ইরান
ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই নতুন করে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ মে) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। এছাড়া পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন অভিযোগে ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালায় তারা।
সোমবার দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে রাখা নৌযানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর পর এবার নতুন করে এই সামরিক পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগন জানিয়েছে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সংযতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর আগে, স্থানীয় সময় বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান প্রায় তিন মাসের সংঘাত নিরসনে তার প্রশাসন অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে আলোচনা এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ট্রাম্প মূলত এমন একটি সমঝোতা চান যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং তিনি দাবি করতে পারবেন যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা গেছে। রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই সংঘাতের ইতি টানতেও তিনি আগ্রহী।
তবে, সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এমনকি তার নিজ দলের কয়েকজন সমর্থকও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব দুর্বল হলেও আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে।
অবশ্য নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান নীতিতে এর কোনো প্রভাব নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল, আমাকে অপেক্ষায় রেখে দেবে। বলছিল, তার তো মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে, কিন্তু আমি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবি না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা চায় একটি চুক্তি হোক, তা খুব করে চায়। তবে এখনও সেখানে (চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায়) পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টিতে আমরা সন্তুষ্ট নই, তবে হব; নতুবা আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’
সম্ভাব্য সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার, লিন্ডসে গ্রাহাম ও টেড ক্রুজসহ ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, আলোচনায় উঠে আসা শর্তগুলো তেহরানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাজনক হতে পারে।
তাদের অভিযোগ, সম্ভাব্য এই চুক্তির কিছু অংশ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন।
সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, তেহরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এক কর্মকর্তা জানান, ৬০ দিনের আলোচনায় ঠিক হবে কীভাবে ইরান ইউরেনিয়াম ছাড়বে। ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ পাতলা করা হতে পারে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে।
তবে ট্রাম্প বুধবার বলেন, রাশিয়া বা চীনের কাছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে তিনি ‘স্বস্তিবোধ করবেন না’।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছাতে খুব অল্প প্রযুক্তিগত ধাপ দূরে। তবে ইরান এখনও প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
১৮ দিন আগে
আজকের মধ্যেই ইরান সংঘাত নিয়ে ‘দৃঢ় চুক্তি’ সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা রুবিওর
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের কাছে বর্তমানে চলমান সংঘাতের ‘ভালো একটি প্রস্তাব’ রয়েছে এবং আজকের (সোমবার) মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৫ মে) ভারত সফরকালে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচকদের এই চুক্তির জন্য ‘তাড়াহুড়া না করার’ নির্দেশ দেওয়ার পর রুবিও এই মন্তব্য করলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। অবশ্য ট্রাম্প নিজেই আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে চুক্তিটি সম্পাদন হওয়ার খুব কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।
খবর অনুযায়ী, এই চুক্তির মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি পরিকল্পনা।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক খবরে আজ (সোমবার) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেশ কমে গেছে এবং এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
নয়া দিল্লিতে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখনও এ চুক্তির বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আপনারা জানেন যে আমি বলেছিলাম, গতরাতেই হয়তো কোনো খবর পাব। তবে আজ পেতে পারি।’
হরমুজ প্রণালির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তাদের প্রণালিটি খুলে দেওয়ার সামর্থ্যের ব্যাপারে আমাদের কাছে বেশ ভালো একটি প্রস্তাব রয়েছে।’ উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। ইরান এটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
তবে, এ নিয়ে এখনই ‘অতিরিক্ত কিছু না ভাবার’ জন্য সতর্ক করে রুবিও বলেন, ‘ইরানের কাছ থেকে উত্তর আসতে কিছুটা সময় লাগবে।’
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে আছেন। এর ফলে তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা ধীরগতিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত সপ্তাহের জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষই চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একইসঙ্গে ‘খুব কাছে এবং আবার খুব দূরে’ অবস্থান করছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের মতে, এই চুক্তিটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিধি ও সময়সীমা, ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা তহবিল মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের দাবির মতো কিছু জটিল বিষয় পরবর্তীতে আলোচনার জন্য তুলে রাখা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের মধ্যেই বিভেদ তৈরি করেছে। দলটির কিছু সদস্য প্রকাশ্যে যুক্তি দিচ্ছেন যে এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত শৈথিল্য দেখানো হয়ে যাচ্ছে।
সিনেটর টেড ক্রুজ বলেছেন, এটি হবে একটি ‘বিপর্যয়কর’ ভুল। অন্যদিকে, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির অর্থ হবে, অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তার সব বৃথা হওয়া।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এমন যেকোনো চুক্তির সমালোচনা করেছেন, যার ফলে ইরান এই অঞ্চলে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবেই রয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘এতে মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে যুদ্ধটা শুরু হয়েছিলই বা কেন?’
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি সেইসব হেরে যাওয়া মানুষদের কথা শোনেন না, যারা নিজেরা কিছু না জেনেও সমালোচনা করে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমি যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তবে সেটি একটি ভালো এবং যথাযথ চুক্তিই হবে।’
তবে সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হলেও, এই চুক্তির প্রভাব এখনই সরাসরি দেখা যাবে না।
ভেসপুচ্চি মেরিটাইমের প্রধান নির্বাহী এবং শিপিং কোম্পানি মার্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন বিবিসি রেডিও ৪-এর 'টুডে' অনুষ্ঠানে বলেন, শিপিং শিল্পের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল সংকটের আগের অবস্থায় সশরীরে ফিরে যেতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা করেন এভাবে, আগামী দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হলেও, এই শিল্প খাতটি কোনো ‘বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা পরিচালনগত পরিবর্তন’ আনার ক্ষেত্রে এখনও ‘সতর্ক এবং দ্বিধাগ্রস্ত’ থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল।
এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে, যা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘একটি চুক্তি চূড়ান্ত, প্রত্যয়িত এবং স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এটি পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।’ রবিবারের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরানকে ‘অবশ্যই বুঝতে হবে’ যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে তেহরান বারবার বলে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
মার্কিন গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ। এই স্তর থেকে অস্ত্রের উপযোগী ৯০ শতাংশ মাত্রার সমৃদ্ধকরণে পৌঁছাতে আর অল্প কিছু সময়ের প্রক্রিয়াই বাকি থাকে, যা দিয়ে হিসাব অনুযায়ী একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘ইরান বিশ্বকে এই নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত যে আমরা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাচ্ছি না।’
২১ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের জের: আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের শঙ্কায় আরব আমিরাত
সহিংসতা ও অস্থিরতায় ভরা মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘ সময়জুড়ে আরব আমিরাত নিজেদের ‘আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের একটি নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে প্রচার করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে ইরানের চক্ষূশূল হওয়ায় ধীরে ধীরে মুখ থুবড়ে পড়ছে দেশটির অর্থনীতি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে অন্যান্য যেকোনো দেশের তুলনায় সব থেকে বেশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আমিরাতের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পর্যটন ও সম্মেলন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের ওপারে অবস্থিত ইরানের ঠিক বিপরীত দেশ আরব আমিরাত নিজেদের শক্তিশালী ও অবিচল দেখানোর চেষ্টা করলেও দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। সম্প্রতি তারা হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে তারা ওপেক তেল কার্টেল থেকে সরে এসেছে। অবশ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই তারা এই পরিকল্পনা করেছিল।
প্রথম থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রত্যক্ষভাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। তবে আস্তে আস্তে এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে আরব আমিরাত। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যখন যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরান ড্রোন হামলা করে।
তবে এই প্রতিকূল অবস্থা ও সংকটের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতি টিকে আছে। চলমান এই সংকট এখনও কর্মসংস্থান হ্রাস বা বৈদেশিক বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। একটি বিশাল পরিমাণে নগদ উদ্বৃত্তের সঞ্চয় দেশটিকে এই সম্ভাব্য মন্দা থেকে অনেকটা বাঁচিয়ে রেখেছে।
তবে এই সংকট যত দীর্ঘ হবে, ততই আমিরাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। ধীরে ধীরে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে দেশটি তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে।
বর্তমানে আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমানভাবে জলদস্যুতা এবং এমনকি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলছেন এবং সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
রবিবার (১৭ মে) রাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই আমিরাত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি কোনো প্রকার হুমকি সহ্য করবে না। যেকোনো হুমকি, অভিযোগ বা শত্রুতার জবাব দিতে এটি তার পূর্ণ, সার্বভৌম, বৈধ, কূটনৈতিক ও সামরিক অধিকারের প্রয়োগ করবে আমিরাত।
আমিরাতের শাসক পরিবারও আরও আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বারাকাহ হামলায় আমিরাত কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই হামলায় আবুধাবির সুদূর পশ্চিমের মরুভূমিতে অবস্থিত পারমাণবিক কেন্দ্রটিতে তেজস্ক্রিয়তা নির্গমন হয়নি এবং এর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আমিরাত মূলত সাতটি স্বৈরতান্ত্রিকভাবে শাসিত শেখ শাসনের একটি ফেডারেশন, যার মধ্যে রয়েছে দুবাই ও আবুধাবি। দেশটির শীর্ষ শাসক সংস্থা হলো ফেডারেল সুপ্রিম কাউন্সিল, যা সাতটি আমিরাতের বংশানুক্রমিক শাসকদের নিয়ে গঠিত। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবুধাবির শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও তার পরিবারের আধিপত্য বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শাসক পরিবারটি গত কয়েক দশক ধরে আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ। আমিরাত ২০১৩ সালে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিল। সঙ্গে সঙ্গে সুদান ও লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। তবে তারা এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
প্রকাশ্যে খুব কম কথা বলা শেখ মোহাম্মদ মার্চ মাসে একটি হাসপাতালে ইরানি হামলায় আহতদের দেখতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেছিলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আমিরাত আকর্ষণীয়, আমিরাত সুন্দর, আমিরাত একটি আদর্শ। কিন্তু আমি তাদের বলব, আমিরাতের চেহারা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আমিরাতের চামড়া কিন্তু অত্যন্ত মোটা এবং মাংস তিতা। আমাদের ঘায়েল করা অত সহজ নয়।’
অর্থনৈতিক সতর্কতার লক্ষণ
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া আমিরাতের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে, যদিও কয়েকটি ট্যাংকার ওই নৌপথ দিয়ে বের হতে সক্ষম হয়েছে। প্রণালির বাইরে ওমান উপসাগরে অবস্থিত তেল টার্মিনালসহ ফুজাইরাহ শহরে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা যাচ্ছে। আমিরাত সেই সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে দ্বিতীয় পাইপলাইন দ্রুত নির্মাণ করার চেষ্টা করছে।
তবে ইরান যুদ্ধের জেরে আমিরাতের পর্যটন ও সম্মেলন বাজার কঠিন আঘাতের মুখে পড়েছে। এটি দেশটির মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের ১২ শতাংশেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।
কাতারভিত্তিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান নর্থবোর্ন অ্যাডভাইজরির তথ্য অনুযায়ী, যারা যুদ্ধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমিরাতে ৭০টিরও বেশি নির্ধারিত অনুষ্ঠান স্থগিত, বাতিল বা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমিরাত সরকার অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি, তবে আয়োজকরা সম্ভবত ‘বীমা প্রত্যাহার ও দায়বদ্ধতার ঝুঁকির’ কারণে পরিকল্পনাগুলো পরিবর্তন করেছেন।
দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিষয়ে গত ৪ মে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানসংস্থা এমিরেটস ঘোষণা করে যে তাদের প্রায় সম্পূর্ণ ফ্লাইট সূচি পুনরায় চালু হয়েছে। কিন্তু সেই একই দিন ইরান একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ ঘটনার পর মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয় যা আমিরাতে অবস্থানরত দেশে ফিরতে আগ্রহী ব্যবসায়ী সমাজে হাহাকার সৃষ্টি করে।
বিমানবন্দরটি এখন তার জেট জ্বালানি ট্যাংকের চারপাশে একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সেখানকার কর্মকর্তারা আলোচনা করতে রাজি হননি।
দখলের হার প্রায় ২০ শতাংশে নেমে আসায় দুবাইয়ের আইকনিক বুর্জ আল আরবসহ একাধিক হোটেলের সংস্কার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষক সংস্থা মুডিজ অ্যানালিটিক্স অনুমান করছে, এই হার জুন প্রান্তিকে ১০ শতাংশে নামবে, যা যুদ্ধের আগে ছিল ৮০ শতাংশ।
মুডিজ সতর্ক করেছে যে, দখলের হার সম্ভবত ২০২৬ সালের বাকি সময় আরও নিম্নমুখী থাকবে, কারণ যুদ্ধ থামলেও পর্যটকরা ভ্রমণে দ্বিধাগ্রস্ত থাকবেন।
সোমবার (১৮ মে) প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউটের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের উন্মুক্ততা এটিকে ভ্রমণ, লজিস্টিক্স ও আস্থার ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে, তবে আবুধাবির ব্যালেন্স শিট ও জ্বালানি সম্পদ ফেডারেশনকে আঘাত সামলে নেওয়ার সক্ষমতাও দেয়।
কয়েন-চালিত যুদ্ধবিমানের শিল্পকর্ম
দুবাই বিশেষভাবে দেখানোর চেষ্টা করছে যে দেশটি এখনও সক্রিয়। গত সপ্তাহের শেষে দুবাই তার বার্ষিক আর্ট দুবাই শোয়ের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ আয়োজন করেছে। সেখানে একটি শিল্পকর্ম ছিল। শিল্পকর্মটি একটি কয়েন-চালিত কালো যুদ্ধবিমান। এটি একটি কালো নাইকি টেনিস জুতা দিয়ে ঢাকা ছিল।
স্পেনের শিল্পী সুলিমান লোপেস একটি ধাতু-সমৃদ্ধ গ্রহাণুর মালিকানা দাবির ধারণাকে কেন্দ্র করে একটি শিল্পকর্ম নিয়ে এসেছিলেন, যেটি নাসার একটি মিশনের লক্ষ্যকে ইঙ্গিত দেয়। দেশ ও কোম্পানিগুলো কীভাবে তেল ও অন্যান্য পণ্য আহরণ করে, শিল্পকর্মটি তার প্রতিফলন ঘটায়।
তবে চলমান এই যুদ্ধাবস্থা লোপেসকে তার শিল্পকর্ম নিয়ে দুবাইয়ে যোগ দেওয়ার বিষয়টি কঠিন করে তুলেছিল। এই শিল্পী বলেন, ‘তবে আমি বললাম, আমাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, কারণ আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে এই অঞ্চলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য এটিই উপযুক্ত জায়গা।’
বৈরুতের শিল্পী আলফ্রেড তারাজি উল্লেখ করেন, তার দাদা-দাদি দুটি বিশ্বযুদ্ধ পার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বযুদ্ধেও জীবন থেমে থাকে না। আমরা সহিংসতার বিরুদ্ধে সংস্কৃতি দিয়েই লড়াই করব।’
২৬ দিন আগে
ইরানের জন্য ‘ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করছে’ বলে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত শান্তি আলোচনা বাতিল করা হয়েছে এবং ‘ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করছে’। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইরানের দ্রুত নড়েচড়ে বসা উচিত, নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ সময়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট সঙ্গে ইসরায়েলের আলোচনার পর নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল এসব কথা জানায়।
এদিকে, ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির মতে, ওয়াশিংটনের এই আপোষহীন মনোভাব আলোচনাকে ‘স্থবির’ করে দেবে।
এই সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প বলেছিলেন যে যুদ্ধবিরতি ‘ব্যাপক লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। সেই সঙ্গে তেহরানের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে সেগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওই দাবিগুলো ছিল যথেষ্ট ‘দায়িত্বশীল’ এবং ‘উদার’।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল— সব রণাঙ্গনে তাৎক্ষণিক যুদ্ধের সমাপ্তি যা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান হামলারও অবসান ঘটাবে, ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি গতকাল (রবিবার) জানায়, ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে পাঁচটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখাতে হবে এবং অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্থানান্তর করতে হবে।
শুক্রবার (১৫ মে) ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, দুই দেশের মধ্যে বড় বিরোধের বিষয়, ইরানের এই পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টি তিনি মেনে নেবেন। এটি সম্পূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিলের দাবি থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। তবে পরবর্তীতে আলোচনা সহজ করার জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি মাঝে মাঝে গুলি বিনিময় সত্ত্বেও মোটামুটিভাবে মেনে চলা হচ্ছে।
২৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ অভিযোগ ইরানের
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন যে, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, যুক্তরাষ্ট্র তখনই একটি ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ পথ বেছে নেয়।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেছেন, ইরানিরা ‘কখনোই কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না’।
এমন সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই হামলার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব সংঘর্ষের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য হলো ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা বন্ধে আলোচনার পথ তৈরি করা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে। ইতালি সফরকালে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই আশা করি, এটি একটি গুরুতর প্রস্তাব হবে।’
ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায় দুই হাজার জাহাজকে মুক্ত করতে একটি সামরিক অভিযান শুরু করলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে এসব জাহাজ ওই এলাকায় আটকে রয়েছে।
এছাড়া, তেহরানকে মার্কিন শর্ত মেনে নিতে চাপ দিতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওমান উপসাগরে ইরানের একটি বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করা ইরানি পতাকাবাহী খালি দুটি তেলবাহী ট্যাংকার অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটি চলমান মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করে ট্যাংকার দুটির ধোঁয়ার চিমনিতে আঘাত হানে, যাতে সেগুলো ইরানে প্রবেশ করতে না পারে।
সেন্টকমের তথ্য অনুসারে, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ৭০টিরও বেশি ট্যাংকারকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছে।
পরে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল-লেবানন বৈঠকের নতুন দফা আয়োজন করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। এর লক্ষ্য লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ বন্ধ করা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, আগামী ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘নিবিড়’ আলোচনার উদ্দেশ্য হবে ‘ইসরায়েলের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা এবং লেবাননের জন্য সার্বভৌমত্ব ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করা।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, যেকোনো শান্তিচুক্তির জন্য হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে। তবে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। গত মাসে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি হলেও তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষে।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সব পক্ষ যেন আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘সংকটের মূল কারণ’সমাধান এবং ‘স্থায়ী শান্তি’প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার আগে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়, যার জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করেছে।
সেন্টকম অভিযোগ করে, ইরান তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি ছিল ‘উসকানিবিহীন হামলা’।
পাশাপাশি, ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসরমান একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও আরেকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা করেছে।
হরমোজগান প্রদেশের মিনাব উপকূলের কাছে হামলার শিকার হওয়া একটি মালবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানান দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই প্রদেশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহরকে তিনি বলেন, ‘আহত ১০ নাবিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং অন্য নাবিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে স্থানীয় এবং উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাতে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ছোট নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং এতে ‘ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যেমন আমরা তাদের আবারও গুঁড়িয়ে দিয়েছি, ভবিষ্যতেও যদি তারা দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তাহলে আরও কঠোর ও আরও সহিংসভাবে তাদের ওপর আঘাত হানা হবে।’
৩৭ দিন আগে
ইরানের একটি শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত
ইরানের রাজধানীর কাছে একটি শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।
মঙ্গলবার (৫ মে) তেহরান প্রদেশের আন্দিশেহ শহরের আরঘাভান শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে আজ (বুধবার) দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
টেলিভিশনে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন এবং বহুতল ভবনটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে।
তবে ঘটনাটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
৪০ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৫
হরমুজ প্রণালিতে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যে নৌযানগুলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বলে দাবি করছে, সেগুলো আসলে যাত্রীবাহী নৌকা ছিল।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের করা এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করেছে। ব্র্যাড কুপার বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার সময় তাদের মিশনে বাধা দেয় আইআরজিসির ৬টি নৌযান। সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ওই নৌযানগুলোকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানে ৭টি নৌকায় তারা হামলা চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে পরিচালিত মার্কিন অভিযান নাজুক এই যুদ্ধবিরতিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। এ অভিযানের ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসির নৌযানে হামলা করেছে, এমন দাবি তোলার পর তেহরান তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে দেখা গেছে, মার্কিন হামলায় আইআরজিসির কোনো নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) দুটি যাত্রীবাহী ছোট নৌকা ওমান উপকূলের খাসাব থেকে ইরানের উপকূলে যাচ্ছিল। পথে মার্কিন বাহিনী নৌকা দুটিতে হামলা চালায়।
ওই সামরিক কমান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নৌকাগুলো ঘটনাস্থলে ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা ৫ জন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন।
তিনি দাবি করেন, ‘এই অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
ইরানের এই অভিযোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরান এই জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এদিকে, ইরান এখন কঠোরভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হরমুজ প্রণালির যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পূরণ করতে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনী বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, অনুমতি ছাড়া এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আরও জানানো হয়, মার্কিন বাহিনী যদি এই জলপথের কাছে আসে বা প্রবেশ করে, তাহলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল। ইরান জাহাজটির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়াও ইরানি সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত ভূখণ্ডে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের এসব হামলায় পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আমিরাত ফুজাইরাহর একটি বড় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান করা দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ এইচএমএম নামুও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, একটি বিস্ফোরণে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন লেগে গিয়েছিল।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেসট্রয়ারের সহায়তায় সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ‘ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় উপসাগর ছেড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, সোমবার হরমুজে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় হামলার ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, চলমান রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অশুভ শক্তির প্ররোচনায় আবারও সংকটে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ইরানের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম পরিচালনাকারী মার্কিন জাহাজে হামলা হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আগের চেয়ে এখন আমাদের কাছে অনেক বেশি উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাটি আছে। এসব ঘাটিতে বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা সেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করব।
৪১ দিন আগে
ইরানের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনায় ট্রাম্প
যুদ্ধের ইতি টানতে ইরানের নতুন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ মার্চ) সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রস্তাব নিয়ে পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি যে তাদের এই প্রস্তাব প্রাসঙ্গিক হবে। কারণ বিগত ৪৭ বছরে তারা মানবতা এবং বিশ্বের প্রতি যে নির্দশন দেখিয়েছে, তার যথেষ্ট মূল্য এখনও পরিশোধ হয়নি।’
ইরানের আধা-সরকারি দুটি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং ফার্স জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান ৯ দফা মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পাকিস্তান এর আগেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখনও এই নতুন প্রস্তাব নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি নতুন পরিকল্পনাও উত্থাপন করেছেন।
জাহাজ কোম্পানিগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ দিলে জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান জাহাজে হামলা ও হুমকির মাধ্যমে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। পরে ইরান তাদের উপকূলঘেঁষা পথ দিয়ে কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে এবং কখনও কখনও এর জন্য ফিও আদায় করেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, কেবল নগদ অর্থ নয়, ডিজিটাল সম্পদ, বিনিময়, অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বা অন্য কোনো পণ্য বা সেবার বিনিময়, এমনকি দাতব্য অনুদান বা ইরানি দূতাবাসে অর্থ প্রদান করলেও জাহাজ কোম্পানিগুলো ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে। এর ফলে তেল রপ্তানি থেকে আয় কমে গিয়ে দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। আজ (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
৪৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার ও যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ খুলে দেবে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেয় এবং চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটায়, তবে হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করবে ইরান। একইসঙ্গে দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) যুদ্ধে মধ্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত দুইজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ-ভিত্তিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন বলে মনে হচ্ছে না। পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকানদের কাছে পৌঁছানো এই প্রস্তাবে সেই মতবিরোধগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে, যার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়েছিল। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এমন কোনো চুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত নেই।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের পার পেয়ে যেতে দিতে পারি না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা যেন এমন হয় যা তাদের যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড় থেকে নিশ্চিতভাবে বিরত রাখে।’
একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থায় আটকে আছে। যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। মার্কিন অবরোধের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে তাদের তেল বিক্রি করা থেকে বিরত রাখা, যাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যেখানে তেল সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় তেহরানকে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।
অন্যদিকে, প্রণালিটি বন্ধ থাকায় ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এটি তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে, যারা তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই জলপথ ব্যবহার করে।
অবরোধ অবসানের নতুন দাবি
মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে সার, খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা বাড়ছে। সোমবার নতুন করে অবরোধ অবসানের দাবি করেছে বিভিন্ন দেশ।
ইরানের প্রস্তাবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, তার যুদ্ধে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।
প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, চলতি সপ্তাহে ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়েছে। ইরানের এই প্রস্তাবের কথা প্রথম প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়া সফরে রয়েছেন। মস্কো দীর্ঘকাল ধরে তেহরানের প্রধান সমর্থক। রাশিয়া ইরানকে এখন কোনো সাহায্য করবে কি না বা করলে কী ধরনের সাহায্য করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলবোঝাই ট্যাঙ্কারগুলো উপসাগরে আটকা পড়ে আছে, কারণ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ কেন্দ্রে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই।
সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (অপরিশোধিত তেল) তেলের বাজারদর ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারের উপরে গিয়ে ঠেকেছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার দামের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবিতে অনেক দেশের
বাহরাইনের নেতৃত্বে একটি যৌথ বিবৃতিতে বেশ কিছু দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এই চাপের প্রভাব এখন খালি তেলের ট্যাঙ্কে, খালি তাকে (দোকানের শেলফ) এবং শূন্য থালায় গিয়ে পড়ছে।’
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস কোনো কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে নামার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সংঘাতের সমস্যা সবসময় একই রকম; এটি কেবল যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে নয়, আপনাকে এ থেকে বেরোনোর পথও জানতে হবে।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারোট সব পক্ষেরই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে হামলা করার পর এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রণালি হলো বিশ্বের ধমনী। এগুলো কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
রাশিয়ায় পুতিনের সঙ্গে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকের বৈঠক
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ৭ এপ্রিল করা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন, যার ফলে লড়াই অনেকটা থেমেছে। কিন্তু একটি স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। পুতিন ইরানি জনগণের প্রশংসা করে বলেছেন যে তারা সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য লড়ছেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে।
আরাঘচি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভির একজন সাংবাদিককে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নেতারা এই যুদ্ধে তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি। এ কারণেই তারা আলোচনার জন্য বলছে। আমরা এখন এটি বিবেচনা করছি।’
পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, তখনই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এ সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে এই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করেন এবং ফোনে আলোচনার পরামর্শ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার মতে, ইরান ওমানের সঙ্গে প্রণালিটি ভাগ করে নেয়। তারা এখন ওমানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে যাতে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের একটি ব্যবস্থা চালু করা যায়। তবে ওমানের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান নতুন আলোচনার আগে মার্কিন অবরোধ অবসানের দাবিতে অনড়। পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মধ্যকার এই বিশাল দূরত্ব ঘুচানোর চেষ্টা করছেন।
তেহরান অনেক ভালো প্রস্তাব দিয়েছে: ট্রাম্প
শনিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি পাকিস্তানে প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করার পর তেহরান একটি অনেক ভালো প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে তার অন্যতম শর্ত হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। অপরদিকে, ইরান দাবি করে আসছে যে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে ফেলতে চায়, যা বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন এবং লেবাননে ২ হাজার ৫২১ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছিল ইরান যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর থেকে। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ১২ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য, ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ৬ জন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এই সাময়িক বিরতি সত্ত্বেও উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় চলা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।
৪৮ দিন আগে
ইরান সরাসরি আলোচনা নাকচ করলেও ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিরা শনিবার পাকিস্তানে যাবেন। তবে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
চুক্তি সম্পাদনের এই সর্বশেষ প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে যখন একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি অধিকাংশ লড়াই থামিয়ে রেখেছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পাকিস্তানের তৎপরতা
চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য ইসলামাবাদের অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ রক্ষা করে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকের জন্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে পাঠাবেন। কিন্তু আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরপরই তার মন্ত্রণালয় জানায় যে, যেকোনো আলোচনা হবে ‘পরোক্ষ’, যেখানে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় আরাঘচি এবং ট্রাম্পের এই দুই প্রতিনিধির মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেছেন, উইটকফ ও কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট যাতে তারা ইরানিদের কথা শুনতে পারেন।
লেভিট বলেন, আমরা গত কয়েক দিনে ইরানের কাছ থেকে কিছু অগ্রগতি লক্ষ করেছি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ঠিক কী শুনছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
এদিকে, হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, ট্রাম্প ‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছেন। এর ফলে অ-মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা সহজ হবে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেল-গ্যাস সরবরাহ সহজ করতে তিনি গত মার্চ মাসে প্রথম ৬০ দিনের জন্য এই আইন মওকুফ করেছিলেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এই প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। সামরিক বাহিনীকে মাইন স্থাপন করতে পারে এমন ছোট নৌকাগুলো দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
এই খবরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ব্যারেল প্রতি ১০৩ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা এখনও ২৮ ফেব্রুয়ারির (যুদ্ধ শুরুর দিন) তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের এই সংকট এখন বিশ্বের অর্ধেক পথ দূরের পানামা খালসহ বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।
৫১ দিন আগে