সারাদেশ
রাজধানীতে গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
ঢাকার শ্যামপুর থানার মীরহাজীরবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে লাকি আক্তার (১৭) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সজীব পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মীরহাজীরবাগের বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত লাকির বাড়ি ভোলার সদর থানার রতনপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মো. হারুনের মেয়ে। বর্তমানে শ্যামপুর থানার মীর হাজারীবাগে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন তিনি।
শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিকেলে খবর পেয়ে ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ঘরের মেঝেতে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে ছিল।
প্রতিবেশীদের বরাতে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, স্বামী সজিবের সঙ্গে ওই বাসায় দেড় মাস যাবত ভাড়া থাকতেন লাকি। সোমবার রাতে তাদের ঘরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রচুর ঝগড়ার আওয়াজ পাওয়া যায়। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি ওই বাসায়। ঘরে দরজাও বাইরে থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতে পান, লাকি মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এরপর তারা থানায় খবর দেন।
সোমবার রাতের কোনো এক সময় সজিব তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করে ঘরেই মরদেহ রেখে পালিয়ে যান বলে ধারণা পুলিশের। সজিবকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার বিষয়ে জানা যাবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
নরসিংদীতে অধিগ্রহণের অর্থ না পাওয়ার অভিযোগে প্রকৌশলীর ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ১
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় অধিগ্রহণের অর্থ না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুর রহমানসহ তিনজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার নীলকুঠি গ্রামের মেশিনঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তিন ভাইয়ের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় পাঁচ-সাতজনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলাটি করেছেন প্রকৌশলী সাইফুর রহমান।
আসামিরা হলেন— মেশিনঘর এলাকার ফায়েজ উদ্দিন (৫৬), আফিল উদ্দিন (৫০) ও রাফি উদ্দিন (৪৮)। এর মধ্যে আফিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর কাজ করছিলেন সোহেল মিয়া নামের একজন লাইনম্যান। ওই সময় সোহেলকে হুমকি দিয়ে কাজে বাধা দেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনা শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান সাইফুর রহমান। সেখানে যাওয়ার পরই অভিযুক্তরা তার গাড়িচালক বাচ্চু মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে আফিল উদ্দিন লোহার রড দিয়ে সাইফুরের মাথায় আঘাত করে হেলমেট ভেঙে ফেলেন। এ সময় তাকে বাঁচাতে গাড়িচালকসহ অন্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় মামলা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণে জমির টাকা পেয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। কিন্তু ওই জমিতে যেসব স্থাপনা ছিল, অবৈধ হওয়ায় এগুলোর টাকা তারা পাননি। এ নিয়েই তাদের ক্ষোভ ছিল।
ঘটনার বিষয়ে সোহেল মিয়া বলেন, ‘গতকাল দুপুরে কাজ করার সময় তিনজন আমাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি করেন। একপর্যায়ে আমার গলায় দা ধরে তারা বলেন, রাস্তা করার জন্য সরকার তাদের কাছ থেকে যে জমি নিয়েছে, এর মূল্য পায়নি। তাই সেখানে তারা আমাদের কোনো কাজ করতে দেবেন না। কাজ করলে আমাদের মারধর করেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন তারা।’
সাইফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটির পর আমরা রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করেছি।’
ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক-২ মো. মাহবুব-এ-এলাহী বলেন, গত ২০ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাহমুদাবাদ এলাকায় অভিযুক্তদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ওই সময়ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন তারা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেলে উপসহকারী প্রকৌশলীর ওপর হামলা চালানো হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পরই মাহমুদাবাদ এলাকা থেকে আসামি আফিল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৩ দিন আগে
যশোরে সাত বছরের শিশু ‘ধর্ষণ’, অভিযুক্ত নানা পলাতক
যশোরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের এক শিশুকে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ৯টার দিকে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। শিশুটি যশোর শহরের নাজির শংকরপুর ৩৯ নম্বর হাজারী গেট এলাকায় তার নানি বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। সোমবার রাত ৯টার দিকে শিশুটির নানির আপন ভাই হাফিজুল (৪০) বেড়ানোর কথা বলে শিশুটিকে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন আফজালের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার হাবিবা সুলতানা ফোয়ারা জানান, শিশুটির ভ্যাজাইনাল ইনজুরি লক্ষ্য করা গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শারীরিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
অভিযুক্ত হাফিজুল সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে যশোর মেডিকেল কলেজ এলাকায় ভাড়া থাকেন। ঘটনার পর থেকেই হাফিজুল পলাতক রয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাফিজুলকে আটকের চেষ্ট চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
ট্রাকচাপায় ছেলে মর্গে, মৃত্যুশয্যায় বাবা
ফেনীতে সেহরি খেয়ে মসজিদে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাবা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দাগনভূঞায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে সেহরি খাওয়ার পর মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেটে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মোল্লাবাড়ি গ্রামের নুর আলম (৫৫) ও তার ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৪)। এ সময় তারা চৌধুরী বাড়ির সামনে পৌঁছালে একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নুর মোহাম্মদ নিহত হন।
অপরদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় নুর আলমকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩ দিন আগে
সিলেটে ঝোপ থেকে নারীর কঙ্কাল উদ্ধার
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় একটি ঝোপ থেকে এক নারীর মাথার খুলি ও কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্বনাথ বাইপাস সড়কের একটি বাসার সীমানার বাইরে ঝোপের ভেতর থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, বাইপাস সড়কের পাশের একটি বাড়ির সীমানার বাইরে জমির ঝোপে একটি মাথার খুলি ও কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। কঙ্কালের পাশে নারীর চুল পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর কঙ্কাল এবং বেশ পুরোনো।
বিশ্বনাথ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে যাই। কঙ্কালটি দেখে প্রাথমিকভাবে পুরোনো বলে মনে হয়েছে। চুলের উপস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর।’
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে একটি ঝোপ থেকে পুরোনো কঙ্কাল উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই কঙ্কালটির পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
সিলেটে ভারতীয় পণ্যসহ ৩ যুবক আটক
সিলেটে চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় মেহেদি জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় একটি প্রাইভেটকারসহ ৩ জনকে আটক করা হয়।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর শাহপরান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— সুমন সাহা (২৬), মনির কাজী (৩০) ও মো. রুবেল (৩২)। তাদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায়।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে সিলভার রঙের একটি টয়োটা প্রাইভেটকার এবং আনুমানিক ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ‘কাভেরি মেহেদি’-এর কন।
পুলিশ জানায়, গতকাল (সোমবার) সিলেট তামাবিল মহাসড়কের দাসপাড়া মুসলিম হ্যান্ডস স্কুলের সামনে চেকপোস্ট পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ ভারতীয় কাভেরি মেহেদির কন জব্দ করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় শাহপরান থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে। আটকদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
মাদক কেনার টাকা না পেয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
বরিশালের মুলাদীতে মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে হাবিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত যুবকের বিরুদ্ধে। হামলার সময় বাবাকে বাঁচাতে গেলে হাবিবুল্লাহর মেয়েকেও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিবুল্লাহর মৃত্যু হয়।
মৃত হাবিবুল্লাহ উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের মৃত আব্দুস ছত্তার ভূঁইয়ার ছেলে। অভিযুক্ত শাতিল শরীফ একই গ্রামের শাহিন শরীফের ছেলে।
নিহতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে হাবিবুল্লাহর নিজ বাড়িতে শাতিল শরীফ মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে হাবিবুল্লাহ ও তার মেয়ে কলেজছাত্রী ফাতিহাকে পিটিয়ে আহত করেন।
হাবিবুল্লাহর মেয়ে ফাতিহা জানান, শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে একই এলাকার শাতিল তাদের বাড়িতে যান। ওই সময় তার বাবা হাবিবুল্লাহ বাড়িতে ছিলেন না। শাতিল বারান্দার সামনে দাঁড়িয়েই ফাতিহার কাছে ভাত খেতে চান। ওই সময় ফাতিহা তাকে গরুর মাংস দিয়ে ভাত দিলে তিনি বারান্দায় বসে পড়েন। সকাল ১০টার দিকে হাবিবুল্লাহ বাড়িতে ফিরে শাতিলকে বারান্দায় বসে ভাত খেতে দেখলে তাকে ঘরের মধ্যে টেবিলে বসে খাওয়ার অনুরোধ করেন।
শাতিল ঘরের মধ্যে ঢুকেই গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাবে না জানিয়ে ডিম ভাজি দিতে বলেন। ফাতিহা ডিম ভাজি করতে গেলে শাতিল মাদক কেনার জন্য হাবিবুল্লাহর কাছে টাকা চান। হাবিবুল্লাহ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হাবিবুল্লাহকে মারাত্মকভাবে আহত করেন।
বাবার চিৎকারে ফাতিহা তাকে রক্ষা করতে গেলে শাতিল তাকেও পিটিয়ে আহত করে চলে যান। পরে স্থানীয়রা হাবিবুল্লাহ ও ফাতিহাকে উদ্ধার করে ওই দিনই বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে হাবিবুল্লাহার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে আজ (সোমবার) ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিন হোসেন বলেন, গত শুক্রবার সকালে মাদকসেবীর হামলায় হাবিবুল্লাহ ও তার মেয়ে আহত হয়েছিলেন। সোমবার ভোররাতে হাবিবুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে ফাহিতা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪ দিন আগে
রাজধানীতে মাদক কারবারীদের গুলিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ
রাজধানীর সায়েদাবাদের বাস টার্মিনালে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে মাদক কারবারিদের গুলিতে মো. সিদ্দিকুর রহমান (৩৮) নামে একজন ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সায়দাবাদ এলাকায় অভিযানের সময় ডিএনসির এই ইন্সপেক্টরকে গুলি করে পালিয়ে যান মাদক কারবারীরা।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুপুর ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ সার্কেলের উপপরিচালক রাজিউর রহমান জানান, ১ মার্চ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত আমাদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযান চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমাদের ৭টি টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিল। আমাদের একটি টিম সায়দাবাদ রেললাইন এলাকায় অভিযানের জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় ৩ জন মাদক কারবারীকে শনাক্ত করে আমাদের টিম। পরে তাদের মধ্য থেকে একজনকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি পকেট থেকে পিস্তল বের করে ৪ রাউন্ড গুলি করেন। এতে আমাদের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে পিস্তলের একটি গুলি লাগে। গুলি করে ওই মাদক কারবারীরা পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।
৪ দিন আগে
হবিগঞ্জে এমপির স্ত্রীকে নিয়ে প্রশাসনের সভা, ইউএনও-এসিল্যান্ড বদলি
সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে প্রশাসনের সভায় অতিথি করাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন দে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলমকে বদলি করা হয়েছে।
রবিবার (১ মার্চ) সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মুহাম্মদ তানভীর হাসান রুমান বদলির আদেশে সই করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইউএনও লিটন দে-কে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এবং মাহবুবুল আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। যদিও সরকারি আদেশে এই রদবদলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের দাবি, বির্তকিত ওই সভার জের ধরেই তাদের তড়িঘড়ি করে বদলি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাহুবল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির আসনে বসেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া। সেখানে তিনি বক্তব্যও দেন।
ওই সভার ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, সিমির দুই পাশে বসে আছেন ইউএনও লিটন দে, এসিল্যান্ড মাহবুবুল আলম এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। সরকারি সভায় একজন জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যের এমন উপস্থিতি ও প্রধান অতিথির আদলে বসে থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
৪ দিন আগে
ক্ষমতার দাপট দেখানো সেই চেয়ারম্যান স্বপদে ফিরলেন, শাস্তি পেলেন ইউএনও
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বরখাস্ত হওয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভুঁইয়া আদালতের রায়ে স্বপদে ফিরেছেন।
রবিবার (১ মার্চ) নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদারের সই করা এক আদেশে তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, একই দিনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে কলমাকান্দা ইউএনও মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাইদুর রহমান ভুঁইয়া জেলার কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লেংগুড়া বাজারে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের ভাই মো. পারভেজসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে ইউএনও মাসুদুর রহমান ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের দায়ে মো. পারভেজকে আটক করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাইদুর রহমান ভুঁইয়া। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কার অনুমতিতে এসেছেন? আমার ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে আগে আমাকে জানাতে হবে।’ তখন ইউএনও বলেন, ‘এটা কোন আইনে আছে?’ পাল্টা জবাবে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানের আইনে আছে।’
এমন কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। এদিকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান ইউএনও।
পরদিন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. মোতাছেম বিল্যাহর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ওই ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।
এদিকে, ২০ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সামিউল আমিনের সই করা প্রজ্ঞাপনে ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এই খবর পেয়ে ইউএনওর বদলির আদেশ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করে স্থানীয় লোকজন। পরে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, চেয়ারম্যান পদ ফেরত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন সাইদুর রহমান ভুঁইয়া। গত ২৫ জানুয়ারি আদালত তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন। পরে গতকাল (রবিবার) সাইদুর রহমানকে স্বপদে বহালের আদেশ দেয় নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার বিভাগ। পাশাপাশি ওই ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগের আদেশ বাতিল করা হয়।
৪ দিন আগে