মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শ্রমিক সমাবেশ শুরু হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দলে দলে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন।
শুক্রবার (১ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির সূচনা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং শ্রমিক নেতারা এতে বক্তব্য দেবেন।
বিরূপ আবহাওয়া এবং রাতভর বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়লেও সকাল থেকেই মানুষ সভাস্থলে আসতে শুরু করেছে। আয়োজকরা মনে করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়বে। সমাবেশস্থলে একটি ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে নিরাপত্তা কর্মীরা পুরো এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।
শ্রমিক দল সূত্রে জানা গেছে, আজ ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে এবং যানবাহন বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হবে। জরুরি সেবা, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জনসভায় আসা দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সব আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। মঞ্চ প্রস্তুত এবং সভাস্থলে পর্যাপ্ত সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ অন্যান্য শিল্প জেলা থেকে শ্রমিকরা এতে অংশগ্রহণ করবেন।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে লাল গালিচা বিছানো হয়েছে। উত্তরমুখী এই মঞ্চের দুই পাশে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমান, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ফকিরাপুল, পল্টন এবং কাকরাইল এলাকাজুড়ে ১৫০টিরও বেশি লাউডস্পিকার লাগানো হয়েছে।
এই জনসভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। অনেককে লাল টুপি ও টি-শার্ট পরে, ব্যানার হাতে এবং ঢোল বাজিয়ে সভাস্থলে আসতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন, যার ফলে পুরো এলাকা স্লোগান ও করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
সকালে ভারী বৃষ্টির কারণে নয়াপল্টনের কিছু অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়লেও দুপুরের আগেই পানি নেমে যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এটিই রাজধানীতে বিএনপির প্রথম কোনো বড় ধরনের দলীয় কর্মসূচি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আশা প্রকাশ করেন যে, এই কর্মসূচি উপলক্ষে ঢাকায় শ্রমিকদের এক বিশাল ঢেউ নামবে।
ন্যায্য মজুরি, শ্রমের মর্যাদা এবং আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে ১৮৮৬ সালে শিকাগোতে যেসব শ্রমিক জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, মে দিবস তাদের সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। শ্রমিকদের অধিকার ও সংহতির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়।