হামলা
শেরপুরে বিএনপি কর্মীর ওপর হামলা, অভিযোগের আঙুল জামায়াত সমর্থকদের দিকে
শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে এক বিএনপি কর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া-বালুরঘাট এলাকার কান্দাপাড়া-নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়াকে (৩৫) শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায়, নাকে-মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
রাসেল মিয়া শেরপুর-১ (সদর) আসনে হেরুয়া বালুরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন। তিনি ইদ্রিস গ্রুপের জিহান অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন।
হাসপাতালের বেডে থেকে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তিনি শেরপুর শহর থেকে মোটরসাইকেলে করে হেরুয়া এলাকার নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন এবং মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করেন।
তিনি বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। আমি বিএনপি করি, ধানের শীষের নির্বাচনি এজেন্ট ছিলাম, এ কারণেই রাতে বাড়ি ফেরার পথে আমার ওপর জামায়াত সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। জাময়াত সমর্থক স্থানীয় কেরামত, জামাল, সোহেল, মনির ও তার ভাইসহ ১২/১৩ জন মিলে আমার ওপর এ হামলা চালিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার মোটরসাইকেলের পিছু পিছু একটি মোটরসাইকেলে করে ৩ জন আসছিলেন। তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং সামনে তখন আরও ৮/৯ জন ছিলেন। তারা সবাই মিলে লাঠিসোটা নিয়ে আমার ওপর আক্রমণ করলে আমি দৌড়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেই। সেই দোকানে ঢুকেও তারা আমাকে মারধর করেছেন। স্থানীয়রা তাদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করেছেন। এ সময় তার ওপর হামলাকারীদের বিচার ও শাস্তির দাবি করেন তিনি।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা রাতেই জেলা সদর হাসপাতালে আহত রাসেল মিয়াকে দেখতে যান এবং ঘটনার বিস্তারিত শুনেন।
ওসি সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
১ দিন আগে
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জুর ওপর হামলার চেষ্টা, গাড়ি ভাঙচুর
ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর ওপর হামলার চেষ্টা করেছে বিএনপি কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লেমুয়া ইউনিয়নের মজুমদার হাটে শেখ মজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) মঞ্জু ঐ কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান ও শহিদের নেতৃত্বে একদল বিএনপি কর্মী বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর কথা বলতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তারা মঞ্জুর দিকে তেড়ে আসেন। ঈগল মার্কার উপস্থিত সমর্থকরা মঞ্জুকে ঘিরে ধরে হামলা থেকে রক্ষা করেন। এ সময় তালহা নামের একজন ঈগল সমর্থককে বেদম মারধর করা হয়। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তারা আরও জানান, এছাড়া ধর্মপুরের জোয়ার কাছাড় কেন্দ্রে মঞ্জুর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট আনম আব্দুর রহিমের ওপর হামলা করলে তিনি আহত হন। এ ছাড়াও তার গাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয় বিএনপি কর্মী জামাই কামরুলের নেতৃত্বে এই হামলা হয়।
এ ঘটনায় পাচগাছিয়া ইউনিয়িনের এলাহিগঞ্জে ঈগল মার্কার বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হন। পাশাপাশি শর্শদী ইউনিয়নের ঘাগরা এবং ফরহাদনগরের কালিদাস উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় জামায়াতের এক নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় নিহত ১, সড়ক অবরোধ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে নির্মাণাধীন ‘তমি মার্কেট’ দখল চেষ্টায় বাধা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আলমগীর (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত এবং আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বালাশুরে এ ঘটনা ঘটে। এরপর বেলা ১১টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আহতদের মধ্যে পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন— ওই এলাকার তমিজউদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), তারেক (৩৫), তুষার (২৪) ও আব্দুর রহমান (২৩)।
বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-দোহার সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বালাসুর এলাকায় হান্নান হাজীর মার্কেটের সামনে সাইকেল, অটোভ্যানসহ বেশকয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
১৩ দিন আগে
ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি অব্যাহত, রোগীদের ভোগান্তি
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ইন্টার্নদের উপস্থিতি কম দেখা যায়। বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক রোগী চিকিৎসক দেখা পাননি। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পেলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সেবা নিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।
হাসপাতালে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, দূরদূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কষ্ট বেড়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দাবি আদায়ে তারা এই কর্মবিরতিতে গেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। তবে জরুরি রোগীদের সেবা ব্যাহত না করতে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও পূর্ণমাত্রায় সেবা স্বাভাবিক হয়নি।
এর আগে, শুক্রবার রাতে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় টানা কর্মবিরতিতে রয়েছেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ঘটনার পর তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এটি আমরা প্রত্যাহার করিনি, কারণ হাসপাতাল প্রশাসন এখনও আমাদের এই আশ্বাস দিতে পারেনি যে তারা চিকিৎসকদের জন্য নিরাপত্তা বাড়াবে বা কী পরিমাণ ফোর্স (নিরাপত্তা বাহিনী) তারা আমাদের দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আবারও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। আশা করি, বৈঠকের পর একটি সিদ্ধান্ত আসলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন।’
এদিকে, শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে হাসপাতালে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে সিলেট হাসপাতাল প্রশাসন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হাসপাতাল প্রশাসন থেকে তিনজনের নাম উল্লেখ করে জিডি করে গিয়েছেন। আটক হওয়া তিন আসামিকে আমরা ইতোমধ্যে ৫৪ ধারায় আদালতে সোর্পদ করেছি।’
অন্যদিকে, নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আশা করছি, দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে।’
২৯ দিন আগে
ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, প্রতিবাদে কর্মবিরতি
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। হামলার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) রাত ১১টার দিকে সার্জারি বিভাগের ওই ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওই চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। এতে ওই চিকিৎসক হেনস্তার শিকার হন।
ঘটনার পরপরই হাসপাতালে থাকা অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সেখানে পৌঁছে এক নারী ও ২ পুরুষকে আটক করেন এবং পরে তাদের পুলিশে দেন। পরবর্তী সময়ে রাত ১টার দিকে হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
আজ সকাল ১০টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।এদিকে সেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে দেখা যায় তাদের স্বজনদের। তবে আরও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আজ সকাল থেকেই হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তারা দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি এবং চিকিৎসার পরিবেশ নিরাপদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানান, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি নিরাপত্তা রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ হাসপাতাল থেকে ৩ জনকে আটক করেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে থানায় কেউ এখনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর আটকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩০ দিন আগে
ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত নারী-পুরুষ মিলিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সড়ইবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের শুরুর দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। ফলে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ আসার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আরও সংঘর্ষ এড়াতে এলাকাজুড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত দুই দিনে দুই দফায় তালুকদার গ্রুপের লোকজন অন্যায়ভাবে খান গ্রুপের লোকজনকে মারধর, বসতঘর ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকালে শুরু হয় পাল্টা হামলা।
তবে পুলিশের সঠিক তৎপরতা থাকলে ঘটনা এতদূর গড়াত না বলে দাবি তাদের। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া কবির মাতুব্বর জানান, গত পরশুদিন (রবিবার) তার পক্ষের লোকজনকে মারধর, বসতঘরে হামলা ও লুটপাট চালায় প্রতিপক্ষ তালুকদারের লোকজন। তার জের ধরে আজকে (মঙ্গলবার) এ সংঘর্ষ হয়।
প্রতিপক্ষের হাবিবুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে, তার পক্ষের শওকত হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আজও তার জেরেই সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তাদের পক্ষের প্রায় ১২ জন আহত হয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, হাবিবুর রহমান তালুকদার ও কবির খান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ২ দিন আগে কবির খানের পক্ষের লোক শহীদ খানকে গ্রামের রাস্তার ওপরে বেদম মারধর করে। তারপর গত দুই দিনে এই নিয়ে দুই দফায় কবির খানের পক্ষের লোকজনের বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট চালানো হয়। সেসব ঘটনার জের ধরেই আজ (মঙ্গলবার) সকালে দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান দুই পক্ষের লোকজন।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আহতদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে সকাল ১০টার পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
৩৪ দিন আগে
সুনামগঞ্জের হাঁসের খামারে লুট, হামলায় মালিকসহ আহত ৩
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাওরে একটি হাঁসের খামারে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে খামারের মালিকসহ তিনজনের ওপর হামলা করা হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের হাতিরঘাটা হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—খামারের মালিক শিপন মিয়া (৩৫), তার ভাই হৃদয় মিয়া (২০) এবং খামারের কর্মচারী সাকিব মিয়া (২৪)। তারা উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় আজ (সোমবার) সকালে আহত শিপন মিয়া তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগপত্রে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের পানিয়াখালি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৫০), জমসেদ মিয়া (৩৬), তামজিদ মিয়া (৩০), মুনছুর মিয়া (৩২), আকিক মিয়া (৩৪), ছয়ফুল মিয়া (৩২) ও সামরান মিয়ার (৩৪) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিপনের হাঁসের খামারে হামলা চালান। এ সময় খামারের কর্মচারী সাকিবকে মারধর করে বেঁধে রেখে প্রায় ৬৫০টি দেশি হাঁস লুট করে নিয়ে যান হামলাকারীরা, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি ৫টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লুটপাটের সময় বাধা দিতে গেলে শিপন ও হৃদয়কে দা, রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেন অভিযুক্তরা।
ঘটনার পর আহতদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হৃদয়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জেলার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩৫ দিন আগে
জকসুর শিবির-সমর্থিত প্যানেলের ওপর ছাত্রদলের হামলা চেষ্টার অভিযোগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের দিকে উঠেছে এই অভিযোগের আঙুল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজ উল ইসলাম বলেন, ইংরেজি বিভাগে ছাত্রদল তাদের প্যানেল পরিচিতি দিচ্ছিল। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে আমাদের প্রার্থীরা অবহিত করেন, তখন ছাত্রদল আমাদের প্রার্থীদের ওপর মারার জন্য চড়াও হয়ে এগিয়ে আসে।
তিনি বলেন, দর্শন বিভাগে আমাদের এজেন্টের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। নির্বাচন কমিশন ছাত্রদলের প্রতি পক্ষপাত করছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের ভাইয়েরা প্রথম থেকে প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। আমাদের যে ভাইয়েরা স্লিপ দিচ্ছিলেন, তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের থেকে শিবিরের স্লিপ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল তাদের প্যানেল পরিচিতি অন্যান্য বিভাগের মতো দর্শন বিভাগে দিতে থাকে। আমাদের এজেন্ট বাধা দিলে কেন্দ্রের ভেতরেই তাকে মারতে আসে।
৪১ দিন আগে
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় আরও ৯ জন গ্রেপ্তার
জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) তালেবুর রহমান মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল (সোমবার) পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত হিসেবে ৩১ জনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৯ জনকে গতকাল গ্রেপ্তার করার কথা পুলিশ জানায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন লুটপাট এবং ৪ জন হামলার সঙ্গে জড়িত বলে জানায় পুলিশ। বাকিদের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। আজ আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে এক দল দুর্বৃত্ত হামলা চালায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে এই হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় তারা। আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও বাধা দেয় তারা। ওই রাতে ছায়ানট ভবনেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
গত রবিবার রাতে প্রথম আলো এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় মামলা করেছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, হত্যাচেষ্টাসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
৫৫ দিন আগে
প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯
সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার এবং দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তত ৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— মো. কাশেম ফারুক, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম।
এছাড়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রবিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের নিকটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের মধ্যে তিনজনকে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার কাশেম ফারুক বগুড়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র এবং ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। মো. সাইদুর রহমান ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
প্রেস উইং জানিয়েছে, শেরপুর জেলার বাসিন্দা গ্রেপ্তার রাকিব হোসেন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের ছবি তুলে তার আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়। তিনি তার ফেসবুক আইডি থেকে উসকানিমূলক পোস্টও করেন।
ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এ ঘটনায় লুট হওয়া ৫০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন যে তিনি মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছেন। লুট করা টাকা দিয়ে তিনি মোহাম্মদপুর থেকে একটি টিভি ও একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন, যা ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।
ঢাকার কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্যান্য আইনে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যান্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫৬ দিন আগে