যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখতে তিনি মার্কিন বাহিনীকে নির্দেশ দেবেন। তার দাবি, পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা একটি সমঝোতার মৌলিক কাঠামোয় পৌঁছেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পে এ ঘোষনা দেন।
পোস্টে তিনি বলেন, নতুন এই চুক্তির আওতায় ‘হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি উন্মুক্ত করা’ এবং ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি লেখেন, ‘এই অনুরোধের ভিত্তিতে আমি বিশ্বের ভবিষ্যৎ স্বার্থ এবং একই সঙ্গে একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি চুক্তি করা সম্ভব হবে—এই শর্তে হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্নের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকার বিষয়ে ইসরায়েলও সম্মত হয়েছে।
তবে এ ঘোষণার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর এক দিন আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। সেই অবস্থান থেকে তার সর্বশেষ ঘোষণা সংঘাতে নতুন মোড় আনল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা করে। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন বন্ধ করাই এ অভিযানের লক্ষ্য। তবে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও সময়সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। এর আগে জুনের মাঝামাঝি সংঘাত বন্ধে হওয়া একটি সমঝোতাও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে যায়।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন সৌদি আরব
শনিবার সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ওই আলোচনার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানানো হয়, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঘোষণার আগে হওয়া ওই ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি যুবরাজ।
ওই সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রিয়াদ। যুবরাজ সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপ সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছ থেকে স্পষ্ট ধারণা জানতে চান বলেও ওই ব্যক্তি জানান।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরান এর আগে তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা বিভিন্ন জাহাজে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভ্রমণ সতর্কতা
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শনিবার নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ এবং অন্যান্য ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বাহরাইন, ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।