সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। সেইসঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেক জায়গা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ভাঙ্গন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (হেডকোয়ার্টার) নাজমুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রায় সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার । এ সময়ে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৫ ও কাজিপুর পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এতে যমুনা নদীর নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বর্ষণ ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা নদীর চর এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চৌহালী ও কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
নাজমুল হোসাইন বলেন, ইতোমধ্যে চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকায় ভাঙ্গনে প্রায় ১০০ মিটার যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এ ভাঙ্গন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। এছাড়া কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ভাঙ্গনে অনেক জায়গা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি, ঢেউ ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের কারণে এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
এদিকে যমুনার তীরবর্তী শাহজাদপুর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনে ইতোমধ্যেই বহু জায়গা জমি যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢল ও দফায় দফায় বর্ষণে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের অনেক স্থানে ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে এবং চৌহালীর ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। তবে বন্যার আশঙ্কা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।