হামলা
হাতকড়াসহ পালালেন আ. লীগ নেতা, স্বজনদের হামলায় আহত ২ পুলিশ সদস্য
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আবু ছিদ্দিক মেম্বারকে আটক করতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় হাতকড়া পরা অবস্থায় আটক ব্যক্তি পালিয়ে যান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আবু ছিদ্দিক কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীরা জানান, রাতে দর্শনা থানা পুলিশের একটি দল চণ্ডীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবু ছিদ্দিককে আটক করে। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় আবু ছিদ্দিক পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় পুলিশ চণ্ডীপুর হালদারপাড়ার রবি হালদারের ছেলে লক্ষ্মণ, সেলিমের ছেলে ফিরোজ, সঞ্চয়ের স্ত্রী কণা ও সনজিতের স্ত্রী সোনালীকে গ্রেপ্তার করেছে।
দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছিদ্দিককে আটক করতে গেলে তার পরিবারের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় আমাদের দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মুখলেসুর রহমান বলেন, আবু ছিদ্দিককে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি সিএসও অ্যালায়েন্সের
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তিন শতাধিক বেসরকারি ও নাগরিক সংগঠনের জাতীয় জোট সিএসও অ্যালায়েন্স।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। এতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল ক্লিনিকের নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে টিকা, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নগদ টাকা লুট করে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে কেন্দ্রের ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সিএসও অ্যালায়েন্স রাড্ডার কর্মী ও কেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল সব পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।
রাড্ডা মিরপুরভিত্তিক একটি এনজিও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ১৯৭৪ সালে রাড্ডা বার্নেনের (সেভ দ্য চিলড্রেন সুইডেন) উদ্যোগে এর যাত্রা শুরু হয়। পাঁচ দশক ধরে সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বে প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র মা ও শিশুদের টিকা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দফা শুরুর ঠিক আগে মিরপুর-১-এর ক্লিনিকটিতে হামলা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ত্রিপলের অস্থায়ী তাঁবুতে শিশুদের টিকা দেওয়া চালিয়ে গেলেও বেশির ভাগ সেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সিএসও অ্যালায়েন্স বলেছে, দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল নবনির্বাচিত সরকার মব সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি থেকে আরও বেশি সুরক্ষা দেবে এবং কার্যকর বিচার নিশ্চিত করবে। কিন্তু এসব সমস্যা এখনও চলছে এবং রাড্ডায় হামলা সেই চলমান উদ্বেগের আরেকটি উদাহরণ। জমি নিয়ে বিরোধের মীমাংসা আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে, মাঝরাতে শক্তি প্রয়োগ করে নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবা প্রদানে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওর অংশীদারত্ব আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকার ওপর নির্ভরশীল। স্বাস্থ্য খাতে এনজিওগুলো দীর্ঘদিন রাষ্ট্রের পাশে থেকে কাজ করছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে নাগরিক সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে সিএসও অ্যালায়েন্সের গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে মাত্র ২ শতাংশে থাকা শিশুদের টিকাদান বাড়াতে এই অংশীদারত্ব ভূমিকা রেখেছে। সর্বশেষ ইপিআই কাভারেজ ইভ্যালুয়েশন সার্ভে-২০২৩ অনুযায়ী, দেশে পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত শিশুর হার এখন ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ। চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও দখলবাজি থেকে সবার আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের ঘোষণা এবং মালিকানার প্রশ্ন আদালতে নিষ্পত্তি ও টিকাদান চালু রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছে সিএসও অ্যালায়েন্স।
সংগঠনটি সরকারের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করতে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের তদন্তের ফলাফল ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাড্ডার ক্লিনিক যাতে নিরাপদে কাজ চালাতে পারে, সেই নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি টিকাদানসহ অন্যান্য সেবা ত্রিপলের তাঁবু থেকে একটি নিরাপদ অস্থায়ী কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে সহায়তা এবং লুট হওয়া টিকা ও সামগ্রী প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে ৩১ অক্টোবর শেষ হতে যাওয়া হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন থেকে এলাকার কোনো শিশু বাদ না পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও দখলবাজি থেকে সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এনজিও ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া এবং যেকোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলাকে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে সিএসও অ্যালায়েন্স।
সিএসও অ্যালায়েন্স কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সহ-আহ্বায়ক ও ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, সহ-আহ্বায়ক ও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, কোষাধ্যক্ষ ও কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উপদেষ্টা শিব নারায়ণ কৈরী।
অ্যালায়েন্সের সদস্যদের মধ্যে স্বাক্ষর করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ওয়াটারএইডের আঞ্চলিক পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) হাসিন জাহান, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এ কে এম মুসা ও ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর কে এ এম মোর্শেদ এবং সদস্যদের সমন্বয়ক ও আইআইডির নির্বাহী প্রধান সাঈদ আহমেদ।
৪ দিন আগে
নওগাঁয় আওয়ামীপন্থি অধ্যক্ষের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, মোটরসাইকেলে আগুন
নওগাঁর রাণীনগরে ৫ আগস্টের পর বরখাস্ত হওয়া আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিএম মাসুদ রানা জুয়েল হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা মারধর করে তার এক হাত এবং দুই পা ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া, তার মোটরসাইকেলেও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি ঘটে।
হামলার পর মাসুদ রানা জুয়েলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের বাসিন্দা।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগে বেশ কয়েকজন ভুক্তযোগী গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েলকে প্রায় দুই বছর আগে পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পূর্নবহালের আদেশ পান।
আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসানের আদেশে গতকাল (রবিবার) মাসুদ রানা আবার মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসেন বলে জানান অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ।
তিনি আরও জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাসুদ রানা অফিসকক্ষে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক এসে সেখান থেকে মাসুদ রানাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পরে গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হামলাকারী কারা ছিলেন তা বলতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
হামলার শিকার মাসুদ রানার ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, আমার ভাই কলেজে যোগদান করতে গেলে বেশ কিছু লোকজন তার সঙ্গে আমাকেও বেধড়ক মারধর করে। তাদের মারধরে ভাইয়ের এক হাত এবং দুই পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউএনও মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিকট থেকে মারধরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং মোটরসাইকেলে আগুন ধরে দেওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, আজ (সোমবার) সকালে হামলার শিকার মাসুদ রানা জুয়েলের স্ত্রী রানীনগর শের ই বাংলা কলেজের প্রভাষক রোকসানা পারভিন জানান, নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামীর অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রাতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
১০ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার ওপর হামলায় বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আব্দুস সবুরের স্ত্রী শোহর ভানু বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলাটি করেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি রাকিবুল বলেন, গতকাল (শনিবার) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চের গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানাতে সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা জমায়েত হন। লং মার্চ রংপুরের উদ্দেশে চলে গেলে তারা নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর একদল লোক হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়া নুরনবী নামের আরেক জামায়াত নেতাও মারধরের শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস সবুরকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই তার স্ত্রী বাদী হয়ে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১১ দিন আগে
বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ঘটনা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও দেখেছি। যারা হামলা করেছেন, তারাও নিজেরা ভিডিও করে এটা প্রকাশ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া, এটার প্রসেস (প্রক্রিয়া) শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেব না। এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’
‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নয়, মাফিয়া গ্যাং’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কী বস্তু? আওয়ামী লীগ কারা করেন? আওয়ামী লীগ কী? তারা আমাদের সামনে আবার হাজির করছেন।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল কি না, এই আলাপটা আমরা কেউ কেউ করেছি, খুব করেছি। আমি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইট ইজ এ্যা মাফিয়া গ্যাং।’
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে দেশে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি যদি যা যা ঘটিয়েছেন, এরপর যদি ন্যূনতম আপনার দুঃখবোধ থাকত, আপনার যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকত, এই সহিংসতাগুলো করা হতো না। কোনোভাবেই হতো না।’
‘বাঁধনের ওপর হামলা প্রমাণ করে তিনি সঠিক পথে ছিলেন’
বাঁধনের ওপর হামলাকে তার জন্য এক ধরনের অর্জন ও সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশে বলব, এটা এক ধরনের কী বলব, তার অর্জন, সম্মান প্রাপ্তি যে, আওয়ামী লীগের হেনস্তা হওয়ার শিকার হওয়া, একটা মাফিয়া গ্যাংয়ের শিকার হওয়া প্রমাণ করে আপনি আসলে সঠিক পথে ছিলেন।’
বাঁধন ফেসবুক লাইভে নিজেকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম।’
তিনি বলেন, ‘একইভাবে আমরা অনেকেই সেরকম আছি, আমরা হামলার শিকার হতে পারি। বাট উই ডোন্ট কেয়ার। একেবারেই না।’
২৩ দিন আগে
গোবিন্দগঞ্জে ইউএনওর ওপর বালুদস্যুদের হামলা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের লক্ষ্য করে ঢিল ও গাছের ডাল ছোড়া হয়।
পরে খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউএনওসহ অভিযানে থাকা সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার নেতৃত্বে উপজেলার ফুলবাড়ী ও দরবস্ত ইউনিয়নের কাটাখালি, হাতিয়াদহ, শাকপালা, বিশ্বনাথপুর, চকরহিমাপুর, চাঁদপুর, খলসী, বোয়ালিয়া ও সমসপাড়া এলাকায় করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত চারটি মেশিন ধ্বংস করা হয়।
অভিযান চলাকালে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্বনাথপুর এলাকায় একটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংসের সময় বালু উত্তোলনকারীরা বাঁধের ওপর থেকে ইউএনওসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের লক্ষ্য করে ঢিল ও গাছের ডাল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ড্রেজার মেশিন ধ্বংসের কাজে থাকা রাজু শেখ নামে এক শ্রমিক আহত হন। পরে হামলার খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউএনও ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের উদ্ধার করেন।
আজ মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও বিষয়টি তেমন গুরুতর নয় বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, নৌকা থেকে পা পিছলে একজন আহত হয়েছেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
২৩ দিন আগে
ইতালিতে আ. লীগ সমর্থকদের হাতে হেনস্তা ও হামলার শিকার বাঁধন
ইতালির ভেনিসে স্থানীয় একটি পার্কে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে একদল মানুষের হেনস্তা ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ফেসবুকে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে বাঁধন ঘটনার বর্ণনা দেন।
আরেকটি ভিডিওতে একদল মানুষকে অভিনেত্রীর ওপর হামলা করতে এবং তার দিকে ডিম, পানি ও কোকাকোলা ছুড়তে দেখা যায়।
ভিডিওতে হামলাকারীদের বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলতে এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বলতে শোনা যায়। তারা পুরো ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন।
বাঁধন দাবি করেন, ঘটনার সময় তার মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার কানের কাছে আঘাত করা হয়। এ সময় তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা নিজেদের ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করেন।
বাঁধন বলেন, ‘আমি অবশ্যই জুলাইযোদ্ধা। জুলাইয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে এ ধরনের আচরণের সমালোচনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি ভেনিস উৎসবে যে সিনেমাটি নিয়ে এসেছি, সেটির পরিচালক রুবাইয়াত হাসানের বাবা আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। আমি তার সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের পরেও কাজ করছি। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত ছিল। আপনারা এভাবে নিজেদের ফেরাতে পারবেন না।’
তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যে ভেনিসের স্থানীয় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বাঁধন বলেন, ‘একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না। আপনারা আজ সারা বিশ্বের মানুষকে দেখালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে হেনস্তা করা হলো।’
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক দলের অংশ হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমানে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে ভেনিসে অবস্থান করছেন বাঁধন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ছবিটির প্রদর্শনী উপলক্ষে তিনি সেখানে রয়েছেন। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে ছবিটি প্রদর্শিত হচ্ছে।
৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সালা দারসেনায় ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে উৎসবে বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক উপস্থিতি ঘটে।
ছবিটিতে চারটি প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন, জাইনিন করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বাঁধন বর্তমানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ভেনিসের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
২৩ দিন আগে
বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গিয়ে বাধার মুখে ইউএনও, বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
নওগাঁর আত্রাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে এ বিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বরযাত্রীদের হামলার মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় ইউএনওর সরকারি গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বরপক্ষের লোকজন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) দুপুরে সমাসপাড়া এলাকায় ১২ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে আল আমিন নামের এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। পরে বাল্যবিয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বর আল আমিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরযাত্রীরা ইউএনওর গাড়ির গতিরোধ করে।
এ সময় প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
এদিকে, এ বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠানে সমাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মুনিরুল জামান মুনিরসহ বেশ কয়েজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের উপস্থিতি ও বাল্যবিয়েতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া মুনিরুল জামান মুনিরের ইন্ধনেই বরপক্ষ ইউএনওর গাড়িতে হামলা ও বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীদের একাংশ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুনিরুল জামান বলেন, বিয়েটা আরও দুই বছর আগে হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল। বরপক্ষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থেকে সেখানে গিয়েছি। পরে ইউএনও এসে বিয়ের অনুষ্ঠানটা বন্ধ করে দিলে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। আমি উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি। হামলায় আমার ইন্ধনের অভিযোগটি সঠিক নয়।
ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করি। বরকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বরপক্ষের লোকেরা আমাদের গাড়ি আটকে দেয় এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আত্রাই থানার ওসি মাহবুব আলমের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদানের জন্য পুলিশ এবং স্টাফের ওপর আক্রমণ করার চেষ্টার অভিযোগে বর-কনেসহ প্রথমে ৩ জনকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে আরও ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
আজ (রবিবার) সকালে ইউএনও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, গতকালের (শনিবার) ঘটনায় বাল্যবিবাহ সম্পাদনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বরের বাবা মো. ইয়ানুস শেখ ও কনের বাবা জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, আসামিকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য, পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টার অপরাধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী সমাজ পাড়া গ্রামের মান্নানকে এক বছর, একই গ্রামের মো. রাব্বি শেখকে ৬ মাস ও মো. মাহাতাব আলীকে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
এ ছাড়াও, বর ও কনের বাবাকে বাল্যবিবাহ-সংক্রান্ত আইন মেনে চলার নিমিত্ত মুচলেকা নেওয়া হয় বলে জানান ইউএনও।
৩২ দিন আগে
রাজধানীতে গাড়ি আটকে ঢামেক চিকিৎসকের ওপর হামলা: গ্রেপ্তার ২
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ (ডিবি)। ডিবির দাবি, সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই চিকিৎসককে টার্গেট করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন: সানি সাহা (৩৮) ও ফাতিন ইসরাক লাবিব (২০)। গতকাল শনিবার রাতে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া ও খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে নিজ বাসায় ফেরার জন্য বের হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমান। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে পাকা রাস্তায় তিনি একটি সিএনজিতে ওঠার সময় জীবন ওরফে আদিলসহ কয়েকজন তার সিএনজির গতিরোধ করে।
গতিরোধের কারণ জানতে চাইলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে সিএনজি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে জীবন ওরফে আদিল চিকিৎসকের ডান চোখে গুরুতর জখম করে। অন্য আসামিরা তার মাথা, দুই চোখের ওপরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় তারা চিকিৎসককে ভয়ভীতি ও হুমকিও দেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি পল্টন মডেল থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জীবন ওরফে আদিলকে আটক করে। অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আহত চিকিৎসক চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
এ ঘটনায় অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে চিকিৎসকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করে তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
৩৯ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে হামলার মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মো. গোলাম মুক্তাদীরকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মো. গোলাম মুক্তাদীর রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি গোলাম মুক্তাদীর। গতকাল (রবিবার) বিকেলে উপজেলার ধানগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন নামে আরও এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারের আটচালায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠান শেষে চান্দাইকোনা ফিরছিলেন এমপি আইনুল হক। এ সময় ধানগড়া বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা এমপির গাড়িবহরে হামলা চালায় এবং গাড়িটি ঘিরে ধরে লাঠিসোঁটা নিয়ে আঘাত করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ওই গাড়িটির পেছনের কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা এমপি আইনুল হকসহ একাধিক নেতা আহত হন।
সে সময় ওই গাড়িতে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে ওই হামলার ঘটনা সরাসরি প্রচার করেন।
এদিকে, এমন পরিস্থিতির মধ্যে এমপিকে উদ্ধার করে গ্রামের বাড়ি চান্দাইকোনায় নিয়ে আসা হয়। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে চান্দাইকোনা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়। এ নিয়ে রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধানগড়া ও চান্দাইকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। ওই দিন রাতেই পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান ও অনান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার গভীর রাতে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শামিমুল হাসান খন্দকার বাদী হয়ে থানায় উল্লেখিত মামলা করেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, চান্দাইকোনায় রায়গঞ্জ ট্রেকনিকাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি আসার বিষয়টা জানতে পেরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে পৌরসভা ও চান্দাইকোনাবাসী পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিষয়টি নিরসনের জন্য গত শনিবার পৌর বিএনপির সভাপতির নেতৃত্বে একটি সভার আয়োজন করা হয় এবং ওই সভায় এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্র সমন্বয়ক ফয়সাল বিশ্বাস ও ছাত্র সমন্বয়ক তমালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কমিটি গঠন করার কথা বলে ফয়সাল বিশ্বাসকে এমপির গাড়িতে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ধানগড়ার উত্তেজিত জনগণ এমপির গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনগণ দুই-চারটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙে গেছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
৪৫ দিন আগে