রাজধানীর পল্টনে ফুটপাতে থাকা অসহায় মুক্তা ও তার আড়াই বছরের শিশু মেহেদির দায়িত্ব নিয়েছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে আকস্মিকভাবে পুরানা পল্টনে এসে মুক্তাকে দেখে তার সঙ্গে কথা বলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। শুনেন তার অজানা গল্প। তার জন্য নতুন ঠিকানার ব্যবস্থা করবেন বলে আশস্ত করেন।
সংসস সদস্য বাবর বলেন, ‘মোহনগঞ্জে তার বাড়ি, আমার নির্বাচনি এলাকা। যখন শুনলাম রাস্তায় এই অসহায় নারী তার ছোট সন্তানদের নিয়ে বসে থাকেন, অভুক্ত দিন কাটান— সেজন্য তার আছে ছুটে এসেছি। আফটার অল (যাইহোক), তিনি আমার এলাকার মানুষ।’
তিনি বলেন, তাকে বলেছি, আমি মোহনগঞ্জে তাকে একটি ছোট জায়গা দিয়ে বাড়ি বানিয়ে ঠিকানা করে দেব, ইনশাল্লাহ। সেখানেই তিনি থাকবেন। আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে হবে না। তার ছোট ছেলেরও দায়িত্ব নিয়েছি আমি। এখন মুক্তা বেগমের জরুরি দরকার একটি চাকরির। তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া আমার প্রথম কাজ।
মুক্তা বেগম বলেন, ‘আমি এই দুনিয়ায় অসহায়। ছেলে-পেলে নিয়ে বছরের পর বছর এখানেই বসে থাকি।’
তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে এক মেয়ে। ছোট বাচ্চাটাকে দেখার মতো কেউ নাই। অনেক সময় আমি ঘুমাইয়া যাই, সেজন্য পোলাডাকে পায়ে দড়ি দিয়ে বাইন্দা ঘুমাই। যাতে কেউ নিয়ে না যায়। আজকে এমপি সাহেব আইছেন, কইছেন আমারে দেখব। আল্লাহ উনারে ভালো করুক।’
মুক্তা বেগমের বাড়ি মোহনগঞ্জ। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। এক মাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলে সন্তান নিয়ে এখন তার পথচলা। এর মধ্যে বড় ছেলেটা মাদকে আসক্ত হয়ে আলাদা। এখন মূলত ছোট ছেলে মেহেদিকে নিয়েই তার সংসার।