রাজধানী
লালবাগে ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে ব্যবসায়ীর ‘আত্মহত্যা’
রাজধানীর লালবাগের আজিমপুর এলাকার একটি সাততলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে রাজ্জাক হোসেন (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ব্যবসায়িক মন্দার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাজ্জাকের বাড়ি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টার এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত ফকির চান। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে জমিজমা-সংক্রান্ত ব্যবসা করতেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা সিফাত জানান, নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে আমার বড় ভাইয়ের শশুর। তিনি একটি বেসরকারি ডেভলপার কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় মন্দা হওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি মানসিকভাবে চিন্তিত ছিলেন।
আজ (রবিবার) সকালে আজিমপুরে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন তিনি। এ সময় কাউকে কিছু না বলে ওই সাততলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৪ দিন আগে
চকবাজারে খাজা মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে
ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাজধানীর চকবাজারের হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেট (খাজা মার্কেট) এলাকার আশিক টাওয়ারের আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে লালবাগ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম ইউএনবিকে জানান, পরে সহায়তার জন্য সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে পথে তীব্র যানজটের কারণে ইউনিটগুলোর চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
তিনি বলেন, মোট ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় বিকাল ৩টা ১৪ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
৫ দিন আগে
চকবাজারে খাজা মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট
রাজধানীর চকবাজারের খাজা মার্কেটের আশিক টাওয়ারের আটতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬টি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লালবাগ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
তিনি বলেন, পরে সহায়তার জন্য সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে তীব্র যানজটের কারণে ইউনিটগুলোর চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে ওই চার ইউনিটও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে।
আগুন লাগার কারণ, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
৫ দিন আগে
স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ৬ টুকরা: স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরা করার দায়ে ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের অপরাধে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামি শিল্পী গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ।
একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের সামনে একটি ব্যাগ থেকে উরু থেকে বিচ্ছিন্ন দুই পা এবং কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। পরে পৃথক স্থানে মরদেহের মাথাও উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ তদন্ত শুরু করে এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে শিল্পী পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহ, অর্থ নিয়ে বিরোধ এবং স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ ছয় টুকরা করে বিভিন্ন ব্যাগ ও একটি পানির ড্রামে ভরে রাখেন।
পরে ১ হাজার ৩০০ টাকায় একটি রিকশা ভাড়া করে মরদেহের মূল অংশ মহাখালীর আমতলী এলাকায় ফেলে দেন। পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে যান। এরপর মরদেহের মাথা গুলশান লেকে ফেলে দিয়ে বাসায় ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় নিহত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ২০২১ সালের ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত শেষে ডিবির পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর শিল্পীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
৭ দিন আগে
রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি জানতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
রাজধানীর যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোড (বৃত্তাকার সড়ক) নির্মাণ এবং ঢাকাকে ঘিরে থাকা নদীপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসন কীভাবে হবে, তা বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে।’
বৈঠকে জানানো হয়, রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পটি গাবতলী থেকে বাবুবাজার এবং পোস্তগোলা থেকে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পটির ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বৃত্তাকার এ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রামগামী যানবাহনকে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করতে হবে না। ফলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে এবং যানজটও হ্রাস পাবে।
এ ছাড়া বৈঠকে ঢাকাকে ঘিরে থাকা প্রায় ১১০ কিলোমিটার নদীপথকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, এ নৌপথ চালু করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বৃত্তাকার নদীপথে সহজেই যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে এ পরিকল্পনার কারিগরি দিক উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, নদীপথ ব্যবহারের ফলে পরিবেশদূষণ কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং যাতায়াতের সময়ও কম লাগবে। কারণ এ নৌপথে চলাচলকারী যানবাহন হবে বিদ্যুৎচালিত।
বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেলপথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
বনানীতে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে আহত
রাজধানীর বনানীতে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৭ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মহাখালী ওয়্যারলেস শিশুমেলা স্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন— সুমন মিয়া (৪৫), তার স্ত্রী সোনিয়া (৩৮) ও সোনিয়ার ভাই রাসেল (৪০)।
আহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি কলোনির বাসিন্দা সুমন মিয়ার সঙ্গে আরিফ নামে এক ব্যক্তির পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে সাক্ষাতের কথা ছিল।
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সুমন তার স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। অন্যদিকে, আরিফ সাত থেকে আটজন সহযোগী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে আরিফ ও তার সহযোগীরা সুমন, সোনিয়া ও রাসেলকে মারধর করেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর জখম করা হয়।
তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সকালে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জানে আলম বলেন, তাদের মধ্যে টাকা-পয়সা দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধ ছিল। এছাড়া অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১২ দিন আগে
রাজধানীর বহুতল ভবনে আগুন, নিহত ২
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কাঁটাবনে একটি বহুতল ভবনের ১২ তলার দুটি ফ্ল্যাটে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে এলিফ্যান্ট রোডের ১৪ তলা বিশিষ্ট আল-বারাকা টাওয়ারের ১২ তলায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মো. শিহাব সরকার জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দিবাগত রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনটি থেকে দুইজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন—কিশোরগঞ্জ জেলার বাবুল মিয়ার ছেলে মো. জনি (২৪) এবং বগুড়ার কাহালু উপজেলার সেলিম সরকারের ছেলে আব্দুস সালাম (২০)। জনি ব্যারিস্টার মোয়াজ্জেমের সহকারী (ক্লার্ক) এবং সালাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. নাজমুল সরোয়ার জানান, রাত ১টার দিকে আগুন লাগার পর ভবনের ওপরের তলাগুলো ধোঁয়ায় ভরে যায়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
১২ দিন আগে
রাজধানীতে আবাসিক হোটেল থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর বংশালের সিদ্দিক বাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে মো. শামিম হাসনাত (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক।
নিহত শামীম হাসনাতের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার শশেয়দিঘি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ছিলেন।
এ বিষয়ে আবাসিক হোটেলের মালিক মো. আবদুল কাদির জানান, গতকাল (বুধবার) রাত থেকেই তার হোটেলের কক্ষটি বন্ধ ছিল। পরে আজ সকালে হোটেলের ঝাড়ুদার সাহিদা বেগম কক্ষের দরজা ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। এ সময় ওই ব্যক্তিকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।। পরে আমরা বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে জানাই।
নিহতের বড় ভাই মোশারফ হোসেন জানান, ‘আমার ছোট ভাই কোনো কাজকর্ম করত না; আমার কাছ থেকে হাতখরচ নিয়ে চলত। প্রায় দশ বছর আগে সে বিয়ে করেছিল, বিয়ের দুই মাসের মধ্যেই অবশ্য তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। সে ইয়াবায় আসক্ত ছিল। এ কারণে আমার বাবা তাকে ২০১৮ সালে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে আজকে আমি কর্মস্থলে এসে টেলিফোনে জানতে পারি, আমার ভাই ওই হোটেলে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।’
পুলিশের এক সূত্র থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত মাদক সেবনে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি মাহফুজুল হক জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে খবর পেয়ে বংশাল থানাধীন সিদ্দিক বাজার এলাকার ‘ঢাকা প্যালেস’ নামে একটি আবাসিক হোটেলের চতুর্থ তলার ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিক তদন্তে আমরা ঐ ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাইনি। পরে মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমরা হোটেলের ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে জানতে পারি, ঈদুল আজহার পর থেকে ওই হোটেলেই ভাড়া থাকতেন শামীম হাসনাত। তবে তিনি ঠিক কী কাজ করতেন, সে বিষয়ে এখনও আমরা জানতে পারিনি।
১৪ দিন আগে
রাজধানীতে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে যুবক আটক
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে রিকশাচালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগ।
বুধবার (২৪ জুন) যাত্রাবাড়ী মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে আটক করেন।
আটক যুবকের নাম মো. সজিব পাঠান সম্রাট (২৮)।
ট্রাফিক পুলিশের ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আজ (বুধবার) যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা জানতে পারেন, এক ব্যক্তি নিজেকে একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রিকশাচালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সম্রাটকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক সম্রাট সাংবাদিক পরিচয়ের একটি আইডি কার্ড সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন।
পুলিশ জানায়, আটক যুবককে যাত্রাবাড়ী থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
১৫ দিন আগে
মিরপুরে ইটের আঘাতে আহত সেই সাজিদ মারা গেছেন
রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর আহত আরোহী সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো সাজ্জাদ হোসেন জানান, মোটরসাইকেলচালক সাজিদ চৌধুরী রাফি আজ (সোমবার) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— প্রধান আসামি মো. পারভেজ, ফয়সাল ওরফে কালু এবং আনোয়ার হোসেন বাবু।
মৃত রাফির চাচা মো. নুর হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন রাফিকে প্রথমে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১০ জুন তাকে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, ৯ জুন দিবাগত রাত রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন রাফি। আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একজন তাকে থামার সংকেত দেন। তিনি না থামলে আরেকজন চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট ছুড়ে আঘাত করেন। এতে রাফি রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় দিয়ে আঘাতকারী ব্যক্তি চিৎকার করে বলেন উপর থেকে রাফির ওপরে ইট পড়েছে। তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। তিনি নিজেই ইট দিয়ে রাফিকে আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করার পর চিৎকার করে আশপাশের লোকজনের কাছে সাহায্য চান। পরে রাফিকে একটি অটোরিকশায় করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। পুলিশও প্রথমে সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে তদন্তের পরে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, হামলাকারীরা রাফির পূর্বপরিচিত। ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত কালু, পারভেজসহ কয়েকজন সহযোগী ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রাফিকে একা পেয়ে তারা তাকে আটকের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কালু তাকে থামাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে অভিযুক্তরাই আহত রাফিকে প্রথমে সোরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও পরে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
১৭ দিন আগে