আগের মতো কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সমান সুযোগ) নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে চলমান আপিল আবেদনের বুথ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘আমরা ইনসাফে বিশ্বাসী; আমরা ইনসাফ করব। শুনানির পরে দেখবেন আইন, বিধি বিধান অনুযায়ী যা হবে, আমরা সে ধরনের সিদ্ধান্ত দেব। আইন সবার জন্য সমান, সবাই মানতে বাধ্য।’
এবার নির্বানে অংশ নিতে স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থী হতে আড়াই হাজারেরও বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাতে এখন পর্যন্ত বৈধ প্রার্থীর দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জনে।
এরপর গেল সোমবার থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন শুরু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত তিনদিনে মোট ২৯৫ জন আপিল আবেদন করেছেন, যা চলবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে।
নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘তেমন উন্নতি হয়নি’ এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি’ বলে রাজণৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সে বিষয়ে সিইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘বলতেই পারে। আমরা অতীতে দেখেছি মনোনয়নপত্র জমার সময় অনেক ভায়োলেন্স (বিশৃঙ্খলা) হয়; এবার নমিনেশন ফাইলিং (মনোনয়নপত্র জমা) এত সুন্দরভাবে হয়েছে; কোথাও মারামারি হয়েছে, গোলমাল হয়েছে—এমন তথ্য পাইনি এবার। এটা ভালো দিক।’
নাসির উদ্দিন বলেন, অনেকে বলেছে ইসি এটা করেছে, ওটা করেছে; বাতিল করে দিয়েছে অন্যায়ভাবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার ক্ষমতা রয়েছে, আইন তাদের ক্ষমতা দিয়েছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। তারা তাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যারা আপিল করবেন আমরা আইন অনুযায়ী যা করার করব। কমিশন থেকে সিদ্ধান্ত দেবে। সম্পূর্ণ ন্যায় বিচার পাবেন তারা।
তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল আবেদনের শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ শুরু হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে।