যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি এ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে এতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, এ নৌপথ কার্যত বন্ধ, সেখানে প্রবেশ করলে জাহাজগুলোকে কঠোর জবাব মোকাবিলা করতে হবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর ফলে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আঘাত এখনও বাকি। তবে তিনি অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। শনিবারের মার্কিন পদক্ষেপকে তিনি ‘প্রতিরোধমূলক’ উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েলের হামলার জেরে ইরান মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই ওয়াশিংটন ব্যবস্থা নিয়েছে।
রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং তাদের নৌবাহিনীর মাধ্যমে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলের ওপর সম্ভাব্য হুমকি সীমিত করা।
তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণের নেতৃত্বে পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে, তবে সরকার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) এ অভিযানের উদ্দেশ্য নয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে হামলার পর প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়ে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তকে শেষ এবং সর্বোত্তম সুযোগ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।