কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় নৈশপ্রহরীদের বেঁধে রেখে ‘ডাকাতি’
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় নৈশপ্রহরীদের বেঁধে রেখে তিনটি স্বর্ণের দোকানসহ আরও কয়েকটি দোকানে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি ডাকাতি নয়, শতভাগ চুরির ঘটনা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার একতারপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও নৈশপ্রহরীদের অভিযোগ, রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রানোতোষ বিশ্বাসের পূর্ণ জুয়েলার্সের দুটি শোরুম ও কারখানা, মানিক বিশ্বাসের মানিক জুয়েলার্স, সঞ্জয় বিশ্বাসের ঈশানী বিউটি কসমেটিকস, পাখি ভ্যানের মিস্ত্রী হান্নান শেখ ও চায়ের দোকানি ওবায়দুলের দোকান থেকে রুপা, সোনার পুরনো গহনা, মুঠোফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা।
নৈশপ্রহরীরা জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের সশস্ত্র দলটির প্রত্যেকের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। তাদের কাছে রাইফেল ও ধারালো অস্ত্র ছিল। প্রথমে দুই ব্যবসায়ীকে ও নৈশপ্রহরীদের গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে তারা। এরপর কয়েকজন মিলে তাদের পাহারা দিতে থাকে এবং অন্যরা দোকানগুলোর তালা ভেঙে মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী প্রানোতোষ বিশ্বাস বলেন, রাতে দোকান বন্ধের সময় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে রেখে যান। তারপরও ডাকাতরা তার দোকানের সবগুলো সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে। এছাড়া তার দুই শোরুম ও কারখানার লকারের কয়েকটি ড্রয়ার ভেঙে কয়েক ভরি পুরনো গহনা, ২০ ভরি খাঁটি রুপা ও ড্রয়ারে থাকা ২৫ হাজার টাকা ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একজন তাকে ফোন দিয়ে তার দোকানে ডাকাতির ঘটনা জানান। তিনি বাজারে এসে দোকানের শাটার বন্ধ পান। পরে ভেতরে ঢুকে ডাকাতির ঘটনা টের পান।
প্রত্যক্ষদর্শী পাখি ভ্যানের মিস্ত্রী আব্দুল হান্নান শেখ জানান, ডাকাতরা তাকে নৈশপ্রহরীদের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিল। এ সময় ডাকাতরা তার কাছে থাকা ধার করে আনা পাঁচ হাজার টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে যায়।
বাজারের পাহারা ব্যবস্থাপনা কমিটির অর্থ সম্পাদক গ্রাম্য চিকিৎসক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের পাঁচজন পাহারাদারের চারজনকে আটকে রেখে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ডাকাতি চলেছে। রাতেই পুলিশ এসেছিল। মামলা এখনও হয়নি।’
এদিকে এ ঘটনাকে শতভাগ চুরি বলে উল্লেখ করে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, একতারপুর বাজারের তিনটি দোকানে চুরি হয়েছে।
২০ মিনিট আগে
বিষমুক্ত সবজি চাষ: ফলনে খুশি হলেও দামে মলিন কৃষক
জমির আলের চারপাশে নীল জালের বেড়া। ভেতরে বাঁশ ও জালের মাচা। মাচার ওপরে সবুজ লতা, আর নিচে থোকায় থোকায় ঝুলছে তরতাজা করলা। কিন্তু এই করলায় নেই কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক বিষ।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রথমবারের মতো উত্তম কৃষি চর্চা বা গ্যাপ পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে সাড়া ফেলেছেন দুই কৃষক। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম পাওয়ায় হাসি নেই তাদের মুখে।
উত্তম কৃষি চর্চা বা গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেসস হলো এমন কিছু পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি পদ্ধতি, যার মূল লক্ষ্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা। পরিবেশের ভারসাম্য ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা। কৃষকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ ও সুঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করা।
এর একটি পদ্ধতি ‘মালচিং’। এটি এমন একটি কৃষি পদ্ধতি যার মাধ্যমে গাছের গোড়ায় বা মাটির উপরিভাগে খড়, পাতা, কচুরিপানা বা প্লাস্টিকের শিট দিয়ে একটি সুরক্ষা স্তর বা ঢাকনা তৈরি করা হয়, যা আর্দ্রতা রক্ষা, আগাছা দমন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে।
উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধলনগর গ্রামের জমারত আলীর ছেলে দবির উদ্দিন ফারাজী ও মৃত তোয়াজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারী তিন বিঘা জমিতে আলিসা জাতের করলা চাষ করেছেন। গত ১০ দিনে তারা ২ হাজার ২০০ কেজি করলা বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে পাইকারি দর ছিল কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫৫ টাকা। এতে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়েছে তাদের।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আরও ৪ হাজার কেজির বেশি করলা বিক্রির আশা করছেন তারা, যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকা।
কিন্তু তাদের অভিযোগ, বাজারে বিষমুক্ত এবং বিষযুক্ত সবজির আলাদা বাজার বা হাট নেই। ফলে সমান দামে বিক্রি হওয়ায় লাভবান হতে পারছেন না তারা। তাদের ভাষ্য, গতবছর এই সময়ে প্রতি কেজি করলা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমান দাম তার অর্ধেক। গতবারের মতো দাম থাকলে কয়েক লাখ টাকা লাভবান হতেন তারা।
বাড়তি খরচ, কিন্তু দাম কম
শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দুরের ধলনগর মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জমি নীল রঙের জাল দিয়ে ঘেরা। পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক। মাটিতে দেওয়া হয়েছে জৈব সার। একজন খেতের পরিচর্যা করছেন, অপরজন তুলছেন করলা।
এ সময় উদ্যোক্তা দবির উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাপ পদ্ধতিতে চাষ করতে খরচ বেশি। জাল, ফাঁদ, জৈব সার—সবই কিনতে হয়। ফলন ভালো এবং সবজিও স্বাস্থ্যকর। তবে ক্রেতারা এখনও বিষমুক্ত সবজির দাম দিতে চান না।’
১ দিন আগে
দেড়শ কিলোমিটার দূরে ডুবুরি, কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে
নদীতে কেউ নিখোঁজ হয়েছেন। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছেছে ফায়ার সার্ভিসের দল। কিন্তু শুরু করা যাচ্ছে না উদ্ধার অভিযান। কারণ, কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসে নেই প্রশিক্ষিত ডুবুরি। প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরত্বের খুলনা থেকে ডুবুরি দল আসার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যাতে সময় লেগে যায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা।
নদীবেষ্টিত কুষ্টিয়ায় এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসনা, কালীগঙ্গা, কুমার ও সাগরখালীসহ জেলার ওপর দিয়ে ছোটবড় মিলিয়ে অন্তত আটটি নদ-নদী বয়ে গেছে। এসব নদীর সঙ্গে জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা ও চলাচল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ নদীতে দুর্ঘটনা বা কেউ নিখোঁজ হলে উদ্ধারের জন্য কুষ্টিয়াকে নির্ভর করতে হয় খুলনার ওপর।
এর ফলে দুর্ঘটনার পরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ঘণ্টা কেটে যায় শুধু ডুবুরি দলের অপেক্ষায়। এতে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা যেমন কমে, তেমনি মরদেহ উদ্ধারের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কোনো কোনো ঘটনায় স্বজনদের এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও সেই চিত্রই সামনে এনেছে। শুধু আগস্ট মাসেই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন নদীতে ডুবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার ভাগজোত ঘাটে পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্র মোস্তাকিম হোসেন। স্থানীয়রা আরেক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করলেও মোস্তাকিমকে সেদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়ায় নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় ব্যাহত হয় উদ্ধার অভিযান। পরে খুলনা থেকে ডুবুরি দল পৌঁছালে পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার আগে ৫ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পাড় ধসে নদীতে পড়ে যায় পাঁচ বছরের নূরী খাতুন ও আট বছরের জামিলা খাতুন। স্থানীয়রা জামিলাকে জীবিত উদ্ধার করলেও নূরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় পরদিন মিরপুর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে।
১৪ আগস্ট কুমারখালীর শিলাইদহ পদ্মা নদীর ঘাটে নিখোঁজ হয় আট বছরের শিশু আলিফ হোসেন। একই দিন সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর ২৪ আগস্ট কুমারখালী পৌরসভার এম এন বাঁধ এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে গড়াই নদীতে ডুবে মারা যান জেলে পরিমল মণ্ডল (৩৮)।
শুধু দুর্ঘটনার সংখ্যা নয়, এসব ঘটনায় উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছালেও প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারেন না। স্থানীয়রা নৌকা, জাল কিংবা দেশীয় উপকরণ নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব ব্যবস্থা প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক ডাইভিং সরঞ্জামের বিকল্প নয়।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেনের বক্তব্যে সমস্যাটির প্রশাসনিক দিকটিও উঠে এসেছে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় এখানে নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। জেলা পর্যায়ে আলাদা ডুবুরি দল না থাকায় বিভাগীয় শহর খুলনার ওপর নির্ভর করতে হয়। খবর পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে খুলনা থেকে ডুবুরি দলকে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে।
ওয়াদুদ হোসেন বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে খুলনার ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয়। জেলার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ডুবুরি দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, সমস্যাটি যে নতুন নয়, তা ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব বক্তব্যেই স্পষ্ট। ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথ, নিয়মিত দুর্ঘটনা এবং দীর্ঘদিনের দাবির পরও কুষ্টিয়ায় কেন স্থায়ী ডুবুরি দল গঠন হয়নি—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সামাজিক সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাহাব উদ্দীন মিলন বলেন, ‘যে জেলায় পদ্মা ও গড়াইয়ের মতো প্রমত্তা নদী রয়েছে, সেখানে স্থায়ী ডুবুরি দল না থাকা হতাশাজনক। অবিলম্বে কুষ্টিয়া জেলায় স্থায়ী ডুবুরি দল নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ফায়ার স্টেশনে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা দরকার।’
পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে স্বজনেরা একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শঙ্কায় থাকেন, অন্যদিকে কখন উদ্ধারকারী দল আসবে, সেই অপেক্ষাও করতে হয়। স্থানীয়রা নৌকা, জাল ও দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক সরঞ্জামের বিকল্প তারা হতে পারেন না।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোমিন ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের সুযোগ থাকে। কিন্তু দূরের জেলা থেকে ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে সেই সম্ভাবনা অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।’
মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুনের আহাজারিতেও সেই অপেক্ষার অসহায়তা ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমার ছাওয়াল ছুটির দিন বন্ধুগোরে সাথে নদীর পাড়ে খেলতে যায়ে ডুবে গেল। এখনও ছাওয়ালটার খোঁজ পালাম না। খুলনা থেকে লোক আসপে, তারপরে উদ্ধার হবে—এই অপেক্ষা করতি হচ্ছে।’
কুষ্টিয়ার মতো নদীবেষ্টিত একটি জেলায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানের প্রথম কয়েক ঘণ্টাই যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে দেড়শ কিলোমিটার দূর থেকে ডুবুরি দলের আসার ওপর নির্ভরতা কতটা কার্যকর—এ প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। আর ততদিন নদীতে নিখোঁজ হওয়ার প্রতিটি ঘটনায় স্বজনদের অপেক্ষার সময়টিই হয়ে থাকছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
৫ দিন আগে
পদ্মাপাড়ে অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা, হুমকিতে কৃষিজমি-পরিবেশ
পদ্মাপাড়ে দিনের বেলায় সুনসান নীরবতা। তারই মাঝে চোখে পড়ে সবুজ রঙের ত্রিপল দিয়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত জায়গা। তবে রাতের গভীর ওই ত্রিপলের আশপাশের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। তখন সেখানে উন্মুক্তভাবে ভাঙা হয় শত শত পুরাতন ব্যাটারি। তাতে আবার কয়লা ও কাঠের আগুন জ্বালিয়ে বের করা হয় বিষাক্ত সিসা, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পদ্মা নদীর পাড়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরসাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর নৌকাঘাট-সংলগ্ন দেলোয়ার হোসেনের ইটভাটা এলাকায় প্রতিদিন বিকেল ও মধ্যরাতে এই বিপরীত দৃশ্যের দেখা মিলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, পাবনার মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি কারখানাটি পরিচালনা করছেন। প্রায় দেড় মাস ধরে সেখানে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিকল্পিত ও অনিরাপদভাবে পরিচালিত কারখানাটিতে পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে ও পুড়িয়ে সিসা বের করা হচ্ছে। এতে সিসাযুক্ত ধোঁয়া, দূষিত ধূলিকণা ও অ্যাসিডের মতো ভয়ানক রাসায়নিক পদার্থ মাটি, পানি ও বাতাসে মিশে চারপাশ দূষিত করছে। প্রায় দুই মাস ধরে প্রকাশ্যে এমন কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে নদীপাড়ের শত শত বিঘা কৃষিজমি ও বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে জানতে ইটভাটার মালিক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, পাবনার মনির স্থানীয় প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করছেন। এ জন্য তিনি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন দেলোয়ার।
তিনি আরও বলেন, ‘এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে; ফসল নষ্ট হচ্ছে। বারবার নিষেধ করার পরও এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।’ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করার কথা স্বীকার করেছেন মনির হোসেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সবাইকে ম্যানেজ করেই দেড় মাস ধরে কারখানা চলছে।’ তবে বাতাসের কারণে অধিকাংশ দিনই কারখানা বন্ধ রাখতে হয় বলে তিনি দাবি করেন। ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, দিনের বেলায় সেখানে কোনো কাজ হয় না। রাত সাড়ে ১১টার পর ট্রাকে করে পুরাতন ব্যাটারি আনা হয়। রাত ১২টার দিকে জ্বালানো হয় আগুন।
তার অভিযোগ, চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান টিক্কা, বিএনপির কর্মী জালাল ও হযরতের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ কারখানাটি চলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীপাড়ের কলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান টিক্কা বলেন, ‘কারা কী করছে জানিনে। আমি এসবে নাই। আপনারা মনিরের সাথে মিলতাল করে নেন।’
অবৈধ ব্যাটারি কারখানার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেছেন চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম। তিনি বলেন, ‘দিন পনেরো আগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কারখানার লোকদের দৌড়ানি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে চলে কি না, তা জানা নেই।’
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জ্যেষ্ঠ রসায়নবিদ) হাবিবুল বাসার বলেন, ব্যাটারির ভেতরে সালফিউরিক অ্যাসিড থাকে। উন্মুক্তভাবে ব্যাটারি ভেঙে সিসা বের করার ফলে বাতাসে সিসা ও লেডের মাত্রা বেড়ে যায় যা পরিবেশ ও মাটির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে দ্রুত অবৈধ ব্যাটারি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার।
৭ দিন আগে
৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পঁচে গেছে, কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা
গেল কয়েক বছর মন্দা যাচ্ছিল ব্যবসায়। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার কেনা পেঁয়াজ পঁচে গেছে। সবমিলে ব্যাংক ও এনজিওর ঋণ এবং স্বজনদের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় কয়েক কোটি টাকা। সেই ঋণ আর ধারদেনার চাপ সইতে না পেরে হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮) নামের এক ব্যবাসীয় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) গভীর রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
হারুন অর রশিদ খালেক বিরিকয়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, খালেক একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলাদি কিনে তা বিক্রি করতেন। গেল কয়েক বছর ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল তার। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পঁচে গেছে। সবমিলিয়ে ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছে কয়েক কোটি টাকার ঋণী ছিলেন তিনি।
সেই ঋণের চাপ সইতে না পেরে গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে ছোট ভাই আব্দুল মালেককে মুঠোফোনে জানান, ‘আমার ছোয়ালডা থাকল তুই দেখিস’। এ কথা শুনে মালেক জিজ্ঞেস করেন, ‘তুই কোনে? উত্তরে খালেক বলেছিলেন, ‘ওমক (শফিউল্লাহর আমবাগান) জায়গা সকালে পাবিনি’। এ কথা শুনেই মালেক, তার বাবা ও ভাবি দ্রুত শফিউল্লাহর বাগানে গিয়ে দেখেন একটি আমগাছের ডালে রশিতে ঝুলছে খালেকের মরদেহ।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, পান্টি-যদুবয়রা সড়ক ঘেঁষে বিরিকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ব্যবসায়ী খালেকের বাড়ি। সেখানে আহাজারি করছেন তার স্বজনরা। উৎসুক জনতা তাদের শান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ঋণের চাপে এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ সময় কয়েক কোটি টাকা ঋণের কথা স্বীকার করে খালেকের বাবা সদর উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না খালেকের। তার ভাষ্য, ঋণের চাপ সইতে না পেরে খালেক আত্মহত্যা করেছেন।
এ বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পঁচে গেছে। এ নিয়ে সব সময় খালেক দুশ্চিন্তা করতেন বলে জানালেন খালেকের স্ত্রী মালা খাতুন। তিনি বলেন, সংসারে কোনো ঝগড়া-ঝামেলা ছিল না। তবে অনেক টাকা ঋণ ছিল তার। হয়ত সেজন্যই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা মালা খাতুনের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেকের এক বন্ধু বলেন, আমাকে দিয়ে ৫ লাখ টাকা ঋণ করিয়েছিলেন খালেক। এভাবে অনেককে দিয়ে ব্যাংক থেকেও ঋণ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তিন থেকে চার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে তার।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে আত্মহত্যা করেছেন খালেক।
১৩ দিন আগে
কুমারখালীর একমাত্র খেলার মাঠ এখন জলাভূমি, হারিয়ে যাচ্ছে খেলাধুলার পরিবেশ
একটা সময় সকাল-বিকেল মুখর থাকত কুমারখালী উপজেলা পরিষদের একমাত্র খেলার মাঠটি। শোনা যেত বুটের শব্দ। ফুটবল, ক্রিকেট আর ভলিবলের উত্তেজনায় সারা বছর সরগরম থাকত মাঠ। ব্যায়ামপ্রেমীদেরও নিয়মিত আনাগোনা ছিল। ঈদ এলে এখানেই অনুষ্ঠিত হতো উপজেলার সবচেয়ে বড় জামাত। সরকারি সভা-সেমিনার থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সবকিছুরই প্রাণকেন্দ্র ছিল মাঠটি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন মাঠে নেই খেলার বল, নেই খেলোয়াড়দের ছোটাছুটি। আছে পানি, কচুরিপানা আর হাঁটুসমান আগাছা। বছরের প্রায় আট মাসই থাকে জলাবদ্ধতা। পানিতে ডুবে আছে ঈদগাহের মিনার। মাঠজুড়ে ঘুরে বেড়ায় গরু-ছাগল। আর মাঠের পাশের সড়কে বসে তরুণরা মোবাইল ফোনে গেম খেলে সময় পার করেন। এভাবেই ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারাচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলার মাঠটি।
উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার উত্তরে দুর্গাপুর এলাকায় মাঠটির অবস্থান। এর এক পাশে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অন্য পাশে কুমারখালী আদর্শ মহিলা বিদ্যালয় ও আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠটির পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেন নেই। আশপাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ ও পুকুর খননের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ। ফলে প্রতি বর্ষায় মাঠটি তলিয়ে যায়। বর্ষা শেষ হলেও মাঠ থেকে পানি সরতে সময় লাগে আরও কয়েক মাস। এ কারণে বছরের বড় একটি সময় মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের বুকজুড়ে স্থির পানি। কোথাও কোথাও পানির ওপর কচুরিপানায় ফুটে আছে সাদা-বেগুনি রঙয়ের ফুল। মাঠের বিভিন্ন অংশে বড় বড় দুর্বা ঘাস ও আগাছার জঙ্গল। কেউ কেউ গবাদিপশুর জন্য সেখান থেকে ঘাস কাটছেন। মাঠের এক কোণে নানা বয়সী কয়েকজনকে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায়।
১৭ দিন আগে
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: স্ত্রী-সন্তান, শ্বশুরসহ পুড়ে মরলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক
ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিকসহ তার পরিবারের চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) ও দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলি (৬৪)।
দেবাশীষ দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকায়। তার শ্বশুরবাড়ি থানাপাড়া এলাকায়।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেবাশীষ দত্ত ওই পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানান তিনি।
নিহতদের পরিবার জানায়, গত ৩ আগস্ট অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য দেবাশীষ দত্ত ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। দেবাশীষের আট বছর বয়সী অপর একটি কন্যাসন্তান ও বাবা-মা রয়েছেন।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের মিশন ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে যোগাযোগ করেছে। নিহতদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কলকাতার মিশন কাজ করছে।
মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতরা শ্রমিক বা প্রবাসী কল্যাণের আওতাভুক্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবস্থা হয়তো এখানে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তবে নিহতদের পরিবার যদি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করতে না পারে, তাহলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি দেখবে।
২০ দিন আগে
কুষ্টিয়ার জোড়া লাগা সেই জমজ দুই শিশুর ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যু
দারিদ্র্যের যাঁতাকলে থমকে যাওয়া কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগা তিন মাসের জমজ দুই শিশু মোছা. জয়নব ও মোছা. উম্মে কুলসুমের চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে আশার আলো জ্বলেছিল, তা নিভে গেল এক বিষাদময় পরিণতিতে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশু দুটি মারা গেছে।
কুষ্টিয়ার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় দোকান কর্মচারী মো. নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৪ মে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন একাধিক ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ দলের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। তিন মাস পর শিশুদের পুনরায় ঢাকায় আনার পরামর্শ দেওয়া হলেও চরম আর্থিক অনটনে সেই চিকিৎসাযাত্রা থমকে যায়।
সম্প্রতি এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। তার সরাসরি নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই দুই শিশুর অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসহ যাবতীয় সব ব্যয়ভার বহনের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গত রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজে জয়নব ও উম্মে কুলসুমের বাবা নাহিদ হাসানকে ফোন করে অতি দ্রুত শিশুদের ঢাকায় নিয়ে আসার পরামর্শ দেন।
সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসে গত সোমবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ওইদিনই শিশুদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করায় পরিবারটি। এরপর চিকিৎসকদের অধীনে তাদের বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গতকাল বিকেলে শিশু দুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, চিকিৎসকরাও চেষ্টা করছিলেন। আমরা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু আমার কোলজুড়ে আসা ফুটফুটে বাচ্চা দুটোকে আর বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম না। আল্লাহ তাদের তুলে নিলেন, এই কষ্ট সওয়ার ক্ষমতা যেন আমাদের দেন।’
গতকাল রাতে শিশুদের মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন বাবা নাহিদ হাসানসহ স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
২৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় গরুর খামার ভাড়া নিয়ে বানানো হচ্ছিল নকল সিগারেট
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি নকল সিগারেট উৎপাদন কারখানার সন্ধান মিলেছে। গরুর খামার ভাড়া নিয়ে সেখানে নকল সিগারেট তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা মূল্যের নকল সিগারেট ও কাঁচামাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দৌলতপুর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়বাড়িয়া গ্রামের আহসান হাবিব মাস্টারের একটি গরুর খামার ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা ওই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে অভিযানকালে কারখানার ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জয়রামপুর গ্রামের আজিরুদ্দিন সরকারের ছেলে শাকিল আহমেদ ও বৈদ্যনাথতলা গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে লোকমান হোসেন লিওন খামারটি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নকল সিগারেট তৈরি করে আসছিলেন।
অভিযানে মোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার শলাকা নকল সিগারেট ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২ লাখ শলাকা ‘ডার্বি’, ৮৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ১১ লাখ ৫০ হাজার শলাকা ‘রয়েলস’ ও ‘রয়েল নেক্সট’, ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ শলাকা ‘নেভি’ এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ বস্তা (২১০০ কেজি) পচা তামাক রয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের সর্বমোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
অভিযানের বিষয়ে প্রদীপ কুমার দাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ও নিম্নমানের তামাক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা আগেই পালিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে ও জনস্বাস্থ্যের হুমকিস্বরূপ এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কারখানার মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত শাকিল আহমেদ ও লোকমান হোসেন লিওনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট।
২৭ দিন আগে
বছরের ৮ মাসই জলাবদ্ধতা, ব্রিটিশ আমলের টানেলে জনদুর্ভোগ চরমে
ঘটনা ছোট, কিন্তু সমস্যা পাহাড়সম। মাত্র ২০ মিটার পাকা সড়ক, অথচ বছরের ৮ থেকে ১০ মাস সেখানে জমে থাকে হাঁটুসমান পানি। ফলে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষকে।
উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের হাতিসাকোঁ এলাকার এই চিত্র যেন উন্নয়নের মাঝে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি। ব্রিটিশ আমলে যোগাযোগের জন্য নির্মিত টানেলটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং পরিকল্পনাহীন ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়ক পরিণত হয় মরণফাঁদে।
কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় সড়কের ওই অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার রাস্তা উঁচু করলে টানেলে যানবাহন বেঁধে যায়। ফলে ব্রিটিশ আমলের উন্নয়ন এখন আধুনিক যুগের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ টানেলটি নির্মাণ করে। যুগ যুগ ধরে টানেলের নিচ দিয়ে কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের মানুষের নিত্যদিনের চলাচল। কিন্তু গত এক দশকে আশপাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভরাট করে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
৩০ দিন আগে