কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় সড়কের সাইড পোস্টের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, তিন বন্ধু আহত
কুষ্টিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল সজোরে ধাক্কা দেয় সড়কের সাইড পোস্টে। এতে মোটরসাইকেলের চালকসহ তিন আরোহী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেঙে গেছে সড়কের দুই সাইড পোস্ট। ।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা ১১টার দিকে কুমারখালীর গড়াই নদীর ওপর নির্মিত যদুবয়রা সেতুর দক্ষিণপাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়ননের লালনবাজার এলাকার ফুলচাদের ছেলে রবিন শেখ (১৮), ফারুকের ছেলে ফরহাদ হোসেন (১৮) ও আবু তালেবের ছেলে টুটুল হেসেন (২০)। সম্পর্কে তারা তিন বন্ধু। তারা যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ঈদে বিনোদনের জন্য তিন বন্ধু রবিন, ফরহাদ ও টুটুল একটি মোটরসাইকেলে চেপে ঘুরতে বেড়িয়েছিলেন। তারা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যদুবয়রা সেতু থেকে জয়বাংলা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের সাইড পোস্টে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিন বন্ধু সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এরপর স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও দুর্ঘটনায় সড়কের দুটি সাইড পোস্ট ও মোটরসাইকেলটি ভেঙে গেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যদুবয়রা সেতুর সামনের সড়কে পড়ে থাকা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলটি স্থানীয়রা সরানোর চেষ্টা করছেন। সড়কের সাইড পোস্ট দুটি ভাঙা। ভিড় করেছে উৎসুক জনতা।
এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী মো. সাইদুল বলেন, তিনজন আরোহীর মোটরসাইকেলে ৮০ থেকে ৯০ গতিবেগ ছিল। মোড় ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে দুটি খুঁটি ও মোটরসাইকেলটি ভেঙে গেছে। তিনজনই গুরুতর আহত।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের পা, হাত, কোমর ও কানে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে।
এ সময় আহত ফরহাদ হোসেন জানান, মাত্র ১০ মিনিট আগে তিন বন্ধু ঈদে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। গাড়ির গতি একটু বেশি ছিল। মোড় ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কাটি লাগে। এতে তিনজনই হাত,পা, কানসহ বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছি। কর্তব্যরত চিকিৎসক কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, তিনজনের অবস্থাই গুরুতর। সেজন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের সাইড পোস্টে সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনবন্ধু আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মোটরসাইকেল ও খুঁটি দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কাছে গাড়ি না দেওয়া ও সড়কে নিয়ন্ত্রণে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় নছিমনের ধাক্কায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা নিহত
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইঞ্জিনচালিত নছিমনের ধাক্কায় টিক্কা মোল্লা (৫৬) নামে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জিলাপীতলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত টিক্কা মোল্লা খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খোকসার দিক থেকে আসা একটি নছিমন কুমারখালীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ঝালমুড়ির মালামালবোঝাই ভ্যান নিয়ে টিক্কা মোল্লা সড়ক পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ বেপরোয়া গতিতে আসা নছিমনটি ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ভ্যানসহ সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কের উত্তর পাশে গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল টিক্কা মোল্লার মরদেহ। পাশে পড়ে ছিল ঝালমুড়িসহ দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ভ্যানটি।
প্রত্যক্ষদর্শী আশকার হোসেন বলেন, ঝালমুড়ি বিক্রেতা টিক্কা মোল্লা সড়কের দক্ষিণ পাশ থেকে উত্তর দিকে আসছিলেন। এ সময় হঠাৎ বেপরোয়া গতিতে একটি গরুবোঝাই নছিমন এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ভ্যানসহ সড়কে ছিটকে পড়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কলেজছাত্র ইরফান রানা বলেন, জিলাপীতলা মোড়ে বাজার আছে। তবুও সড়কে স্পিডব্রেকার নেই। আবার নছিমনটির গতিও ছিল অতিরিক্ত। অতিরিক্ত গতি আর স্পিডব্রেকার না থাকায় আজ ঝালমুড়ি বিক্রেতার প্রাণ গেল।
নিহতের স্বজন মিন্টু হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতো দুপুর ২টার দিকে ঝালমুড়ি বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আমার দুলাভাই। পরে দুর্ঘটনার খবর শুনে এসে দেখি রাস্তার ধারে তার মরদেহ পড়ে আছে; ভ্যানটিও ভেঙে গেছে। তার পরিবারে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান আছে বলে জানান তিনি।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, নছিমনের ধাক্কায় একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা ঘাতক নছিমনটি আটক করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
কুমারখালীতে শ্রমিকদল নেতার খননযন্ত্রে আগুন, বালু ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক শ্রমিক দল নেতার এক্সক্যাভেটরে (খননযন্ত্র) আগুন দেওয়ার মামলার প্রধান আসামি শরিফুল খানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (বুধবার) দুপুরে তাকে আদালতের কাছে সোপার্দ করা হয়। তিনি ওই গ্রামের একজন বালু ব্যবসায়ী।
এর আগে, গত রবিবার গভীর রাতে মহেন্দ্রপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় খননযন্ত্রে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। এতে ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী মন্ডলের (৪৯) প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে তিনি পরদিন সোমবার দুপুরে কুমারখালী থানায় দুইজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়। পরে গভীর রাতে মামলার প্রধান আসামি শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার আরেক আসামি মাসুদ শেখ (৩০) পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্রমিকদল নেতা আইয়ুব আলী জানান, গত রবিবার মহেন্দ্রপুর চরে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট। শরিফুল ও মাসুদের ধারণা, প্রশাসনের কাছে তিনিই (আইয়ুব) তথ্য দিয়েছেন। সেই সন্দেহ থেকে গভীর রাতে শরিফুল, মাসুদ ও তাদের লোকজন এক্সক্যাভেটরে আগুন লাগিয়ে দেন। এতে তার মেশিনের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়েছে। এরপর বিচারের আশায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। যন্ত্রটি তার আয়ের অংশ ছিল। তাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।
অভিযুক্ত শরিফুল পুলিশ হেফাজতে আর মাসুদ পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, এক্সক্যাভেটর পোড়ানোর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার করে আজ (বুধবার) দুপুরে আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
কুমারখালীতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধ কারাগারে
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দশ বছর বয়সী একটি ছেলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তারাপুর এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই এলাকার একটি আমবাগানের কেয়ারটেকার (পরিচর্যাকারী)।
পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে তারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র মাঠে ছাগল চরাতে যায়। এরপর সে মাঠের একটি আমবাগানে আম কুড়াতে গেলে বাগানের কেয়ারটেকার তাকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে প্যান্ট খুলে ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বিস্তারিত বললে স্থানীয় মাতব্বররা সালিশে বিষয়টি মিটমাট করার প্রস্তুতি নেন।
এরপর ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসলে শিশুটির বাবা গতকাল (সোমবার) রাতে কুমারখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০৯-এর (১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার পর ওইদিন রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
মামলার বাদী বলেন, এমন ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে। সেজন্য আসামির উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে থানায় মামলা করেছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ১০ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ বসানোর কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সচেতন হয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
৩ দিন আগে
কুমারখালীতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা, ফাঁকা গুলিবর্ষণ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৪ মে) ভোরে উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ওই ছাত্রদল নেতার নাম আবু সাহেব প্রান্ত বিশ্বাস। তিনি যদুবয়রা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি।
সকাল ১০টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লাহিনীপাড়া-সান্দিয়ারা জিকে ক্যানেল সড়ক ঘেঁষে যুবদল নেতা প্রান্ত বিশ্বাসের রঙিন টিনশেডের চৌচালা ঘর। ঘরটির দুইটি বেড়া ও টিনের গেটের কয়েকটি স্থানে কাটা ক্ষত। সেখানে উৎসুক কয়েকজন জনতা ও দলীয় নেতারা ছুটে এসেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে পুলিশ।
এ সময় ওই ছাত্রদল নেতার ভাবি সাথী খাতুন বলেন, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। দরজা খুলতে গিয়ে দেখি বাইরে থেকে ছিটকানি লাগানো। ভয়ে চিৎকার চেঁচামিচি করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।
প্রতিবেশী রেজাউলের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, ‘গুলির মতো শব্দ শুনে প্রথমে ভাবলাম গরু ডাকাতি করতে আইছে। পরে সবাই এসে দেখি দরজায় ছিটকানি লাগানো। টিনের বেড়ায় কোপের দাগ। তবে কাউকে দেখা যায়নি।’
প্রান্ত বিশ্বাস বলেন, ফজরের আযানের আনুমানিক ২০-২৫ মিনিট আগে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। তারপর ঘরের বাইরে থেকে বেশ কয়েকজন বকাবকি করতেছে আর বেড়ায় কোপ দিচ্ছে—এমন শব্দ শোনা যায়। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে কোপাকুপি করে তারা চলে যায়। তবে কাউকে চিনতে পারিনি।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দুই রাউন্ড গুলি ফুটিয়েছে।
প্রান্ত বিশ্বাস আরও বলেন, যদুবয়রা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য মরিয়ম খাতুনের স্বামী নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে এক লাখ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ চলছিল। তারা কয়েকবার প্রকাশ্যে হুমকিও দিয়েছে। এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ করা আছে। একাধিকবার তাদের সঙ্গে বসাও হয়েছে। তার দাবি, ওই মেম্বারের স্বামী ও তার লোকজন এ হামলা চালিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংরক্ষিত সদস্য মরিয়ম বলেন, ডাকুয়া নদীতে ইজারা নিয়ে মাছ চাষের ব্যবসা আছে আমাদের। ৫ আগস্টের পর প্রান্ত নদীর ভাগ চেয়েছিলেন কিন্তু ভাগ না দেওয়ায় এক লাখ টাকা পাওনা দাবি করছেন। যদি প্রমাণ থাকে তাহলে টাকা ফেরত দেব। তবে হামলায় আমরা জড়িত নই।
যদুবয়রা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ছাত্রদল নেতা প্রান্ত খুব নিরীহ মানুষ। তবুও তার বাড়িতে রাতের আঁধারে কে বা কারা হামলা করেছে তা দুঃখজনক। বিষয়টি প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ দিন আগে
মাদরাসা সুপারের ছেলের জন্য পরীক্ষা দিতে গিয়ে র্যাবের জালে তিন শিক্ষক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে তখন চলছে এসএসসি (দাখিল) স্তরের জীববিজ্ঞান পরীক্ষা। হলের ভেতরে পরীক্ষার্থীরা যখন প্রশ্নের উত্তর মেলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই হলের বাইরে চলছিল এক অবিশ্বাস্য ও অভিনব জালিয়াতির উৎসব। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। খোদ শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর এই সাজানো নাটকটি মাঝপথেই ভেঙে দেয় র্যাবের একটি দল।
বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যখন তারা বাইরে বসে খাতা লিখছিলেন, তখনই হাতেনাতে তাদের ধরে ফেলে র্যাব-১২-এর একটি আভিযানিক দল।
গল্পের মূল চরিত্র মো. নাসিরুল্লাহ (১৬)। সে মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী। তবে তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে, সে ওই মাদরাসারই সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে।
বাবার ক্ষমতার দাপট আর অবৈধ অর্থের জোরে পরীক্ষায় পাসের এক অদ্ভুত ছক কষা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাসিরুল্লাহর জীববিজ্ঞান পরীক্ষার খাতা হলের ভেতরে নয়, বরং কেন্দ্রের বাইরে বসে লিখে দিচ্ছিলেন তিন শিক্ষক।
আটক হওয়া শিক্ষকরা হলেন— মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন মায়া (৪০)। এই তিন শিক্ষকের কেউই ওই কেন্দ্রের অফিশিয়াল ডিউটিতে ছিলেন না। তারা কেবল তাদের সুপারের ছেলের খাতা লিখে দিতেই অবৈধভাবে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে তারা এমন অনৈতিক কাজ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষকদের এই ‘কীর্তি’ফাঁসের পর পরীক্ষা কেন্দ্র ও এর আশেপাশে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রভাবশালীদের একটি মহল তড়িঘড়ি করে এসে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস।
তদন্তে নেমে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে জমা দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম এখানে ঘটেছে। বুধবারে র্যাবের হাতে তিন শিক্ষক আটক হওয়ার বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়। তবে শিক্ষকরা কেন্দ্রের বাইরে আটক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না গেলেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে, আটকের পর ওই তিন শিক্ষক নিজেদের বাঁচাতে সব দোষ চাপিয়েছেন মাদরাসা সুপারের ঘাড়ে। তাদের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় এই জালিয়াতি করেননি; মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের জন্য এই কাজ করতে তাদের বাধ্য করেছিলেন।
নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষকদের জালিয়াতিতে বাধ্য করা এবং ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া সেই ‘সুপার’ বাবা এখন পলাতক রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে আটক তিন শিক্ষক র্যাবের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় চালের কার্ড বিতরণ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে হামলার অভিযোগ
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির (ভিজিএফ) চালের কার্ড বণ্টনকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং ইউপি সচিবকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়।
ফুটেজে ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতি এবং রামদা হাতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় কয়েকজনকে।
ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজ এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ভিজিএফ চালের কার্ডের একটি অংশ জামায়াত নেতাদের দিতে বলায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভিজিএফ চাল বিতরণের কার্ড ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। কয়েক দফা বসেও সমাধান না হলে গতকাল (মঙ্গলবার) ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সে সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতির পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিষদ কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিষদের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজসহ বেশ কয়েকজন রামদা হাতে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকীর দিকে তেড়ে যান। তাকে মারধরও করেন তারা।
এর আগের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বৈঠক চলাকালীন কয়েকজন চেয়ার থেকে উঠে চেয়ারম্যানকে মারতে তেড়ে যান। সে সময়ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ঘটনার বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ইউনিয়ন পরিষদে ৬০০ ভিজিএফ চালের কার্ড পেয়েছি। স্থানীয় বিএনপি নেতারা চান, তারাই সব কার্ড ভাগবাটোয়ারা করে নেবেন। যেহেতু স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা, এছাড়া এমপির প্রতিনিধি রয়েছেন, তাই তাদের ১০০ কার্ড দিতে বলেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার সময় তারা আমার দিকে তেড়ে আসেন। পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চলে যাওয়ার পর বিএনপি নেতা আনিস মণ্ডল, কনিজ, যুবদল নেতা নজরুল ইসলামসহ ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে পরিষদে হামলা চালান। তারা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছেন। এ সময় তারা রামদা নিয়ে সচিবের দিকেও তেড়ে যান। সচিবকে মারধর করেন তারা।’
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসন থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। তাই মামলার বিষয়ে আপাতত ভাবছি না।’
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘ভিজিএফের কার্ড এসেছে ৬১৬টি। এর মধ্যে বিএনপি ৪৫০টি কার্ড দাবি করেছিল। তাদের ১৫০টি কার্ড নিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু বিএনপি নেতারা জামায়াতকে কোনো কার্ড দিতে দেবে না। আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রেখেছিল। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।’
এ বিষয়ে কথা বলতে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আনিসুজ্জামানের মোবাইল ফোন নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
তবে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এতদিন পলাতক ছিলেন। গ্রামের একজন যুবককে বিদেশে পাঠানোর নাম করে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন, ফেরত দিচ্ছেন না। সেই টাকার বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম।’
ফুটেজে রামদা হাতে সচিবের দিকে তেড়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আনিস বলেন, ‘ঠেকানোর জন্য আমি অন্য একজনের হাত থেকে রামদা কেড়ে নিয়েছিলাম। তাই আমার হাতে দেখতে পেয়েছেন।’
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তাৎক্ষণিক ইউএনওকে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৯ দিন আগে
মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী আটক
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় মাদকসহ আটক হওয়া এক আসামিকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মী।
শনিবার (৯ মে) রাতে ৮ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক মাদক কারবারিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবির করতে গেলে পুলিশ সদরপুর ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা ও জামায়াতের চার নেতাকর্মীকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর থানার আমলা ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সদরপুর ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কলেজ সড়ক এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নওদা আজমপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রবিউলকে ৮টি ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে গিয়ে মাদক আইনে মামলা দেওয়া হয়।
মাদকসহ রবিউল গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী মিরপুর থানায় উপস্থিত হন। তারা হলেন— সদরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বিএনপি নেতা এনামুল হক এবং স্থানীয় জামায়াতের কর্মী সুজন আলী, আলাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।
থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মাদক ব্যবসায়ীকে মুক্ত করার দাবিতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদবির করতে আসা ওই ৫ জনকেই আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা অনৈতিকভাবে তদবির করছিলেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, তারা হয় এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, অথবা তারা মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এ কারণেই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রবিবার (১০ মে) সকাল ১০ টা পর্যন্ত আটককৃত ৫ নেতাকর্মী ও মাদক কারবারি রবিউল মিরপুর থানা পুলিশি হেফাজতে ছিল।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
২০ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে তোপের মুখে এমপি আমির হামজা
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টে উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারি কলেজ মাঠে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে ক্যাম্পাসে যান মুফতি আমির হামজা। সে সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যানার নিয়ে কলেজের প্রবেশদ্বারের মুখে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করছিলেন। আমির হামজা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মঞ্চে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন এবং ব্যানার হাতে নিয়ে মঞ্চের পাশে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে তাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোল্লা মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত, এমনকি আমির হামজা যখন প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন, সে সময়ও শিক্ষার্থীরা জোরে জোরে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
নিজের বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি আনন্দও পেয়েছি, আবার একটু দুঃখও পেয়েছি। কারণ এখানে গাছ কাটার যে বিষয়টা শুনলাম। আসলে গাছ কে বা কারা কেটেছে এটা তদন্তের মাধ্যমে বের করেন, কিন্তু বাকি যেগুলো হচ্ছে, এগুলোকেও তদন্ত করা দরকার। বাকি যারা যা করছেন, মনে করছেন আমি লেবাস পরে আছি, মনে করছেন আমি হুজুর, আমি হুজুর না। আমি এগুলোর তালিকা নিয়ে যাব আজকে। আপনাদের যা করা লাগে, আমি তাই করব। আর আমি ‘ভুয়া’ না কী, আপনাদের দেখাব আজকে। আপনাদের যে কয়জনের তালিকা ইতোমধ্যে আমার কাছে আছে, এরা এই শিক্ষা ভবনটা নষ্ট করার জন্য। এর পেছনে কারা আছে আমি তাও জানি। আমি তাদের নামে নালিশ দেব একেবারে উপরে। দেখি আপনারা কতদূর পারেন।
ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করার পর কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তার কার্যালয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এ সময় কলাপসিবল গেট আটকে বাইরে পুলিশ অবস্থান নেয়। কিছু সময় পরে এমপি আমির হামজা পুলিশের সহযোগিতায় অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের হন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
এদিকে, এ ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে লেখা হয়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
পরে আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু নয়। সেখানে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সামান্য হট্টগোল হয়েছিল। আমি নিরাপদে বের হয়ে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কলেজের গাছ কাটা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী মানববন্ধন শেষে কলেজের প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপালদের সঙ্গে ঝামেলা করছিল। আমি বলছি, খেলা চলাকালীন এসব ঝামেলার দরকার নাই।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, খবর পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে দেখেন। তবে আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন ওসি।
তিনি বলেন, আমির হামজা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে তার সঙ্গেই বেরিয়ে আসেন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে যান।
প্রসঙ্গত, কলেজের বিশাল এই খেলার মাঠ বাদ রেখেই আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের নামে প্যান্ডেল তৈরির জন্য গত ৪ মে রাতের আঁধারে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের প্রায় ২০টির মতো গাছ কেটে ফেলা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা মিলে তাদের নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন ওই গাছগুলো। এমনকি শিক্ষকরা নিজেরাই নিয়মিত গাছগুলোর পরিচর্যা করে আসছিলেন।
রাতের আঁধারে এই গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে কলেজে এসে গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করেন তারা। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ একজনকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।
২২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় নগদ টাকাসহ ৫ দিন ধরে নিখোঁজ ডেলিভারি ম্যান
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় অর্ধ লাখ টাকাসহ সজল শেখ (২০) নামে এক তরুণ ৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টা থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।
সজল উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের বাসিন্দা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় সজলের বাবা ও প্রতিষ্ঠানের মালিক থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সজলের বাবার অভিযোগ, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার ছেলেকে ক্ষতির উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছে।
তিনি আরও জানান, এর আগে গত ৭ এপ্রিল রাতে ছেলেকে মারধরের পর তার কাছে থাকা নগদ প্রায় ৮০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠান মালিকের অভিযোগ, সজল বাজার থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। এছাড়া ৭ এপ্রিল ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে তিনি প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভার তেবাড়িয়া এলাকায় দ্বীন মোহাম্মদ সাচ্চুর ডিলারশীপের ব্যবসা আছে। তিনি এসিআই গ্রুপের টিস্যুসহ অন্যান্য মালামালের ডিলার (পরিবেশক)। সেখানে সজল শেখ ডেলিভারি ম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত রয়েছেন।
২৯ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে সজল ডিলার পয়েন্ট থেকে ভ্যানে মালামাল নিয়ে বিভিন্ন দোকানে ডেলিভারি করেন এবং নগদ টাকা আদায় করেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সজলকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক থেকে ভ্যানটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ (সোমবার) সকালে ডিলার পয়েন্টের মালিক দ্বীন মোহাম্মদ সাচ্চু বলেন, ৭ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে সজল এসে বলে, কুষ্টিয়া-রাজাবাড়ী সড়কের জিলাপিতলা থেকে ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে ৮৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় ৯ এপ্রিল থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। কয়েকদিন আগে ওই অভিযোগের তদন্ত করে দেখা গেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা সজলের সাজানো ছিল।
সাচ্চুর মতে, কানাঘুষা করতে করতে তদন্তের বিষয়টি সজল টের পেয়ে যান। সেই ভয়ে ২৯ এপ্রিল রাতে সজল ভ্যান রেখে সারা দিনের আদায়ের প্রায় ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বিচারের আশায় থানায় আবারও লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
সজলের বাবা শফিক শেখ বলেন, এর আগে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিল সজল। আবার ২৯ এপ্রিল রাত থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সে আসলেও জীবিত না মৃত, তাও বুঝতে পারছি না। তাকে পাওয়া গেলে দুটি ঘটনারই আসল কারণ জানা যাবে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ভুক্তভোগী স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে উদ্ধারের পর সবকিছু নিশ্চিত হওয়া যাবে।
২৫ দিন আগে