জ্বালানি তেল
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে: ডা. জাহেদ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম আসলে বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আপনারা খেয়াল করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপ দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার আমরা দেখছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন যে, পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে। সাম্প্রতিক অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজ চলাচলে বাধা বা অবরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় ধরে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন খুব লম্বা সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য আসলে কঠিন।
তিনি বলেন, আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করব না। ইতোমধ্যে বলেছি, যদি এটা চলতে থাকে তাহলে দামের কিছু সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি প্রয়োজন হতে পারে মানে এটা হবেই—এরকম কথা না। আমি আশা করি, কোনো ভুল ফটোকার্ড বানাবেন না। আবার ওই যে বলছি যে, ট্রাম্পের বিষয়ে তো আগাম কিছু বলা যায় না। যদি উনাদের মধ্যে একটা আলোচনা হয়ে যায়, যদি একটা চুক্তি মোটামুটি হয়ে যায়, তাহলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে ইস্টার্ন রিফাইনারির বন্ধ, তেল নাই; এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বিষয়ে যদি আমাদের জানাতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে। সাধারণত এই রিফাইনারি থেকে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন।
তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন জ্বালানি তেলের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ে। তবে নতুন করে আরেকটি চালান মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, এখন প্রশ্ন হচ্ছে সংকট হবে কি না, কারণ আমরা আমাদের পেট্রোল এবং অকটেন প্রধানত পাই আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে। রিফাইনারিতে যে সংকট আছে, তা নিয়ে আপনারাই পত্রিকায় সংবাদ করেছেন—আর এতদিনের মতো মজুদ আছে, এতদিন রিফাইনারি চালানো যাবে। সুতরাং সরকার যে কাজটা করেছে, সরকার পেট্রোল পরিশোধন এবং আমদানি যথেষ্টই করেছে। এ কারণে একদম কোনো সমস্যা যে হবে না তা না। সরবরাহ সংকট তো খানিকটা আছে আসলে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই যানবাহন বারবার তেল সংগ্রহ করছে বা প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল কিনছে। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এক পেট্রোল পাম্পের বিক্রয়কর্মী বলেন, আগে সারা দিনে যত তেল বিক্রি হতো, এখন তা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমানো হয়নি, তবুও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই পাম্পভিত্তিক সরবরাহের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে।
১ দিন আগে
রংপুরে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে হার্ট অ্যাটাকে শিক্ষকের মৃত্যু
রংপুরে পাম্পে তেল নিতে এসে হার্ট অ্যাটাক করে মেহেদী হাসান নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে নগরীর পর্যটন মোড় এলাকার সুরমা ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।
মেহেদী নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে। কর্মজীবনে তিনি বালাকুয়ার চওড়ার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সুরমা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে লাইনে দাঁড়ান মেহেদী হাসান। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একজন মারা গেছেন, আমরা এমন তথ্য পেয়েছি। তিনি লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক করেন।
৪ দিন আগে
মাগুরায় জ্বালানি তেল পাচারকালে যুবক গ্রেপ্তার
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে পাচারের সময় ৫ হাজার ৬০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় তেলবাহী গাড়ির চালক সোহরাব (৪৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে এই অভিযান পরিচালনা করে মহম্মদপুর উপজেলা প্রশাসন।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফিজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মহম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল কবির বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি গাড়িতে করে জ্বালানি তেল পাচার হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ওই জায়গায় অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে পাচারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি তেলবাহী গাড়ি জব্দ করেন তারা।
গাড়িতে মোট ৫ হাজার ৬০০ লিটার জ্বালানি তেল ছিল বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহানুর জামান চালকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
৫ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে ৪ জনের জেল-জরিমানা
সিরাজগঞ্জে পৃথক চারটি অভিযান চালিয়ে জ্বালানি তেল মজুদ করে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করায় ৪ জনকে জেল ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এ অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আসসাদিকুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক ৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অভিযোগে ৪ জনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের মধ্যে দুইজনকে দুই মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর দুইজনকে ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭০৯ লিটার ডিজেল ও ৫ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
ময়মনসিংহে বিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশন থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেল গায়েব, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার লিটার তেল উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপর প্রশাসনের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে তেল মজুদ, তথ্য গোপন ও কালোবাজারির অভিযোগ। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনি।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু মজুদ ও বিক্রির হিসাব চাইলে ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হন।
তিনি দাবি করেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে। বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।
তার বক্তব্যের সঙ্গে তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরদার হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে করা প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুদ এবং কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি তেল মজুদ ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনটি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিক হাফেজ আজিজুল হক বলেন, ‘আমি যে পেট্রোল এনেছি তা প্রতিদিন বিক্রি করা হয়েছে। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’ মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে অযথা হয়রানি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
৮ দিন আগে
আগামী মাস থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর চিন্তায় সরকার
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে চলমান সংকটে প্রয়োজনে আগামী মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নতুন করে সমন্বয়ের চিন্তাভাবনা করবে সরকার।
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামের এক জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে করা প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটি আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়াইনি। আগামী মাসে আমরা দামের ওপর কাজ করছি। কাজ করে যদি সমন্বয় করে দেখা যায়, দাম বৃদ্ধি করা এখনই প্রয়োজন, তাহলে আমরা আলোচনা করে মন্ত্রিসভায় নিয়ে মূল্যবৃদ্ধির কথা চিন্তা করব।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের বিধিনিষেধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের প্রিমিয়াম এবং ফ্রেইট রেটে (জাহাজ ভাড়া) অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
বর্তমান মজুদের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন ডিজেল মজুদ আছে, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ডিজেল আসবে। অকটেনের মজুদ আছে ১০ হাজার ৫০০ টন এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে আরও ৭১ হাজার ৫৪৩ টন। পেট্রোলের মজুদ বর্তমানে ১৬ হাজার টন এবং এপ্রিলের শেষ নাগাদ আরও ৩৬ হাজার টন দেশে পৌঁছাবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপালও জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলেও দেশের শিল্প কার্যক্রম, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনগুলোকে কৃষক কার্ড ইস্যু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ রোধে সরকার সব জেলা প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে প্রাপ্ত কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে।
অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযানে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা হয়েছে। এ মামলায় ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত তেলের মধ্যে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ লিটার ডিজেল, ৩৬ হাজার ৪০৫ লিটার অকটেন এবং ৭৮ হাজার ৮৯৪ লিটার পেট্রোল রয়েছে।
এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী।
৯ দিন আগে
দেশের স্বার্থে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
দেশের মানুষের স্বার্থে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাসভবনে সিলেটের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে সবার উচিত জ্বালানি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করা, যাতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখা যায় এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার খরচও কমানো যায়।
তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, দেশের সব মানুষের স্বার্থে আমরা যেন জ্বালানি সাশ্রয় করি। সাশ্রয় করলে আমরা জ্বালানি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করতে পারব। এতে দেশের জন্য কম আমদানি করতে হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার খরচও কমবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে হবে। তাই এই স্বাভাবিকতা ধরে রাখার জন্য সবাইকে আমার পক্ষ থেকে অনুরোধ থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি সামঞ্জস্য করে বিশেষ করে পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করলে বাড়তি খরচ এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে। এইভাবে আমরা জ্বালানি সংরক্ষণ করতে পারব যা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারযোগ্য থাকবে।
এছাড়া এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবসহ যেসব দেশ থেকে এলপিজি গ্যাস আমদানি করা হয়, সেখানকার বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল থাকবে।
জ্বালানিসংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্যাস-নির্ভর শিল্পে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই জ্বালানির কারণে শিল্প উৎপাদন কমার সুযোগ নেই। আমরা নিশ্চিত করেছি যে শিল্পমালিকরা উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবেন।
মন্ত্রী আরও জানান, জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই হয়েছে। এটি এখনও সংসদে পাশ হয়নি, পাশ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এছাড়া দেশের পণ্য বিদেশে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতিও চলছে। এগুলো সম্পন্ন হলে এলডিসি থেকে উত্তোরণের পরও বাংলাদেশের পণ্য অনেক দেশে অগ্রাধিকার পাবে।
এর আগে, বাণিজ্যমন্ত্রী সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেটে পৌঁছান। এরপর নগরীর পীরমহল্লা জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন এবং মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল ৪টায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন, এহতেশামুল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সচিব নিয়াজ মো. আজিজুল করিম, আব্দুল হাদি পাভেল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
১৩ দিন আগে
ভোলায় ২ হাজার লিটার অবৈধ জ্বালানি তেলসহ আটক ২
ভোলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার লিটার অবৈধ জ্বালানি তেলসহ দুইজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কোস্টগার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৫টার দিকে কোস্টগার্ড বেইস ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ফেরিঘাট-সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় একটি স্টিল বডির নৌকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার লিটার তেলসহ দুইজনকে আটক করা হয়।
পরে জব্দ করা তেল ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে এ রহমান অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে বাজারমূল্যে বিক্রি করা হয়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে বোটসহ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান কোস্টগার্ডের এ কর্মকর্তা।
বিক্রয় ও জরিমানার অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
১৩ দিন আগে
এক মাসে অবৈধ মজুদ করা ৩ লাখ ৭২ হাজার লিটার তেল উদ্ধার
অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের বিরুদ্ধে গত এক মাসে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার তেল উদ্ধার করেছে সরকার। একই সময়ে পরিচালিত অভিযানে ২ হাজারের বেশি মামলা ও জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২ হাজার ৯টি মামলা করা হয়েছে এবং মোট ১ কোটি ১ লাখ ৪৩৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকৃত জ্বালানির পরিমাণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার তেলের মধ্যে ডিজেল ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার, অকটেন ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার এবং পেট্রোল ৭০ হাজার ৫৪ লিটার।
১৪ দিন আগে
ভোলার বিসিক শিল্পনগরী থেকে ৫ হাজার ৯৭৬ লিটার ডিজেল জব্দ
ভোলার বিসিক শিল্পনগরীতে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করায় দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫ হাজার ৯৭৬ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কারখানা দুটিতে অভিযান চালান ভ্রাম্যমান আদালত।
অভিযান চলাকালে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫ হাজার ৯৭৬ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে খান ফ্লাওয়ার মিল থেকে ৩ হাজার ৯৭৬ লিটার এবং তৃষ্ণা বেকারির কারখানা থেকে ২ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও খান ফ্লাওয়ার মিলের যে কক্ষে অবৈধভাবে তেল মজুদ করা হয়েছিল, সেটি সিলগালা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহামুদ বুলবুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মূলত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। লাইসেন্স ছাড়া তেল মজুদের দায়ে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬–এর ৫৬(৩) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে খান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক জামাল খানকে ১ লাখ টাকা এবং তৃষ্ণা বেকারির মালিক মো. জুয়েলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে, জরিমানা করার কারণে দুষ্কৃতিকারীরা সড়কে প্রশাসনের গাড়ির সামনে ইট ও বালুর বস্তা ফেলে পথ অবরোধ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
১৫ দিন আগে