বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল গণনা ও ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের মতামতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হলে কঠোর আন্দোলনে যাব।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনগণের মতামতকে যদি ম্যানিপুলেশন (ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা) করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের কর্মসূচি এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের কর্মসূচি নিতে হয়, আমরা সেটা করব। এছাড়া, আমরা প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাব।
তার দাবি, বিকেল ৫টা থেকে ভোট গণনা শুরু হলেও গভীর রাত পর্যন্ত অনেক আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। তাদের এজেন্টদের দেওয়া শিট অনুযায়ী রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল, কিন্তু ভোর ৪টা পর্যন্ত তা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত ফলাফলের শিট পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৭ আসনে অন্তত ৮টি শিটে ‘ওভাররাইটিং’ করে প্রায় ৫ হাজার ভোট কমানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এ কাজ করা হয়েছে এবং আমাদের এজেন্টদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ঢাকার প্রায় সবগুলো আসনে আমাদের যারা আছেন সবার ফলাফল দিতেই এ ধরনের গড়িমসি করা হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে ইসি ও তার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত আছে তারা এটার সঙ্গে জড়িত। একই অবস্থা ১১ দলের অন্যান্য আসনে। সারাদেশে আসনগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। একই ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ রক্ত দিয়েছে এই ধরনের আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই এই ধরনের প্রক্রিয়া যে তারা করছেন, গণনা করা, রেজাল্ট দেওয়া, রেজাল্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের কলাকৌশল করা। ইচ্ছাকৃতভাবে মনে হচ্ছে কোনো একটা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তারা এ কাজটি করছেন। আমরা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবো না। দেশবাসীকে নিয়ে আমরা এই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
তিনি বলেন, এই জাতির যে ভয়ঙ্কর ট্রমা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এ যেটা আমরা দেখেছি এবং যারা এই ধরনের নির্বাচন করেছিলেন তারা এখন কোথায় আছে সেটা আপনারা জানেন। আমরা আশা করব, এই নির্বাচন কমিশনকেও যেন সেই পরিণতি ভোগ করতে না হয়।