হামলা
রিয়াদে হামলার পর বিমানের ১০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ৩,৪৩১ যাত্রী
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হামলার কারণে বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এতে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারেননি তিন হাজার ৪৩১ জন যাত্রী।
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সৌদি আরবের দাম্মাম ও মদিনা বিমানবন্দর হয়ে বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে অন্য ফ্লাইটে বিনা খরচে যাত্রীদের সমন্বয় করা হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা-সংক্রান্ত সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাইজার সোহেল আহমেদ।
রিয়াদ বিমানবন্দর কবে চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘রিয়াদে শুধু বাংলাদেশ নয়, সব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ভোগান্তি শুধু আমাদের নয়, সারা বিশ্বে সবার হচ্ছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে এখন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে, তা কিন্তু নয়। যতগুলো এয়ারলাইনস সেখানে নামে বা ট্রানজিট করে, সব বন্ধ করা হয়েছে।’
বিকল্প ব্যবস্থায় যাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিমানের এমডি কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘দাম্মাম ও মদিনা, এই দুটি বিমানবন্দরে যেহেতু কার্যক্রম চলছে, আমরা বলেছি বিনা খরচে তাদের (যাত্রী) সমন্বয় করে দেব। তারা যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরব আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। সেখানে অনেক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাই আমরা ওইভাবে সমন্বয় করছি।’
বিমানবন্দর বন্ধ থাকার সময়সীমা বারবার বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে লাইজার সোহেল বলেন, ‘এভাবে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রীবাহী পরিবহনের পরিকল্পনা করা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব, আমরা অন্যান্য গন্তব্যের মাধ্যমে তাদের সৌদি আরবে (যাত্রীদের) পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। অনেকের হয়তো ওয়ার্ক পারমিটের সমস্যা থাকতে পারে, পারিবারিক সমস্যা থাকতে পারে, সেসব বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য গন্তব্যের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করব।’
রিয়াদে কত দিন ধরে ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে, জানতে চাইলে বিমানের এমডি বলেন, চার দিন ধরে সেখানে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা ও বন্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে। টেলিভিশনের স্ক্রল, বিমানের ওয়েবসাইট, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও কল সেন্টারের মাধ্যমে যাত্রীদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
অন্য গন্তব্যের মাধ্যমে যাত্রীদের পাঠানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১০টি ফ্লাইট আমরা পাঠাতে পারিনি। আজ রাত ৩টা পর্যন্ত তিন হাজার ৪৩১ জন যাত্রী যেতে পারেননি। তাদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছি। যাত্রীদের যাতে আগে জানিয়ে দেওয়া হয় এবং যারা বিমানবন্দরে এসেছেন, তাদের ভোগান্তি যতটুকু সম্ভব কমানো যায়, সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সৌদি আরবের অন্য গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘মদিনা ও দাম্মামে আমাদের যে ফ্লাইটগুলো আছে, সেগুলো পরিচালনা করছি।’
এ সময় বিমানের এমডি জানান, দাম্মাম ও মদিনাগামী ফ্লাইটে যাত্রীদের সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের বিকল্প ফ্লাইটে মদিনা অথবা দাম্মামে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তারা সেখান থেকে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন এবং ভিসার মেয়াদ নষ্ট না হয়।
যাত্রীদের সহায়তায় বিমানের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বৈশ্বিক সংকট। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করা হয়নি। রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সেখানে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
ফ্লাইট কবে চালু হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা বলা যায় না। যদি ক্রমাগত বোমা হামলা চলতে থাকে এবং রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকে, যত দিন বন্ধ থাকবে, তত দিন আমরা প্লেন পাঠাতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণেই এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এটা আমাদের পক্ষ থেকে বন্ধ করা হয়নি। রিয়াদ তথা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা বন্ধ করে দিলে আমরা তো ফ্লাইট পাঠাতে পারব না।’
১০ দিন আগে
রিয়াদে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আইসিইউতে চারজন: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং আরও চারজন আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, তাদের নিজ নিজ জেলার তথ্য সংগ্রহ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে বাংলাদেশ মিশন সৌদি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সংঘাত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, কিং খালিদ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন চার বাংলাদেশির পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশের মিশনগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে থাকা অন্য বাংলাদেশিদের সঙ্গেও মিশনগুলো যোগাযোগ রাখছে, তাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশিদের প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিবারের সবাইকে ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া মানুষদের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। যুদ্ধ ও হামলা বন্ধ হবে এবং আর কোনো প্রাণহানির খবর আসবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মোট ১৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।
নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে সাধারণত তার মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যয় সরকার বহন করে। এ ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। তবে হামলায় বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট বিমান সংস্থা বা ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য সরকার পায়নি বলে জানান তিনি।
এর আগে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার হুতির চালানো হামলার তীব্র ও দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানায় বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সৌদি আরবের সরকার ও দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতিও দৃঢ় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
এছাড়া আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
১১ দিন আগে
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে ঘটনায় অজ্ঞাতনামা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
মামলাটি করেন এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী লালন শাহের মাজার পরিদর্শনে আসেন। মাজার পরিদর্শন ও লালনের গান শোনা শেষে রাত আনুমানিক সোয়া ৮টায় মাজারের মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালান।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীদের মধ্যে একজন নাসীরুদ্দীনকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করেন। এরপর অন্যদের উদ্দেশে ‘শালাদের আজ শেষ করে ফেল’ বলে উসকানি দেন। পরে হামলাকারীরা লাঠি, বাঁশ, পাইপ, বাটাম, লোহার রড, পাথরসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাসীরুদ্দীন ও তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা ও মারধর করেন। এতে কয়েকজন আহত হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলা থেকে বাঁচতে নাসীরুদ্দীন, এনসিপির নেতা-কর্মীরা মাজারের ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে হামলাকারীরা তাদের পিছু নিয়ে মাজারের ভেতরেও ধাওয়া করেন এবং হামলার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে নাসীরুদ্দীনকে নিরাপদে বের হতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার ব্যবহৃত গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, এনসিপির নেতা-কর্মী ও উপস্থিত অন্যরা তাদের রক্ষায় এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মাজার থেকে বের হয়ে মূল ফটকে অবস্থান নেন। সেখানে তারা বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ও পুলিশের সহায়তায় নাসীরুদ্দীনসহ অন্যরা নিরাপদে মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় গত বুধবার মামলা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে কাজ করছে পুলিশ।
১৩ দিন আগে
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হল প্রভোস্টকে অব্যাহতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিটসহ বিভিন্ন অভিযোগে আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য বলেন, ‘সাংবাদিকদের সেন্টিমেন্টের প্রতি আমরা সম্মান জানিয়ে জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছি। বাদ-বাকি বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
এ সময় আন্দোলনরত সাংবাদিকরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তারা ছয়টি দাবি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে হল প্রভোস্টকে অব্যাহতির দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন তিন দিন সময় চেয়েছে।
তারা আরও বলেন, ‘আমরা চাই, এই তিন দিনের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনরত সাংবাদিকরা। পরবর্তীতে হামলার গুরুত্বপূর্ণ ওই ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও ওঠে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার সময় ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে হল প্রভোস্টের উপস্থিতি থাকলেও তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেননি। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রভোস্টকে অব্যাহতির দাবি জানান তারা।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হল প্রভোস্ট। তার দাবি, হলের সংস্কারকাজ চলায় সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং সেখানে কোনো ফুটেজ সংরক্ষিত ছিল না।
এর আগে গত রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলের সামনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা দেশীয় অস্ত্রের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি ও সংবাদ সংগ্রহের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
১৬ দিন আগে
নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: শর্তসাপেক্ষে গোলাম মহিউদ্দিনের জামিন
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী জামিন পেয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পাঁচ দিনের মাথায় সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালত তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন।
এদিন বিচারক আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে তার জামিনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিনের আদেশ দেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তাকে গ্রেপ্তারের পর এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইসিবি চত্বর এলাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার পর মামলাটি করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি প্রকল্প এলাকায় ঢুকে গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরা, পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল লুট ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
হামলায় সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ কয়েকজন আহত হন। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। এতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এর আগে মামলার তিন আসামি মামুন, আসলাম ও মুন্নার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই সুব্রত দেবনাথ তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
১৭ দিন আগে
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি এ ঘটনায় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল (রবিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে তারা শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা দেশীয় অস্ত্রের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি ও সংবাদ সংগ্রহের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজকের (সোমবার) মধ্যে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হলে সাংবাদিকরা কর্মসূচি থেকে ফিরে যান।
হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই কাজে ক্যাম্পাস শাখা ছাত্রদল ও হল প্রাধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান জড়িত বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ার কথা। কিন্তু পরে ওই ফুটেজ আর পাওয়া যায়নি। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেই ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদ জিয়াউর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সংস্কারকাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সে জন্য কোনো ফুটেজ নেই। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।’
অন্যদিকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. আবদুল আলীম বলেন, ‘তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই। তদন্ত কমিটি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার সেখান থেকে করছে।’
অবশ্য সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ বা হল প্রাধ্যক্ষের দাবি অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
১৭ দিন আগে
হাতকড়াসহ পালালেন আ. লীগ নেতা, স্বজনদের হামলায় আহত ২ পুলিশ সদস্য
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আবু ছিদ্দিক মেম্বারকে আটক করতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় হাতকড়া পরা অবস্থায় আটক ব্যক্তি পালিয়ে যান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আবু ছিদ্দিক কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীরা জানান, রাতে দর্শনা থানা পুলিশের একটি দল চণ্ডীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবু ছিদ্দিককে আটক করে। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় আবু ছিদ্দিক পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় পুলিশ চণ্ডীপুর হালদারপাড়ার রবি হালদারের ছেলে লক্ষ্মণ, সেলিমের ছেলে ফিরোজ, সঞ্চয়ের স্ত্রী কণা ও সনজিতের স্ত্রী সোনালীকে গ্রেপ্তার করেছে।
দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছিদ্দিককে আটক করতে গেলে তার পরিবারের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় আমাদের দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মুখলেসুর রহমান বলেন, আবু ছিদ্দিককে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২১ দিন আগে
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি সিএসও অ্যালায়েন্সের
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তিন শতাধিক বেসরকারি ও নাগরিক সংগঠনের জাতীয় জোট সিএসও অ্যালায়েন্স।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। এতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল ক্লিনিকের নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে টিকা, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নগদ টাকা লুট করে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে কেন্দ্রের ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সিএসও অ্যালায়েন্স রাড্ডার কর্মী ও কেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল সব পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।
রাড্ডা মিরপুরভিত্তিক একটি এনজিও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ১৯৭৪ সালে রাড্ডা বার্নেনের (সেভ দ্য চিলড্রেন সুইডেন) উদ্যোগে এর যাত্রা শুরু হয়। পাঁচ দশক ধরে সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বে প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র মা ও শিশুদের টিকা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দফা শুরুর ঠিক আগে মিরপুর-১-এর ক্লিনিকটিতে হামলা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ত্রিপলের অস্থায়ী তাঁবুতে শিশুদের টিকা দেওয়া চালিয়ে গেলেও বেশির ভাগ সেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সিএসও অ্যালায়েন্স বলেছে, দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল নবনির্বাচিত সরকার মব সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি থেকে আরও বেশি সুরক্ষা দেবে এবং কার্যকর বিচার নিশ্চিত করবে। কিন্তু এসব সমস্যা এখনও চলছে এবং রাড্ডায় হামলা সেই চলমান উদ্বেগের আরেকটি উদাহরণ। জমি নিয়ে বিরোধের মীমাংসা আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে, মাঝরাতে শক্তি প্রয়োগ করে নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবা প্রদানে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওর অংশীদারত্ব আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকার ওপর নির্ভরশীল। স্বাস্থ্য খাতে এনজিওগুলো দীর্ঘদিন রাষ্ট্রের পাশে থেকে কাজ করছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে নাগরিক সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে সিএসও অ্যালায়েন্সের গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে মাত্র ২ শতাংশে থাকা শিশুদের টিকাদান বাড়াতে এই অংশীদারত্ব ভূমিকা রেখেছে। সর্বশেষ ইপিআই কাভারেজ ইভ্যালুয়েশন সার্ভে-২০২৩ অনুযায়ী, দেশে পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত শিশুর হার এখন ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ। চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও দখলবাজি থেকে সবার আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের ঘোষণা এবং মালিকানার প্রশ্ন আদালতে নিষ্পত্তি ও টিকাদান চালু রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছে সিএসও অ্যালায়েন্স।
সংগঠনটি সরকারের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করতে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের তদন্তের ফলাফল ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাড্ডার ক্লিনিক যাতে নিরাপদে কাজ চালাতে পারে, সেই নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি টিকাদানসহ অন্যান্য সেবা ত্রিপলের তাঁবু থেকে একটি নিরাপদ অস্থায়ী কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে সহায়তা এবং লুট হওয়া টিকা ও সামগ্রী প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে ৩১ অক্টোবর শেষ হতে যাওয়া হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন থেকে এলাকার কোনো শিশু বাদ না পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও দখলবাজি থেকে সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এনজিও ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া এবং যেকোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলাকে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে সিএসও অ্যালায়েন্স।
সিএসও অ্যালায়েন্স কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সহ-আহ্বায়ক ও ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, সহ-আহ্বায়ক ও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, কোষাধ্যক্ষ ও কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উপদেষ্টা শিব নারায়ণ কৈরী।
অ্যালায়েন্সের সদস্যদের মধ্যে স্বাক্ষর করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ওয়াটারএইডের আঞ্চলিক পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) হাসিন জাহান, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এ কে এম মুসা ও ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর কে এ এম মোর্শেদ এবং সদস্যদের সমন্বয়ক ও আইআইডির নির্বাহী প্রধান সাঈদ আহমেদ।
২৫ দিন আগে
নওগাঁয় আওয়ামীপন্থি অধ্যক্ষের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, মোটরসাইকেলে আগুন
নওগাঁর রাণীনগরে ৫ আগস্টের পর বরখাস্ত হওয়া আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিএম মাসুদ রানা জুয়েল হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা মারধর করে তার এক হাত এবং দুই পা ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া, তার মোটরসাইকেলেও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি ঘটে।
হামলার পর মাসুদ রানা জুয়েলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের বাসিন্দা।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগে বেশ কয়েকজন ভুক্তযোগী গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েলকে প্রায় দুই বছর আগে পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পূর্নবহালের আদেশ পান।
আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসানের আদেশে গতকাল (রবিবার) মাসুদ রানা আবার মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসেন বলে জানান অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ।
তিনি আরও জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাসুদ রানা অফিসকক্ষে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক এসে সেখান থেকে মাসুদ রানাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পরে গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হামলাকারী কারা ছিলেন তা বলতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
হামলার শিকার মাসুদ রানার ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, আমার ভাই কলেজে যোগদান করতে গেলে বেশ কিছু লোকজন তার সঙ্গে আমাকেও বেধড়ক মারধর করে। তাদের মারধরে ভাইয়ের এক হাত এবং দুই পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউএনও মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিকট থেকে মারধরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং মোটরসাইকেলে আগুন ধরে দেওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, আজ (সোমবার) সকালে হামলার শিকার মাসুদ রানা জুয়েলের স্ত্রী রানীনগর শের ই বাংলা কলেজের প্রভাষক রোকসানা পারভিন জানান, নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামীর অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রাতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৩১ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার ওপর হামলায় বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আব্দুস সবুরের স্ত্রী শোহর ভানু বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলাটি করেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি রাকিবুল বলেন, গতকাল (শনিবার) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চের গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানাতে সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা জমায়েত হন। লং মার্চ রংপুরের উদ্দেশে চলে গেলে তারা নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর একদল লোক হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়া নুরনবী নামের আরেক জামায়াত নেতাও মারধরের শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস সবুরকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই তার স্ত্রী বাদী হয়ে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩২ দিন আগে