হামলা
সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে হামলার মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মো. গোলাম মুক্তাদীরকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মো. গোলাম মুক্তাদীর রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি গোলাম মুক্তাদীর। গতকাল (রবিবার) বিকেলে উপজেলার ধানগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন নামে আরও এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারের আটচালায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠান শেষে চান্দাইকোনা ফিরছিলেন এমপি আইনুল হক। এ সময় ধানগড়া বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা এমপির গাড়িবহরে হামলা চালায় এবং গাড়িটি ঘিরে ধরে লাঠিসোঁটা নিয়ে আঘাত করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ওই গাড়িটির পেছনের কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা এমপি আইনুল হকসহ একাধিক নেতা আহত হন।
সে সময় ওই গাড়িতে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে ওই হামলার ঘটনা সরাসরি প্রচার করেন।
এদিকে, এমন পরিস্থিতির মধ্যে এমপিকে উদ্ধার করে গ্রামের বাড়ি চান্দাইকোনায় নিয়ে আসা হয়। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে চান্দাইকোনা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়। এ নিয়ে রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধানগড়া ও চান্দাইকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। ওই দিন রাতেই পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান ও অনান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার গভীর রাতে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শামিমুল হাসান খন্দকার বাদী হয়ে থানায় উল্লেখিত মামলা করেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, চান্দাইকোনায় রায়গঞ্জ ট্রেকনিকাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি আসার বিষয়টা জানতে পেরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে পৌরসভা ও চান্দাইকোনাবাসী পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিষয়টি নিরসনের জন্য গত শনিবার পৌর বিএনপির সভাপতির নেতৃত্বে একটি সভার আয়োজন করা হয় এবং ওই সভায় এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্র সমন্বয়ক ফয়সাল বিশ্বাস ও ছাত্র সমন্বয়ক তমালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কমিটি গঠন করার কথা বলে ফয়সাল বিশ্বাসকে এমপির গাড়িতে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ধানগড়ার উত্তেজিত জনগণ এমপির গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনগণ দুই-চারটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙে গেছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
৪ দিন আগে
ইউক্রেনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে মস্কো, অভিযোগ জেলেনস্কির
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গ্লাইড বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কো উত্তর কোরিয়া থেকে নতুন করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রাতভর হামলায় রুশ বাহিনী উত্তর কোরিয়ার সরবরাহ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় ছয়জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও গোলাবর্ষণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে এবং আরও উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুই বছরের বেশি সময় আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে দুই দেশের যেকোনো একটি দেশ আগ্রাসনের শিকার হলে পারস্পরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ইউক্রেনে পুতিনের আগ্রাসনকে সমর্থন করতে কিম হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। বিশেষজ্ঞের কারও কারও মতে, মস্কোর সঙ্গে এই সহযোগিতার ফলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ছে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়াকে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। কিয়েভের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিকে কাজে লাগাতেই মস্কো এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। দেশটি আরও বলছে, পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনজুড়ে ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার (৭৭৫ মাইল) দীর্ঘ সম্মুখসারিতে নতুন করে অভিযান চালাতে রাশিয়া সেনা নিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো, উত্তর কোরিয়ার সরঞ্জাম আনা, সেনা সমাবেশের প্রস্তুতির মতো রাশিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপই দেখাচ্ছে যে মস্কো শান্তির জন্য নয়, বরং উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সমঝোতার দিকে অগ্রগতির অভাবে ওয়াশিংটন হতাশ হয়ে পড়েছে এবং ইরান যুদ্ধের দিকে তাদের মনোযোগ সরে গেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার সোমবার রাতে এক বিশ্লেষণে বলেছে, ‘পুতিন যতক্ষণ মনে করবেন যে তার পূর্ণাঙ্গ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি কার্যকর সামরিক পথ রয়েছে, ততক্ষণ ক্রেমলিন গুরুতর আলোচনায় প্রবেশ করবে না বা তার দাবিতে বড় কোনো ছাড় দেবে না।’
সংস্থাটি আরও বলেছে, ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রাশিয়াকে ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর ফলে অর্থবহ আলোচনা পিছিয়ে যেতে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
কিয়েভের শিশু হাসপাতালে হামলা
রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। একটি হামলায় একটি শিশু হাসপাতালের চত্বরে দুটি গর্ত তৈরি হয় এবং জানালার কাচ ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ। তবে শিশু ও চিকিৎসাকর্মীরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় কেউ আহত হয়নি।
রাজধানীর অন্য একটি এলাকায় রুশ হামলায় একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গমিটার (প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট) এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রাতভর কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়ার ‘সামরিক শিল্প স্থাপনা এবং পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে’ স্থলভিত্তিক নির্ভুল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, কিয়েভে ড্রোন সংরক্ষণ করা হচ্ছিল এমন বেসামরিক গুদাম এবং জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি ধাতু কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া জাপোরিঝঝিয়া ও কিয়েভে জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ১২০টি দূরপাল্লার হামলা চালানোর ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে আবারও হামলা
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৪টি অঞ্চল ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার আকাশে প্রায় ৪০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ভোরোনেজ অঞ্চলে তাদের সরবরাহকেন্দ্রগুলো হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সেখানে সংরক্ষিত পণ্য ‘বেশিরভাগই অক্ষত’ রয়েছে।
ইউক্রেন এর আগে একাধিকবার ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়ে আসছে দেশটি। কিয়েভের দাবি, পুতিনকে যুদ্ধ অবসানে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, রাতভর তাদের বাহিনী রাশিয়ার ওরেনবুর্গ অঞ্চলের ওরস্কনেফতেওরগসিনতেজ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শোধনাগারটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়।
শোধনাগারটির বছরে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। সেখানে গ্যাসোলিন, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।
১০ দিন আগে
নড়াইলে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা, এসআই আহত
নড়াইলের লোহাগড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মো. খোকন হাওলাদার নামে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন। এ সময় ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পর উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কচুবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত এসআই খোকন হাওলাদার লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. খোকন হাওলাদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লাহুড়িয়া বাজারের শ্যামলের চায়ের দোকানে অভিযান চালায়।
এ সময় কচুবাড়িয়া গ্রামের নবির হোসেনের ছেলে হারুনের দেহ তল্লাশি করতে গেলে ওই দোকানে উপস্থিত কামাল, শ্যামল, আকিদুলসহ কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এসআই খোকন হাওলাদারের ওপর হামলা করে। হামলার একপর্যায়ে আরও ১০ থেকে ১৫ জন সেখানে এসে হামলাকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে তারা ইয়াবাসহ হারুনকে সেখান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত এসআই খোকন হাওলাদারকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১২ দিন আগে
উত্তরখানে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর উত্তরখানের এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২ আগস্ট) ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকালে এসটিএসে কর্মরত ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর স্থানীয় দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।
হামলার খবর পেয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
তিনি ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
পরে প্রশাসক ও সংসদ সদস্য কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখতে যান এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
এ সময় মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মো. শফিকুল ইসলাম খান ও সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে অসত্য বলে দাবি করেছে ডিএনসিসি।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন ইউএনবিকে বলেন, ‘প্রশাসক বা সংসদ সদস্য নন, হামলার শিকার হয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।’
১৯ দিন আগে
‘নতুন সমঝোতায়’ পৌঁছানোর পর ইরানে হামলা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখতে তিনি মার্কিন বাহিনীকে নির্দেশ দেবেন। তার দাবি, পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা একটি সমঝোতার মৌলিক কাঠামোয় পৌঁছেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পে এ ঘোষনা দেন।
পোস্টে তিনি বলেন, নতুন এই চুক্তির আওতায় ‘হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি উন্মুক্ত করা’ এবং ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি লেখেন, ‘এই অনুরোধের ভিত্তিতে আমি বিশ্বের ভবিষ্যৎ স্বার্থ এবং একই সঙ্গে একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি চুক্তি করা সম্ভব হবে—এই শর্তে হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্নের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকার বিষয়ে ইসরায়েলও সম্মত হয়েছে।
তবে এ ঘোষণার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর এক দিন আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। সেই অবস্থান থেকে তার সর্বশেষ ঘোষণা সংঘাতে নতুন মোড় আনল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা করে। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন বন্ধ করাই এ অভিযানের লক্ষ্য। তবে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও সময়সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। এর আগে জুনের মাঝামাঝি সংঘাত বন্ধে হওয়া একটি সমঝোতাও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে যায়।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন সৌদি আরব
শনিবার সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ওই আলোচনার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানানো হয়, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঘোষণার আগে হওয়া ওই ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি যুবরাজ।
ওই সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রিয়াদ। যুবরাজ সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপ সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছ থেকে স্পষ্ট ধারণা জানতে চান বলেও ওই ব্যক্তি জানান।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরান এর আগে তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা বিভিন্ন জাহাজে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভ্রমণ সতর্কতা
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শনিবার নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ এবং অন্যান্য ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বাহরাইন, ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
২০ দিন আগে
সিলেটে দুই দফায় সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা
সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমের গাড়িবহরে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জে এবং পরে ৩টার দিকে উপজেলার পাঁচ মাইল বাজারে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা ‘বিএনপির সন্ত্রাসী’ বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
তিনি জানান, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে এনসিপির নেতাকর্মীরা শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষ করে কানাইঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা ফটকের নূর ম্যানশনের সামনে পৌঁছালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়।
সে সময় এনসিপির গাড়িবহর ঘিরে একদল যুবক ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও দিয়েছেন। তারাও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর সারজিস আলম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। তারা গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
এর ১৫ মিনিট পরে গাড়িবহরটি পাঁচ মাইল বাজারে পৌঁছালে সেখানে আরেকদফা হামলার কবলে পড়ে। এ বিষয়ে পরে আরেকটি স্ট্যাটাসে সারজিস লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আলম। তিনি জানান, নির্ধারিত এক বাসায় দুপুরের খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে এনসিপির গাড়িবহর পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় পৌঁছালে হামলার মুখে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতনিবিনিময় করতে গতকাল (বুধবার) দুপুরে গোলাপগঞ্জে যান এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তার আগেই গোলাপগঞ্জ চৌমহনী এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। সারজিস আলমদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছালে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এরপর এনসিপি নেতারা গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে শহিদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে পৌরসভা অডিটরিয়াম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও সারজিস আলমদের গাড়ি ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ স্লোগান দেন। এ সময় গাড়ির দিকে কয়েকজন তেড়ে গিয়ে একটি গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে এনসিপির গাড়িবহর নিরাপদে চলে যেতে সহযোগিতা করে।
তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছবেদ আলী। তিনি বলেন, এনসিপি নেতারা নিরাপদে গোলাপগঞ্জ ছেড়ে গেছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। এর প্রতিবাদে গতকাল (বুধবার) হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও মৌলভীবাজার থেকে সেখানে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবল এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর।
২৩ দিন আগে
সিলেটে আদলত চত্বরে হত্যা মামলার আসামির ওপর ফের হামলা
সিলেটে আদালত চত্বরে শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আবারও হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা এ সময় জাকিরকে মারধর করেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে জাকিরকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে, ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকিরকে মারধর করেন ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। আগে থেকেই আদালত চত্বরে অপেক্ষায় ছিলেন শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা। প্রিজন ভ্যান থেকে জাকিরকে আদালত ভবনে নেওয়ার সময় তারা সংঘবদ্ধ হামলা চালান। এ সময় পুলিশের হেফাজতে থাকা জাকিরকে মারধর করেন তারা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়।
তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে ফাহিমার এক চাচা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন। এতে ন্যায়বিচার নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
বারবার আদালত চত্বরে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে যথেষ্ট পুলিশি পাহারার মাধ্যমেই আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়। তারপরও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে রাতে ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।
এদিকে, শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে। অভিযুক্তরা ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা। তাদের মধ্যে জাকিরকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে।
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে ছিল।
হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে ভোর ৪টার দিকে ফাহিমার মরদেহ ঘরের সামনে নুরুল হক নামের একজনের মালিকানাধীন ডোবায় ফেলে পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করেন জাকির। পরে মরদেহ ডোবার পানিতে ভেসে ওঠায় আসামি মরদেহটি পানি থেকে তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।
তবে, সম্প্রতি আদালতে তোলার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জাকির অভিযোগ করেছেন, পুলিশ জোর করে তার জবানবন্দি আদায় করে।
এর আগে, গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। এ সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে মরদেহ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত জাকির।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। এই হত্যার ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
২৯ দিন আগে
রাজবাড়ীতে মাছের আড়তে হামলা, নগদ অর্থ ‘লুট’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকাও লুট করার অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলার এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মৎস্য আড়তের সত্ত্বাধিকারী চান্দু মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বাহির চর দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার রমজান শেখ (৪০) ও তার ভাই জয়নাল শেখ (৩৭), একই এলাকার মো. আমিন ম-লকে (৩৭) এবং চিহ্নিত এবং অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে করে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
চান্দু মোল্লা বলেন, অভিযুক্ত রমজান শেখ পেশায় একজন জেলে। আমি যেহেতু আমার আড়তঘরে প্রতিনিয়ত মাছ বেচাকেনা করে থাকি, তাই গতকাল দুপুর ১টার দিকে রমজান শেখ আমার আড়তে মাছ বিক্রি করতে আসেন। এ সময় মাছের দরদাম নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি চলে গেলে আমিও বাড়ি চলে যাই।
তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে আমার খালাতো ভাই মমিন (৩৬) ও ভাগিনা শাহাদৎ বেপারী (৩৬) ব্যবসা দেখাশোনা করেন। দুপুর দেড়টার দিকে রমজান তার ছোট ভাই জয়নাল শেখ ও স্থানীয় আমিন ও অজ্ঞাত কয়েকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার আড়তে হামলা চালিয়ে মমিনকে মারধর শুরু করেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে তাকে আহত করেন। ঠেকাতে গেলে ভাগ্নে শাহাদৎকেও মারধর করে আহত করেন তারা।
পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত সরে যায়। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে মমিন ও শাহাদৎকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।
চান্দু মোল্লার দাবি, একটি পক্ষ তার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আড়তঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট করেছে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় আড়তের কর্কশিট বাক্সে রাখা ব্যবসার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।
অভিযোগের বিষয়ে রমজান শেখ বা অন্য অভিযক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম আজ (শনিবার) দুপুরে বলেন, সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
৩৫ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে পূজার সময় কালী মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, যুবক আটক
নারায়ণগঞ্জে মন্দিরে পূজার সময় হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইয়ামিন নাবিল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন মন্দিরের লোকজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে শহরের নয়ামাটি এলাকার শ্রী শ্রী দরিদ্র ভান্ডার কালী মন্দিরের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ইয়ামিন নাবিল বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা।
মন্দিরের পুরোহিত কমল চক্রবর্তী বলেন, দুর্গাপূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুপুরে কাঠাম পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় ওই যুবক মন্দিরে ঢুকে ‘আল্লাহ পূজা নিষেধ করেছেন’ বলে পূজার সামগ্রীতে লাথি মেরে ফেলে দেন। এ সময় মন্দিরের লোকজনকেও লাথি মারতে থাকেন তিনি। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করছি, কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ইয়ামিন নাবিলের বড় ভাই অমিত হাসান দাবি করেন, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তবে এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তারেক আল মেহেদী বলেন, দুপুরে এক যুবক মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে। তার পরিবার দাবি করেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তারা যদি এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারে, তাহলে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে। অন্যথায়, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনর্বহাল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি তেহরানের
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এদিকে, নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের লড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর চালানো হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্রতা আরও বাড়ছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল। পরে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ। স্বাক্ষরের এক দিন পর হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ায় শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অবরোধ বহাল থাকলে তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে হয় সব দেশই তেল ও গ্যাস রপ্তানি করবে, নয়তো কেউই তা করতে পারবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়ার সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের কথা বলেছিলেন। তবে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধের পর অবরোধ পুনর্বহালের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
অবরোধ পুনর্বহালের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সাত ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে তারা বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
বুধবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর হামলায় হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। তবে কতজন নিহত হয়েছেন, তা তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি জানান, এবারের হামলায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
ইরান কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে স্থানীয় প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগর-সংলগ্ন ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বড় ধরনের হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার ভোরে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রায় প্রতিদিনই এমন সতর্কতা দিতে হচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জর্ডান জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
সেন্টকম প্রধান মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। নিরীহ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
বর্তমানে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী ও এক হাজারের বেশি নৌসেনা বহনকারী একটি জাহাজ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শত শত সামরিক বিমান অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে হামলা করে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেল, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
সম্প্রতি ইরান ওমানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তত্ত্বাবধানে থাকা একটি বিকল্প নৌপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়। ওই নৌপথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ ঘটনাই সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, প্রয়োজনে তারা শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালিটি আবারও সচল করবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তা করতে হলে আরও বড় নৌবহর, এমনকি কয়েক দশ হাজার স্থলসেনার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রই আগ্রাসনকারী, তারা কোনোভাবেই ভুক্তভোগী নয়।’
হরমুজে ফি বাতিলের বদলে উপসাগরীয় বিনিয়োগের প্রস্তাব
মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের নেতারা তাকে ফোন করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর পরিবর্তে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা বলেছেন, তারা জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেই প্রস্তাবই বেশি পছন্দ করি। কারণ আমার মনে হয়, প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য কারও কাছ থেকে ফি নেওয়া উচিত না।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানো হবে। আলোচনা এগোতে না পারলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে।
তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চুক্তি করুন, না হলে আপনাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
৩৮ দিন আগে