সারাদেশ
কুষ্টিয়ায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে নিহত ৪
কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০-২৫ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তানহা পরিবহনের একটি বাস রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। পথিমধ্যে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে পৌঁছালে একটি ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের উপক্রম হয়। পরে ভ্যানটিকে বাঁচাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি খাদে পড়ে যায়।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জনের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। এছাড়া আহত ২০ জনকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। এরমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ইকবাল হাসান জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা ৪ জনের মধ্যে একজন নারী এবং একজন পুরষ মারা গেছেন। বাকি ২ জন পুরুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
১২ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া ৪ শিশুর মধ্যে একজনের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে (১০ মাস), একজনের বাড়ি সিলেটের শাহপরাণ এলাকায় (১৫ মাস), একজনের বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল (৫ মাস) ও অপরজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় (৬ মাস)।
মৃত চার শিশুর মধ্যে দুজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং দুজন শহিদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ২৯৫ রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও এই সময়ে ৪৩ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১ জানুয়ারি থেকে আজ (শনিবার) পর্যন্ত বিভাগে মোট ১৫৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিভাগে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে।
১২ দিন আগে
ফেনীতে অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীর গরু ছিনতাই
ফেনীতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য আনা এক ব্যবসায়ীর গরুর পালে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুরে অবস্থিত র্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মানুষের থেকে ঋণ নিয়ে ঈদুল আজহায় বিক্রির জন্য ১০টি গরু ক্রয় করি। ফেনীর র্যাব ক্যাম্পের পাশেই গরুগুলো বেঁধে রেখে পাহারা দিচ্ছিলাম। শনিবার ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ ৪/৫ জন ব্যক্তি এসে আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১টি গরু গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন আমার চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে গাড়িটির পেছনে ধাওয়া করলেও আটকাতে পারেনি। আমি গরুটি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
স্থানীয়রা জানায়, অনেকেই লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু এনে ফেনীর হাট বাজারে বিক্রি করছেন। এভাবে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, রামপুরে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
১২ দিন আগে
নরসিংদীতে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, হত্যাকারীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
নরসিংদীর পলাশে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্যে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুই যুবক। হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসীদের নিয়ে হত্যাকারীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে পলাশ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আশিক ভূঁইয়া (২০) উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের মনির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে ছিলেন। এ সময় একই এলাকার বকুল ভূঁইয়ার ছেলে রুহুল আমিন (২০) ও মান্নান ফকিরের ছেলে ইলিয়াস আহত হন। তাদের মধ্যে রুহুল আমিনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শনিবার (২৩ মে) সকালে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসীদের নিয়ে হত্যাকারীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারুলিয়া গ্রামের সাগরের (২২) ছোট ভাই সোহাগের (২০) সঙ্গে প্রতিবেশী রুহুল আমিনের গত বৃহস্পতিবার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার মীমাংসা করার জন্য গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে পারুলিয়া ভূইয়া বাড়ির পাশে স্থান ও সময় নির্ধারণ করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। গতকাল বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন নির্ধারিত স্থানে বিচারকদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর ও সোহাগসহ প্রায় ১০/১৫ জন লোক আশিকের ওপর হামলায় চালায়। এ সময় তাদের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে আশিককে। তাকে বাঁচাতে রুহুল আমিন ও ইলিয়াস এগিয়ে গেলে তারাও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিককে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রুহুল আমিন ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং ইলিয়াস প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
অভিযুক্ত সাগর ও সোহাগ ওই উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
আজ (শনিবার) সকালে আশিকের মৃত্যুর খবরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা সাগর-সোহাগদের বাড়িতে হামলা চালান এবং একপর্যায়ে আগুন লাগিয়ে দেন। আগুনের খবর পেয়ে পলাশ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী রোমান ভূইয়া জানান, সালিশের নির্ধারিত স্থানে স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হতে থাকে। এ সময় সকলেই যারা সালিশ করবেন তাদের জন্য অপেক্ষা করতে ছিল। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই সাগর ও তার ভাই সোহাগ আশিকের ওপর হামলা চালিয়ে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে রুহুল আমিন ও ইলিয়াসও গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। আশিকের মৃত্যুর খবরে সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও তাদের স্বজনরা সাগর-সোহাগদের বাড়িঘর আগুন দেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, আশিকের মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালান এবং আগুন দেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
১২ দিন আগে
‘পুলিশ-বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে’ ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, ক্ষোভে কিশোরীর গলায় ফাঁস
নরসিংদীতে পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে ধষর্ণের ঘটনায় সালিশ চলাকালে ক্ষোভে এক কিশোরীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কিশোরীকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর পাশের শিবপুর উপজেলায় বিয়ে হয়েছিল ওই কিশোরীর। বিয়ের পর থেকেই প্রতিবেশী প্রাইভেটকারচালক এক যুবক তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও বিয়ের প্রলোভন দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই কিশোরীকে তার স্বামীর সংসার থেকে নিয়ে আসেন যুবকটি। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। এ ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার ছেলেটিকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু সে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে কিশোরীর পরিবার আইনি সহযোগিতা নিতে চাইলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মীমাংসা করে দেবে বলে জানান।
পরবর্তী সময়ে ওই কিশোরীর পরিবার উপায়ন্তর না পেয়ে সালিশি বিচারে রাজি হয়। পরে গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আউলাদ হোসেন মোল্লা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক টিটু, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খোকা, চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ একাধিক নেতার উপস্থিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেখানে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইউনুস নামে একজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, সালিশ দরবারে উপস্থিত নেতারা বিয়ের পরিবর্তে ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকায় মীমাংসা করার প্রস্তাব উঠান। এ খবর ওই কিশোরী জেনে সালিশ চলাকালেই ঘরের দরজা আটকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ সময় পরিবারের লোকজন ঘটনা বুঝতে পেরে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে অচেতন অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে সে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্ত যুবককে দোষী দাবি করে বলেন, সে আমার মেয়ের সংসার ভেঙেছে। আমার মেয়েকে গত এক বছর ধরে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। আমার মেয়ে বিয়ের কথা বললে সে তালবাহানা করতে থাকে। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। মানুষ আমার মেয়েকে নিয়ে বাজে কথা বলায় সে বাইরে যেতে পারত না। আজকের সালিশে বিচারকরা বিয়ের কথা না বলে প্রথমে ২০ হাজার, ৩০ হাজার ও পরে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসার কথা বলেন। এ কথা শুনে আমার মেয়ে ক্ষোভে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এখন সে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
তার অভিযোগ, আমি থানায় আগেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু বিচার পাইনি। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আউলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, আমি অল্প সময়ের জন্য দরবারে গিয়েছিলাম। ছেলে ও মেয়ের কথা শোনার পর জরুরি কাজ থাকায় চলে এসেছি। পরে জানতে পেরেছি, দরবারে ১১ জনের একটি বোর্ড বসেছিল। তারা সকলের কথা শুনে ৮ জন বিয়ের পক্ষে ও তিন জন টাকা দিয়ে সমাধানের পক্ষে মতামত দেন। এর মধ্যে কেউ টাকা দিয়ে সমাধানের বিষয়টি জানালে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে দরবার থেকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
ধর্ষণ সালিশযোগ্য কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি উভয়পক্ষের অনুরোধে গিয়েছিলাম। যেখানে এলাকার অনেক মানুষ ছিল।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যায় ফাঁস নেওয়া এক কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিনিশপুর ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা মো. ইসহাক মিয়া বলেন, সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় সালিশে আমি ছিলাম না তবে মো. ইউনুস নামে একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন।
তিনি জানান, আমি ঘটনার খোঁজ খবর নিয়েছি, কিন্তু সালিশে ছিলাম না।
তবে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন ওই শালিসে কোনো পুলিশ সদস্যের উপস্থিত থাকার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সালিশে আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন না। আমরা শারীরিক সম্পর্কের ঘটনায় একটা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি।
১২ দিন আগে
যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৪
যশোর-খুলনা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক কাভার্ড ভ্যানের চালককে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া তেল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া এলাকার সুজন সাহার স্ত্রী বৃষ্টি সাহা (২৪) ও তার চার বছর বয়সী শিশু সৌভিক সাহা, চাউলিয়া এলাকার মৃত কালু শেখের ছেলে আনোর আলী (৭০) এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ঘুনি পূর্বপাড়া এলাকার মৃত হাসান আলী মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ আইয়ুব আলী (৪৩)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে যশোরগামী একটি দ্রুতগতির ভারী যান (কাভার্ড ভ্যান) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। পরে সামনে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিলে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর আইয়ুব আলীর মৃত্যু হয়। মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর এলাকার সাজ্জাদ হোসেন (২৮) গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও ভারী যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যশোর-খুলনা মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঘাতক যানটির চালককে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১২ দিন আগে
ঘোড়াঘাটে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ৯টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ঘোড়াঘাট উপজেলার নুরপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে আলামিন (১৫), একই উপজেলার সলিমুদ্দিনের ছেলে সৈকত (১৬) এবং আফসারাবাদ কলোনির সমেশ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (২০)।
স্থানীয়রা জানান, নিহত তিনজনই নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। স্থানীয় কলাবাড়ী এলাকায় কাজে যাওয়ার সময় ট্রাকচাপায় তারা নিহত হন।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকায় একটি গলিপথ থেকে মূল সড়কে ওঠার সময় তিন আরোহীবাহী মোটরসাইকেলটিকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল কাইয়ুম মুশফিক নিহত হন।
পরে আহত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন এবং হাসপাতালে ভর্তি করার পর আরেকজন মারা যান বলে জানান তিনি।
ওসি আরও জানান, ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক আতাউর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল কাইয়ুম মুশফিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
১২ দিন আগে
সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে র্যাব সদস্য নিহত
সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে র্যাব-৯-এর সদস্য ইমন আচার্য নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আসাদউল আলম বাপ্পীকে আটক করেছে পুলিশ।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে আহত হন ইমন আচার্য। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ইমনের ওপর হামলাকারী বাপ্পী মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম।
তিনি বলেন, দুপুরে কিন ব্রিজ এলাকায় কয়েকজন বসে মাদক সেবন ও বিক্রি করছিল। পুলিশ তাদের দেখামাত্র ধাওয়া করে। সঙ্গে সঙ্গে এসব মাদক ব্যবসায়ীরা দৌড় দেন। ঘটনাস্থলে সাদা পোশাকে ছিলেন র্যাব-৯-এর সদস্য ইমন আচার্য। সে সময় ইমন মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাপ্পীকে জাপটে ধরে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ইমনকে ছুরিকাঘাত করেন।
তিনি আরও বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত র্যাব সদস্যকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। তার ওপর হামলাকারী বাপ্পীকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ আটক করেছে।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানান, দুপুর ১২টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে ধাওয়া করে পুলিশ। এ সময় তাদের একজন দৌড়ে পালানের সময় সাদা পোশাকে থাকা এক র্যাব সদস্য ইমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গিয়ে তোপখানা এলাকায় একটি বাসায় ঢুকে পড়েন বাপ্পী। সেখানে এক শিশুকে গলায় ছুরি ধরে সকলকে জিম্মি করেন তিনি। পরে অনেক চেষ্টায় বাপ্পীকে আটক করা হয়।
১৩ দিন আগে
সিলেটে দেড় বছরের কন্যাশিশুকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগে মা আটক
সিলেটে দেড় বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুবিনা বেগমকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২২ মে) ভোরে সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন কালারুকা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম মাইমুনা জান্নাত তোহা। তার বাবার নাম আমির আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ (শুক্রবার) ভোরে শিশুটির বাবা ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা দা দিয়ে নিজের মেয়েকে গলাকেটে হত্যা করেন মা সুবিনা বেগম। নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে শিশুটির বাবা আমির আলী ঘরে ঢুকে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।
পরে খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একইসঙ্গে অভিযুক্ত মাকেও আটক করে পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) সাইফুল ইসলাম বলেন, সুবিনা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। তিনি স্বাভাবিক হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন জানা যাবে, এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় আটক সুবিনার বিরুদ্ধে তার স্বামী বাদী হয়ে মামলা করলে তা হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করবে পুলিশ।
শিশুটির বাবা আমীর আলী জানান, ‘ফজরের আজানের সময় শিশু তোহা ঘুম থেকে উঠলে তিনি তার স্ত্রীকে উঠে নামাজ পড়তে বলে মসজিদে যান। নামাজ শেষে তার ছোট ছেলে গিয়ে তাকে তোহার গলা কেটে ফেলার খবর জানায়। তিনি আসার আগে প্রতিবেশীদের জড়ো করে তাদের বড় ছেলে।
আমীর আলী আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল হাবিব জানান, সুবিনা বেগম মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
সুন্দরবনে দস্যুদের সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ, অপহৃত ২১ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ড সদস্যরা পৃথক অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুদের হাতে জিম্মি ২১ জন জেলেকে উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার (২২ মে) ভোরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা খুলনা জেলার কয়রা উপজেলাধীন সুন্দরবনের আন্দারমানিকের টোটা কেওড়াতলা খাল এবং দাকোপ উপজেলাধীন শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল এলাকায় পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় শিবসা নদীর বড় দুদমুখ এলাকায় কোস্টগার্ডের সঙ্গে জাহাঙ্গীর বাহিনীর গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ডাকাত দল পিছু হটলে কোস্ট গার্ড সদস্যরা দুটি স্থান থেকে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধার করেন। এ সময় দস্যুদের ব্যবহৃত ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করে।
কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে সপ্তম বারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা মোট ২১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গহীনে প্রবেশ করলে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ জন জেলেকে উদ্ধার করেন।
সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে একই সময়ে সেখানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা আভিযানিক দলকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে। আভিযানিক দল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা বনের গহীনে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও ডাকাতদের নিকট জিম্মি থাকা ১১ জন জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান কোস্ট গার্ডের এ কর্মকর্তা ।
১৩ দিন আগে