ইরান
খামেনির ছেলেই কি হচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা?
ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিবেচিত হয়ে আসছেন। এমনকি গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরুর দিকে ইসরায়েলি হামলায় তার বাবার মৃত্যুর অনেক আগে থেকেই এই গুঞ্জন ছিল। তবে তিনি আগে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি।
ইসলামিক রিপাবলিকের ভেতরে রহস্যময় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মোজতবা খামেনিকে গত শনিবারের পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সেদিন সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার ৮৬ বছর বয়সী বাবা নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবার স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেলও নিহত হয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, মোজতবা খামেনি এখনও বেঁচে আছেন এবং ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি।
বিমান হামলার পর আলোচনায় খামেনিপুত্র
বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম বারবার আলোচনায় আসছে। যদিও অতীতে এই বিষয়টির সমালোচনা করা হয়েছিল এই বলে যে, এটি ইরানের সাবেক বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের একটি ধর্মতান্ত্রিক সংস্করণ তৈরি করতে পারে।
কিন্তু বর্তমানে তার বাবা এবং স্ত্রীকে কট্টরপন্থিরা আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শহিদ হিসেবে গণ্য করায়, ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর বয়োজ্যেষ্ঠ আলেমদের কাছে মোজতবার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্যানেলই দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে।
যিনিই নেতা হোন না কেন, তিনি বর্তমানে যুদ্ধে লিপ্ত ইরানি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ পাবেন এবং সেই সঙ্গে পাবেন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল ভাণ্ডার, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
মার্কিনভিত্তিক চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী ‘ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’-এর মতে, মোজতবা খামেনি তার বাবার প্রশাসনে অনেকটা ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির ছেলে আহমেদ খোমেনির মতো ভূমিকা পালন করতেন, যা ছিল সহকারী, বিশ্বস্ত সহযোগী, দ্বাররক্ষক এবং ক্ষমতাধর মধ্যস্থতাকারীর এক সংমিশ্রণ।
ভিন্নমতের মাঝে জন্ম
১৯৬৯ সালে মাশহাদ শহরে মোজতবা খামেনির জন্ম। এটি ছিল ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রায় ১০ বছর আগে, যখন তার বাবা শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন।
আলি খামেনির জীবনীতে উল্লেখ আছে, একবার শাহের গোপন পুলিশ বাহিনী সাভাক তাদের বাড়িতে ঢুকে এই আলেমকে মারধর করে। খামেনির সন্তানরা তখন ঘুম থেকে জেগে উঠলে মোজতবা ও অন্যদের বলা হয়েছিল যে তাদের বাবা ছুটিতে যাচ্ছেন।
প্রয়াত খামেনির ভাষ্যমতে, তখন আমি বলেছিলাম, মিথ্যে বলার দরকার নেই। আমি তাদের সত্যিটা বলেছিলাম।
শাহের পতনের পর খামেনি পরিবার তেহরানে চলে আসে। মোজতবা পরবর্তীতে ইরান-ইরাক যুদ্ধে রেভল্যুশনারি গার্ডের হাবিব ইবনে মাজাহির ব্যাটালিয়নের হয়ে যুদ্ধ করেন। এ ইউনিটের অনেক সদস্যই পরে খামেনি পরিবারের সমর্থনে বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা পদে আসীন হন।
১৯৮৯ সালে তার বাবা সর্বোচ্চ নেতা হন। এরপর মোজতবা খামেনি এবং তার পরিবার ইরানের অনেক রাষ্ট্রীয় শিল্প এবং শাহের একসময়ের অন্যান্য সম্পদ থেকে তহবিল সংগ্রহকারী ফাউন্ডেশনগুলিতে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ডলার এবং ব্যবসায়িক সম্পদের মালিকানা পান।
বাবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্ষমতার উত্থান
তেহরানে বাবার কার্যালয়ে কাজ করার মাধ্যমেই মোজতবার নিজস্ব ক্ষমতার উত্থান ঘটে। ২০০৮-০৯ সালের দিকে উইকিলিকস কর্তৃক প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় মোজতবাকে রাজপোশাকের পেছনের আসল ক্ষমতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একটি নথিতে দাবি করা হয়, মোজতবা স্বয়ং তার বাবার ফোন ট্যাপ করতেন। তার প্রধান দ্বাররক্ষক হিসেবে কাজ করতেন এবং দেশের ভেতরে নিজস্ব ক্ষমতার বলয় তৈরি করছিলেন।
২০০৮ সালের একটি নথিতে বলা হয়েছিল, মোজতবাকে শাসনব্যবস্থার ভেতরে একজন সক্ষম ও শক্তিশালী নেতা এবং ব্যবস্থাপক হিসেবে দেখা হয়, যিনি ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের অন্তত একটি অংশের উত্তরাধিকারী হতে পারেন; তার বাবাও হয়তো তাকে সেই দৃষ্টিতেই দেখেন। তবে সেখানে তার থিওলজিক্যাল বা ধর্মীয় যোগ্যতার অভাব এবং বয়সের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মতে, মোজতবা খামেনি রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্স এবং বাসিজ বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন—যারা গত জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করেছিল।
২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বাবার আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ দমনমূলক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করার অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোজতবার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা এখন ঝুঁকির মুখে
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পদে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনা আগে মাত্র একবারই ঘটেছে। প্রথম নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ৮৬ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর আলি খামেনি দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
এখন নতুন নেতা এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেবেন যখন ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং মার্কিন-ইসরায়েলি জোট ইরানের পারমাণবিক হুমকি ও সামরিক শক্তি নির্মূল করতে চাইছে। একইসঙ্গে তারা আশা করছে, ইরানি জনগণও হয়তো এই ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
ইরানের জটিল ক্ষমতা ভাগাভাগির এই ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতাই হলেন কেন্দ্রবিন্দু এবং রাষ্ট্রের সব বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি সামরিক বাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান কমান্ডার। এই রেভল্যুশনারি গার্ড কেবল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রতিরোধের অক্ষ এর নেতৃত্বই দেয় না, বরং ইরানের অর্থনীতি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের ওপরও তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
১ দিন আগে
ইরানের হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি আরব রাষ্ট্রগুলোর
মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যুদ্ধের সম্মুখসারিতে এসে পড়েছে। সার্বভৌমত্ব ও অবকাঠামোয় আঘাতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে দেশগুলো। এখনও সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও আবার হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে তেহরান। এসব হামলায় আরব ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি দেশগুলোর বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে।
এর ফলে নিরাপদ পর্যটন ও আর্থিককেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা উপসাগরীয় অঞ্চলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি দেশগুলোর তেল ও গ্যাস শিল্পেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, আরব দেশগুলো এই যুদ্ধ চায়নি এবং তা ঠেকাতে চেষ্টা করেছিল। তবে ইরানের এই হামলা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত তারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ‘সব সীমা ইতোমধ্যেই অতিক্রম হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। আমাদের অবকাঠামোর ওপর হামলা হচ্ছে। আমাদের আবাসিক এলাকাগুলোতেও হামলা হচ্ছে। এসব হামলার প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। সম্ভাব্য প্রতিশোধে প্রশ্নে আমাদের নেতৃত্বে সব বিকল্পই খোলা আছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের হামলা চলতে থাকলে আমরা কোনোভাবেই চুপ করে বসে থাকব না।’
আরব অঞ্চলজুড়ে বেশিরভাগ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ড্রোনগুলো সহজেই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি না করলেও বাণিজ্য ও ভ্রমণব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটাই ইরানের রণকৌশল। প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে চায়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইসরায়েলে যে পরিমাণ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, তার প্রায় সমপরিমাণ ছুড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর। উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই দেশটি ইরানের হামলার বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চাইলে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শিল্পকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে।
তবে তেহরানের এই কৌশল উল্টো ফলাফলও বয়ে আনতে পারে। কারণ ইরানের এ ধরনের পদক্ষেপ উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলতে পারে, এমনকি যেকোনো পর্যায়ে তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশও নিতে পারে। এখন পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর অনুমতি দেয়নি। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো একপর্যায়ে তারা সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
যদিও এখনও সে অবস্থায় পৌঁছায়নি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। আপাতত তারা প্রতিরক্ষার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অবশ্য যুদ্ধ কত দিন চলবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে সংঘাতে ইসরায়েলের পক্ষ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক—এমনটিও চায় না তাদের অনেকে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসন এবং লেবানন ও সিরিয়ার মতো দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ আরব দেশগুলোর সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছে। গত বছর হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যাচেষ্টা করতে গিয়ে কাতারে বোমা হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি আরব দেশগুলো। ওই ঘটনার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল তারা।
তবে ইরানের হামলার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে যে ঐক্য জোরদার হচ্ছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) জরুরি বৈঠকে বসে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্য দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। বৈঠকে তারা সংহতি প্রকাশ করে এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি ভূখণ্ড, নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ‘সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ অঙ্গীকার করে। তাদের ওই আলোচনায় আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এদিকে, আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘যুদ্ধ আপনাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়। নিজেদের আশপাশে হামলা বন্ধ করুন। বিচ্ছিন্নতা ও উত্তেজনার পরিধি আরও বাড়ার আগেই বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিবেশীদের সঙ্গে আচরণ করুন।’
১ দিন আগে
ইরানে সহস্রাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত, ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর হামলা-পাল্টা হামলা
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার পর থেকে গত চারদিনে তেহরানে ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮১ জনই দশ বছরের কম বয়সী শিশু।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউমেন রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বেসামরিক আহতের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০২-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১০০ জনই শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০৪টি হামলা হয়েছে। হামলাগুলো সামরিক ঘাঁটি, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে।
এইচআরএএনএ বলেছে, বর্তমানে আরও শত শত মৃত্যুর ঘটনা যাচাই প্রক্রিয়াধীন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল রাত ৮টায় উত্তর ইসরায়েলের হাইফা নৌ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরে জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি আঘাতকারী ক্ষেপনাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও একটি বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
হিজবুল্লাহ পরে দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের মেটুলা শহরের ইসরায়েলি বাহিনীর ওপরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ১৬টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের ঐ স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ জারি করেছে। ওইসব এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাজদাল সেলম, হৌলা এবং শক্রা।
লেবাননের আল মায়াদিন টেলিভিশন জানিয়েছে, মাউন্ট লেবানন অঞ্চলের আরামউন এবং সাদিয়াত এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। বৈরুতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তারা বলেছে, এ হামলায় আরও আটজন আহত হয়েছেন।
এর আগে, লেবানন জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০-এ পৌঁছেছে এবং ৩৩৫ জন আহত হয়েছেন।
১ দিন আগে
কুয়েতের বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত ৬ মার্কিন সেনা
কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরের ভেতরে অপারেশন সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলায় ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) এ ড্রোন হামলা চালানো হয়। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণ ও এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটি প্রধান সেনাঘাঁটি থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত।
গতকাল (মঙ্গলবার) আইওয়া-ভিত্তিক সরবরাহ ও লজিস্টিকস ইউনিটে কাজ করা নিহত এক সেনার স্বামী জানান, কেন্দ্রটি ছিল শিপিং কনটেইনারের মতো একটি ভবন এবং সেখানে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না।
সিএনএন ও সিবিএস নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে হামলা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান এর জবাবে কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, আরও মার্কিনি হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার বলেন, একটি কৌশলগত অপারেশনস সেন্টারে আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছয় সেনা নিহত হন। পরদিন পেন্টাগন নিশ্চিত করে, পোর্ট শুয়াইবায় এটি ছিল ড্রোন হামলা এবং নিহত চার সেনার নাম প্রকাশ করে।
সোমবার তোলা এবং এপি পর্যালোচিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের প্রধান ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখান থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে। এটি কুয়েত সিটির দক্ষিণে অবস্থিত সচল সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চল পোর্ট শুয়াইবার কেন্দ্রে অবস্থিত।
তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ছবিটি রবিবারের হামলার স্থানই দেখাচ্ছে।
প্রধান সেনাঘাঁটি ক্যাম্প আরিফজান সেখান থেকে ১০ মাইলের বেশি দক্ষিণে। অপারেশন সেন্টারটি বাণিজ্যিক জাহাজের কনটেইনার খালাসের ঘাট থেকে প্রায় এক মাইল দূরে এবং চারপাশে তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, শোধনাগার ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল।
ফার্স্ট ক্লাস সার্জেন্ট নিকোল আমরের স্বামী জোয়ি আমর বলেন, ইরানি হামলার এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রীকে ঘাঁটির বাইরে শিপিং কনটেইনারের মতো একটি ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মিনেসোটার ৩৯ বছর বয়সী নিকোল ওই হামলায় নিহত হন।
তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল, কারণ তারা আশঙ্কা করছিল যে যে ঘাঁটিতে তারা ছিল সেটি হামলার লক্ষ্য হতে পারে। তারা মনে করেছিল, ছোট ছোট দলে আলাদা স্থানে থাকাই নিরাপদ।
অপারেশন সেন্টার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, নিরাপদ স্থাপনাটি ছয় ফুট উঁচু দেয়াল দিয়ে সুরক্ষিত ছিল। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে; প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তবে ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কী ভূমিকা রাখতে পারত বা বন্দরের কমান্ড সেন্টারের আশপাশে কী ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল—এ বিষয়ে পারনেলের দপ্তর কোনো জবাব দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করা অনুচিত হবে।
১ দিন আগে
ইরানে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭
ইরানে চলমান ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ হামলা চালানো হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননে বিমান হামলা বাড়িয়েছে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করেছে, যা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, অন্তত দুইটি ড্রোন সৌদি রাজধানীর মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত হেনেছে। এর ফলে অগ্নিকাণ্ড এবং সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী রিয়াদ এবং পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর দিকে ধাবমান আরও বেশ কিছু ড্রোন প্রতিহত করেছে।
হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ট কর্মকর্তা বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলার পর তাদের প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। মাহমুদ কামাতি ঘোষণা করেছেন, ইসরায়েল একটি উন্মুক্ত যুদ্ধের চেষ্টা করেছিল এবং আমরা এখন তার মুখোমুখি হব। তিনি আরও বলেন, ধৈর্যের যুগ শেষ হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে যে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র যা ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড দিয়ে সজ্জিত ছিল, তা মধ্য ইসরায়েলের পেটাহ টিকভা শহরে আঘাত হেনেছে। চ্যানেল ১২ অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি শহরটিতে আঘাত হানে। দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল জানায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষগুলো এলাকার ক্ষতি করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ইরানের হামলাকে বিশ্বস্ততাহীন আক্রমণ হিসেবে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানায়, রাজ্যের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে, যার মধ্যে হামলার জবাব দেওয়ার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।
২ দিন আগে
রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও ঘণীভূত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অন্তত দুইটি ড্রোন সৌদি রাজধানীর মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত হেনেছে। এর ফলে অগ্নিকাণ্ড এবং সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী রিয়াদ এবং পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর দিকে ধাবমান আরও বেশ কিছু ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি এ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে এতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে দেশটি।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর ফলে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে।
এই প্রণালী বন্ধের ফলে বিশ্ববাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় তেলের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ ঝুঁকির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ কোম্পানি এবং বিমাকারীরা এই প্রণালী এড়িয়ে চলছে বলে জানা গেছে।
তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের ভূখণ্ডে সরকারি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এই পদক্ষেপের জবাবে ইরানি বাহিনী দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে, যার মধ্যে ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অন্তর্ভুক্ত।
এই বিস্তৃত সংঘাত বিশ্বনেতাদের মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিণতির পাশাপাশি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘সংঘাত গভীরতর’, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর তিনি দেশটির অবশিষ্ট নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) তিনি এ কথা জানান। এমন সময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন যখন ইরানের শহরগুলোতে দ্বিতীয় দিনের ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলছে এবং তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভীতি তৈরি করেছে।
আজ (সোমবার) লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। আগের দিন খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হিজবুল্লাহ।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেন, বর্তমানে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। আমরা নিজেদের রক্ষা করছি এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সংঘাত শুরু করেনি। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা চালানোর খবর অস্বীকার করেন।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি শনিবার নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জানান যে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা একাধিক শহরের বেসামরিক এলাকাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বোমাবর্ষণের দ্বিতীয় দিনের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণের শহর মিনাবের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় ১৬৫ জন নিহত হয়েছে।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতদের মধ্যে খামেনি ছিলেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে শাসন করছিলেন তিনি।
বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করছিল।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, খামেনি যখন তেহরানে তার কার্যালয়ে শীর্ষ প্রতিরক্ষা সহযোগীদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন, তখন সিআইএ ইসরায়েলকে সে তথ্য দেয়, যা হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্বকে অপ্রস্তুত রাখতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল। অভিযানের দিন সকালে সেনা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছিল, তারা যেন তাদের গাড়িগুলো নিয়মিত জায়গায় পার্ক না করেন, যাতে ইরানের গোয়েন্দারা কিছু বুঝতে না পারে। এমনকি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বাড়িতেই অবস্থান করছেন—এমন ভুল তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তাদের বরাতে চ্যানেলটি জানিয়েছে, হামলার প্রথম ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ৩০ জন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যা করে।
৩ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তেলের সরবরাহ ধীর হয়ে যেতে পারে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ওই অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুইটি জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আরও বাড়তে পারে।
সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। শুক্রবার এর দাম ছিল প্রায় ৬৭ ডলার, যা থেকে সোমবার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার সকালেই ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়। ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার এর দাম ছিল ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার, যা ছিল সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সোমবার এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে ভোক্তাদের পাম্পে গিয়ে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে। একইসঙ্গে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এমন সময় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, যখন অনেক দেশেই মানুষ ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ভুগছে।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে এই নৌপথকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে ধরা হয়। ইরানের উত্তরে অবস্থিত এই প্রণালী দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সামরিক মহড়ার কথা বলে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ বন্ধ করে দেয়। এর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ওপেক প্লাস জোটভুক্ত আটটি দেশ রোববার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগেই নির্ধারিত বৈঠকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক জানায়, এপ্রিল মাসে তারা প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াবে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও এই পরিমাণ বেশি। উৎপাদন বাড়ানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান।
রিস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে ওপেকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বাজারে মূল উদ্বেগ হলো তেলের চালান ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে কি না’
তিনি জানান, ‘যদি উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত হয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত তেল উৎপাদ তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি স্বস্তি দিতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন লক্ষ্য নয়, বরং রপ্তানি পথ সচল থাকা অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে।’
এদিকে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই যায় চীনে। ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে পর্যাপ্ত কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটি চাইলে রাশিয়া থেকেও তেল আমদানি বাড়াতে পারে।
৩ দিন আগে
ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পের কি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—এ হামলার আগে হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল কিনা!
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ‘এপিক ফিউরি’ নামে ব্যাপক আকারের বিমান হামলা শুরু করে। অপরদিকে, ইসরায়েল তাদের অভিযানকে ‘লায়নস র্যোর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর এ হামলা হয় এবং এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা দেখা যায়।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। একইসঙ্গে সংবিধানের কিছু বিধান প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিস্তৃত ক্ষমতা দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের একটি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ক্যাপিটল হিলে প্রতিক্রিয়া মূলত দলীয় বিভাজন অনুযায়ী এসেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানরা বেশিরভাগই হামলাকে সমর্থন দিয়েছেন।
স্পিকার মাইক জনসন জানান, অভিযানের আগে প্রশাসন ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত উভয় দলের জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতাদের একটি গোষ্ঠীকে ব্রিফ করেছিল।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই তিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন। তারা অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করতে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ আনার আহ্বান জানান। অবশ্য রিপাবলিকানদের সীমিত সমর্থনের কারণে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই শিশু।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর বেইত শেমেশে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে এবং তেল আবিবেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। আবুধাবি ও দুবাই বিমানবন্দরেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে হামলা পরিচালনা করছে। তিনি ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে বোমা হামলার ঘটনাকেও সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন—যা পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করে এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
ট্রাম্প আরও বলেন, অভিযানে ইরানের ১০-১২ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নির্মূল করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর বদলে অভিযানটি দীর্ঘমেয়াদি বিমান ও নৌ-অভিযানের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দশ হাজারের মতো সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনও তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, জরুরি হুমকি দূর করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতার সীমা ও সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
৩ দিন আগে
দক্ষিণ ইরানে মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ১৫৩
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি স্কুলে এই হামলা চালানো হয়।
ইরান কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়টি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত। অতীতেও আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি নিয়ে পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ওই এলাকায় কোনো ইসরায়েলি অভিযানের বিষয়ে তারা অবগত নয়।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে দেশজুড়ে বিমান হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
জেনেভায় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানান, মিনাবের ওই স্কুলটিতে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং এটি আইআরজিসি ঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ধোঁয়া উঠছে এবং চারপাশে আতঙ্কিত মানুষ জড়ো হয়ে চিৎকার করছে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে একে ‘বর্বরোচিত কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আরেকটি কালো অধ্যায় যোগ করার অভিযোগ তুলেছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি কমাতে সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ বিদেশি শক্তিকে দোষারোপ করেছেন; আবার কেউ বিমান হামলার সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র ও ইন্টারনেট সুবিধার অভাবের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন।
এ হামলা এমন সময়ে ঘটল, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলা ইরানের বিভিন্ন শহরে অব্যাহত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
৩ দিন আগে