।’
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিপাইনের মতো ছোট দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে ফিলিপাইন এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো মিত্র।
দক্ষিণ চীন সাগরের এ আঞ্চলিক বিরোধে তাইওয়ানের পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই জড়িত। মঙ্গলবার ম্যানিলায় শুরু হওয়া তিন দিনের বৈঠকের আলোচ্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল এসব আঞ্চলিক বিরোধ।
পরে রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ওই বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কহার কমানোর বাণিজ্য চুক্তির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পিগট বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ও মন্ত্রী জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন। চুক্তিটি এখন প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।’
ম্যানিলা উপসাগর-সংলগ্ন কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গেও রুবিওর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
৮৫ দিন আগে
দুই আইএস সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান
ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তির নাম মোহিয়েদ্দিন আবদুল্লাহি ও হোসেইন পালানি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের আঞ্চলিক পরাজয়ের পর গড়ে ওঠা একটি আইএস সেলের সদস্য ছিলেন তারা। ওই সেলটি ইরানের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই ইরাক সীমান্তসংলগ্ন বামো পার্বত্য এলাকায় সেলটির আস্তানার সন্ধান পায় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। পরে সেখানে পরিচালিত অভিযানে কয়েকজন জঙ্গি নিহত এবং অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) তিন সদস্যও নিহত হন। এ সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে ফাঁসির মাধ্যমে সেই দণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কোথায় কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ কোনো তথ্য জানায়নি।
৯৩ দিন আগে
ইরানে খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শুরু
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার থেকে কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে শত শত হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে। শোকাহত জনতা বুক চাপড়ে শোক প্রকাশের পাশাপাশি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে এক বিমান হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী খামেনি। তার মৃত্যু ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করার সুযোগ এনে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এমন সময়ে এই শোকানুষ্ঠান শুরু হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের প্রভাবকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল আবারও হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে ইরানের প্রধান আলোচক কাজেম গারিবাবাদি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যৌথ টহলের সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মন্তব্য উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
১০৩ দিন আগে
খামেনি হত্যায় শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মর্মান্তিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) জাতীয় শোকের সময়ে ইরানের সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরানে ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় যোগ দিতে যাওয়া স্পিকার ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে তেহরানে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইরানের স্পিকার। বৈঠকে তিনি ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার শতবর্ষের পুরনো বন্ধুত্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
এদিকে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন স্পিকার হাফিজ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ইরানের জনগণসহ সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এই ধারা বজায় রাখবে।
বৈঠক শেষে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের স্পিকার গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
এর আগে, খামেনির জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে বৃহস্পতিবার তেহরান পৌঁছান হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরানের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।
১০৪ দিন আগে
ইরান- যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ, কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে
ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চেয়ে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আজ সোমবার শেষ হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ লেবাননে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হওয়ায় এ বিষয়ে সপ্তাহজুড়েই কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সেলে লেবানন সরকারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি ‘লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করবে’।
তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ থামাতে এই উদ্যোগ যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লেবাননের কিছু এলাকা দখল করে রাখা ইসরায়েল বলেছে, উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের স্বাধীনতা তারা বজায় রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
আলোচনাগুলো ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে লেবাননের সংঘাত এখনও অন্যতম বড় অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
উত্তেজনাপূর্ণ সূচনা
রবিবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই এক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়ে এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলে তেহরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘লেবাননে ইরানকে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের (সহযোগী গোষ্ঠী) মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তবে আমরা গত সপ্তাহের মতো আবারও ইরানে খুব জোরালো আঘাত হানব, তবে এবার আঘাত হবে আরও মারাত্মক।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের জন্য ইরানকে আলোচনায় ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক্সে লেখেন, ‘তাদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ভিন্নভাবে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু কাজ করি আমরা।’
তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লেখেন, ‘পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতা লেবানন যুদ্ধের অবসানে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, আলোচনার প্রথম ‘বাস্তব পরীক্ষা’ হবে ডি-কনফ্লিকশন সেল লেবাননের সংঘর্ষ বন্ধ করতে পারে কি না।
কারিগরি আলোচনা চলবে
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকটি প্রায় ৮০ মিনিট ধরে চলে।
বৈঠক শেষে পাকিস্তান ও কাতার জানায়, পুরো সপ্তাহজুড়ে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে। এসব আলোচনা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
১১৫ দিন আগে
ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই নতুন করে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ মে) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। এছাড়া পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন অভিযোগে ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালায় তারা।
সোমবার দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে রাখা নৌযানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর পর এবার নতুন করে এই সামরিক পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগন জানিয়েছে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সংযতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর আগে, স্থানীয় সময় বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান প্রায় তিন মাসের সংঘাত নিরসনে তার প্রশাসন অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে আলোচনা এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ট্রাম্প মূলত এমন একটি সমঝোতা চান যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং তিনি দাবি করতে পারবেন যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা গেছে। রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই সংঘাতের ইতি টানতেও তিনি আগ্রহী।
তবে, সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এমনকি তার নিজ দলের কয়েকজন সমর্থকও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব দুর্বল হলেও আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে।
অবশ্য নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান নীতিতে এর কোনো প্রভাব নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল, আমাকে অপেক্ষায় রেখে দেবে। বলছিল, তার তো মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে, কিন্তু আমি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবি না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা চায় একটি চুক্তি হোক, তা খুব করে চায়। তবে এখনও সেখানে (চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায়) পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টিতে আমরা সন্তুষ্ট নই, তবে হব; নতুবা আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’
সম্ভাব্য সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার, লিন্ডসে গ্রাহাম ও টেড ক্রুজসহ ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, আলোচনায় উঠে আসা শর্তগুলো তেহরানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাজনক হতে পারে।
তাদের অভিযোগ, সম্ভাব্য এই চুক্তির কিছু অংশ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন।
সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, তেহরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এক কর্মকর্তা জানান, ৬০ দিনের আলোচনায় ঠিক হবে কীভাবে ইরান ইউরেনিয়াম ছাড়বে। ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ পাতলা করা হতে পারে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে।
তবে ট্রাম্প বুধবার বলেন, রাশিয়া বা চীনের কাছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে তিনি ‘স্বস্তিবোধ করবেন না’।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছাতে খুব অল্প প্রযুক্তিগত ধাপ দূরে। তবে ইরান এখনও প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
১৪০ দিন আগে
আজকের মধ্যেই ইরান সংঘাত নিয়ে ‘দৃঢ় চুক্তি’ সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা রুবিওর
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের কাছে বর্তমানে চলমান সংঘাতের ‘ভালো একটি প্রস্তাব’ রয়েছে এবং আজকের (সোমবার) মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৫ মে) ভারত সফরকালে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচকদের এই চুক্তির জন্য ‘তাড়াহুড়া না করার’ নির্দেশ দেওয়ার পর রুবিও এই মন্তব্য করলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। অবশ্য ট্রাম্প নিজেই আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে চুক্তিটি সম্পাদন হওয়ার খুব কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।
খবর অনুযায়ী, এই চুক্তির মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি পরিকল্পনা।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক খবরে আজ (সোমবার) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেশ কমে গেছে এবং এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
নয়া দিল্লিতে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ চুক্তির বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আপনারা জানেন যে আমি বলেছিলাম, গতরাতেই হয়তো কোনো খবর পাব। তবে আজ পেতে পারি।’
হরমুজ প্রণালির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তাদের প্রণালিটি খুলে দেওয়ার সামর্থ্যের ব্যাপারে আমাদের কাছে বেশ ভালো একটি প্রস্তাব রয়েছে।’ উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। ইরান এটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
তবে, এ নিয়ে এখনই ‘অতিরিক্ত কিছু না ভাবার’ জন্য সতর্ক করে রুবিও বলেন, ‘ইরানের কাছ থেকে উত্তর আসতে কিছুটা সময় লাগবে।’
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে আছেন। এর ফলে তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা ধীরগতিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত সপ্তাহের জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষই চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একইসঙ্গে ‘খুব কাছে এবং আবার খুব দূরে’ অবস্থান করছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের মতে, এই চুক্তিটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিধি ও সময়সীমা, ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা তহবিল মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের দাবির মতো কিছু জটিল বিষয় পরবর্তীতে আলোচনার জন্য তুলে রাখা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের মধ্যেই বিভেদ তৈরি করেছে। দলটির কিছু সদস্য প্রকাশ্যে যুক্তি দিচ্ছেন যে এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত শৈথিল্য দেখানো হয়ে যাচ্ছে।
সিনেটর টেড ক্রুজ বলেছেন, এটি হবে একটি ‘বিপর্যয়কর’ ভুল। অন্যদিকে, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির অর্থ হবে, অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তার সব বৃথা হওয়া।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এমন যেকোনো চুক্তির সমালোচনা করেছেন, যার ফলে ইরান এই অঞ্চলে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবেই রয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘এতে মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে যুদ্ধটা শুরু হয়েছিলই বা কেন?’
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি সেইসব হেরে যাওয়া মানুষদের কথা শোনেন না, যারা নিজেরা কিছু না জেনেও সমালোচনা করে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমি যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তবে সেটি একটি ভালো এবং যথাযথ চুক্তিই হবে।’
তবে সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হলেও, এই চুক্তির প্রভাব এখনই সরাসরি দেখা যাবে না।
ভেসপুচ্চি মেরিটাইমের প্রধান নির্বাহী এবং শিপিং কোম্পানি মার্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন বিবিসি রেডিও ৪-এর 'টুডে' অনুষ্ঠানে বলেন, শিপিং শিল্পের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল সংকটের আগের অবস্থায় সশরীরে ফিরে যেতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা করেন এভাবে, আগামী দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হলেও, এই শিল্প খাতটি কোনো ‘বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা পরিচালনগত পরিবর্তন’ আনার ক্ষেত্রে এখনও ‘সতর্ক এবং দ্বিধাগ্রস্ত’ থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল।
এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে, যা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘একটি চুক্তি চূড়ান্ত, প্রত্যয়িত এবং স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এটি পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।’ রবিবারের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরানকে ‘অবশ্যই বুঝতে হবে’ যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে তেহরান বারবার বলে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
মার্কিন গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ। এই স্তর থেকে অস্ত্রের উপযোগী ৯০ শতাংশ মাত্রার সমৃদ্ধকরণে পৌঁছাতে আর অল্প কিছু সময়ের প্রক্রিয়াই বাকি থাকে, যা দিয়ে হিসাব অনুযায়ী একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘ইরান বিশ্বকে এই নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত যে আমরা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাচ্ছি না।’
১৪৩ দিন আগে