সারাদেশ
রাতে রাজধানীর সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ
গতরাতে রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুইজন।
শুক্রবার (৬ মার্চৃ) সাড়ে রাত ১০টা ও ১১টার দিকে যথাক্রমে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এবং সায়েন্স ল্যাবে এই দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আলিম (৪৮) ও যাত্রী হারুনুর রহমান (৩২)। তারা দুজন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় নিহত হন। অন্যদিকে, সায়েন্স ল্যাব এলাকায় প্রাণ হারান সাজু আহমেদ সুমন (৪৫) ও তার মেয়ে সুমাইয়া আহমেদ তৃষা (২০)।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে অটোরিকশার চালক ও তিন যাত্রী আহত হন।
পরে রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালক আলিম এবং যাত্রী হারুনুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া হ্যাপি আক্তার (২২) ও নিহত হারুনের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার (২৫) আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঢামেক থেকে হারুনের আত্মীয় নাবিল জানান, রাত সাড়ে দশটার দিকে সিএনজিতে করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা দিয়ে মহাখালী তাদের বাসায় যাওয়ার সময় ইউটার্ন নিতে গিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে অটোরিকশাটির ধাক্কা লাগে। এতে অটোরিকশায় থাকা তিন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে চালক আলিম ও যাত্রী হারুন নিহত হন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বৃষ্টি আক্তার ও হ্যাপি আক্তার দুজনেই গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের দুজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার দশ কানিয়া গ্রামে বলে জানান নাবিল।
এ দুর্ঘটনার বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের মধ্যে সিএনজিচালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত দুই নারীর জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে।
অপরদিকে, নিউমার্কেট থানার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেছে নিউমার্কেট থানা পুলিশ।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাজু আহমেদ সুমন নিহত হন। পরে গুরুতর অবস্থায় তৃষাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল। তিনি জানান, সায়েন্স ল্যাব এলাকা দিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন সুজন ও তার মেয়ে তৃষা। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, নিহত সাজু আহমেদ সুজন সেগুনবাগিচায় গণপূর্ত বিভাগে চাকরি করতেন। তার মেয়ে একজন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা বর্তমানে রাজধানীর দক্ষিণ শাহজাহানপুর এলাকায় বসবাস করতেন।
২৩ মিনিট আগে
কুয়াশার দাপটে আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক
আবারও পদ্মা নদীর অববাহিকায় ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় মাঝ নদীতেও আটকা পড়ে দুটি ফেরি। আকস্মিক কুয়াশায় ফেরি বন্ধ থাকায় বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন যাবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, শনিবার সকাল থেকে নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা পড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়লে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য দূরে কিছুই দেখতে না পাওয়া যাচ্ছিল না। সকাল ৭টার পর উভয় ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া রো রো (বড়) ফেরি খান জাহান আলী ও কে-টাইপ (মাঝারি) ফেরি বাইগার মাঝ নদীতে গিয়ে দিক হারিয়ে ফেলে। মাঝ নদীতে ফেরি আটকে পড়ার খবর পেয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে দুই ঘাট থেকে ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ সময় পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ৩ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি শাহ পরাণ, ভাষা শহীদ বরকত, কে-টাইপ ফেরি ফরিদপুর, ৪ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, কেরামত আলী এবং ৫ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা নামক ফেরিগুলো নোঙর করে থাকে। দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩ নম্বর ঘাটে ইউটিলিটি ফেরি হাসনা হেনা, ৪ নম্বর ঘাটে কে-টাইপ ফেরি ঢাকা, রো রো ফেরি শাহ মখদুম ও ইউটিলিটি ফেরি বনলতা নোঙর করে থাকে।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার পরপরই কুয়াশা কমতে থাকলে প্রথমে মাঝ নদীতে থাকা ফেরিগুলো নির্দিষ্ট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এরপর ১০টার দিকে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট থেকে নোঙর করে থাকা ফেরিগুলো যানবাহন বোঝাই করে ছাড়তে শুরু করে।
এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে কুয়াশার দাপটে দুই দিন কয়েক ঘণ্টা ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটল।
১ ঘণ্টা আগে
বোনকে কুপ্রস্তাবে প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানায় ছোট বোনকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আবুল কালামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত পৌনে ১০টার দিকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কালাম কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর হরিকেশ এলাকার মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কালাম ও তার সহযোগীরা শাহিদা খাতুনের ছোট বোনকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে শাহিদা ও তার ছোট ভাই প্রতিবাদ করেন এবং এ বিষয়ে গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আসামি সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।
গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহিদা বাড়ির উঠানে রান্নার চাল ধোয়ার জন্য যান। সে সময় তাকে একা পেয়ে কালাম ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় শাহিদার বাবা মো. সাইফুর রহমান বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১৩।
১৫ ঘণ্টা আগে
নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে ‘হত্যার’ পর স্বামীর আত্মহত্যা
নওগাঁর আত্রাইয়ে স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সকারের ছেলে রাজ সরকার জয় (২৭), তার স্ত্রী বৃষ্টি সরকার (২২) ও কন্যাশিশু জিনি সরকার (২)।
স্থানীয়রা জানান, নিহত রাজ সরকার জয় মাদকাসক্ত ছিলেন। স্বামী মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া হওয়ার কারণে স্ত্রী বৃষ্টি সরকার এর আগে অনেকবার সংসার ছেলে চলে যান এবং আবার ফিরে আসেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে জয় তার স্ত্রী ও সন্তানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী মারা যান। পরে নিজেও ছুরি দিয়ে শরীরে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা টের পেয়ে সেখানে গিয়ে জয় ও জিনিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) সকালে তারা উভয়ই মারা যান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্বামী ও সন্তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন জয়; পরে তিনি নিজেও ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
গাজীপুরের পূবাইলে ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ২ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গাজীপুর মহানগরের পূবাইল মৃধাবাড়ি এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে সজিব মিয়া (৪০) এবং সাতানিপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে শেখ হাবিব বাপ্পী (৩৫)।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, টঙ্গী ঘোড়াশাল সড়কের পূবাইল রেলক্রসিং এলাকায় ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যুবক নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের স্বজনরা তাদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
২০ ঘণ্টা আগে
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ, নিহত ২
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন ৩ জন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কসবা এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ জানান, বরিশাল থেকে টেকেরহাট পরিবহন নামে একটি বাস ঢাকার উদ্দেশে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা বরিশালগামী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এতে মাইক্রোবাসটির চালকসহ ২ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে (শেবাচিম) পাঠায়। গাড়ি দুইটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসচালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানচলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে উদ্ধারকাজ শেষ হলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
২১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধ একই পরিবারের ১০
রাজধানীর উত্তরার কামারপাড়ায় একটি বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন— মো. রুবেল (২৮), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (০৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই মো. এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী মোছা. দুলারা খাতুন (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১৩), এনায়েতের ভাই মো. হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা, (১৯) মো. হাবিব (৩৫) ও আবু কালাম রুবেল (৩৫)।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা সাজেদ মাতব্বর জানান, উত্তরার কামারপাড়া ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডের মেম্বার বাড়ির পাশে আবুল কালামের বাসায় দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন রুবেল। ওই বাসায় ভোরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।
তিনি জানান, রুবেল মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার করেন। রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত দুবাই প্রবাসী। কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারি অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তিদের মধ্যে শিশু রোজার শরীরের ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সোনিয়া আক্তার দগ্ধ ১০০ শতাংশ, রুবেলের ৩২ শতাংশ, জুনায়েদ ২৪ শতাংশ, এনায়েত আলী ৪৫ শতাংশ, দিলেরা খাতুন ১৪ শতাংশ, আবু কালাম রুবেলের ৭ শতাংশ, হাবিবের ১৯ শতাংশ, আয়েশা আক্তার ১২ শতাংশ ও রিয়া আক্তারের শরীরের ৩২ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে।
যাদের শরীরের দগ্ধের পরিমাণ বেশি, তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অন্যদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান এ চিকিৎসক।
২১ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহে দীপু দাস হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ২
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ তুলে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
বুধবার (৪ মার্চ) রাতে ভালুকার পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ভালুকার বাটাজোর ডাকুরিয়া এলাকার সিয়াম আহম্মেদ (১৯) এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কড়ইতলা মোড় এলাকার আব্দুল্লাহ (২৮)।
পুলিশ জানায়, দীপু দাস হত্যার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাটাজোর ডাকুরিয়া এলাকা থেকে সিয়ামকে এবং রাত ১০টার দিকে জামিরদিয়া এলাকা থেকে আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন দীপুর মরদেহ যখন স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় মেইন রোডের পাশে গাছে ঝুলানো ছিল, তখন গ্রেপ্তার এই দুই আসামি সেখানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। তারা রশি টেনে মরদেহ নিয়ে স্লোগান দেন এবং উপস্থিত জনতাকে উত্তেজিত করে তোলেন। শুধু তাই নয়, উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি দিয়ে মরদেহের ওপর নির্যাতন চালাতে তারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন বলে জানায় ডিবি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আসামি ইতোমধ্যে আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
১ দিন আগে
মানিকগঞ্জে বাজারে আগুন, পুড়ে গেছে অন্তত ১৯ দোকান
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক বাজারে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৯টি দোকানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে এবং ৮টি দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
জানা যায়, স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দ্রুত তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। এর প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ধারণা করেছে, ওই বাজারের একটি হোটেল কিংবা তেলের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে আশপাশের অন্যান্য দোকানেও তা ছড়িয়ে যায়।
এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে অর্ধকোটি টাকা হবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া।
১ দিন আগে
খুলনায় শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা
খুলনার রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে (৫৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে মহানগরীর ডাকবাংলোর মোড়ের বাটার শোরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ডাকবাংলা মোড়ে মাসুম বিল্লাহ অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর গুলি চালায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, ৬ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী মাসুমকে ভাড়ায় খুন করতে আসে। কে কত টাকা পাবে, তাদের মধ্যে তা হিসাব করা ছিল। ৭ জন মিলে মাসুমকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক পুলিশের একজন পরিদর্শক অশোক ঘোষকে কোমড়ে পিস্তল রাখতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করেন। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এ অপারেশনে ৭ জন জড়িত ছিল। তাদের কাছে নানা ধরনের ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ছিল।
খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খাইরুল ইসলাম জানান, মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে মাসুমের রাজপথে ভূমিকা ছিল।
১ দিন আগে