সারাদেশ
রমজানে অতিরিক্ত মুনাফার প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা: চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক
পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও ধর্মীয় পরিবেশের পবিত্রতা বজায় রাখতে চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অতিরিক্ত মুনাফা, পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা প্রশাসক।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী।
সভায় মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কোনোভাবেই দ্রব্যমূল্য বাড়ানো যাবে না। সারা বছর যে দাম ছিল, রমজানেও তা বহাল রাখতে হবে। রোজাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, একজন দোকানি ক্রয়মূল্যের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করতে পারবেন। এর বেশি নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদকে সামনে রেখে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে একসঙ্গে পুরো মাসের বাজার না করে সচেতনভাবে কেনাকাটা করতে হবে। অতিরিক্ত ক্রয় ও মজুদের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়।’
এছাড়া রমজানে মসজিদে মাইক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, সেহরি ও ইফতারের সময় যেসব মসজিদে সাইরেন রয়েছে, তারা ১-২ মিনিট সাইরেন বাজাতে পারবেন। তবে সেহরির আগে দীর্ঘ সময় মাইক ব্যবহার করে বয়ান, গজল বা ওয়াজ করা যাবে না। অন্য ধর্মাবলম্বীদের কথা বিবেচনা করেও এ বিষয়ে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। সভায় ইসলামী ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তারাবি নামাজ আদায়ের বিষয়েও দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, রমজান উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় দুটি এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ন্যায্যমূল্যের বিক্রয়কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কেন্দ্রে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ডিম, দুধ, মাংস, মুরগি ও ফলমূল ন্যায্যমূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, মাসুদুর রহমান সরকার, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, দীপক কুমার পাল, অহীদ্র কুমার মণ্ডল, জেসমিন আক্তার, শিল্পী মণ্ডল, মোহাম্মদ সুজাত কাজী, নরেশ চন্দ্র পাল, সেলিম রেজাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা।
১৮ দিন আগে
চাঁদপুরে ৩৬ প্রার্থীর ২৫ জনই জামানত হারিয়েছেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনই জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচনি বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনের প্রার্থী বৈধ ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের ঐ নির্দিষ্ট অংশ (১২.৫ শতাংশ) পেতে ব্যর্থ হন, তবে নির্বাচনের আগে কমিশনের কাছে জমা দেওয়া নির্দিষ্ট অংকের টাকা (বর্তমানে বাংলাদেশে ২০,০০০ টাকা) আর ফেরত পাবেন না।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলার ৫টি আসনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারণ করে দেওয়া ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোটও পাননি। এমনও প্রার্থী আছেন যারা ১ হাজার ভোটও পাননি। ফলে তাদের জামানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা জাতীয় পার্টি জেলার ৪টি আসনে অংশ নিয়ে মোট ভোট পেয়েছে ৩ হাজার ৭৪৬। গণফোরাম ৩টি আসনে পেয়েছে ৮৭৬ ভোট। সেই তুলনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৪টি আসনে পেয়েছে ৩৮ হাজার ৬৩০ ভোট।
অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর জেলার ৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবার পেয়েছে ৭ হাজার ১৫৪ ভোট। ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল বাহাদুর শাহও চাঁদপুর-৫ আসনে জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে, চাঁদপুর জেলায় ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৯৫। এবারের নির্বাচনে জেলায় ভোট দিয়েছেন ৫৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোটার।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন, গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আজাদ হোসেন, জাতীয় পার্টির হাবিব খান ও গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর আশরাফীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনে লেবার পার্টি মনোনীত প্রার্থী নাসিমা নাজনীন সরকার, রিপাবলিকান পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ফয়জুন্নুর, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাফ হোসেন, নাগরিক ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মো. এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মানসুর আহমদ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. এমরান হোসেন মিয়াও জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন ১১ দলীয় ছাতা প্রতীকের প্রার্থী (এলডিপি) মো. বিল্লাল হোসেনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনে ইসলামী আন্দোলনে মনোনীত প্রার্থী (হাতপাখা) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন শেখ, কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও তরুণ নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও সাংবাদিক এএইচএম আহসান উল্লাহ, গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর ও গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী ও সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়াকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মুনির চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদ আলম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মকবুল হোসাইন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন জামানত হারিয়েছেন। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এমএ হান্নান বিএনপির প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ বাহাদুর শাহ, ইনসানিয়াত বিপ্লব মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মাদ মাহমুদ আলম, জাতীয় পার্টি মনোনীত মির্জা গিয়াস উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী পাটওয়ারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেনও জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এলডিপির নেয়ামুল বশিরকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে এ এইচ এম আহসান উল্লাহ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোমবাতি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। জামানত হারানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামানত হারানোর কারণ হচ্ছে প্রার্থীদের দলগুলোর তৃণমূলে সাংগঠনিক কাঠামো নাই বা থাকলেও দুর্বল। তাই নির্বাচনে ভালো করা কঠিন। এক্ষেত্রে দলগুলোকে আগামীতে আরও বেশি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হতে হবে।
চাঁদপুরের সুশাসনের জন্যে নাগরিকের (সুজন) সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন বলেন, নিজেদের পরিচিতি ও অস্তিত্ব জানান দেওয়ার জন্য নির্বাচনে অনেকে প্রার্থী হন। আবার নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণের জন্যেও দলের প্রার্থী হয়ে নিয়ম রক্ষা করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, ছোট দলগুলোর জয়-পরাজয় বা জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়াটা তাদের জন্যে বড় বিষয় নয়। দলকে টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাটাই বড়ো বিষয়। আবার দেখা গেছে, অনেকে নির্বাচনে দাঁড়ায় বটে, কিন্তু নির্বাচনের কয়েকদিন আগে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য সম্ভাব্য বিজয়ী দলের প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত করে হাত মেলায়।
১৮ দিন আগে
দুর্বৃত্তের হামলায় পিরোজপুরে ২ বিএনপি কর্মী আহত
দুর্বৃত্তের হামলায় পিরোজপুর-১ আসনর ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের দুই সমর্থককের ওপর হামলা হয়েছে। তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। ওই নেতার পক্ষ থেকেও কারও ওপর বা কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সদর উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মল্লিক নাসির এবং উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন মল্লিক নিপু।
মহিউদ্দিন মল্লিক নাসির (৬০) শংকরপাশা গ্রামের মৃত মোজাহার মল্লিকের ছেলে এবং নিপু একই এলাকার শাহজাহান মল্লিকের ছেলে।
নিপু জানান, গতকাল (রবিবার) রাত ১১টার দিকে তারা দুজন একটি মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময়ে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে আসা একদল ব্যক্তি পাড়েরহাট বাসস্ট্যান্ডে তাদের গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান। এরপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রাজিব পাইক জানান, আহত দুজনেরই শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখম হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তজেনা বিরাজ করছে।
১৮ দিন আগে
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় চাকরিজীবী নিহত
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নামের একজন চাকরিজীবী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা রুপসা সেতুর ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর বাগেরহাটের সরুয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (সোমবার) সকালে খুলনা থেকে বাগেরহাটে যাওয়ার পথে রুপসা সেতুর পূর্ব পাশে বিপরীত দিক থেকে আসা একটা ট্রাকের চাপায় জাহাঙ্গীর নিহত হন।
হরিণটানা থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক ইমরান হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
১৮ দিন আগে
সাভারে হানিফ পরিবহনের বাসে আগুন
সাভারে হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী পার্কিং করা বাসে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এটি অগ্নিসংযোগ নাকি কেবলই অগ্নিকাণ্ড, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর এলাকায় কফিল পেট্রোল পাম্পের সামনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট আধা ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে, এ ঘটনায় আর কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর এলাকার কফিল পেট্রোল পাম্পের সামনে আরিচাগামী লেনে হানিফ পরিবহনের একটি বাস পার্কিং করা ছিল। হঠাৎ ওই বাসে পথচারীরা আগুন দেখতে পান। পরে সাভার ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
সাভার ফায়ার সার্ভিসে ফায়ার ফাইটার আবু হানিফ বলেন, খবর পেয়ে আমাদের দুই ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা জানা যায়নি।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গাড়ির যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে। তবে, এটি নাশকতা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হানিফ পরিবহনের মালিক কফিলউদ্দিন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা।
১৮ দিন আগে
শ্যামপুরে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় পথচারী নিহত
রাজধানীর শ্যামপুরের পোস্তগোলা সেতুর ওপর রাস্তা পারাপারের সময় অজ্ঞাতগাড়ির ধাক্কায় আব্দুর রহিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত রহিমের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রহমান। ওই গ্রামে তার একটি দোকান রয়েছে। ঢাকায় তিনি কী কারণে এসেছিলেন, তা জানা যায়নি।
শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুদ্দিন তালুকদার জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে পোস্তগোলা সেতুর ওপর রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ওই ব্যক্তি। পরে পথচারীরা তাকে পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢামেকে নিয়ে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এসআই আরও জানান, সড়কের সিসিটিভি ও প্রযুক্তি সহায়তায় ওই গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
১৯ দিন আগে
চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মারধর: বরিশালে যুবদলের দুই নেতা বহিষ্কার
বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা।
বহিষ্কৃতরা হলেন— বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক মল্লিক।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নীতি-আদর্শ ও সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি বানারীপাড়া বাইশারী বাজারের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বিভাস ঋষির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার ওপর হামলা করা হয়। সেই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
১৯ দিন আগে
খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে বিকেলে মাল্যদান, রাতে আগুন
খুলনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমাল্যদান ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আ.লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নগরীর শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিন বিকেলের দিকে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন নিষিদ্ধঘোষিত দলটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় কার্যালয়ে তারা জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করেন। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
এদিকে, আ.লীগের নেতা-কর্মীদের তৎপরতার প্রতিবাদে রবিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র খুলনার ওই কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর করেন। এছাড়া কার্যালয়ের কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নেভান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আ.লীগের এক কর্মী বলেন, দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই রবিবার বিকেল ৪টার দিকে আমরা কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছবিতে পুষ্পমালা দেওয়া হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা দিয়েছি। কার্যালয় তালা মারা ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে কার্যালয়ে নতুন একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ আমাদের বাধা দেয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকেলে আ.লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমালা দিয়ে অফিস ত্যাগ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন ছাত্র ওই কার্যালয়ে গিয়ে অগ্নিসংযোগ করে।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বিকেলের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি খুলেছিল। এটি আমরা জানতে পেরে আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিকেলের ওই ঘটনার পর রাতে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র কার্যালয়ে এসে আগ্নিসংযোগ করে। টাঙানো দুটি ছবি ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মাদরাসা শিক্ষার্থী খুন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মাহিম মিয়া (১৫) নামে এক মাদরাসা ছাত্র নিহত হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কাজলা স্কুল গলিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাহিম কিশোরগঞ্জ সদরের দিন ইসলামের ছেলে। সে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় থাকত। স্থানীয় একটি মাদরাসায় হেফজ বিভাগে সে পড়ত বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
নিহতের ভগ্নিপতি মো. রাফি জানান, রবিবার রাতে স্কুল গলিতে কয়েকজন কিশোর মাহিমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সেই বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি তারা।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৯ দিন আগে
জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত, আহত অন্তত ১৫
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্ধ্যা রানী (৬০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
উপজেলার উথলী মালোপাড়ার কাছে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সন্ধ্যা রানী দর্শনার রামনগর গ্রামের বাগদি সম্প্রদায়ের দুলাল ওরফে ঘইটের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা রামনগর এলাকার বাগদি সম্প্রদায়ের অনেকেই মাঠে পড়ে থাকা ধান, গম, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার ভোরে ১৫ জনের একটি দল আলমসাধু (মোটর ভ্যান) খালিশপুর এলাকায় ফসল কুড়াতে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে উথলী মোল্লাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পারাপার হওয়া একটি শেয়ালকে ধাক্কা দেয়। এতে আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় যাত্রীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সন্ধ্যা রানী নিহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— বাদলি রানী (৩০), বিকাশ মণ্ডল, রিকা রানী (৪০), শেফালী (৪৫), সন্ধ্যা (৫০), জোসনা (৫০), চায়না ও টুকুল (৩০), অশোক (৪০) এবং আলমসাধুচালক মিলনসহ (৩০) আরও কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের পরিবারের দাবি, তারা অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
নিহত সন্ধ্যা রানীর মরদেহ রাতেই বাড়িতে নেওয়া হয়। আজ (সোমবার) পরিবারের সদস্যদের তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
১৯ দিন আগে