চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে ফের জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে নগরবাসীর।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাত থেকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। নিচতলার বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।
আজ (সোমবার) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। সমুদ্রে লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত আরও দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে নগরীর বিভিন্ন এলাকাতে জলবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। কোথাও হাঁটুসমান বা কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও অলিগলি।
গতকাল (রবিবার) রাত ১০টার পর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে আজ সকালে নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, দক্ষিণ হালিশহর, পাঠানটুলী ও কাপাসগোলাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মূল সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় অনেক বাসাবাড়ির নিচতলায়ও পানি ঢুকে পড়েছে।
আজ সকালে চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। পথচারীদের সেই পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। যানবাহন চলাচলও ছিল প্রায় বন্ধ।
আগ্রাবাদের মুহুরিপাড়া এলাকার চিত্রও ছিল একই। সড়কে কোমরসমান পানি জমে থাকায় আবাসিক ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় নগরীর বাসিন্দাদের পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। গণপরিবহন ও রিকশা না পেয়ে অনেককে বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। কোথাও রিকশা পাওয়া গেলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া।
আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার চাকরিজীবী তৌহিদুল সালাম জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই এলাকার অনেক সড়কে পানি জমে যায়। তবে গতকাল রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সড়কে যানবাহন না থাকায় এবং কিছু রিকশাচালক তিন গুণ পর্যন্ত ভাড়া চাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পানির ভেতর দিয়ে হেঁটে অফিসে গেছেন।
জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। মহানগরের বিভিন্ন স্কুলের সামনে ও আশপাশের সড়কে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। পরিবহনসংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী আজ স্কুলে যেতে পারেনি। কোথাও কোথাও শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সাগরে লঘু চাপের কারণে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও সামান্য সময়ের ব্যবধানে টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।
তাদের প্রশ্ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় এবং একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও কেন বৃষ্টিতে বারবার একই এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে?
নগরবাসীর দাবি, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা, খাল-নালা ও ড্রেনের সক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণব্যবস্থার দিকেও নজর দিতে হবে। না হলে বড় প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে।