সারাদেশ
মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে আহত সেই হুজাইফা মারা গেছে
সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত হুজাইফা আফনান (১৩) ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ২৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মেনেছে মেয়েটি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌন ১০টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
হুজাইফার চাচা শওকত আলী বলেন, সকালে চিকিৎসকরা হুজাইফাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। আপনারা সবাই আমার ভাতিজির জন্য দোয়া করবেন।
গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মিয়ানমারের ওপার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত হয় স্থানীয় জসিম উদ্দিনের মেয়ে হুজাইফা আফনান। তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তার দুই দিন পর ১৩ জানুয়ারি বিকেলে মাথায় বিদ্ধ গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হুজাইফাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
চমেক হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, হুজাইফার অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকি থাকায় মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে মাঝেমধ্যেই সশস্ত্র সংঘর্ষ বাঁধে। বাংলাদেশ সীমান্তে এই সংঘর্ষ হলে ছুটে আসা গুলিতে মাঝেমধ্যেই টেকনাফ অঞ্চলে বাংলাদেশিদের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরের দিন একই এলাকায় সীমান্তে স্থল মাইন বিষ্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর গত ২৭ জানুয়ারি কনাফ উপজেলার নাফ নদের সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে সোহেল (১৫) ও ওবায়দুল্লাহ (১৪) নামে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা আতঙ্কে দিন পার করে আসছেন।
সীমান্তে চলমান এই ধরনের সহিংসতা স্থানীয়দের জীবন ও নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টির দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
২৭ দিন আগে
কারাবন্দি সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদরের রুহিয়া সেন পাড়ার গ্রামের বাড়ি থেকে আটক হন রমেশ চন্দ্র।
দিনাজপুর কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার জানান, গত ২০২৪ সালে ১৭ আগস্ট ঠাকুরগাঁও কারাগার থেকে রমেশ সেনকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তিনটি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন তিনি। আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। আজ (শনিবার) সকাল ৯টার দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, রমেশের পরিবারকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
২৮ দিন আগে
শাহবাগে পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চের ফের সংঘর্ষ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে অবরোধে নামা নেতা-কর্মীদের কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের বাধা উপেক্ষা অনেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এতে কয়েকজন আহত হন।
এরপর রাত ৮টার দিকে শাহবাগ মোড়ের আশপাশ থেকে অবরোধকারীরা ফের জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।
কাঁদুনে গ্যাসের কারণে এ দফাতেও ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু তারা আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন।
এর আগে, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আজ (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যমুনা অভিমুখে রওনা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তার ফেইসবুক পেইজ থেকে এক পোস্টে লেখা হয়। পরে তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। তাদের অবরোধে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হন।’
ঢামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, এই ঘটনায় জাবেরসহ অন্তত ৭৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে আহতদের কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, হাদির স্ত্রী এবং বেশ কিছু নেতা-কর্মী অংশ নেন।
২৮ দিন আগে
রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ১৪ জন
রংপুরের পীরগঞ্জে ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পীরগঞ্জ পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গাজীপুরের রাহিমা আক্তার মুন্নি (৩৫), রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের আব্দুল রাজ্জাক হওলাদার (৫৫) ও তার ছেলে আরাফাত সানী সানভী (২২)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানান, একটি ট্রাক সামনে থাকা আরেটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। একই সময় দ্রুতগতিতে পেছন দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী হানিফ পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের যাত্রী রাহিমা আক্তার মুন্নি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুরের হারাগাছের রাজ্জাক হওলাদারকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং তার ছেলে সানভীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। খবর পেয়ে বড়দরগাহ হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৮ দিন আগে
ইনকিলাব মঞ্চের শাহবাগ অবরোধ
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা।
তাদের অবরোধে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে জাতীয় জাদুঘরের পাশের একটা অংশ দিয়ে যান চলাচল করতে পারছে।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে ১১-দলীয় জোটের ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এবং ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি বিক্ষোভে যোগ দেন।
এর আগে, আজ (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এই ঘটনায় সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন— ফাতিমা তাসনিম ঝুমা, মনির, ফয়সাল, জয়, জুলকার, মোশাররফ, নিলয়, অনিক, ওমর, রাহাত, রাসেল, আহাদ, মাহিন, আজাদ, শামীম, সোহেল, শাওন ও শামীমসহ অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হন।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে কেউ গুলিবিদ্ধ নয়।’
গতকাল (বৃহস্পতিবার) শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, হাদির স্ত্রী এবং বেশ কিছু নেতা-কর্মী অংশ নেন।
২৮ দিন আগে
ইনকিলাব মঞ্চ-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৪০
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সংগঠনটির আন্দোলনরত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছে— ফাতিমা তাসনিম ঝুমা, মনির, ফয়সাল, জয়, জুলকার, মোশাররফ, নিলয়, অনিক, ওমর, রাহাত, রাসেল, আহাদ, মাহিন, আজাদ, শামীম, সোহেল, শাওন ও শামীমসহ অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হন।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে কেউ গুলিবিদ্ধ নয়।’
গতকাল (বৃহস্পতিবার) শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, হাদির স্ত্রী এবং বেশ কিছু নেতা-কর্মী অংশ নেন।
হাদি হত্যার পর থেকে ইনকিলাব মঞ্চ ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে এবং এর বিচার দাবি করে আসছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
২৮ দিন আগে
ভোলায় নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৮
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে বিএনপি সমর্থক হিসেবে রয়েছেন মো. গণি মাঝি, রাসেল হাওলাদার ও গণি মাঝির মা। অপরদিকে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে আহত হয়েছেন মো. ইদ্রিস, মো. রুবেল, তারেক, মাওলানা শরীফ ও মো. সাদ্দাম।
জামায়াতের উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষ। এতে জামায়াতের প্রায় ৫ জন আহত হন।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, ভোট চাওয়ার নামে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিএনপির তিন থেকে চারজন নেতা-কর্মী আহত হন।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ফরাজি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা একটি বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে পরবর্তীতে জামায়াতের নেতারাও সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং এতে বিএনপির ৩ জন আহত হন।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৮ দিন আগে
পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলন: পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ৬
সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে যমুনা অভিমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ৬ জন সরকারি কর্মচারী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহতরা হলেন— সরকারি কর্মচারী আব্দুল হান্নান (৪৫), জয় দাস (৩৫), আব্দুল আউয়াল (৪০), তন্ময় (৩২), জাকারিয়া (৬০) ও মো. সিকান্দার (৪০)।
আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সহকর্মী মো. কালাম হাওলাদার ও মো. মাসুদ জানান, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে একটি মিছিল কর্মসূচি ছিল। মিছিলটি শাহবাগ অতিক্রম করার সময় পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
তারা আরও জানান, পুলিশের ওই অভিযানে তাদের ৬ জন সহকর্মী আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, দুপুরের দিকে শাহবাগ থেকে আহত অবস্থায় ৬ জন সরকারি কর্মচারীকে হাসপাতালে জরুরিভাবে আনা হয়েছিল। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসক।
২৮ দিন আগে
গাজীপুরে ভয়াবহ আগুনে ৩৬ বসতঘর ভস্মীভূত
গাজীপুরের শ্রীপুরে অগ্নিকাণ্ডে একটি কলোনির ৩৬টি বসতঘর পুড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর মুহূর্তেই তা আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনে নগদ টাকা, টেলিভিশন, ফ্রিজ, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভাড়াটিয়াদের সব মালামাল পুড়ে যায়। খবর পেয়ে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের পোশাক শ্রমিক। ঘটনার সময় তারা কর্মস্থলে থাকায় ঘর থেকে কোনো কিছুই বের করতে পারেননি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. নুরুল করিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
২৯ দিন আগে
রাজধানীতে বাসায় ঝুলছিল গৃহবধূর মরদেহ
রাজধানীর ডেমরার একটি ভাড়া বাসা থেকে মারিয়া আক্তার শ্রাবণী (২৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত মারিয়া আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সৈয়দ টোলা গ্রামের মৃত সুবেদ মিয়ার মেয়ে ছিলেন। বর্তমানে পরিবারের সাথে ডেমরার ৪৩৬/১০ নম্বর বাঁশেরপুল এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
নিহতের খালা জাহানারা বেগম বলেন, মারিয়া আমার একমাত্র ভাগ্নি ছিলেন। আড়াই বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু স্বামী কোনো কাজকর্ম করত না। তাই গত চার মাস আগে স্বামীর সঙ্গে রাগ করে সে বাপের বাড়ি চলে যায়। গতকাল স্বামী ইমনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটি হয় তার। এরপর কাউকে কোনো কিছু না বলে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখে। তারপর বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে দেখি, সে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। পরে আমরা বিষয়টি ডেমরা থানা পুলিশকে জানাই।
নিহত ওই নারীর দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে বলে জানান তিনি।
ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, গতরাতে আমিনবাগের আনোয়ার নামের এক ব্যক্তির বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি বাসার শয়নকক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবুও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
২৯ দিন আগে