জ্বালানি তেল
বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে জ্বালানি তেলের দাম কমবে: প্রতিমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কেটে গেলে এবং আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অবিলম্বে কমানো হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিঘাত সরকারের কোনো ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত বা অনিচ্ছার ফসল নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে গৃহীত একটি বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে আলাদা কিংবা বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নই। বিশ্বজুড়ে চলমান সংকট ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে মূল্যের বড় ব্যবধানের কারণেই বাধ্য হয়ে দেশে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা দিনরাত এক করে চরম কায়িক পরিশ্রমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে দেশে পাঠান। তাদের সেই ঘামের বিনিময়ে কেনা জ্বালানি তেল যদি কম দামের সুযোগ নিয়ে সীমান্তপথে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হয়ে যায়, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য এক আত্মঘাতী বিষয়। প্রবাসীদের রক্ত পানি করা টাকায় কেনা জ্বালানির পাচার রোধ করতেই মূলত এই মূল্য সমন্বয়।’
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের বিপুল লোকসানের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম, জাহাজ ভাড়া ও বিমা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরকার দেশের বাজারে দাম বাড়ায়নি। ফলে এই কয়েক মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।
ভবিষ্যতে তেলের দাম পুনর্মূল্যায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট এখন পুরো বিশ্বজুড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কেটে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও তেলের দাম অবিলম্বে হ্রাস করা হবে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে তেলের দাম আগের চেয়েও বেশি কমানোর সুযোগ তৈরি করা হবে।’
আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচ ও কৃষি উৎপাদনে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থ সরকারের কাছে সর্বাগ্রে। বোরো মৌসুমে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা নিরলস কাজ করছি।’
ভবিষ্যতে কৃষকদের সেচ খরচ সাশ্রয়ী করতে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক আধুনিক সেচব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন প্রিন্স, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী একরামুল হক, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাবেক সভাপতি আসিফ কাজলসহ স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে একটি ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া বিকাল ৪টার দিকে তিনি জোহান ড্রিমভ্যালি পার্কে বিএনপির এক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
২ দিন আগে
বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বাড়ল ১৭ পয়সা
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকেই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া বাড়ানোর এ ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এর আগে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে।
অন্যদিকে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন এলাকায় বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম আরও জানান, আজই (মঙ্গলবার) নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং আজ থেকেই তা কার্যকর হবে।
এর আগে গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ায়, যা পরদিন সোমবার থেকে কার্যকর হয়। সর্বশেষ এ সমন্বয় অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা ও অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে: জাহেদ উর রহমান
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই সরকার জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং হবে। তবে সরকারকে একই সঙ্গে জ্বালানিতে ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও সামনে আবার দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুই-তিন দিনে কিছু টাকা সামান্য দুই-তিন পার্সেন্ট কমেছে। এখনও ১০০ ডলারের বেশি ক্রুড অয়েলের দাম আছে। কিছুটা কমেছে। কিন্তু এটা আসলে সাসটেইন করার সম্ভাবনা নেই।’
আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি, সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বাধা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেল স্থাপনায় হামলার মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলে জানান তিনি।
জনগণের কষ্ট হবে
জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের কষ্টের কথা স্বীকার করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জনগণের কষ্ট হচ্ছে, কষ্ট হবে। আমরা আগেও যখন অয়েল নিয়ে কথা বলছি, এটা কোথায় হচ্ছে না?’
তিনি বলেন, সরকারকে একই সঙ্গে জ্বালানিতে ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হচ্ছে। সব খাতে একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারকে বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘একটা সরকারের খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সরকার মনে করে ওয়েলফেয়ার (উন্নয়ন) খাতে ব্যয়, সেটা সোশ্যাল সেফটির (সামাজিক নিরাপত্তা) কথা আমরা বললাম। একই সঙ্গে আমরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ব্যয় করতে চাই। তো সব যদি একসঙ্গে করার চেষ্টা করা হয় আসলে কঠিন হয়ে যায়। তো সরকারকে কিছু ব্যালেন্স করতে হয়েছে।’
গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির পরিকল্পনা থাকলেও আড়াই মাসেই এর প্রায় অর্ধেক দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এই গতিতে ভর্তুকি গ্যাস-বিদ্যুতে দেন, তাহলে বছর শেষে এটা সোয়া ১ লাখ কোটি টাকা থেকে দেড় লাখ কোটি টাকা দাঁড়াবে।’
পরিবহন ভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয়ের চেষ্টা
ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বাড়বে স্বীকার করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যৌক্তিক পরিমাণে পরিবহন ভাড়া সমন্বয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সরকার।
একই সঙ্গে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, ওএমএস এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে কনডেনসেট থেকে এসব জ্বালানি উৎপাদন হলেও তা দেশের মোট চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে আমদানি করা ক্রুড অয়েল থেকেও পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরাট একটা অংশ পেট্রোল এবং অকটেন আমদানিকৃত ক্রুডের ওপর ডিপেন্ড (নির্ভর) করে, সুতরাং ওখানে তো দাম বাড়ছেই।’
তার ভাষ্য, পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি দাম রাখার নীতিগত কারণও রয়েছে। কারণ এসব জ্বালানি তুলনামূলকভাবে সামর্থ্যবান মানুষ বেশি ব্যবহার করেন।
আইএমএফের শর্ত নিয়ে ব্যাখ্যা
জ্বালানির দাম বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো নির্দিষ্ট শর্ত আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো শর্ত নেই।
তিনি বলেন, ‘না, এমন কোনো শর্ত আসলে নেই। আইএমএফের বেসিক নিয়ম যেটা আছে, তারা চায় না একটা সরকার খুব বেশি ভর্তুকি দিক।’
তবে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতে বিপুল ভর্তুকি কমানোর প্রয়োজনীয়তা সরকার অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ব্যাখ্যা
জ্বালানিতে ভর্তুকির চাপের মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালে বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় বেতন স্কেল সংশোধন হয়নি।
তিনি বলেন, ‘একটা বেতন স্কেল ২০১৫, আমি যদি ভুল না করি সর্বশেষ হয়েছিল। তারপর ১০-১১ বছর পার হয়ে গেছে এবং আমাদের গ্রসলি প্রায় ১০ শতাংশের মতো করে একটা ইনফ্লেশন হয় কম-বেশি। তাহলে আপনি চিন্তা করুন এটা এর মধ্যে রিভাইসড হয়নি।’
তিনি জানান, বেতন কমিশনের সিদ্ধান্ত একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারের মধ্যে সম্পদের বণ্টন করতে গিয়ে এভাবে ভারসাম্য করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ
প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ হিসেবে ব্যয় সাশ্রয় ও দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘এত দীর্ঘ সফরের চেয়ে কম সময়ের সফর ব্যয় সাশ্রয়ী। আপনারা খেয়াল করবেন খুব ছোট একটা দল নিয়ে তিনি গেছেন। একই সঙ্গে দেশ একটা নানান রকম ভাবে কিছু সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং দেশে থাকা তার জন্য নিশ্চয়ই আরও বেটার প্রাইয়োরিটি এই মুহূর্তে।’
তিনি আরও জানান, সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কোনো কথা তারা এখনও জানেন না।
৩ দিন আগে
জ্বালানির দাম বাড়ায় জনজীবন আরও দুর্বিষহ হবে: জামায়াত
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই দেশের মানুষ দিশেহারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করবে এবং মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব শুধু মোটরযান ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান হওয়ায় এর দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যয়, পণ্য পরিবহন ব্যয়, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় ও ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়বে।
জামায়াত নেতা বলেন, ‘ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ জনগণকেই।’
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে সরকারের উচিত ছিল জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা।
‘আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দায় সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না,’ বলেন জামায়াতের এই নেতা।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা, ব্যয় কমানো, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম বন্ধ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু মূল্য বাড়িয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে বলেও সতর্ক করেন জামায়াত নেতা।
তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
৪ দিন আগে
সেপ্টেম্বরেও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত
সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে আগের মাসের নির্ধারিত দামেই সেপ্টেম্বরজুড়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন বিক্রি হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ দাম নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত এই মূল্য আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর থাকবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এবং দেশের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার। তবে সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে আগস্ট, জুলাই ও জুন মাসেও একই মূল্যহার বহাল রাখা হয়েছিল। ফলে টানা তৃতীয় মাসের মতো ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দামে কোনো পরিবর্তন আনল না সরকার।
২৫ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শুধু গ্যাস কিংবা তেলের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বহুমুখী সোর্সিং নিয়ে কাজ করছে সরকার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে চিটাগং জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি)-এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শুধু গ্যাস কিংবা তেলের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বহুমুখী সোর্সিং নিয়ে কাজ করছে সরকার।’
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মাতারবাড়ীতে এক লাখ টন জ্বালানি মজুতের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে আরও দুটি এফএসআরইউ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে রেলপথের কর্ড লাইনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে রেলপথ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটি বাস্তবায়ন হলে মাত্র দুই ঘণ্টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দিতে পারলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।’
নিজ অঞ্চলের প্রতি আন্তরিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আঞ্চলিকতার টান সবার মধ্যেই থাকে। তবে সবাই একসঙ্গে থাকলে খুব সহজেই সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। নিজেদের এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন উৎসবমুখর পরিবেশে সিজেএফডির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে সংগঠনের সদস্যদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কেক কাটা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিজেএফডির সভাপতি শামীম জাহাঙ্গীর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘সিজেএফডি শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের আত্মার বন্ধন হিসেবে কাজ করবে। দল-মত নির্বিশেষে সংগঠনের সদস্যরা সুখে-দুঃখে মিলেমিশে একসঙ্গে থাকেন—এটাই সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়।’
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের দেশ ও মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের স্বার্থের পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দীন আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন। সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নানা চড়াই-উৎরাই ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে ঢাকায় বসবাসরত চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা কাজ করে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চট্টগ্রামবাসীকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো প্রয়োজনে সিজেএফডির পাশে থাকার প্রত্যাশা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিজেএফডির জ্যেষ্ঠ সদস্য ফাহিম আহমদ, সন্তোষ শর্মা, তৌহিদ আলম, আনিস আলমগীর, মামুন আব্দুল্লাহ, নাসের, শাহেদ সিদ্দিকী, মেজবাহ উদ্দিন জঙ্গি, শাহীনুর আলম চৌধুরী, মোস্তফা কামাল ও সাইদ ইসলাম দিলাল।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন তরুণ উদ্যোক্তা সাহওয়াজ জামাল নিজাম সনি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম রহমান, অল কমিউনিটি ক্লাবের পরিচালক আবু তাহের আশরাফ এইচ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাকিব।
বক্তারা বলেন, ঢাকায় কর্মরত চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত চিটাগং জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের কল্যাণ ও পেশাগত উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান।
সিজেএফডির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনে সংগঠনের সদস্য, সাবেক ও বর্তমান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
৪৮ দিন আগে
আগস্টেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম
আগস্ট মাসের জন্য ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের খুচরা বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ৩১ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আগস্ট মাসের জন্যও এ মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে আগামী ১ আগস্ট থেকে এসব জ্বালানি তেলের সর্বশেষ নির্ধারিত দামই কার্যকর থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং পদ্মা অয়েল পিএলসি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসি ও যমুনা অয়েল পিএলসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
৫৭ দিন আগে
বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না: উপদেষ্টা জাহেদ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এ সময়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
বাজেটের পর এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। কিছুদিন পর বাজেট ঘোষণা। এই সময়ে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কতটা যৌক্তিকতা?— এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের সমন্বয় কোনো না কোনো সময় করতেই হয়। বাজেট এলেই বা বাজেট হওয়ার পর মূল্য বৃদ্ধির একটি প্রবণতা দেখা যায়। তবে বর্তমানে কাঁচাবাজার ও সবজির দাম আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির যে প্রবণতা ছিল, সেখানে ইতোমধ্যে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
ভর্তুকি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন ভর্তুকিতে এত বেশি খরচ করে ফেলি, সরকারের কিন্তু আরও অনেক উন্নয়ন প্রকল্প আছে এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রকল্প আছে। আমরা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় ব্যয় করতে চাই, শিক্ষায় চাই এবং সামাজিক নিরাপত্তায়। আপনারা কৃষক কার্ডের কথা জানেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা জানেন, ওগুলোর ব্যয় সংস্থান তো আসলে আমাদের করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যদি কোনো কারণে বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, তবে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। তবে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা বিদ্যুতের দাম তাদের জন্য বাড়াইনি, আমরা তাদের জন্য জ্বালানির দাম বাড়াইনি এবং তারা আবার সরকারের কাছ থেকে অনেকেই ভাতা পেতে শুরু করবেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এই বাজেটে একটা বড় অংশের মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে যাবেন। সুতরাং তাদের ওই চাপ একই সঙ্গে অন্যান্য যেসব নিরাপত্তার বিষয় আছে, যেমন: টিসিবির যেসব প্রকল্প ছিল বা অন্যান্য যেসব সেফটি নেটের প্রকল্প ছিল, সেগুলো বলবৎ থাকছে। সুতরাং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর খুব বেশি পড়বে না বলে আশা করছি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, তার মানে এই না যে বাজারে যে অন্যায়ভাবে মূল্য বৃদ্ধি হয়, সেটা নিয়ে সরকার কাজ করবে না। সরকার নিশ্চয়ই কাজ করবে বলে জানান তিনি।
১১১ দিন আগে
অবশেষে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ কুতুবদিয়ায়, সচল হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। এতে করে রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে জাহাজটি তেল নিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। আবহাওয়াসহ অন্যান্য সবকিছু ঠিক থাকলে রিফাইনারিতে তেল সরবরাহ হলে বৃহস্পতিবার বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে পাঁচটি ইউনিটে পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়া যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কাঁচামালের অভাবে রিফাইনারির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্ধারিত জাহাজগুলো না আসায় অপরিশোধিত তেলের মজুত দ্রুত কমে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রথমে উৎপাদন কমাতে এবং পরে পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেলের চালান নিয়ে জাহাজটির মূলত সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটি ২৪ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়।
বিকল্প এই রুট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চালানটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা), যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য পড়েছে ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার। পাশাপাশি লজিস্টিক পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
দেশীয় জ্বালানি বাজারের জন্য রিফাইনারিটির পুনরায় সচল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির মাধ্যমে ইআরএল দেশের মোট জ্বলানি তেলের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে থাকে সরকার।
১৪২ দিন আগে
মে মাসে অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের দাম
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য এক লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের যে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, মে মাসে তা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য মাজেদা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এক লাখ টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে ১ হাজার ৭৫৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ডিজেল কেনার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সাপারিশ করেছে।
এর আগে, গত ২১ এপ্রিল একই কমিটির বৈঠকে দেড় লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এতে বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলেও দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। সরকার প্রয়োজনে মে মাসে মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা করলেও তার আগেই গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়।
বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য মে মাসে আরও না বাড়িয়ে অপরিবর্তিত রাখা হবে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, বৈঠকে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতেও কয়েকটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি লিমিটেডের আওতায় শ্রীকাইল ডিপ-১ ও মোবারকপুর ডিপ-১ কূপ খনন প্রকল্প এবং সিলেট-১২ নম্বর কূপ খননসংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার এবং দেশীয় উৎস থেকে ৯ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
১৪৮ দিন আগে