হামলা
সিলেটে দুই দফায় সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা
সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমের গাড়িবহরে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জে এবং পরে ৩টার দিকে উপজেলার পাঁচ মাইল বাজারে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা ‘বিএনপির সন্ত্রাসী’ বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
তিনি জানান, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে এনসিপির নেতাকর্মীরা শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষ করে কানাইঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা ফটকের নূর ম্যানশনের সামনে পৌঁছালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়।
সে সময় এনসিপির গাড়িবহর ঘিরে একদল যুবক ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও দিয়েছেন। তারাও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর সারজিস আলম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। তারা গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
এর ১৫ মিনিট পরে গাড়িবহরটি পাঁচ মাইল বাজারে পৌঁছালে সেখানে আরেকদফা হামলার কবলে পড়ে। এ বিষয়ে পরে আরেকটি স্ট্যাটাসে সারজিস লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আলম। তিনি জানান, নির্ধারিত এক বাসায় দুপুরের খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে এনসিপির গাড়িবহর পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় পৌঁছালে হামলার মুখে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতনিবিনিময় করতে গতকাল (বুধবার) দুপুরে গোলাপগঞ্জে যান এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তার আগেই গোলাপগঞ্জ চৌমহনী এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। সারজিস আলমদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছালে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এরপর এনসিপি নেতারা গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে শহিদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে পৌরসভা অডিটরিয়াম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও সারজিস আলমদের গাড়ি ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ স্লোগান দেন। এ সময় গাড়ির দিকে কয়েকজন তেড়ে গিয়ে একটি গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে এনসিপির গাড়িবহর নিরাপদে চলে যেতে সহযোগিতা করে।
তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছবেদ আলী। তিনি বলেন, এনসিপি নেতারা নিরাপদে গোলাপগঞ্জ ছেড়ে গেছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। এর প্রতিবাদে গতকাল (বুধবার) হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও মৌলভীবাজার থেকে সেখানে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবল এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর।
১ দিন আগে
সিলেটে আদলত চত্বরে হত্যা মামলার আসামির ওপর ফের হামলা
সিলেটে আদালত চত্বরে শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আবারও হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা এ সময় জাকিরকে মারধর করেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে জাকিরকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে, ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকিরকে মারধর করেন ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। আগে থেকেই আদালত চত্বরে অপেক্ষায় ছিলেন শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা। প্রিজন ভ্যান থেকে জাকিরকে আদালত ভবনে নেওয়ার সময় তারা সংঘবদ্ধ হামলা চালান। এ সময় পুলিশের হেফাজতে থাকা জাকিরকে মারধর করেন তারা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়।
তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে ফাহিমার এক চাচা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন। এতে ন্যায়বিচার নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
বারবার আদালত চত্বরে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে যথেষ্ট পুলিশি পাহারার মাধ্যমেই আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়। তারপরও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে রাতে ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।
এদিকে, শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে। অভিযুক্তরা ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা। তাদের মধ্যে জাকিরকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে।
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে ছিল।
হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে ভোর ৪টার দিকে ফাহিমার মরদেহ ঘরের সামনে নুরুল হক নামের একজনের মালিকানাধীন ডোবায় ফেলে পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করেন জাকির। পরে মরদেহ ডোবার পানিতে ভেসে ওঠায় আসামি মরদেহটি পানি থেকে তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।
তবে, সম্প্রতি আদালতে তোলার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জাকির অভিযোগ করেছেন, পুলিশ জোর করে তার জবানবন্দি আদায় করে।
এর আগে, গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। এ সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে মরদেহ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত জাকির।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। এই হত্যার ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
৮ দিন আগে
রাজবাড়ীতে মাছের আড়তে হামলা, নগদ অর্থ ‘লুট’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকাও লুট করার অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলার এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মৎস্য আড়তের সত্ত্বাধিকারী চান্দু মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বাহির চর দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার রমজান শেখ (৪০) ও তার ভাই জয়নাল শেখ (৩৭), একই এলাকার মো. আমিন ম-লকে (৩৭) এবং চিহ্নিত এবং অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে করে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
চান্দু মোল্লা বলেন, অভিযুক্ত রমজান শেখ পেশায় একজন জেলে। আমি যেহেতু আমার আড়তঘরে প্রতিনিয়ত মাছ বেচাকেনা করে থাকি, তাই গতকাল দুপুর ১টার দিকে রমজান শেখ আমার আড়তে মাছ বিক্রি করতে আসেন। এ সময় মাছের দরদাম নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি চলে গেলে আমিও বাড়ি চলে যাই।
তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে আমার খালাতো ভাই মমিন (৩৬) ও ভাগিনা শাহাদৎ বেপারী (৩৬) ব্যবসা দেখাশোনা করেন। দুপুর দেড়টার দিকে রমজান তার ছোট ভাই জয়নাল শেখ ও স্থানীয় আমিন ও অজ্ঞাত কয়েকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার আড়তে হামলা চালিয়ে মমিনকে মারধর শুরু করেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে তাকে আহত করেন। ঠেকাতে গেলে ভাগ্নে শাহাদৎকেও মারধর করে আহত করেন তারা।
পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত সরে যায়। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে মমিন ও শাহাদৎকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।
চান্দু মোল্লার দাবি, একটি পক্ষ তার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আড়তঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট করেছে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় আড়তের কর্কশিট বাক্সে রাখা ব্যবসার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।
অভিযোগের বিষয়ে রমজান শেখ বা অন্য অভিযক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম আজ (শনিবার) দুপুরে বলেন, সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
১৩ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে পূজার সময় কালী মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, যুবক আটক
নারায়ণগঞ্জে মন্দিরে পূজার সময় হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইয়ামিন নাবিল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন মন্দিরের লোকজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে শহরের নয়ামাটি এলাকার শ্রী শ্রী দরিদ্র ভান্ডার কালী মন্দিরের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ইয়ামিন নাবিল বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা।
মন্দিরের পুরোহিত কমল চক্রবর্তী বলেন, দুর্গাপূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুপুরে কাঠাম পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় ওই যুবক মন্দিরে ঢুকে ‘আল্লাহ পূজা নিষেধ করেছেন’ বলে পূজার সামগ্রীতে লাথি মেরে ফেলে দেন। এ সময় মন্দিরের লোকজনকেও লাথি মারতে থাকেন তিনি। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করছি, কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ইয়ামিন নাবিলের বড় ভাই অমিত হাসান দাবি করেন, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তবে এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তারেক আল মেহেদী বলেন, দুপুরে এক যুবক মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে। তার পরিবার দাবি করেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তারা যদি এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারে, তাহলে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে। অন্যথায়, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনর্বহাল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি তেহরানের
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এদিকে, নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের লড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর চালানো হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্রতা আরও বাড়ছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল। পরে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ। স্বাক্ষরের এক দিন পর হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ায় শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অবরোধ বহাল থাকলে তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে হয় সব দেশই তেল ও গ্যাস রপ্তানি করবে, নয়তো কেউই তা করতে পারবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়ার সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের কথা বলেছিলেন। তবে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধের পর অবরোধ পুনর্বহালের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
অবরোধ পুনর্বহালের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সাত ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে তারা বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
বুধবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর হামলায় হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। তবে কতজন নিহত হয়েছেন, তা তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি জানান, এবারের হামলায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
ইরান কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে স্থানীয় প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগর-সংলগ্ন ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বড় ধরনের হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার ভোরে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রায় প্রতিদিনই এমন সতর্কতা দিতে হচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জর্ডান জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
সেন্টকম প্রধান মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। নিরীহ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
বর্তমানে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী ও এক হাজারের বেশি নৌসেনা বহনকারী একটি জাহাজ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শত শত সামরিক বিমান অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে হামলা করে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেল, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
সম্প্রতি ইরান ওমানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তত্ত্বাবধানে থাকা একটি বিকল্প নৌপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়। ওই নৌপথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ ঘটনাই সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, প্রয়োজনে তারা শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালিটি আবারও সচল করবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তা করতে হলে আরও বড় নৌবহর, এমনকি কয়েক দশ হাজার স্থলসেনার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রই আগ্রাসনকারী, তারা কোনোভাবেই ভুক্তভোগী নয়।’
হরমুজে ফি বাতিলের বদলে উপসাগরীয় বিনিয়োগের প্রস্তাব
মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের নেতারা তাকে ফোন করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর পরিবর্তে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা বলেছেন, তারা জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেই প্রস্তাবই বেশি পছন্দ করি। কারণ আমার মনে হয়, প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য কারও কাছ থেকে ফি নেওয়া উচিত না।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানো হবে। আলোচনা এগোতে না পারলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে।
তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চুক্তি করুন, না হলে আপনাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
১৬ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন, জর্ডান এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব ঘটনায় একজন নাবিক নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। ইরানের হামলার পর পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলা ঘটেই চলেছে।
এদিকে, এই হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৪ ডলারের বেশি হয়েছে। যদিও যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল, তবুও এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভিত্তিতে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতিও আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ৬০ দিনের ওই চুক্তির প্রায় অর্ধেক সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ওই সমঝোতায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় নিয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা আবু মুসা, বান্দার আব্বাস, বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক এবং কোনারাক এলাকার আশপাশে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানও এসব এলাকায় হামলার বিষয় স্বীকার করেছে। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলাগুলো ইরানি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমে যাবে।
সামরিক বাহিনীর ঘোষণার কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বড় হামলা। আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানছি। এই অভিযান চলতে থাকবে। এরপর কী হয়, সেটা দেখা যাবে। আমরা তাদের সব ধরনের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি এবং প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নিচ্ছি। আমরা সেখানে আবারও অবরোধ কার্যকর করছি।’
ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে তিনি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। এতে আমাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে আমাদের অর্থ দিতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা করে এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর আগ পর্যন্তও সেই নীতি বহাল ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান যে পক্ষই হোক, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবাধ নৌচলাচলের নীতির লঙ্ঘন হবে। এতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, বারবারি যুদ্ধ এবং ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ নৌচলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও হামলা শুরু
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ দুটি একটি মাইন পাতা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। এরপর তাদের লক্ষ্যবস্তু করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। জাহাজ দুটিকে বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা উপেক্ষা করছিল।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত নাবিক একজন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দুজন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজেদের ভূখণ্ড ও জণগণের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
এর আগেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছিল আমিরাত। মঙ্গলবার সকালে দুবাইয়ের আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে।
এদিকে, আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বুধবার পর্যন্ত সব ধরনের কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে মঙ্গলবার ভোরে বাহরাইনেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান।
হামলার সময় বাহরাইনে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কসংকেত বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। তবে এ হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রা জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটি ইরানের হামলারও শিকার হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে ইরান
সোমবার রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, গত মাসে হওয়া চুক্তি ইরানকে পরীক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আপনি যখন প্রতারকদের সঙ্গে কাজ করেন, তখন চুক্তির তেমন কোনো মূল্য থাকে না। তবে তারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।’
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে, অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন হলে ফি আদায়ের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবির বিরোধিতা করছে।
ইরানের অভিযোগ, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওমান উপকূল ঘেঁষে এমন একটি বিকল্প নৌপথ চালুর চেষ্টা করেছে, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে।
তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করছে। তাই ইরান ওই বিকল্প নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এরপর ইরানও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আরব দেশগুলোর ওপর হামলা শুরু করে।
সাম্প্রতিক এসব পাল্টাপাল্টি হামলা অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ তুলে নিয়েছিল, তা আবারও পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা আবারও ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ পুনর্বহাল করছি। অন্য সব দেশ হরমুজ প্রণালি ন্যায্য ও উন্মুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ব্যয় হবে, তার খরচ ওঠাতে যুক্তরাষ্ট্র পণ্যবাহী জাহাজের কার্গোর মূল্যের ২০ শতাংশ পরিমাণ অর্থ টোল পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দুবাইয়ের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাত থেকে ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে অবরোধ আবারও কার্যকর করা হবে।
১৭ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশি বৈঠকে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার সালিশে প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম (৫০) নামে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি সুলতানপুর ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন ও নিহতের পরিবার জানায়, জাহাঙ্গীর আলমের ভাতিজির সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে একই এলাকার সাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. আতাউল্লাহর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। গতকাল (সোমবার) বিকেলে এই বিরোধ মীমাংসার জন্য এলাকায় এক সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আতাউল্লাহর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মেয়ের বাড়ির লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীরসহ ৫-৬ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উর রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪৫ দিন আগে
শিশু নন্দিনী হত্যা ঘিরে রণক্ষেত্র আদিতমারী, এসপি-ওসিসহ আহত অন্তত ২০
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী কান্ত রায়ের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ প্রশাসনের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নন্দিনী ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল নন্দিনী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এরপর স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টাখেত থেকে কোদাল হাতে বের হতে দেখেছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা বিধানকে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
৪৫ দিন আগে
কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ১৯
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও পুলিশের টহল গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জেলা পুলিশের নির্দেশনায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বুড়িচং থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে উল্টো পথে চলাচলের দায়ে একটি অটোরিকশা আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় অটোরিকশাচালক ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি হয়।
তিনি জানান, একপর্যায়ে অটোরিকশা চালকের চিৎকারে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় কনস্টেবল ইউসুফ আলী ও রাব্বি ইসলাম আহত হন। সে সময় পুলিশের একটি টহল গাড়ি ভাঙচুর করে তারা।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবি ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ সুপার বলেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা কিংবা সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৫১ দিন আগে
থ্রি-হুইলার আটক করায় কুমিল্লায় পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর
অবৈধ থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা এবং টহল গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিমসার সবজি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ময়নামতি হাইওয়ে থানার একটি টহল দল কয়েকটি অবৈধ থ্রি-হুইলার আটক করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে থ্রি-হুইলার চালকদের একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা হাইওয়ে পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ভাঙচুর চালায়। এতে গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মমিন জানান, ‘অবৈধ থ্রি-হুইলার আটকের পর ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি পিটিয়ে ভাঙচুর করে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
‘অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’
হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান পুলিশের এ ওসি।
৫২ দিন আগে