কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার জোড়া লাগা সেই জমজ দুই শিশুর ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যু
দারিদ্র্যের যাঁতাকলে থমকে যাওয়া কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগা তিন মাসের জমজ দুই শিশু মোছা. জয়নব ও মোছা. উম্মে কুলসুমের চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে আশার আলো জ্বলেছিল, তা নিভে গেল এক বিষাদময় পরিণতিতে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশু দুটি মারা গেছে।
কুষ্টিয়ার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় দোকান কর্মচারী মো. নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৪ মে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন একাধিক ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ দলের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। তিন মাস পর শিশুদের পুনরায় ঢাকায় আনার পরামর্শ দেওয়া হলেও চরম আর্থিক অনটনে সেই চিকিৎসাযাত্রা থমকে যায়।
সম্প্রতি এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। তার সরাসরি নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই দুই শিশুর অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসহ যাবতীয় সব ব্যয়ভার বহনের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গত রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজে জয়নব ও উম্মে কুলসুমের বাবা নাহিদ হাসানকে ফোন করে অতি দ্রুত শিশুদের ঢাকায় নিয়ে আসার পরামর্শ দেন।
সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসে গত সোমবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ওইদিনই শিশুদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করায় পরিবারটি। এরপর চিকিৎসকদের অধীনে তাদের বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গতকাল বিকেলে শিশু দুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, চিকিৎসকরাও চেষ্টা করছিলেন। আমরা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু আমার কোলজুড়ে আসা ফুটফুটে বাচ্চা দুটোকে আর বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম না। আল্লাহ তাদের তুলে নিলেন, এই কষ্ট সওয়ার ক্ষমতা যেন আমাদের দেন।’
গতকাল রাতে শিশুদের মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন বাবা নাহিদ হাসানসহ স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় গরুর খামার ভাড়া নিয়ে বানানো হচ্ছিল নকল সিগারেট
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি নকল সিগারেট উৎপাদন কারখানার সন্ধান মিলেছে। গরুর খামার ভাড়া নিয়ে সেখানে নকল সিগারেট তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা মূল্যের নকল সিগারেট ও কাঁচামাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দৌলতপুর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়বাড়িয়া গ্রামের আহসান হাবিব মাস্টারের একটি গরুর খামার ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা ওই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে অভিযানকালে কারখানার ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জয়রামপুর গ্রামের আজিরুদ্দিন সরকারের ছেলে শাকিল আহমেদ ও বৈদ্যনাথতলা গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে লোকমান হোসেন লিওন খামারটি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নকল সিগারেট তৈরি করে আসছিলেন।
অভিযানে মোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার শলাকা নকল সিগারেট ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২ লাখ শলাকা ‘ডার্বি’, ৮৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ১১ লাখ ৫০ হাজার শলাকা ‘রয়েলস’ ও ‘রয়েল নেক্সট’, ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ শলাকা ‘নেভি’ এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ বস্তা (২১০০ কেজি) পচা তামাক রয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের সর্বমোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
অভিযানের বিষয়ে প্রদীপ কুমার দাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ও নিম্নমানের তামাক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা আগেই পালিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে ও জনস্বাস্থ্যের হুমকিস্বরূপ এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কারখানার মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত শাকিল আহমেদ ও লোকমান হোসেন লিওনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট।
৬ দিন আগে
বছরের ৮ মাসই জলাবদ্ধতা, ব্রিটিশ আমলের টানেলে জনদুর্ভোগ চরমে
ঘটনা ছোট, কিন্তু সমস্যা পাহাড়সম। মাত্র ২০ মিটার পাকা সড়ক, অথচ বছরের ৮ থেকে ১০ মাস সেখানে জমে থাকে হাঁটুসমান পানি। ফলে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষকে।
উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের হাতিসাকোঁ এলাকার এই চিত্র যেন উন্নয়নের মাঝে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি। ব্রিটিশ আমলে যোগাযোগের জন্য নির্মিত টানেলটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং পরিকল্পনাহীন ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়ক পরিণত হয় মরণফাঁদে।
কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় সড়কের ওই অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার রাস্তা উঁচু করলে টানেলে যানবাহন বেঁধে যায়। ফলে ব্রিটিশ আমলের উন্নয়ন এখন আধুনিক যুগের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ টানেলটি নির্মাণ করে। যুগ যুগ ধরে টানেলের নিচ দিয়ে কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের মানুষের নিত্যদিনের চলাচল। কিন্তু গত এক দশকে আশপাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভরাট করে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
৯ দিন আগে
শিলাইদহে রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে থৈ থৈ করছে পানি
পদ্মার তীর থেকে প্রায় ৮০০ মিটার পশ্চিমে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি। এখানে বসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন অসংখ্য গান, কবিতা, নাটক আর ছোটগল্প। যে গীতাঞ্জলি রচনার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন, তার অধিকাংশ কবিতাও এখানে বসেই লেখা। এক কথায়, বাংলা সাহিত্যের অনেক অমর সৃষ্টির জন্ম এই কুঠিবাড়িতে।
প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো রবীন্দ্রভক্ত ছুটে আসেন বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত এই রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি দেখতে। কিন্তু কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে সেই ঐতিহ্যের তীর্থভূমির চিত্রই যেন পাল্টে গেছে। কুঠিবাড়ির প্রধান প্রবেশপথ, মুক্তমঞ্চ, ম্যুরালের সামনে, জাদুঘরের আঙিনা, এমনকি ফুল ও ফলের বাগান—সবখানেই এখন থৈ থৈ করছে পানি। কুঠিবাড়িজুড়ে জলমগ্নতার এই চিত্র শুধু এ বছরই নয়, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এমন চিত্র চোখে পড়ে।
১০ দিন আগে
দুটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন পদ্মার চরাঞ্চলের প্রায় এক লাখ মানুষ
স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা অবকাঠামো গড়ে উঠলেও দুটি সেতুর অভাবে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ এখনও মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। ফলে নাগরিক সুবিধার অনেকটাই তাদের কাছে রয়ে গেছে অধরাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাগজোত ও সুখারঘাটে সেতু না থাকায় বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চরবাসীকে। বর্ষাকালে উত্তাল পদ্মা নদী পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল বালুচর পাড়ি দিতে হয় ভ্যান, ট্রলি, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের এই চরাঞ্চলের ভেতরে কিছু সড়ক নির্মিত হলেও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি কোনো সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও অত্যন্ত নাজুক। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় জরুরি রোগীদের। মুমূর্ষু রোগীকে উপজেলা বা জেলা শহরের হাসপাতালে নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
১৫ দিন আগে
ফোন দিলেই পৌঁছে যাচ্ছে মাদক, দৌলতপুর সীমান্তজুড়ে সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট
ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্ত গলে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এখন আর মাদকসেবীদের নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হয় না; একটি ফোন কলেই ‘হোম ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে চাহিদা অনুযায়ী মাদক হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।
পুলিশের একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী ও অসাধু কিছু ব্যক্তি জড়িত। এদের মধ্যে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু সদস্য, নামধারী সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানো ব্যক্তিদেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বিজিবি ও পুলিশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার সীমান্ত এবং উদয়নগর বিওপি-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সীমান্তের একটি অংশ ভারতের অভ্যন্তরে চলে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে উদয়নগর সীমান্তকে মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা।
এছাড়া আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ ও পশ্চিম ধর্মদহ, প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর ও বিলগাতুয়া, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া ও ভাগযোতসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন নৌপথ ব্যবহার করেও দেশে মাদক প্রবেশ করছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দৌলতপুরে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাদকের লেনদেন হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বর্তমানে মাদক কারবারিদের প্রধান লক্ষ্য ১৭ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ও যুবকেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক কারবারি জানান, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেটের চাহিদা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। আকারে ছোট হওয়ায় এসব মাদক সহজে বহন করা যায় এবং প্রশাসনের নজর এড়াতে সরাসরি বেচাকেনার পরিবর্তে ফোনের মাধ্যমে ‘হোম ডেলিভারি’ সিস্টেমে কেনা বেচা করা হচ্ছে।
বিজিবির দাবি, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৫৫ পয়সায় সংগ্রহ করা এসব নেশাজাতীয় ট্যাবলেট দেশে এনে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় বহিরাগত মোটরসাইকেল আরোহী ও অপরিচিত মানুষের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বিকেল ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সীমান্ত এলাকায় তরুণদের মাদকসেবনের প্রবণতা বাড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
সীমান্তে বিজিবি ও পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলেও মাদকের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
১৬ দিন আগে
চাঁদা বকেয়া থাকায় স্থানীয় গোরস্থানে জায়গা হলো না মৃত নাসির উদ্দিনের
কুষ্টিয়ার মিরপুরে চাঁদা বাকি থাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পুরাতন আজমপুর এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, আজমপুর পুরাতন পাড়া গোরস্থানের চাঁদা না দেওয়ার কারণে প্রথমে তাদের কাছে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দাফনের অনুমতি মেলেনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতা আতিয়ার হাজীর বিরুদ্ধে গোরস্থান কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে মো. নাসির উদ্দিন মারা যান। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিন মেয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা তড়িঘড়ি করে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। পথেই তাদের কাছে খবর আসে, যে গোরস্থানে তাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে, সেখানে নাসির উদ্দিনকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে তাদের বলা হয়, নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন গোরস্থানের মাসিক বা বাৎসরিক চাঁদা পরিশোধ করেননি। তাই এককালীন ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। মৃত ওই ব্যক্তির পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে হাতে যত টাকা আছে তা দিয়ে বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা বলেন। এমনকি ২ থেকে ৩ কিস্তিতে বকেয়া গোরস্থানের চাঁদার টাকা পরিশোধ করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। কিন্তু তাতেও রাজি হননি গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার।
মৃতের বড় মেয়ে মোছা. নাসিমা খাতুন বলেন, আমরা তিন বোন ঢাকায় থাকি। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। পথে চাচাতো ভাই ফোন করে জানায়, যেখানে আমাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে সেখানে বাবাকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে বলা হয় ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাগবে। আমরা টাকা দিতে রাজি ছিলাম, প্রয়োজনে কিস্তিতেও দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে বলা হয়, টাকা দিলেও বাবাকে সেখানে দাফন করা হবে না। একজন মৃত মানুষকে এভাবে ফিরিয়ে দেওয়াটা খুব কষ্টের।
এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানান, নাসির উদ্দিনের বাবা মৃত আহমদ আলী ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন এবং তাকে সেখানেই দাফন করা হয়েছিল। তাই নাসির উদ্দিনের পরিবারও স্বাভাবিকভাবেই একই গোরস্থানে দাফনের আশা করেছিলেন।
মৃতের বাড়ির সামনে থাকা মুদি দোকানি মো. সেলিম বলেন, নাসিরের বাবা ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন। তার কবরও সেখানে আছে। নাসির মারা যাওয়ার পর তার বড় মেয়ে সভাপতি আবুল মাস্টারের সঙ্গে কথা বলেন। তারা বলেন, যত টাকা লাগে দেবেন, শুধু বাবাকে দাফন করতে দিতে হবে। কিন্তু তারপরও অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় আশরাফুল হক আশা মেম্বার তার নিজের পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন।
সদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বিএনপির ওয়ার্ড সেক্রেটারি আশরাফুল হক আশা বলেন, নাসির উদ্দিনের বাবা নিয়মিত চাঁদা দিতেন। তার মৃত্যুর পর নাসির আর চাঁদা দেয়নি। কিন্তু মৃত্যুর পর তার পরিবার এককালীন টাকা দিতেও রাজি হয়েছিল। শুনেছি তখন প্রায় ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে বলা হয়, টাকা লাগবে না, তবুও তাকে দাফন করা হবে না। তখন মানবিক দায়িত্ব থেকে আমি আমার পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করি।
তিনি আরও বলেন, কবর অর্ধেক খনন হওয়ার পর এলাকার কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী এসে বলেন, এতে তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং মরদেহ অন্য গোরস্থানে নেওয়া হোক। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা বলেন, যেখানে কবর খোঁড়া হয়েছে সেখানেই দাফন করা হবে। মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা কবরস্থান। এটি নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি হওয়া দুঃখজনক।
ঘটনার পর এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায়, স্থানীয় জামায়াত নেতা আতিয়ার হাজীর ইন্ধনেই গোরস্থান কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়। কারণ হিসেবে কেউ কেউ বলেন, নাসির উদ্দিনের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভালো সম্পর্ক ছিল। যদিও তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না।
আতিয়ার হাজী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নাসির উদ্দিন আমার চাচাতো ভাই। তাকে ওই গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার কথা শুনে আমি বরং সেখানে দাফনের চেষ্টা করেছি। আমি গোরস্থান কমিটির কেউ না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং আমি বহুবার গোরস্থান কর্তৃপক্ষের এমন নীতির সমালোচনা করেছি।
অন্যদিকে গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার বলেন, আমাদের গোরস্থানে প্রায় ১৪০ জন সদস্য রয়েছে। কেবল সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এখানে দাফন করা হয়। নাসির উদ্দিন সদস্য ছিলেন না। তাই তাকে দাফনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ৩৫-৪৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, সদস্যরা কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, আবার কেউ ধান দিয়ে চাঁদা পরিশোধ করেন। গোরস্থানের জায়গা সীমিত। সবাইকে দাফন করতে দিলে দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাবে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি সাধারণ গোরস্থানে দাফনের জন্য চাঁদা বাধ্যতামূলক করা কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং একজন মৃত ব্যক্তিকে পূর্বপুরুষদের পাশে দাফনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, সাধারণত জনসাধারণের ব্যবহৃত গোরস্থানে এ ধরনের নিয়ম থাকে না। তবে যদি এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক গোরস্থান হয়, তাহলে আলাদা বিষয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭ দিন আগে
ফুটবল খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফেরায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য, পরে যুবকের ‘আত্মহত্যা’
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় রাতে ফুটবল খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফেরায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ার পর সকালে নিজ ঘর থেকে সুমন হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন হোসেন একই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন। তার পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুইটি সন্তান রয়েছে।
জানা গেছে, সুমন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দেখে ভোরে বাড়ি ফেরেন সুমন। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে আজ (সোমবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের স্ত্রী জানান, ভোর ৪টার দিকে ফুটবল খেলা দেখে বাড়িতে ফেরেন সুমন। তাকে শুধু বলেছিলাম, ‘এখন তোমার আসার সময় হলো!’ তখনই আবার বাড়ি থেকে মাঠের দিকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর আমি মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখতে পাই ‘ঘরের ডাবের’ (ঘরের আড়া) সঙ্গে সুমনের দেহ ঝুলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আব্দুল জলিল বলেন, আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টা হবে। আমি ফজরের নামাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় হঠাৎ সুমনের বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে ভেতরে গিয়ে দেখি ঘরের ডাবের সঙ্গে সুমন ঝুলছে। তাৎক্ষণিক আমি ও আরেকজন মিলে সুমনকে নামাই। এরপর স্থানীয় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, সুমন নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তবে কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জানতে পেরেছি, খেলা দেখে আসার পর স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল। আবার ওই যুবক আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকও ছিলেন।
২৯ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের জিরো পয়েন্ট মজমপুর এলাকায় জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের ফলে কুষ্টিয়ার ব্যস্ততম এই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কুষ্টিয়া-বটতৈল ও কুষ্টিয়া-ত্রিমোহনী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেন। এ সময় ‘তুমি কে, আমি কে? ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’ স্লোগানও দিতে দেখা যায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী তাসনিম রহমান বলেন, ভারী বৃষ্টি আর বন্যার মধ্যে আমরা কীভাবে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দেব? অনেক সহপাঠী কেন্দ্রে পৌঁছাতেই পারেনি। অথচ আমাদের দুর্ভোগের সমাধান না করে উল্টো দায়িত্বহীন মন্তব্য করা হয়েছে। আমরা ফার্মের মুরগি নই যে খাঁচায় বন্দি থেকে সব মেনে নেব। আমাদের যৌক্তিক দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
আরেক পরীক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ১৩ জুলাইয়ের বৈরী আবহাওয়ায় আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা শুধু একটা পরীক্ষা নতুন করে নিয়ে পুষিয়ে দেওয়া যাবে না। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক যে ধকল গেছে, তা শিক্ষামন্ত্রীর বোঝা উচিত ছিল। আমরা পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস ও আমাদের তিন দফা দাবির বাস্তবায়ন চাই।
এদিকে, আন্দোলন শুরুর আগে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি গত সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। অনেকে ভিজেছে এবং অনেকে সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি—এমন অভিযোগ এসেছে। যদিও আমরা সব সময় পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিলাম, তারপরও শিক্ষার্থীদের দাবি এসেছে এ পরীক্ষাটি নিয়ে। ইতোমধ্যে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি, আমাদের পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা ভেবেচিন্তে দেখেছি, চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা যখন নিতে যাব—পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা, সে সময় আমরা এ পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণার পরও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি শিক্ষার্থীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কুষ্টিয়ার মজমপুর মোড়ে তাদের অবরোধ ও বিক্ষোভ চলছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
৩৪ দিন আগে
নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় কুষ্টিয়ায় জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি
নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি পদ থেকে সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের নতুন সেক্রেটারি হয়েছেন শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পুরুষ সদস্য নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদ (রুকন) সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এ কারণে কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে নতুন দায়িত্ব এনামুল হককে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ বিষয়ে অব্যাহতি পাওয়া সুজাউদ্দিন জোয়ার্দর জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা রোকন বা কোনো দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় কমিটি সারা দেশের রোকনদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এতে তার মনে কোনো ক্ষোভ বা কষ্ট নেই।
তিনি আরও জানান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি পদ লাভের আগেই তিনি বাগোয়ান ডক্টর ফজলুল হক গার্লস কলেজের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তবে গঠনতন্ত্রের এই ধারাটি তখন শিথিল ছিল বিধায় সে সময় তার সেক্রেটারি পদ পেতে বাধা হয়নি। চাকরি ছাড়লে পুনরায় স্বপদে বহাল রাখা হবে।
সদ্য দায়িত্ব পাওয়া জেলার সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে জেলার জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত হিসেবে, মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সারা দেশে এমন সাত জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারির নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শহর জামায়াতের আমীর এনামুল হককে।
৩৫ দিন আগে