ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্রিফ করতে যাচ্ছে—এমন খবরের পর বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১২৬ ডলার (৯৪ পাউন্ড) ছাড়িয়েছে, যা গত চার বছরে সর্বোচ্চ।
সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তেহরানের ওপর এক দফায় সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ থাকায় এই সপ্তাহে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বেড়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের অবকাঠামো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্য একটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়া যায়। এটি করতে গেলে স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েলের দামও ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরান যতদিন হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখবে, ততদিন তারা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ইরান তার ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। এ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
ওয়াশিংটন ইরানের ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছিল।
এদিকে, মার্কিন ভোক্তাদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এটি বাজারে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘকাল বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।