এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে–সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা এ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ–সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের সুপারিশ করার জন্য চলতি বছরের ৫ মার্চ প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
এই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্রের পাশাপাশি এজাহার, চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের মতামত পর্যালোচনা করে।
আসাদুজ্জামান বলেন, যদি দেখা যায় যে কোনো মামলা রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, জনস্বার্থে এর প্রয়োজন নেই এবং এটি চালিয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে, তবে কমিটি সেই মামলাটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করবে।
তিনি জানান, এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে জেলা পর্যায়ের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গত ৮ মার্চ একটি ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে।