সমাবেশ
ভিসির অপসারণ দাবিতে পবিপ্রবিতে টানা অষ্টম দিন চলছে অবস্থান কর্মসূচি
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে টানা অষ্টম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সদস্যরা।
সোমবার (১৮ মে) বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট শুরু হয়।
পবিপ্রবি ভিসি ডক্টর কাজী রফিকুল ইসলামের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে গত ১১ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ঐক্য জোট নানাভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। এ সময় ভিসির পক্ষে বহিরাগতরা ঢুকে আন্দোলন কর্মসূচীতে হামলা করে। হামলায় শিক্ষক কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এর প্রতিবাদে ভিসি-বিরোধী শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভ করেন। তারা দুমকি-বাউফল-বরিশাল মহাসড়কও অবরোধ করেন।
এ ঘটনার পর পবিপ্রবি ডিন কাউন্সিল, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা করেন।
প্রক্টর আতিকুর রহমান ও প্রক্টর আবুল বাশার খান জানান, বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ করে শিক্ষকরা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে শামিল হন।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, পবিপ্রবিতে শিক্ষক কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার পর ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকায় রয়েছেন। তবে তার অনুপস্থিতে এমন অযৌক্তিক আন্দোলন দুঃখজনক বলেও জানান তিনি।
অভিভাবককহীন পবিপ্রবিতে আন্দোলনের সূত্র ধরে অচল হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশন জটের মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
৯ দিন আগে
নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের জনসভা শুরু
মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শ্রমিক সমাবেশ শুরু হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দলে দলে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন।
শুক্রবার (১ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির সূচনা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং শ্রমিক নেতারা এতে বক্তব্য দেবেন।
বিরূপ আবহাওয়া এবং রাতভর বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়লেও সকাল থেকেই মানুষ সভাস্থলে আসতে শুরু করেছে। আয়োজকরা মনে করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়বে। সমাবেশস্থলে একটি ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে নিরাপত্তা কর্মীরা পুরো এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।
শ্রমিক দল সূত্রে জানা গেছে, আজ ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে এবং যানবাহন বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হবে। জরুরি সেবা, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জনসভায় আসা দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সব আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। মঞ্চ প্রস্তুত এবং সভাস্থলে পর্যাপ্ত সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ অন্যান্য শিল্প জেলা থেকে শ্রমিকরা এতে অংশগ্রহণ করবেন।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে লাল গালিচা বিছানো হয়েছে। উত্তরমুখী এই মঞ্চের দুই পাশে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমান, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ফকিরাপুল, পল্টন এবং কাকরাইল এলাকাজুড়ে ১৫০টিরও বেশি লাউডস্পিকার লাগানো হয়েছে।
এই জনসভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। অনেককে লাল টুপি ও টি-শার্ট পরে, ব্যানার হাতে এবং ঢোল বাজিয়ে সভাস্থলে আসতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন, যার ফলে পুরো এলাকা স্লোগান ও করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
সকালে ভারী বৃষ্টির কারণে নয়াপল্টনের কিছু অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়লেও দুপুরের আগেই পানি নেমে যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এটিই রাজধানীতে বিএনপির প্রথম কোনো বড় ধরনের দলীয় কর্মসূচি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আশা প্রকাশ করেন যে, এই কর্মসূচি উপলক্ষে ঢাকায় শ্রমিকদের এক বিশাল ঢেউ নামবে।
ন্যায্য মজুরি, শ্রমের মর্যাদা এবং আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে ১৮৮৬ সালে শিকাগোতে যেসব শ্রমিক জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, মে দিবস তাদের সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। শ্রমিকদের অধিকার ও সংহতির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়।
২৬ দিন আগে
রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর: শ্রদ্ধা নিবেদন, ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সাভারে শ্রমিক সমাবেশ
সাভারে বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ধসের ত্রয়োদশ বর্ষপূর্তিতে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন স্বজন, আহত শ্রমিক এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। একইসঙ্গে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ধসে পড়া রানা প্লাজার জমিতে স্থাপিত অস্থায়ী স্মৃতিবেদিতে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় নিহতদের স্মরণে নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিককর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি সাভারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় জড়িতদের বিচার এখনও শেষ হয়নি, যা নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের জন্য গভীর হতাশার বিষয়।
সংগঠনের সাভার থানা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বেপারীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে ভবন মালিক সোহেল রানার ফাঁসি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে রানা প্লাজার জমি ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, এক জীবনের আয়ের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ২৪ এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং দুর্ঘটনাস্থলে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ। একইসঙ্গে দেশের সকল কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এই দিনটি নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য এক গভীর বেদনার স্মারক। তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
এ সময় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার, গ্রামীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এতে ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন কয়েক হাজার শ্রমিক।
৩৩ দিন আগে
ফরিদপুরে বিএনপির দুপক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করেন। তার সই করা লিখিত আদেশের একটি কপি ‘ইউএনও আলফাডাঙ্গা’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও রাসেল ইকবাল জানান, জারি করা পত্র অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তায় প্রশাসন থেকে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে আজ (শনিবার) বিকেলে পৌর সদরের আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের।
অপরদিকে, বিকেল ৩টায় আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের আরিফুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে, গত ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমান লিপনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আরেকটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর।
দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেই বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েই ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আলফাডাঙ্গা পৌরসভার স্কুল, মাঠ ও বাজার এলাকায় শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ-মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরু বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। হঠাৎ করে দেখলাম, ঝুনু সমর্থকরা প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য মাইকিং করছে। দুই পক্ষের সমাবেশের জন্য প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এক্ষেত্রে সমাবেশ করব কি করব না, বিষয়টি জেলা কমিটির সঙ্গে কথা বলে পরে সিদ্ধান্ত নেব।
শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু-সমর্থিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোসবুর রহমান খোকন বলেন, উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে এবং গত ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমান লিপনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে যেহেতু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে, সেহেতু আমরা কর্মসূচি সফল করার জন্য মাঠে থাকব।
জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু (ভিপি ঝুনু)।
গত ২১ অক্টোবর ১০ বছর পর ফরিদপুর-১ আসন (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা) এবং পৌর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে জেলা বিএনপি। তিনটি উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটিতে প্রাধান্য পান কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা। এ নিয়ে নাসির মিয়া ও ভিপি ঝুনু মিয়ার মধ্যে দলীয় কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল অব্যাহত রাখেন ভিপি ঝুনু মিয়া। গত ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বোয়ালমারীতে আলাদা আলাদা সমাবেশ ডাকে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ ও ঝুনু গ্রুপ। একপর্যায়ে সমাবেশ রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নেয়। সহিংসতায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমান লিপনসহ দুই পক্ষের ১৫–২০ জন আহত হন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের প্রধান দুই নেতাকে আসামি করে স্থানীয় থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।
১৭৯ দিন আগে
নির্বাচনের আগে ব্যস্ত সড়কে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমাবেশ না করার আহ্বান ডিএমপির
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে জনদুর্ভোগ এড়াতে ব্যস্ত সড়কগুলোতে সমাবেশ না করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ৩২টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়ক অবরোধের ফলে প্রায়শই গর্ভবতী নারী, গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়া শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণের ব্যাপক দুর্ভোগ হয়।
পড়ুন: ডিএমপিকে পেশাদার ও মানসম্মত সেবা দিতে হবে: আইজিপি
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য ঢাকায় ৯১টি স্থান প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে মতিঝিল বিভাগে ১৫টি, তেজগাঁও বিভাগে ১২টি, লালবাগে ১৭টি, ওয়ারীতে ১৪টি, গুলশানে ৮টি, মিরপুরে ১১টি, উত্তরায় ১০টি এবং রমনা বিভাগে চারটি স্থান রয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনের জন্য ডিএমপির প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
বৈঠকে রাজনৈতিক নেতারা যানজট, মাদকের অপব্যবহার এবং কিশোর গ্যাংয়ের উত্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগর সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
তারা নির্বাচনের আগে যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা শহরে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিএমপিকে তাদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় ডিএমপি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
২৭৭ দিন আগে
কর্মদিবসে সড়কে সমাবেশ না করতে অনুরোধ ডিএমপি কমিশনারের
কর্মদিবসে সড়ক দখল কর্মসূচি পালন না করতে বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। এ ধরনের কর্মসূচি ঢাকা শহরের সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য দুর্ভোগ নিয়ে আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সড়ক দুর্ঘটনা তদন্তে দক্ষতা বাড়াতে ডিএমপি কর্মকর্তাদের এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) দুদিনের এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। এতে ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের ৬০ পুলিশ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা শহরের সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্মরত ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তারা রোড ক্র্যাশের ঘটনা তদন্তে (ইনভেস্টিগেশনে) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কলাকৌশল দেশীয় প্রেক্ষাপটে কাজে লাগানোসহ বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন এই কর্মশালা থেকে।
শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, ‘সড়কে যানবাহনের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে অফিস খোলার দিনগুলোতে সড়কে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহারের অনুরোধ করেছি। কারণ, এ ধরণের কর্মসূচি ঢাকা শহরের সব সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য দুর্ভোগ নিয়ে আসে।’
‘আর এগুলো করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা তদন্তে পুলিশ পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে না। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে রোড ক্র্যাশের তদন্ত করে এর কারণ সঠিকভাবে চিহ্নিত করা গেলে তা ভবিষ্যতে সড়কে মৃত্যু কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে,’ যোগ করেন তিনি।
‘সেজন্য কোনো রোড ক্র্যাশ ঘটলে তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত করতে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। ট্রাফিক বিভাগ সড়কের দায়িত্বে থাকে, তবে ক্র্যাশের ঘটনা তদন্ত করে ক্রাইম বিভাগ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা তদন্তে ট্রাফিক পুলিশকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।’
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধে সড়ক ব্যবহারীদের ট্রাফিক নিয়মকানুন মেনে চলা প্রয়োজন। বিশেষ করে নির্ধারিত গতিসীমা না মানা, হঠাৎ লেন পরিবর্তন ও যত্রতত্র রাস্তা পাড়াপাড় ক্র্যাশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ঢাকা শহরে অধিকাংশ রোড ক্র্যাশ মধ্যরাত থেকে সকালের মাঝে ঘটে যখন সড়ক তুলনামূলক ফাঁকা থাকে। রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধ করতে তিনি পুলিশ সদস্যদের কঠোরভাবে সড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণসহ বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
বিশেষ অতিথির ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সারওয়ার বলেন, ‘চালক, যাত্রী, পথচারীসহ সব সড়ক ব্যবহারকারী যদি নিয়ম মেনে, গতিসীমা মেনে সড়ক ব্যবহার করেন, তাহলে রোড ক্র্যাশের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) ইনিশিয়েটিভ কোঅর্ডিনেটর ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুল ওয়াদুদ। অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সুপারিন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মাহবুব আলম।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় সড়কে বেড়েছে প্রাণহানি, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জিআরএপি’র এশিয়া-প্যাসিফিক ম্যানেজার ব্র্যাট হারম্যান ও সিনিয়র রোড পুলিশিং এডভাইজর পিটার জোনস্, এনফোর্সমেন্ট কোঅর্ডিনেটর গোলাম হোসেন, ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেটর রেজাউর রহমান, সার্ভিলেন্স কোঅর্ডিনেটর ডা. তানভীর ইবনে আলী, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিক্যাল এডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।
৩৪৪ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিএনপি নেতার সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ
ঝিনাইদহে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডুর ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৪ জুন) বিকালে শৈলকুপা উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজারে সমাবেশের আয়োজন করে শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির একাংশ। জয়ন্ত কুমার কুন্ডু বিকালে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হলে মাঠের একপাশে ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। পরে সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা ধাওয়া করলে দুর্বত্তরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জয়ন্ত কুমার কুন্ডু বলেন, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এসে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হামলার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়া বাজারে বিক্ষোভ করেছে জয়ন্ত কুন্ডুর সমর্থকরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, রামচন্দ্রপুর বাজারে একটু উত্তেজনা হয়েছিল। পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এখন এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে তিনি পটকা বা বাজি ফাটিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
৩৪৮ দিন আগে
জবি শিক্ষার্থীদের সমাবেশ শুরু
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জুমার নামাজ শেষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাকরাইল মোড়ে সমাবেশ শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ মে) সকাল থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেন, এই ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তী) সরকার আমাদের রক্তের সরকার। আমাদের আন্দোলনে রেখে আপনারা এসিতে বসে থাকবেন না। আপনারা জেগে উঠুন। আমাদের দাবিতে দাবিতে আপনাদের ঘুম ভেঙে যাবে।
আরও পড়ুন: আন্দোলন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে যে বার্তা দিলেন জবিসাস সেক্রেটারি
সমাবেশে (জবি) ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই, আপনি ঘুম থেকে উঠুন, আর ঘুমাবেন না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তার যৌক্তিক দাবিতে আপনার দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শুনতে চায়, আপনি আমাদের জন্য কী বার্তা নিয়ে আসেন।’
এর আগে, গত বুধবার থেকে কাকরাইল মোড়ে অবস্থান করছেন জবি শিক্ষার্থীরা। দুপুর ২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সমাবেশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০টি বাস শিক্ষার্থীদের আন্দোলস্থলে নিয়ে এসেছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে কাকরাইল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
চলমান আন্দোলনে তাদের দাবিগুলো হলো—
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা।
২. জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন দেওয়া।
৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও দ্রুত বাস্তবায়ন।
৪. ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
৩৭৬ দিন আগে
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনের দাবিতে ৬৪ জেলায় বিএনপির সমাবেশের ঘোষণা
দেশের ৬৪টি জেলায় পর্যায়ক্রমে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ফ্যাসিবাদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও নির্বাচনি রোডম্যাপের দাবিতে এই বিক্ষোভ করবে দলটি।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এমন তথ্য দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতি ঠিক করার প্রতিশ্রুতি প্রধান উপদেষ্টার
রিজভী বলেন, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব জেলায় সমাবেশ করবে বিএনপি, যা শেষ হবে রমজানের আগে। পরবর্তীতে সব মহানগর ও বিভাগীয় সদরে সমাবেশ করা হবে।
দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা এসব বিক্ষোভে অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। কোন জেলার বিক্ষোভে কোন নেতা অংশ নেবে—তা পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনাকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ কথা বলার সুযোগ দিয়ে ভারত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে। ভারত তাকে (শেখ হাসিনা) আশ্রয় দিয়েছে, সেটা দিতেই পারে। কিন্তু তাকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া যে, সে বলবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে…পার্শ্ববর্তী দেশে থেকে সে উসকানি দিচ্ছে, একটা অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাকে সমর্থন করছেন ভারতের নীতিনির্ধারকেরা। এটা অদ্ভুত ব্যাপার।”
আরও পড়ুন: রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘এটা তো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ, ভয়ংকর রকমের হস্তক্ষেপ! একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ওপর আরেকটি রাষ্ট্রের এরকম অবস্থান—এটা তো চরমভাবে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন!’
৪৭৩ দিন আগে
তুরাগ নদীর আশেপাশে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ
তুরাগ নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম তীরের কামারপুর, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা সেক্টর-১০ ও এর আশেপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত ও অনেকে আহত হওয়ার পর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
আরও পড়ুন: দুই দিনের অভিযানে ১৭৯৯ মামলা দিল ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ
বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২৯ ধারার অধীনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ (অধ্যাদেশ নম্বর III/৭৬) জারি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পর যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং অন্যান্য বাহিনীর একটি বড় দল নিয়মিত পুলিশসহ ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই এলাকায় চার প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্র-বাচ্চার স্কুলের কাছে বাসা নেওয়ার পরামর্শ ডিএমপি কমিশনারের
৫২৫ দিন আগে