কুষ্টিয়া
আজ থেকে শুরু লালন স্মরণোৎসব
দোল পূর্ণিমা তিথিতে প্রতি বছর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসব। সাধুগুরু ও লালনভক্তদের সরব উপস্থিতি, গান ও গ্রামীণ মেলায় জমজমাট হয়ে ওঠে আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ।
তবে এবার রমজানের কারণে সোমবার (২ মার্চ) দুপুর থেকে এক দিনই উদযাপিত হবে লালন স্মরণোৎসব।
আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান জানিয়েছেন, এবার থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কেবল আলোচনা অনুষ্ঠান ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই মঙ্গলবার দুপুরে শেষ হবে আয়োজন। সাধুসঙ্গ চলবে রীতি অনুসারে।
এদিকে, উৎসব উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেছেন লালন ভক্ত বাউল-ফকিররা। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালনের গান। তারা দলে দলে ভাগ হয়ে আসন পেতে বসেছেন; করছেন নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়।
শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে আখড়াবাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
এ সময় ঢাকা থেকে উৎসবে আসা ফকির ফাহিম বলেন, সারা বছর এই দিনগুলোর অপেক্ষায় থাকি। দোল উৎসবে দেশ-বিদেশের বাউল ও সাধুরা আখড়াবাড়িতে আসেন। একে অপরের মধ্যে ভাব বিনিময় হয়।
আমেরিকা প্রবাসী মিজানুর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই লালনের গান শুনে আসছি। সেই টান থেকেই প্রথমবারের মতো আখড়াবাড়িতে আসা। এখানে বসে বাস্তবতা অনুভব করলাম। তার ভাষ্য, ফকির লালন সাঁইজি জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে মানব প্রেমের কথা বলে গেছেন।
মানিকগঞ্জ থেকে আগত সাধু তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, সাঁইজির প্রেমের টানে, মায়ার টানে কয়েকদিন আগেই আখড়াবাড়িতে এসেছি। এবার পবিত্র রমজানের কারণে উৎসব একটু কম হবে।
৭ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৬
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় সামাজিক বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়িয়া-ভাদালিয়াপাড়া এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় সেখান থেকে কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে বটতৈল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আব্দুল হান্নানের গ্রুপের সঙ্গে একই ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার (ইউপি সদস্য) সাইফুলের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গতকাল (শনিবার) রাতে ভাদাদিয়াপাড়া এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ছয়জন আহত হন। এ সময় ২০টির অধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বরিয়ার হান্নান মেম্বার ও ভাদালিয়া পাড়ার সাইফুল মেম্বারের মধ্যে সামাজিক দ্বন্দ্ব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এর জেরে এ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ছাগল চুরির অভিযোগে এক নারীর বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাট, আটক ২
কুষ্টিয়ায় ছাগল চুরির অভিযোগে ইরানি বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পুরাতন কুষ্টিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইরানি বেগম ওই এলাকার নেহেরুলের স্ত্রী।
স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকার মাছিদুলের ছাগল বৃহস্পতিবার (২৬ তারিখ) হারিয়ে যায়। এরপর গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে ইরানি বেগম তার বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করে ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই উপস্থিত জনতার কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।
স্থানীয়রা বলছেন, এর আগেও একাধিকবার ছাগল চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই নারী। তবে শুক্রবার তাকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওই নারী। তার ভাষ্য, ‘আমি ছাগল চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। তবুও তারা আমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। এতে আমার অনেক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তিনি থানায় এ বিষয়ে এজাহার দিলে মামলা নেওয়া হবে।’
৯ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর
কুষ্টিয়ায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে এক মোটরসাইকেলের আরোহী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের পূর্ব মজমপুর নাসির ডাক্তার গলি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম শাহ জামাল (৪৫)। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার ওলিপুর থানার চরসিতায়জাহ এলাকার আব্দুর সাত্তার ছেলে। ঠিকাদারি কাজের সুবাদে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের সামনে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকালে শহরের সাদ্দাম বাজার থেকে উদিবাড়ি যাওয়ার পথে ওই রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি এসে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শাহ জামালের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও একজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলক্রসিংটি অরক্ষিত হওয়ায় প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে সেখানে দ্রুত গেট ও গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানান।
পোড়াদহ জিআরপি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দীন জানান, ট্রেনের ধাক্কায় একজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় গভীর রাতে ৩ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকান পুড়ে গেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একটি আসবাবপত্র, একটি কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান এবং একপল্লী চিকিৎসকের চেম্বার পুড়ে অন্তত ২৫-৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, আসবাবপত্রের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত আগুন তা জানা যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা হলেন— কাঠ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, কম্পিউটার ও ফটোকপি মেশিনের ব্যবসায়ী ফয়সাল শেখ এবং দন্ত চিকিৎসক শরিফ উদ্দিন।
স্থানীয়রা জানান, দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে লাহিনীপাড়া এলাকার তিনটি দোকানে দাউ দাউ করে আগুন দেখতে পান তারা। পরে চিৎকার চেঁচামেচি করে সকলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন এবং কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফোন করা হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। এরপর এলাবাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে সকল মালামালসহ তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পী হোসেন জানান, আগুন দেখে সবাই ছুটে এসে নেভানোর চেষ্টা করেন। শেষ মূহুর্তে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে তিনটি দোকান পুড়ে গেছে।
জাকিরের ভাই লালন হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের দোকানে কাঠ, ফার্নিচার, যন্ত্রপাতিসহ ১৫ - ২০ লাখ টাকার মাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, তিনটি দোকানে প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সমন্ধে কিছু জানা যায়নি।
কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার আলী হোসেন ফোনে বলেন, খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সকলের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পরে জানা যাবে।
১৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ‘হত্যা মামলা তুলে না নেওয়ায়’ সাক্ষীর ওপর হামলা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার সাক্ষী আসমত গাইন (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া গ্রামে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর বুধবার ছাতারপাড়া বাজারে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন আপন দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় আরও দুজন আহত হন। আহতদের মধ্যে আসমত গাইনও ছিলেন।
নিহতরা হলেন— হামিদুল ইসলাম (৪৮) ও তার ছোট ভাই নজরুল ইসলাম (৪৫)। তারা ছাতারপাড়া এলাকার বেগুনবাড়িয়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে ছিলেন।
এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গাইন বংশের লোকজন কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়ায় পেয়াদা বংশের লোকজন তাদের ওপর ২০২৪ সালে হামলা চালান। এতে গাইন বংশের আপন দুই ভাই নিহত হন। সেই জোড়া হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে সম্প্রতি বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রতিপক্ষের লোকজন মামলার সাক্ষী আসমত গাইনের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত আসমতের ভাতিজা সজিব হোসেন বলেন, ‘ইফতারের আগে আমাদের বাড়িতে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে আমার চাচা দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর আমাদের গ্রামে আপন দুই ভাইকে হত্যার ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হয়েছিলেন। তিনি ওই হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী।’
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, আগের জোড়া হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
১৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় গড়াই নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ায় গড়াই নদী থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে শহরতলীর মঙ্গলবাড়ীয়া বাঁধ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এটি উদ্ধার করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
ঈশ্বরদী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য এটি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যার রহস্য জানা যাবে।
১৬ দিন আগে
কুষ্টিয়া-২ আসনে ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরি
কুষ্টিয়া-২ আসনের একটি ভোটকেন্দ্র থেকে দুটি সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রটি মিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে চুরির বিষয়টি টের পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তাকে জানায়। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে সিসি ক্যামেরা দুটি চুরি করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যামেরা না দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ৮টার দিকে বলেন, সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষ চুরির বিষয়টি টের পেয়ে আমাকে জানায়। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে একই স্থানে আবারও নতুন করে ক্যামেরা প্রতিস্থাপন করা হবে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ক্যামেরা দুটি এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ভেড়ামারা ও মিরপুর দুই উপজেলা মিলে কুষ্টিয়া-২ আসন। মিরপুর উপজেলায় মোট ১১৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৮ হাজার ১ জন।
২৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ার সাবেক পৌর মেয়রসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
পৌর তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কুষ্টিয়া পৌরসভার আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র আনোয়ার আলীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায় মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— আনোয়ার আলী, সাবেক পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন ও সাবেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৬ জুলাই কোনো রেকর্ডপত্র বা রেজুলেশন ছাড়াই অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির থানাপাড়া শাখায় ‘দরিদ্র তহবিল’ নামে একটি চলতি হিসাব একক সইয়ে খোলা হয়। পরে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভবনের নকশা অনুমোদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে সরকারি ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আদায়কৃত অর্থ ব্যাংকে জমা দিয়ে যথাযথ রেকর্ড বা রেজুলেশন ছাড়াই বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে পরস্পর যোগসাজস ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মোট ৫ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার ৫৬৯ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মইনুল আহসান রওশনী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
২৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে মেডিকেল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম সামিয়া নিঝুম (২০)। তিনি কলেজের পাশে একটি ভাড়া বাসায় একটি রুম নিয়ে একাই থাকতেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর থানার হাউজিং ই-ব্লক এলাকার একটি সাততলা ভবনের চারতলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালার সঙ্গে দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত সামিয়া নিঝুম পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ছোট শালিখা এলাকার মো. আব্দুস সালামের মেয়ে। পড়াশোনার সুবাদে তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কাছে ওই বাসার একটি কক্ষে একাই বসবাস করতেন।
বাসার কেয়ারটেকার রিয়াজ উদ্দিন জানান, সন্ধ্যার দিকে নিঝুমের বাবা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মেয়ের খোঁজ নিতে বলেন। পরে পাশের কক্ষের এক ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিঝুমের কক্ষে গিয়ে একাধিকবার ডাকাডাকি করলেও তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের অনুমতিতে দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে ভেতরে জানলার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখা যায়। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পাশের কক্ষে থাকা এক মেডিকেল শিক্ষার্থী জানান, নিঝুম প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওই কক্ষে ওঠেন। ঘটনার সময় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিঝুম খুব ভালো ছাত্রী ছিলেন। তিনি চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। আর এক বছর পরই তার এমবিবিএস কোর্স শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
২৮ দিন আগে