যমুনা নদী
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার যমুনা নদীতে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে নৌযান মালিক-কর্মচারীসহ ৩ উপজেলার ২৭ গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এলাকার ত্রাস হিসেবে খ্যাত ‘সালাম বাহিনী’র বিরুদ্ধে বেলকুচি ক্ষিদ্রচাঁপিয়া এলাকায় মানববন্ধন করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, টাঙ্গাইল সদর ও চৌহালী উপজেলার চরবেল, পুংলি, কাকুয়া, জাঙ্গালিয়া, কলাবাগান ও মহেষপুরের নৌযান মালিক-কর্মচারীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকার ত্রাস হিসেবে খ্যাত সালাম ও তার সহযোগী রুবেল, কাওছার আলম, মাসুদ ও হাবিব গং সন্ধ্যা নামার পর যমুনা নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেয়।
সিরাজগঞ্জ-ঢাকা নৌরুটে তারা সব ধরনের বাল্কহেড, ছোটবড় নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে আসছে। তার দাবিকৃত চাঁদা না দিলে নৌযান শ্রমিক-কর্মচারীদের মারধর করে। এ সালাম বাহিনীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে আজ আমরা নৌযান মালিক ও কর্মচারীরা মানববন্ধন করছি। যমুনায় নৌপথ নিরাপদ করতে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন।
আবু সাঈদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে নৌযান মালিক-কর্মচারীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন ইউসুফ মোল্লা, কছির উদ্দিন, সুমন ও বক্কার মোল্লাসহ অনেকে। নৌযান মালিক-কর্মচারী ছাড়াও বেলকুচি, টাঙ্গাইল সদর ও চৌহালী উপজেলার ২৭ গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, তীব্র ভাঙনের কবলে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল
পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও বিস্তীর্ণ জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। কয়েকদিন আগে পানি কিছুটা কমলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও বাড়তে শুরু করে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকায়। ইতোমধ্যে কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ি ও চরগিরিশ, চৌহালীর চর সলিমাবাদ, সিরাজগঞ্জ সদরের পূর্ব বাহুকা ও কাওয়াকোলা চর এবং শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনের মুখে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
যদিও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকা এলাকায় ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে চৌহালী ও কাজিপুরের চরাঞ্চলে ভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মাসে দুই দফায় চৌহালী ও কাজিপুরে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তাদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে না পারায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এছাড়া ভাঙন শুরু হওয়ার পরই শুধু জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা স্থায়ী সমাধান নয়। ফলে প্রতি বছরই একই ধরনের ভাঙনে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। স্রোতের তীব্রতা এবং নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকলেও আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩৯ দিন আগে
যমুনায় হারিয়ে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো মাতল ঢালারচরের ফুটবল মাঠ
শেষ বাঁশিটি শুধু একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করেনি; বিদায় জানিয়েছে এমন একটি মাঠকে, যা আর কয়েক সপ্তাহ পরই যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) পাবনার আমিনপুরের ঢালারচরের বালুচরে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বপ্নগ্রাম ব্রাজিল’ ও ‘স্বপ্নগ্রাম আর্জেন্টিনা’র মধ্যকার শেষ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ‘চর বয়েজ’ নামে পরিচিত স্থানীয় তরুণ ফুটবলাররা এতে অংশ নেন। নদীভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা একটি জনপদের মানুষকে সম্মান জানাতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে বিকে ফাউন্ডেশন।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা এখন সারা বিশ্বে। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার লড়াই দেখতে টিভি পর্দায় চোখ রাখে কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু ঢালারচরের মানুষগুলো ফুটবল উন্মাদনাকে বরণ করে নিয়েছে অন্য একভাবে। তাদের ছোট ছোট নৌকা আর টিনের ঘরের চালায় উড়ছে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকা। জেলেরা যখন নদীতে জাল ফেলছে, তখন তাদের নৌকার মাস্তুলে দোল খাচ্ছে সেই পতাকা। ঘরের স্ত্রীরা রান্নাঘরের কাজ করতে করতেও যেন এক পলক দেখে নিচ্ছে সেই পতাকার দিকে—বিশ্বকাপের স্বপ্ন তাদেরও। কিন্তু এই স্বপ্ন তারা দেখছে এক অনিশ্চিত জীবনের মাঝে। নদী যাদের সবকিছু কেড়ে নিতে পারে, তারা অন্তত আজকের এই খেলাটি দেখবে। বিশ্বকাপের সেই উন্মাদনা হয়তো তাদের ঘরে পৌঁছায় না, কিন্তু আজ তারা সেই উন্মাদনাকে নিজেদের করে নিয়েছে।
ঢালারচরের মৎস্যজীবী ও কৃষক পরিবারগুলোর কাছে যমুনা নদী শত্রু নয়; এটি একটি শক্তি, যার বিরুদ্ধে তারা লড়াই করা ছেড়ে দিয়েছে। বছর বছর ধরে এই শক্তিশালী নদী তাদের বসতবাড়ি গ্রাস করে নিচ্ছে, তাদের ফসল ও জমি কেড়ে নিচ্ছে। তারা দেখেছে প্রতিবেশীরা কীভাবে নিজেদের সবকিছু গুছিয়ে ভেতরের দিকে সরে গেছে। একমাত্র পরিচিত ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছে তারা। এখন আর কোনো রাগ নেই, শুধু ক্লান্তিকর এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
৪০ দিন আগে
বাড়ছে যমুনার পানি, ভাঙ্গন শুরু চরাঞ্চলে
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। সেইসঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেক জায়গা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ভাঙ্গন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (হেডকোয়ার্টার) নাজমুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রায় সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার । এ সময়ে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৫ ও কাজিপুর পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এতে যমুনা নদীর নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বর্ষণ ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা নদীর চর এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চৌহালী ও কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
নাজমুল হোসাইন বলেন, ইতোমধ্যে চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকায় ভাঙ্গনে প্রায় ১০০ মিটার যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এ ভাঙ্গন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। এছাড়া কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ভাঙ্গনে অনেক জায়গা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি, ঢেউ ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের কারণে এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
এদিকে যমুনার তীরবর্তী শাহজাদপুর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনে ইতোমধ্যেই বহু জায়গা জমি যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢল ও দফায় দফায় বর্ষণে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের অনেক স্থানে ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে এবং চৌহালীর ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। তবে বন্যার আশঙ্কা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
৫৭ দিন আগে
মানিকগঞ্জে যমুনায় গোসল করতে নেমে নারী-শিশু নিখোঁজ
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা এলাকায় যমুনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে এক নারী ও শিশু নিখোঁজ হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি করেও তাদের সন্ধান পায়নি।
বুধবার (১১ জুন) দুপুর ২টার দিকে বাচামারা ইউনিয়নের ইউসুছ আলী শেখের বাড়ির পেছনে যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে ডুবে যায় তারা।
নিখোঁজরা হলেন—বাচামারা পূর্ব পাড়া গ্রামের মো. আব্দুল বয়াতীর মেয়ে বর্ষা খাতুন (২০) এবং একই গ্রামের মো. রাহেজ বয়াতীর মেয়ে লামিয়া খাতুন (১০)। বর্ষা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর ২টার দিকে নারী ও শিশু মিলে পাঁচজন যমুনা নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে হঠাৎ পানির স্রোতে তারা তলিয়ে যেতে থাকেন। সে সময় আশপাশের লোকজন তিনজনকে উদ্ধার করতে পারলেও বর্ষা ও লামিয়া পানিতে তলিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহিদ বাবু বলেন, ‘দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও নিখোঁজ দুজনের খোঁজ না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে শিবালয়ের আরিচা স্থল কাম নদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন থেকে ডুবুরি দল এসে দুই ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে অন্ধকার ও নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে তারাও উদ্ধারে ব্যর্থ হন।
এ বিষয়ে আরিচা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক মো. নাদির হোসেন জানান, খবর পেয়ে চারজন ডুবুরি সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা কাজ করেন। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় পরে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে পুনরায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল-মামুন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডুবুরি দলকে সহায়তা করেছে। এই ঘটনায় যমুনার তীরে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোক বিরাজ করছে।
৪২৮ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে যমুনায় ভয়াবহ ভাঙন, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তীর সংরক্ষণ বাঁধ
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি এলাকায় যমুনা তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ৪৫ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এ কারণে যমুনা-তীরবর্তী শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি, কাজিপুর ও সদর উপজেলার অভ্যন্তরীণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নতুন নতুন এলাকাও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে, সদর উপজেলার ব্রাহ্মণবয়ড়া থেকে পাঁচঠাকুরি পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ইতোমধ্যে ভাটপিয়ারিতে বাঁধের প্রায় ৪৫ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য এলাকাতেও ভাঙনের ফলে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে।
ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দুই মাস আগে ব্রাহ্মণবয়ড়া, ভাটপিয়ারি ও পাঁচঠাকুরি এলাকায় ভাঙন শুরু হলেও তখন শুকনো মৌসুমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে বৃষ্টিতেই নির্মাণাধীন কোটি টাকার বাঁধে ধস
বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে ভাটপিয়ারি বাঁধের প্রায় ৪৫ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যমুনা পাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আক্ষেপ করে বলেন, ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাঁধ রক্ষা করা যায়নি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভাঙন রোধে ব্রাহ্মণবয়ড়া, ভাটপিয়ারি ও পাঁচঠাকুরি এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
৪৪৭ দিন আগে
যমুনা নদীতে নিখোঁজের ২ দিন পর ২ যুবকের লাশ উদ্ধার
নিখোঁজের দুই দিন পর যমুনা নদী থেকে ফারুক মিয়া ও সোনামিয়া নামে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের যমুনা নদীতে শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে লাশ দুটি ভেসে উঠে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খুশু বলেন, প্রতি রাতে ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর চরাঞ্চলে জুয়ার আসর বসত। আশে পাশের লোকজন জানলেও জুয়াড়িদের প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায়নি।
আরও পড়ুন: ফেনীতে ঈদের দিনে ৪ লাশ উদ্ধার
কিন্তু গত বুধবার রাতে আলো জালিয়ে ঢোল পিটিয়ে জুয়াড়িদের নিয়ে বসে আসর। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাশের গ্রামের লোকজন ও চরাঞ্চলের অনেকেই সংঘবদ্ধ হয়ে জুয়ার আসর বন্ধ করতে তাড়া করে।
খোরশেদ আলম খুশু আরও বলেন, এতে প্রাণ বাঁচাতে বিভিন্ন পালিয়ে যায় তারা। আবার কেউ কেউ ধরা পড়ার ভয়ে নদীতে লাফিয়ে পড়ে। এতে অনেকেই সাঁতরে নদী পার হতে পারলেও গ্রামের ফারুক মিয়া ও কাতলামারী গ্রামের সোনামিয়া নদীতে নিখোঁজ হয়ে যান।
পরে শুক্রবার সকালে তাদের লাশ নদীতে ভেসে উঠলে ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার রাতে পুলিশ জুয়াড়ি ধরতে ওই স্থানে যায়নি।
তবে কারা টর্চ মেরে তাদের তাড়া করেছিল, যারা বেঁচে গেছে তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে পুকুর থেকে ২ শিশুর লাশ উদ্ধার
বুড়িগঙ্গা নদীতে তেলবাহী ট্রলারে আগুন: ১ জনের লাশ উদ্ধার
৭৭৭ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে যমুনার তীর থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার
সিরাজগঞ্জ শহরের যমুনা নদীর তীরে মতিন সাহেবের ঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোমিনুর রহমান খান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে ওই বৃদ্ধ যমুনা নদীর তীরে মতিন সাহেবের ঘাট এলাকায় একটি দোকানে রুটি খাওয়ার সময় মাটিতে ঢলে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বিকালে ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশের ধারণা করছে- স্ট্রোক করে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে এবং তার বয়স ৭০ বছরের আশেপাশে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে কিশোরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার
মনপুরায় মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর লাশ উদ্ধার
৯৪৫ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর তীরে ক্রসবার-৩ এলাকায় ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে কলেজ ছাত্র মাহবুবুর রহমানের (২২) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৩ জন।
নিহত মাহবুবুর রহমান পৌর এলাকার কল্যাণী মহল্লার আব্দুল আজিজের ছেলে এবং স্থানীয় ডিগ্রি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বাসার ছাদে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে ওই কলেজ ছাত্র বন্ধুদের সঙ্গে উল্লেখিত এলাকায় ফুটবল খেলছিল। এ সময় ভারী বৃষ্টি ও মেঘের তর্জন গর্জন শুরু হয় এবং বজ্রপাতে ওই কলেজ ছাত্রসহ ৪ জন আহত হয়।
তাদেরকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুবুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন এবং ৩ জনকে ভর্তি করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এক সপ্তাহ আগে মাহবুবুর রহমানের মা মারা যান। এদিকে বজ্রপাতে কলেজ ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার ব্যাপক শোকের ছায়া নেমেছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু
কুড়িগ্রামে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
১১৫০ দিন আগে
যমুনা নদী প্রকল্প নিয়ে করা রিট খারিজ
যমুনা নদী ছোট করার জন্য নেওয়া প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে করা রিট আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।
যমুনা নদী ছোট করা হচ্ছে না বলে হাইকোর্টকে জানানোর পর সোমবার (১২ জুন) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মোহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছিলেন অরবিন্দ কুমার রায়।
আরও পড়ুন: যমুনা নদী ছোট করার চিন্তা,প্রকল্পের সব নথি হাইকোর্টে তলব
এছাড়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ।
মনজিল মোরসেদ বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে বলেছে, ভবিষ্যতে যে প্রজেক্ট নেওয়া হবে সেখানে যমুনা নদী ছোট করার কোনো পরিকল্পনা থাকবে না।
তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম যাতে নদী ছোট করা না হয়। ভবিষ্যতে কোন পক্ষই আর সাহস পাবেনা নদী ছোট করার।
এর আগে রবিবার যমুনা নদী ছোট করার পরিকল্পনা নেই বলে হাইকোর্টকে প্রতিবেদন দিয়ে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরে এই বিষয়ে আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করা হয়।
এর আগে গত ১২ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘যমুনাকে ছোট করতে চায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়’- শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যমুনা নদী প্রতিবছর বড় হয়ে যাচ্ছে। বর্ষার সময় নদীটি ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার হয়ে যায়। এত বড় নদীর প্রয়োজন নেই। তাই এটির প্রশস্ততা সাড়ে ৬ কিলোমিটার সংকুচিত করা হবে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের অন্যতম উৎস যমুনাকে ছোট করার এমন আইডিয়া এসেছে খোদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্তাদের মাথা থেকে।
এজন্য তারা ১১শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও প্রণয়ন করেছেন। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যখন বারবার ব্যয় সংকোচনের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, সে সময় মন্ত্রণালয় এমন প্রকল্প নিয়েছে কোনো ধরনের গবেষণা ছাড়াই।
এছাড়া বিশেষজ্ঞরা বিরল এ প্রকল্পকে অবাস্তব বলছেন।
আরও পড়ুন: যমুনা নদী সংকীর্ণকরণ প্রকল্প বাতিলের দাবি বিএনপির
বেলকুচিতে অবৈধভাবে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন, ২ জনের কারাদণ্ড
১১৫৯ দিন আগে