চার কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা থেকে আটং তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার দুই মাস না যেতেই সড়কের এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা সড়কের নির্মাণকাজের মান যাচাই, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজ চলাকালে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যোগসাজশে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণকাজে অনিয়ম করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাওয়ায় নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, জনগণের অর্থে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এত অল্প সময়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক নয়। তাই নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাণ ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় ইমামুল হক বেপারি বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের পর আমরা ভেবেছিলাম দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এত টাকা খরচ করে করা কাজ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এর দায় কে নেবে?’