সারাদেশ
শনির আখড়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার শনির আখড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মোহাম্মদ সাজিদ হাসান (৩০) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সাজিদ হাসানের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর কদমতলী এলাকার মেরাজনগরে। তার বাবার নাম মো. সোলাইমান। তিনি একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
হাসপাতালে নিহতের বাবা সোলাইমান জানান, আমার ছেলে আল মদিনা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডে কর্মরত ছিল। প্রতিদিনের মতো আজও সে অফিসের কাজে মোটরসাইকেলে নিয়ে বের হয়েছিল। এ সময় শনির আখড়ার মোড়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা ও তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয় আমার ছেলে। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আমার ছেলে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
১৮ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর শওকত আলী (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাতে উপজেলার পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান।
নিহত শওকত আলী শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঁঠাপাড়া এলাকার মৃত মিজানের ছেলে ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৯ মে অন্যদের সঙ্গে গরু আনার জন্য ভারতের দিকে যান শওকত আলী। তবে তার সঙ্গীরা ফিরে এলেও নিখোঁজ ছিলেন তিনি। গতরাতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে গোপনে দাফনের প্রস্ততি নিলে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, গরু নিয়ে ফেরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ হত্যা করে শওকতের মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়েছে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বিএসএফ।
ওসি মতিউর রহমান বলেন, মরদেহটি অর্ধগলিত থাকায় মৃত্যুর কারণ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গোদাগাড়ী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জীবন রায় বলেন, মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হাত, পা ও বুকের জখম গুরুতর। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ বলা যাবে না। ঘটনাটি তদন্তে বিজিবি কাজ করছে বলে জানান তিনি।
১৮ দিন আগে
দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে হামলা: কক্সবাজারে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের
কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ছৈয়দা খাতুন (৫০)।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ছৈয়দা খাতুন ওই এলাকার সৈয়দ হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।
নিহতের ছেলে আব্দুর রহমানকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ দাবি করে মারধর করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
নিহতের স্বজনরা জানান, সম্প্রতি দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি দাবি করে আব্দুর রহমানকে আটক করা হয়। এরপর তাকে মারধর শুরু করেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও ছাত্রদল নেতা জিসানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। ছেলেকে রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মা ছৈয়দা খাতুন, কিন্তু হামলাকারীদের মারধরে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে যাওয়া উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উমেছিং মারমা বলেন, খবর পেয়েছিলাম একজন আসামিকে এলাকাবাসী আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মারধরের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, আব্দুর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কোন মামলায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে আব্দুর রহমান কোন মামলার আসামি ছিলেন, সে বিষয়ে তিনিও স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।
১৮ দিন আগে
বান্দরবানে আগুনে পুড়ল ৪৭ দোকানসহ বসতঘর
বান্দরবান সদর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪৭টি দোকান ও বসতঘর ভস্মীভূত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এতে প্রাথমিকভাবে অন্তত দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বান্দরবান স্টেশনের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মান্নান আনসারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) ভোরে হঠাৎ বাজারে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে অধিকাংশ দোকান ও বসতঘরে দাহ্যসামগ্রী থাকায় এবং পাশাপাশি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। এরপর খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাজারের প্রায় ৪৭টি দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে তাদের দোকানের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তারা পুরো নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে ।
জামছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য সিং শৈ মারমা জানান, বাজারের পেছনের এক দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে এলাকাবাসী তাকে জানিয়েছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ আগুনে বাঘমারা বাজারে ১৩টি দোকান ও ২টি বসতবাড়ি পুড়ে গিয়েছিল।
১৮ দিন আগে
সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরায় তাছলিমা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধুকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তারই স্বামীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্বামী সাদ্দাম হোসেন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহতের বড় মেয়ে সাদিয়া সুলতানা (১২) বলেন, আমার বাবা নেশা করে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করতেন। ঘটনার দিন আমার দাদি, আমি ও আমার ছোট ভাই নুর হোসেন (৯) পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। এর মধ্যে মায়ের গোঙ্গানির শব্দ শুনে আমার দাদি আমাদের ডেকে দ্রুত মায়ের ঘরে যান। সেখানে গিয়ে দেখি মায়ের গলা কাটা মরদেহ। ঘরের ভেতর তখন রক্ত আর রক্ত। আমাদের প্রতিবেশীরা দ্রুত এসে আমার মাকে নিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক বলেন, আমার মা মারা গেছেন।
নিহত গৃহবধূর বাবা নুরুজ্জামান জানান, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ের ওপর শারিরীক নির্যাতন করত আমার জামাই। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পারলে আমার মেয়ের ওপর বেশি নির্যাতন চলত। তবে এভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করবে, আমি ভাবতে পারিনি। আমি এই পাষণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সেটি ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১৮ দিন আগে
নওগাঁয় ধান কাটার ভরা মৌসুমেও বাড়ল চালের দাম
নওগাঁ জেলা ধান-চাল উৎপাদনে বরাবরই সমৃদ্ধ। বর্তমানে এ জেলায় চলছে বোরো ধান কাটার মৌসুম। এর মধ্যে বেশির ভাগ ধানই খেত থেকে কৃষকের ঘরে উঠে গেছে। হাট-বাজারে রয়েছে পর্যাপ্ত ধানের সরবরাহ। বোরোর এই ভরা মৌসুমে স্বাভাবিকভাবেই চালের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় কথা। অথচ, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে ২ থেকে ৩ টাকা করে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে নতুন চালের সরবরাহ কম। এছাড়া হাট-বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে চালের দাম।
এদিকে ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধির পিছনে সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ী করছেন ভোক্তারা। তাদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণে চালকলগুলোতে মজুতবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের প্রয়োজন।
শহরের পৌর ক্ষুদ্র খুচরা চাল বাজারে বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৪৯ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এই চাল বিক্রি হয়েছে ৪৫-৪৬ টাকায়। প্রতি কেজি পুরাতন কাটারি (শটেজ) চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৩-৭৫ টাকায়, এক সপ্তাহ আগে যা বিক্রি হয়েছে ৭০-৭২ টাকা। প্রতি কেজি পুরাতন কাটারি (হাতছাটি) চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এই চাল বিক্রি হয়েছে ৬৮ টাকায়। তবে জিরাশাইল আগের দামে ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইকবাল হোসেন নামে এক ভোক্তা বলেন, ‘একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে যে বেতন পাই, সেটা বাজার করতেই শেষ হয়ে যায়। গত সপ্তাহ থেকে চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আমাদের আয় কম, কিন্তু খরচ বেশি হচ্ছে।’
মানিক হোসেন নামে আরেকজন ভোক্তা বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধি করার কোনো যুক্তিই হয় না। ধান-চাল মজুত করে রেখে কেউ দাম বাড়াচ্ছে কি না, সে বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখতে হবে।’
পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজারের লক্ষ্মী চাল ভাণ্ডারের সত্ত্বাধিকারী উত্তম সরকার বলেন, ‘সরু জাতের কাটারি ও মোটা জাতের স্বর্ণা-৫ চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। পাইকারিতে বেশি দাম দিয়ে আমাদের কিনতে হচ্ছে তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া বাজারে নতুন চালের সরবরাহও কম।’
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু ফসল নষ্ট হয়েছে এবং শুরুতে ধানের দাম কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। এখন বাজারে ধানের দাম বেশি। এছাড়া সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এজন্য পাইকারিতে চালের দাম প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।'
১৮ দিন আগে
পটুয়াখালীতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে কলেজছাত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরের ভেতরে ঢুকে একাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার সদস্যদের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মারা যান। জীবিকার তাগিদে শুক্রবার রাতে তার মা ও ভাই ওই মেয়েটিকে ঘরে রেখে সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে রেণু পোনা শিকারের উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী নদীতে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দুই যুবক সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করেন এবং ওই শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর চিৎকারে পাশের ঘর থেকে চাচার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৯ দিন আগে
চান্দিনায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে এমপি শাওনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি
চাঁদপুর সফরে যাওয়ার পথে কুমিল্লার চান্দিনায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তার অনুসারীরা।
শনিবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা অংশ অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর।
এদিন সকাল থেকেই চান্দিনার ইলিয়টগঞ্জ, কুটুম্বপুর, পালকি সিনেমা হল এলাকা, চান্দিনা বাসস্টেশন ও উপজেলা গেটসংলগ্ন মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের দুই পাশে হাজারো নেতা-কর্মী অবস্থান নেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানার ও ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আতিকুল আলম শাওনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চান্দিনা উপজেলা গেট এলাকায় জনসমাগমের কারণে প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী গাড়ির গতি কমে যায়। এ সময় তারেক রহমান গাড়ির দরজা খুলে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওনের মাথায় হাত রাখেন। ঘটনাটির ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও আমরা বিএনপির আদর্শ থেকে সরে যাইনি। আজ প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থামিয়ে দরজা খুলে আমাদের নেতাকে কাছে টেনে নিয়ে দোয়া করেছেন। এটিই আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব শিগগিরই নির্বাচনের সময় নেওয়া সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আতিকুল আলমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওনকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
১৯ দিন আগে
মাদক কারবারে জড়িয়ে চাকরি খুইয়েও থামেননি পুলিশ কর্মকর্তা
গাইবান্ধায় পুলিশের চাকরিচ্যুত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেন ও তার গাড়ি চালককে আবারও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করেছে ডিবি পুলিশ। অপরদিকে, মিন্টু মিয়া নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ৬৬৫ ইয়াবাসহ আটক করেছেন গাইবান্ধা র্যাব-৩-এর সদস্যরা।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে বোয়ালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ফলিয়ার বাড়ি থেকে মনির হোসেনকে ৯২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
গাইবান্ধা থানা পুলিশ জানায়, গাইবান্ধার বাাসিন্দা মনির হোসেন পুলিশের এএসআই হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরিকালীন তিনি কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট, ঢাকা ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ ও ২০২২ সালে মাদকের বড় চালান বহন করার সময় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে তিনি দুই দফায় গ্রেপ্তার হন। এ ব্যাপারে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও হয়। বিভাগীয় তদন্তের পর পুলিশের চাকরি থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পুলিশ আরও জানায়, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি গাইবান্ধায় বাড়িতে চলে আসেন। এরপর পুলিশের পরিচয় দিয়ে তিনি আবারও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। গোয়েন্দা পুলিশ খবর পেয়ে ওরিন কাউন্টারের সামনে থেকে ইয়াবাসহ তার গাড়ি চালককে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গতকাল (শুক্রবার) রাতে ডিবি পুলিশ মনির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯২০ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।
অপরদিকে, গাইবান্ধা র্যাব-৩-এর সদস্যরা পলাশবাড়িতে মোটরসাইকেলআরোহী মিন্টু মিয়াকে ৬৬৫ ইয়াবাসহ আটক করেন। তার বাড়ি পলাশবাড়ি উপজেলার রাইতি গ্রামে।
এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার জানান, আটক হওয়া মনির হোসেন পুলিশের এএসআই ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চাকরির সুযোগ নিয়ে তিনি ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিলেন। এ কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। আবারও তিনি একই ঘটনায় আটক হয়েছেন।
১৯ দিন আগে
ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার: প্রতিমন্ত্রী অমিত
যশোরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, ভবদহ অঞ্চলের মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
শনিবার (১৬ মে) সকালে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালার বিষয়বস্তু ছিল, যশোর জেলার ভবদহ এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিবসা ও পশুর নদীর অববাহিকায় পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন।
প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভবদহ সমস্যা সমাধানে অর্থ বরাদ্দ হলেও তা লুটপাটের শিকার হয়েছে। সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি, যার ফলে জনগণের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থার সংকট দূর করতে চাই।
প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে ভবদহের সমস্যা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন।
ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর জোয়ারাধীন নদী ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবদহপাড়ের মানুষকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছিল এবং ভুক্তভোগীরা ২০১৩ সাল পর্যন্ত তার সুফল ভোগ করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী নির্মোহভাবে ভবদহের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ প্রদান করেন, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যথাযথ ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অতীতে টিআরএম কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে ভবদহ রেগুলেটরে ২০টি পাম্প স্থাপন করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়।
বর্তমান সমীক্ষার আওতায় যশোর জেলার মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকায় নদী, খাল ও বিলের জরিপ, গাণিতিক মডেলিং, কৃষি, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
সমীক্ষায় ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নদী খনন, অতিরিক্ত পাম্প স্থাপন, পাইলট চ্যানেল খনন, টিআরএম কার্যক্রম পুনরায় চালু, নদীর প্লাবনভূমি দখলমুক্ত করা এবং ভবদহ রেগুলেটরকে সেতু দ্বারা প্রতিস্থাপন করে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়াও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের জন্য নতুন সংযোগ খাল নির্মাণ, রেগুলেটর মেরামত ও নতুন অবকাঠামো স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, পানি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সমীক্ষার সুপারিশসমূহ আরও পরিমার্জন করা হবে বলে জানানো হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আজিম আহমেদ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রুহুল আমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাছরিন আক্তার খান।
১৯ দিন আগে