কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সাহেব আলী হত্যা মামলায় ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন (৭৩), আইন উদ্দিন (৬৮) ও তার ভাই আকতার হোসেন (৪৩), সাবু (৪১), সোহাগ (৩৮), শরিফুল ইসলাম (৪৩), বিপুল (৩৪), বদর উদ্দিন (৬৮), আফসার শেখ (৬৫), সুমিন (৩৮), সেলিম (৪১) ও আবু (৩৭)।
এছাড়া জুলু (৩৮) ও তার ভাই রাহুলকে (৩৪) দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন সাতজন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সাহেব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে কুমারখালী উপজেলার চর-চাপড়া গ্রামে একটি কলাবাগানের পাশে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আহম্মদ আলী ওরফে আকম আলী কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক কাজী কামাল হোসেন ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ (মঙ্গলবার) এ মামলার রায় হলো। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
৫ দিন আগে
আবরার ফাহাদ হত্যার ৭ বছর পরও রায় কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পরও তার পরিবার মামলার রায় কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষায করছে।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার একটি আদালত দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্টও ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ সাজা বহাল রাখেন।
তবে আপিল বিভাগে আসামিদের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
আবরারের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আদালতের একের পর এক রায় এলেও তাদের অপেক্ষার শেষ নেই। বিশেষ করে রায় কার্যকরের অগ্রগতি নিয়ে তারা এখন হতাশ।
আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে নয়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও নাড়া দিয়েছিল। আবরারকে হত্যার পর মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তার প্রভাব ছিল বলে তিনি মনে করেন।
মুঠোফোনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায়ের সূত্রপাত হয়েছিল আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। কিন্তু যাদের কারণে আজ পরিবর্তন এসেছে, তাদের হত্যার বিচারই এখনও শেষ হয়নি।
ফাইয়াজ জানান, ২০২৫ সালের মার্চে হাইকোর্ট রায় দেওয়ার পরও তারা রায় কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও তাদের বলা হয়, মামলা সিরিয়াল অনুযায়ী এগোবে।
তার অভিযোগ, সিরিয়াল এগিয়ে আনা যায়। কিন্তু তারা সিরিয়াল এগিয়ে আনতে দ্বিধাবোধ করছেন।
ফাইয়াজ বলেন, ‘আমরা যেখানে যেখানে যোগাযোগ করা দরকার, করেছি। এখন অপেক্ষা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। রায় কার্যকর করতে বাধা কোথায়, সেটা আমাদের পরিবারের জানা নেই। এখন মনে হচ্ছে এটা অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না।’
১১ দিন আগে
ভারতে পাচারকালে ৯,২৫০ কেজি সার উদ্ধার
কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে নৌপথে ভারতে পাচারকালে ৯ হাজার ২৫০ কেজি সার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরাতন ঠোটারপাড়া নদী নামের এক জায়গায় বিজিবির একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় নৌপথে ভারতে পাচারকালে মালিকবিহীন ৩ হাজার ৫০০ কেজি এমওপি, ৪ হাজার কেজি টিএসপি ও ১ হাজার ৭৫০ কেজি ফসফেটসহ মোট ৯ হাজার ২৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়।
সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
১৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় বাসচাপায় পাখিভ্যানের চালক ও যাত্রী নিহত
কুষ্টিয়ার মিরপুরে শ্যামলী পরিবহনের বাসের চাপায় পাখিভ্যানের চালক কামরুল ইসলাম ও যাত্রী ভানুমতি (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ সময় ভ্যানে থাকা ভানুমতির মেয়ে হাসিনা গুরুতর আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নে আমতলা মাদরাসার সামনে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।
নিহত ভানুমতি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকার স্বস্তিপুর গ্রামের হাসেম আলীর স্ত্রী। তিনি নওদা আজমপুরে তার মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। অন্যদিকে কামরুল ইসলাম মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুরের আব্দুল সাত্তারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে একটি পাখিভ্যান যাচ্ছিল। পথে ভ্যানটির এক্সেল ভেঙে সেটি সড়কের ওপর পড়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আসা মেহেরপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভ্যানটিকে চাপা দেয়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ভানুমতি মারা যান। এছাড়া যাত্রী হাসিনা ও ভ্যানচালক কামরুল গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে আমলা পুলিশ ফাঁড়ি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ভানুমতির মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে আইসিইউতে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর ভ্যানচালক কামরুল ইসলাম মারা যান। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৭ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ হেফাজত থেকে বাড়ি ফিরে কৃতজ্ঞ শিক্ষক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। এতে আবেগআপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য করার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে ছিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।
ওসি খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে তাকে সসম্মানের সঙ্গে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।’
এর আগে ওই শিক্ষককে আটকের বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তার উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন। পরে ওই শিক্ষককে সসম্মানে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন।
মাহ্দী আমিন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে এবং প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি।
এর আগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে পরদিন সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক লালনকে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়ে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন বলেন, ‘দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে কয়েকজন শিক্ষার্থী সঠিকভাবে রিডিং পড়তে পারছিল না। তখন কিছুটা ক্ষোভ থেকেই শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বলেছিলাম, কয়েক দিন আগে তারেক রহমানও তো জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার সময় কিছুটা আটকে গিয়েছিলেন। উনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় বাংলা চর্চার ঘাটতি থাকতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ছাত্র হয়ে তোমরা কেন রিডিং পড়তে পারবে না?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কথার উদ্দেশ্য কটূক্তি ছিল না। তবে ক্লাসে ওনার প্রসঙ্গ টানাটা ভুল হয়েছিল। পরদিন কিছু স্থানীয় ব্যক্তি স্কুলে এসে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তোলেন এবং বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচি করলে একটি মব তৈরির পরিস্থিতি হয়। তখন আমার প্রাথমিক নিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশ এসে আমাকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করেনি; বরং অত্যন্ত মানবিক ও সম্মানের সঙ্গে আমাকে বসিয়ে রেখেছিল।’
বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষক বলেন, ‘রাতে জানতে পারি, বিষয়টি সরকারপ্রধানের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি সরাসরি নির্দেশ দেন যেন আমাকে দ্রুত সসম্মানে ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার নির্দেশের পর রাতেই প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাকে বাড়িতে দিয়ে আসেন এবং স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। বিষয়টি জানার পর আমি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। তার এই মহানুভবতা ও মানবিক সিদ্ধান্তে আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।’
প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘রাতেই তাকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ সময় দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।’
১৭ দিন আগে
কলাগাছের ভেলাবাইচ দেখতে উপচে পড়া ভিড়
নৌকাবাইচের প্রচলন থাকলেও কলাগাছের ভেলায় চড়ে বাইচ সচরাচর চোখে পড়ে না। সম্প্রতি এমনই এক ব্যতিক্রমী ও আনন্দদায়ক আয়োজনের সাক্ষী হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বড়ুরিয়া খাল।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা দেখতে খালের দুই পাড়ে উপচে পড়া ভিড় জমেছিল। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধসহ সব বয়সের হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
২০ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় নছিমনচালকের মৃত্যু
কুষ্টিয়ার খোকসায় ট্রাকের ধাক্কায় স্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমনের চালক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে খোকসা উপজেলায় রাজবাড়ী সড়কের বিলজানি বাজারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নছিমনচালক মুন্না (৩০) আলমডাঙ্গার মুন্সীগঞ্জ পশুরহাটা এলাকার মোতালেব হোসেনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে নছিমনটি রাজবাড়ীর পাংশার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে নছিমনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের সামনে চলে যায় এবং দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুর্ঘটনাস্থলেই নছিমনচালক নিহত হন।
পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার ও ট্রাকটি জব্দ করেন। তবে ট্রাকচালক পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী আরেক নছিমনচালক রাজন জানান, তারা কয়েকটি গাড়ি নিয়ে এক সঙ্গে মহাজনের পাটকাঠি আনতে পাংশা উপজেলার মাছপাড়ায় যাচ্ছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
খোকসা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুল জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহটি উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ট্রাকটিও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, দুই দিনের ব্যবধানে একই সড়কে অবৈধ নছিমনচালকের মৃত্যুর দ্বিতীয় ঘটনা এটি।
২১ দিন আগে
৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: প্রতিমন্ত্রী
একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত অপশক্তি বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই দুই পরাজিত শক্তিকে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কুষ্টিয়ার একটি বেসরকারি সংস্থার মিলনায়তনে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির আজও বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, ঠিক তেমনি চব্বিশের পরাজিত শক্তিরও বাংলাদেশের গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। এই দুই রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য আমরা এদেশের রাজনীতিতে প্রায়ই দেখতে পাই। আমরা আবারও দেখতে পাচ্ছি, মাত্র সাত মাস বয়সী একটি সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। সেই ঐক্য আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাই এই দুই পরাজিত শক্তিকে সবাই মিলে মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী দল খুব খারাপ ফলাফল করেছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার সেই হারানো সম্মান ফেরত আনতে হবে।
সাংগঠনিক এ মতবিনিময় সভায় দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারাও তাদের বক্তব্যে দলের ভেতরের অনৈক্য ও বিভেদের কথা তুলে ধরেন।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে বিএনপির নেতাকর্মীদের বক্তব্য চলাকালীন সভাস্থলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের হাতাহাতি হয়। পরে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ আরও অনেকে।
২৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নিহত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় খন্দকার এহসান হাবীব (৬০) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত খন্দকার এহসান হাবীব দৌলতপুর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের মৃত খন্দকার হাসমত আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে খন্দকার এহসান মোটরসাইকেলে করে দৌলতপুর থেকে উপজেলা পরিষদের দিকে যাচ্ছিলেন। আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে একটি পাখিভ্যানের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি সড়কে পড়ে যান। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রলির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ‘মুরগির মাংস খেয়ে’ অচেতন, ১০ পুলিশ সদস্য হাসপাতালে
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন পাটিকাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে মুরগির মাংস দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ১০ পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে খাওয়ার পরপরই অচেতন হয়ে পড়েন তারা। পরে রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত পৃথকভাবে তাদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অসুস্থরা হলেন: উপপরিদর্শক (এসআই) কফিল, এসআই আমিনুর, এসআই মুক্তার, এসআই শরিফুল, এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই কামরুজ্জামান, রেজাউল, মনিরুল, আমিনুল ও নজরুল।
চিকিৎসাধীন পাটিকাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, রাত ১০টার দিকে তারা ক্যাম্পে রান্না করা মুরগির মাংস ও আলু দিয়ে ভাত খেয়েছেন। খাওয়ার পরপরই তারা অসুস্থ হতে শুরু করেন।
এ ঘটনার কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম পাটিকাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করেছেন।
কুষ্টিয়া ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনুর রশীদ বলেন, আমি খবর পেয়ে পাটিকাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে এসেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।
২৮ দিন আগে