বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি কখনো রাজনীতিকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি; বরং রাজনীতির খরচ জুগিয়েছেন পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে। নিজের সততা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করে ব্যবসা করি না। বাপের জমিজমা, বাড়িঘর বিক্রি করে রাজনীতি করছি। এটা আপনারা ভালো করেই জানেন।’
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের চণ্ডীপুরসহ কয়েকটি এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আবেগাপ্লুত হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে আপনারা মা–বোনেরা ডিম, মুরগি ও সবজি বিক্রি করে জমানো টাকার মালা বানিয়ে আমাকে দিয়েছিলেন। আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন। আমি আপনাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘জমিজমাগুলো ছিল আমার বাবা চখা মিয়ার (মির্জা রুহুল আমিনের)। অর্ধেকের বেশি জমি শেষ—বেচে দিতে হয়েছে। এমনকি বাড়ির সামনের জমিটাও বিক্রি করতে হয়েছে।
‘আমি নিজে কখনো দুর্নীতিতে জড়াইনি। রাজনীতি ব্যবহার করে কখনো অর্থ উপার্জন করিনি। আমার স্ত্রী ও সন্তানরা অত্যন্ত কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে, সংসার চালিয়েছে।’
নিজের সাদামাটা জীবনযাত্রার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঢাকায় আমি যে গাড়িটিতে চড়ি, সেটি ২০ বছর আগের পুরনো। এখন পর্যন্ত সেই গাড়িটা বদলাতে পারিনি। আমরা কোনো দয়া বা ভিক্ষার ওপর নির্ভর করে বাঁচতে চাই না; বরং কাজের সুযোগ ও আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিচ্ছি।’
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৫ বছর ধরে আমরা কোনো কথা বলতে পারিনি। আমাদের পিটিয়েছে, মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে অস্থির করে রেখেছে। সেই দুঃসময় পার করে এসেছি। এখন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর।
প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিমানবন্দর চালু ও মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। কৃষিমন্ত্রী থাকার সময় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প, গভীর নলকূপ চালু ও কৃষি উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
জামায়াতে ইসলামের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং এখনও ক্ষমা চায়নি, তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তার ভাষায়, জামায়াতে ইসলাম শুধু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেনি; ইতিহাস বলছে, তারা ১৯৪৭ সালেও পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক মানুষ এসব ইতিহাস জানেন না, কিন্তু বইপত্রে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ‘যে দল বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই বিশ্বাস করেনি, তারা কি এই দেশকে নিরাপদে রাখতে পারবে? তারা ক্ষমতায় গেলে কি এ দেশের মানুষ ভালো থাকবে?’—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যে দল অতীতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এখনও সে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চায়নি, এমন দলকে সমর্থন করা যায় না। যারা বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে, তাদের কখনোই ভোট দেওয়া উচিত নয়।’
স্থানীয় উন্নয়নের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো এলাকা তখনই এগোয়, যখন সেখান থেকে ভালো, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। নেতৃত্ব ভালো হলে উন্নয়ন আসবেই।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে দীর্ঘ ১৭ বছরে ১১৭টি মিথ্যা মামলা ও নানা নির্যাতনের শিকার হলেও জনগণ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হননি বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন।