রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় স্বামীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী দম্পতি ট্রেন ও স্টেশনে পপকর্ণ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার সময় তাদের পপকর্ণ বিক্রির টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী আজ (বুধবার) দুপুরে চারঘাট থানায় আশরাফুল ইসলাম (৩৫) নামে একজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। অভিযুক্তের বাড়ি উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে প্রতিদিনের মতো ট্রেনে পপকর্ণ বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন ওই দম্পতি। দিনভর বিভিন্ন স্টেশনে বিক্রি শেষে রাত ১টার দিকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেন থেকে সরদহ স্টেশনে নামেন তারা। পরে তারা স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান অভিযুক্ত আশরাফুল।
প্রথমে স্বামীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন আশরাফুল। তার কাছ থেকে পপকর্ণ বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নেন তিনি। সে সময় হামলাকারীর হাতে ছুরি দেখে প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান ভুক্তভোগীর স্বামী। পরে আসামি ওই নারীকে ধরে পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী স্বামী জানান, হামলার সময় তিনি চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রায় ৪৫ মিনিট পর স্থানীয় কয়েকজন তার চিৎকার শুনে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি পাশের জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। এ সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযুক্তের পরিচয় জানতে পারেন তিনি।
সরদহ স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ইকবাল কবির জানান, গভীর রাতে স্টেশনের পাশে ঘটনাটি ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়। জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।