কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে ঢাকা-খুলনা আন্তঃনগর সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। দাবি না মানলে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেলস্টেশন অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে কুমারখালী রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আয়োজক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাকিল আহমেদ তিয়াস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সাংবাদিক এম এ ওহাবসহ অন্যরা।
লিখিত বক্তব্যে শাকিল আহমেদ তিয়াস জানান, কুমারখালী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য প্রায় আট মাস ধরে আন্দোলন চলছে। সর্বশেষ গত ১১ মে স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ট্রেন থামানোর আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। তবে তারপর ৫৭ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পায়নি এলাকাবাসী। ফলে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ফের আন্দোলনের ডাক দিতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, ‘বারবার আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেনি প্রশাসন। আর সময় দেওয়া হবে না। আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে স্টেশনে ট্রেন না থামলে আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলতে থাকবে।’
উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন ও ব্যবসায়ে সমৃদ্ধ প্রাচীন নগরী কুমারখালীতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাপড়ের হাটটি স্টেশনের পাশেই অবস্থিত। অথচ স্টেশনে খুলনা-ঢাকাগামী সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি থামে না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানামুখী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ। এ সময় দ্রুত ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর দাবি জানান তিনি ।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান মুঠোফোনে বলেন, বাজেট স্বল্পতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়ে ট্রেনের যাত্রাবিরতি সম্ভব হয়নি। তবে সচিব স্যারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রায় ৭০ ভাগ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। খুব দ্রুতই কুমারখালী স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।