কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে তোপের মুখে এমপি আমির হামজা
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টে উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারি কলেজ মাঠে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে ক্যাম্পাসে যান মুফতি আমির হামজা। সে সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যানার নিয়ে কলেজের প্রবেশদ্বারের মুখে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করছিলেন। আমির হামজা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মঞ্চে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন এবং ব্যানার হাতে নিয়ে মঞ্চের পাশে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে তাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোল্লা মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত, এমনকি আমির হামজা যখন প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন, সে সময়ও শিক্ষার্থীরা জোরে জোরে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
নিজের বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি আনন্দও পেয়েছি, আবার একটু দুঃখও পেয়েছি। কারণ এখানে গাছ কাটার যে বিষয়টা শুনলাম। আসলে গাছ কে বা কারা কেটেছে এটা তদন্তের মাধ্যমে বের করেন, কিন্তু বাকি যেগুলো হচ্ছে, এগুলোকেও তদন্ত করা দরকার। বাকি যারা যা করছেন, মনে করছেন আমি লেবাস পরে আছি, মনে করছেন আমি হুজুর, আমি হুজুর না। আমি এগুলোর তালিকা নিয়ে যাব আজকে। আপনাদের যা করা লাগে, আমি তাই করব। আর আমি ‘ভুয়া’ না কী, আপনাদের দেখাব আজকে। আপনাদের যে কয়জনের তালিকা ইতোমধ্যে আমার কাছে আছে, এরা এই শিক্ষা ভবনটা নষ্ট করার জন্য। এর পেছনে কারা আছে আমি তাও জানি। আমি তাদের নামে নালিশ দেব একেবারে উপরে। দেখি আপনারা কতদূর পারেন।
ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করার পর কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তার কার্যালয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এ সময় কলাপসিবল গেট আটকে বাইরে পুলিশ অবস্থান নেয়। কিছু সময় পরে এমপি আমির হামজা পুলিশের সহযোগিতায় অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের হন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
এদিকে, এ ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে লেখা হয়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
পরে আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু নয়। সেখানে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সামান্য হট্টগোল হয়েছিল। আমি নিরাপদে বের হয়ে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কলেজের গাছ কাটা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী মানববন্ধন শেষে কলেজের প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপালদের সঙ্গে ঝামেলা করছিল। আমি বলছি, খেলা চলাকালীন এসব ঝামেলার দরকার নাই।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, খবর পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে দেখেন। তবে আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন ওসি।
তিনি বলেন, আমির হামজা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে তার সঙ্গেই বেরিয়ে আসেন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে যান।
প্রসঙ্গত, কলেজের বিশাল এই খেলার মাঠ বাদ রেখেই আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের নামে প্যান্ডেল তৈরির জন্য গত ৪ মে রাতের আঁধারে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের প্রায় ২০টির মতো গাছ কেটে ফেলা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা মিলে তাদের নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন ওই গাছগুলো। এমনকি শিক্ষকরা নিজেরাই নিয়মিত গাছগুলোর পরিচর্যা করে আসছিলেন।
রাতের আঁধারে এই গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে কলেজে এসে গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করেন তারা। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ একজনকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।
২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় নগদ টাকাসহ ৫ দিন ধরে নিখোঁজ ডেলিভারি ম্যান
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় অর্ধ লাখ টাকাসহ সজল শেখ (২০) নামে এক তরুণ ৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টা থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।
সজল উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের বাসিন্দা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় সজলের বাবা ও প্রতিষ্ঠানের মালিক থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সজলের বাবার অভিযোগ, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার ছেলেকে ক্ষতির উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছে।
তিনি আরও জানান, এর আগে গত ৭ এপ্রিল রাতে ছেলেকে মারধরের পর তার কাছে থাকা নগদ প্রায় ৮০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠান মালিকের অভিযোগ, সজল বাজার থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। এছাড়া ৭ এপ্রিল ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে তিনি প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভার তেবাড়িয়া এলাকায় দ্বীন মোহাম্মদ সাচ্চুর ডিলারশীপের ব্যবসা আছে। তিনি এসিআই গ্রুপের টিস্যুসহ অন্যান্য মালামালের ডিলার (পরিবেশক)। সেখানে সজল শেখ ডেলিভারি ম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত রয়েছেন।
২৯ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে সজল ডিলার পয়েন্ট থেকে ভ্যানে মালামাল নিয়ে বিভিন্ন দোকানে ডেলিভারি করেন এবং নগদ টাকা আদায় করেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সজলকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক থেকে ভ্যানটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ (সোমবার) সকালে ডিলার পয়েন্টের মালিক দ্বীন মোহাম্মদ সাচ্চু বলেন, ৭ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে সজল এসে বলে, কুষ্টিয়া-রাজাবাড়ী সড়কের জিলাপিতলা থেকে ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে ৮৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় ৯ এপ্রিল থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। কয়েকদিন আগে ওই অভিযোগের তদন্ত করে দেখা গেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা সজলের সাজানো ছিল।
সাচ্চুর মতে, কানাঘুষা করতে করতে তদন্তের বিষয়টি সজল টের পেয়ে যান। সেই ভয়ে ২৯ এপ্রিল রাতে সজল ভ্যান রেখে সারা দিনের আদায়ের প্রায় ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বিচারের আশায় থানায় আবারও লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
সজলের বাবা শফিক শেখ বলেন, এর আগে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিল সজল। আবার ২৯ এপ্রিল রাত থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সে আসলেও জীবিত না মৃত, তাও বুঝতে পারছি না। তাকে পাওয়া গেলে দুটি ঘটনারই আসল কারণ জানা যাবে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ভুক্তভোগী স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে উদ্ধারের পর সবকিছু নিশ্চিত হওয়া যাবে।
৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যা: রাজশাহী থেকে আরেক আসামি গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীর (৬৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে (৩২) রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাজীব ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের গাজী মিস্ত্রির ছেলে এবং মামলার ৩ নম্বর আসামি।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, র্যাব-৫ রাজশাহী ও র্যাব-১২ কুষ্টিয়ার যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, পীর হত্যা, আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রাজিবকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত রবিবার ও সোমবার রাতে একই ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর ও ইসলামপুর এলাকা থেকে বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) এবং দশম শ্রেণির ছাত্র আলঙ্গীর হোসেনকে (১৬) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আব্দুর রহমান শামীমকে তার আস্তানার ভেতরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং দরবার শরিফ ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক হেফাজতে
কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগের পর অস্ত্রোপচারের সময় তাসনিয়া আফরিন (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের সময় উপস্থিত দু্ই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে শহরতলীর মোল্লা তেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একতা প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
তাসনিয়া আফরিন কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে ছিল।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার চাপে অস্ত্রোপচারের সময় উপস্থিত দু্ই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
নিহতের স্বজনরা জানান, চার-পাঁচ দিন আগে বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে তাসনিয়ার বাঁ হাত ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গতকাল (সোমবার) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে কুষ্টিয়া শহরের একতা প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর হাতে অস্ত্রোপচারের জন্য সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাসনিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদী এবং অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের জন্য তাহেরুল আল আমীন উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়।
এ খবর অপারেশন থিয়েটারের বাইরে থাকা স্বজনদের কাছে পৌঁছালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজনও ভাঙচুরে অংশ নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ও সেনা সদস্যরা সেখানে অবস্থান করেন। পরে অবরুদ্ধ দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
শিশুটির খালু আতিয়ার রহমান বলেন, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়েছে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।
ঘটনার রাতে চিকিৎসক তাহেরুল আল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, তাসনিয়ার শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষায় সব ঠিক ছিল। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর সে মৃত্যুবরণ করে। হয়তো হার্ট অ্যাটাকের কারণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, এটাকে আমরা ‘হাইপার সেনসিটিভ কেস’ বলে থাকি, অর্থাৎ হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে হঠাৎ পাম্পিং বন্ধ হয়ে যাওয়া। অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, নিহতের পরিবার সম্ভবত ময়নাতদন্ত করতে চাচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
একতা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে অজ্ঞান (অচেতন করা) করানোর পরপরই তার মৃত্যু হয়। অ্যানেসথেসিস্ট বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানে এসে কাজ করেন। অ্যানেসথেসিয়া কীভাবে প্রয়োগ হয়েছে বা কতটুকু প্রয়োগ হয়েছে, সেটা চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এস এম কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। কোনো গাফিলতির প্রমাণ মিললে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন অভিযোগে এর আগেও তিনটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। রাতেই দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহের কাছে না থাকায় এখনও সুরতহাল প্রতিবেদন করা সম্ভব হয়নি।
১১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ আলী (৩৫) ওই এলাকার রবিউল শেখের ছেলে। তিনি ফেরি করে পণ্য বিক্রি করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গতকাল (সোমবার) রাশেদ কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঝগড় চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রাত ৩টার দিকে ছোট ভাই জহুরুল তার বড় ভাই রাশেদকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর থেকেই জহুরুল পরিবারসহ পলাতক রয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, রাশেদকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ২৮ জন
কুষ্টিয়া জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় নতুন করে ২৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার হাম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫১ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে ৩ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৫৪ জন। আর ৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ১১ জন, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় যে ২৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তারা সবারই হামের উপসর্গ রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২২ জন। এছাড়া বর্তমানে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
তবে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ রোগীর মৃত্যু হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, হঠাৎ করে এই অঞ্চলে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে টিকাদানে অনীহা এবং আবহাওয়া পরিবর্তন বড় কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
১৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ৩২ ঘণ্টা পর শ্রমিকদের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার
কুষ্টিয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল থেকে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কুষ্টিয়া জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বৈঠক শেষে দুপুর ১টার দিকে এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়।
কুষ্টিয়া জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন সব রুটে বাস চলাচলে বাধা নেই। এর আগে দুই দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এর ফলে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে অভ্যন্তরীণ সব রুটে কুষ্টিয়ার মালিক গ্রুপ ও মালিক সমিতির যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর, কুষ্টিয়া-প্রাগপুর রুটে বাস চলাচল একেবারেই বন্ধ ছিল। এছাড়া কুষ্টিয়া-খুলনা-যশোর, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া-বরিশাল, কুষ্টিয়া-রাজশাহী, কুষ্টিয়া-পাবনা-সিরাজগঞ্জসহ অন্যান্য রুটে মালিক গ্রুপ ও মালিক সমিতির কোনো বাসও ছেড়ে যায়নি। তবে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসগুলো চলছিল। ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েন সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীরা।
পরিবহন শ্রমিকেরা বলছেন, দুটি দাবিতে এক সপ্তাহ আগে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এর একটি হলো পরিবহনসংশ্লিষ্ট মালিক যেসব সুযোগ-সুবিধা নেন, শ্রমিকদেরও একই সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত শ্রমিক সংগঠনের নামে একটি বাস কুষ্টিয়া থেকে খুলনা রুটে চলাচল করার অনুমোদন দিতে হবে।
তারা বলেন, গত ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দাবি না মানায় শুক্রবার সকাল থেকে মালিক গ্রুপ ও মালিক সমিতির বাস মিনিবাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
এ পরিস্থিতিতে শনিবার সকাল ১১টায় বাস মালিক-শ্রমিকরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জসীম উদ্দিন বৈঠকে বসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা চলা বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
কুষ্টিয়া বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আক্তার হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদের দাবির ব্যাপারে ইতিবাচক থাকায় তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। জরুরি কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় আমি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে না পারলেও আমাদের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩
কুষ্টিয়ায় ট্রাক-পিকআপভ্যানের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এতে পিকআপের চালকসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা তিনটি ঘোড়াও মারা গেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বিত্তিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— নড়াইল জেলা সদর উপজেলার বাঙালিপাড়া এলাকার আব্দুল হকের ছেলে সিফায়েত (৩৫) ও সাধুখালী এলাকার বিমলের ছেলে বিকাশ (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আজ সকালে ঘোড়া বহনকারী একটি পিকআপভ্যান নড়াইলের দিকে যাওয়ার পথে সদর উপজেলার বিত্তিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিফায়েত নিহন হন। আহত অবস্থায় বিকাশকে হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা তিনটি ঘোড়াও মারা গেছে।
দুর্ঘটনায় আহত পিকআপের চালক নাজমুল (৩৭) এবং দুই আরোহী তামিম (১৪) ও জিয়াকে (৪৫) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, নিহতদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
২২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে ৩ শিশুর মৃত্যু
কুষ্টিয়ায় বেড়েই চলেছে হামের সংক্রমণ। এ নিয়েছে জনমনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। সে দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে।
এরপর রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আইজার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। সে কুষ্টিয়া শহরের রেনউক মোড় এলাকার মমিনের মেয়ে।
তার আগে, ভোর ৬টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী আফরানের মৃত্যু হয়। সে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ইতোমধ্যে হাম রোগীদের জন্য আলাদা ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে আমাদের শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় তিনশর বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, হামের টিকার স্বল্পতা, সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলা থেকে মানুষের আগমন সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত শিশুদের জন্য জেলার সব হাসপাতালে ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ চালু করা হয়েছে এবং টিকা পাওয়ামাত্র দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
৩৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর মৃত্যু
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আফরান নামে ৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
আফরান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।
শিশুটির বাবা আল আমিন বলেন, হঠাৎ ঠান্ডা, জ্বর ও শরীরে লালচে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা দিলে আফরানকে কুষ্টিয়ায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটিকে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির মৃত্যুতে তার বাবা অভিযোগ করেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) আফরানের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। আজ ভোরের দিকে অবস্থা খুব খারাপ হলে চিকিৎসক ও নার্সদের ডাকা হয়। কিন্তু নার্সরা সঠিকভাবে সহযোগিতা করেনি। পরে মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে আসি।’
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তির দিন থেকেই শিশুটির অবস্থা খারাপ ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রোগীর স্বজনরা যাননি। তবুও আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দিয়েছি। শুক্রবার ভোরের দিকে শিশুটি মারা যায়।
৩৬ দিন আগে