সারাদেশ
চট্টগ্রাম বন্দরে নৌ-উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়া চট্টগ্রাম বন্দরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসে তিনি বন্দর ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের সামনে পড়েন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর পুলিশ ও বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের পাহারায় উপদেষ্টার গাড়িবহর বন্দর ভবনে প্রবেশ করে।
টানা ৫ দিনের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনালসহ সব জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ। বহিঃনোঙরে ও জেটিতে পণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে। ইয়ার্ড থেকে পণ্য খালাস ও বন্দরে পণ্যবাহী যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে আন্দোলনকারীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করতে নৌপরিবহন উপদেষ্টা আজ সকালে ঢাকা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সরাসরি বন্দরে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নৌ-উপদেষ্টার গাড়িবহর কাস্টমস মোড়ে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা তার গাড়ি আটকে দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সহযোগিতায় গাড়িবহর বন্দর ভবনে প্রবেশ করে। গাড়ি থেকে নেমে বন্দর ভবনের ভেতরে ঢোকার সময়ও শ্রমিক-কর্মচারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে উপদেষ্টাকে দ্রুত লিফটে করে উপরের তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বন্দরের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বন্দর ভবনে প্রবেশের পর নৌপরিবহন উপদেষ্টা চলমান কর্মবিরতি ও অচলাবস্থা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।
উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ এবং আন্দোলনকারীদের হয়রানি ও বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল (বুধবার) থেকে লাগাতার কর্মবিরতি চলছে। এর আগে, টানা তিন দিনের কর্মবিরতির পর আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৫ জনকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলির আদেশ দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এর প্রতিবাদে প্রথমে ২৪ ঘণ্টা এবং পরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
২৯ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে বাসচাপায় মোটরসাইকেলআরোহী নিহত
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়কে যাত্রীবাহী বাসচাপায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী গুরুতর আহত হন।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাইল্যাছড়ি স্কুলসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা খাগড়াছড়িগামী শান্তি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ধাক্কা খায়। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের চালক কুবেন জয় ত্রিপুরা (২৮) নিহত হন। সেই সঙ্গে মোটরসাইকেলের অপর আরোহী হলেন ত্রিপুরা (১৯) গুরুতর আহত হন।
নিহত কুবেন জয় গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের পঙ্খীমুড়া এলাকার বাসিন্দা কৃপাচার্য ত্রিপুরার ছেলে। হলেন ত্রিপুরা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া এলাকার মনোহরি ত্রিপুরার ছেলে।
আহত যুবককে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নিহতের মরদেহ মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, দুর্ঘটনায় আহত একজন মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাসটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘাতক বাসের চালক ও সহকারী পলাতক। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
২৯ দিন আগে
লক্ষ্মীপুরে দেশি-বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২
লক্ষ্মীপুরে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্রসহ ২ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকার আলাইয়াপুর ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— চন্দ্রগঞ্জ থানার দেওপাড়া গ্রামের মো. ইমরান (২৩) ও বেগমগঞ্জ উপজেলার আলেয়াপুর ইউনিয়ন ভগবতী গ্রামের মো. সজিব (২৪)। তারা দুজনই হত্যা, অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১১টি পিস্তল অ্যামিউনেশন, ২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৪টি খালি কার্টিস, ৪টি এলজি, ২৬টি শট গানের গুলি, ৫৩টি আতশবাজি, ২টি ককটেল, ১টি দেশি অস্ত্র, ১টি বিপি জব্দ করেছে যৌথবাহিনী।
চন্দ্রগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার ক্যাপ্টেন আরমান হাবিব অপু বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছিলেন তারা।
২৯ দিন আগে
ফেনীতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রার্থীর অনশন
ফেনী-২ আসনে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রার্থী তারেকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অনশনে বসেন। এতে কয়েকজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের গাড়ি ফটকে আটকে গেলে তারা বিকল্প সড়কে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
অনশন চলাকালে তারেকুল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ফেনী-২ আসনে নির্বাচনি আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, অথচ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সদর এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন এবং নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন, কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বরং নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে বিলবোর্ড ও রঙিন প্রচারণায় একতরফাভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তারেকুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৮ ঘণ্টার মধ্যে জসিম উদ্দিনকে প্রত্যাহার না করা হলে তিনি আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
২৯ দিন আগে
সিলেটে চার গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১০
সিলেট নগরীর একটি পথসভায় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ছোড়া ঢিলে পুলিশসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরীর তেমুখি পয়েন্টে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) রাতে তেমুখি পয়েন্টে একটি পথসভায় কুমারগাঁও ও সাহেবের গাঁও গ্রামের দুই দল কিশোরের মধ্যে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। তখন উপস্থিত লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে ঘণ্টাখানেক পর উভয় পক্ষ আবারও এ বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে কিশোরদের পক্ষ নিয়ে কুমারগাঁও এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নাজিরের গাঁওয়ের লোকজন একাত্মতা প্রকাশ করলে সাহেবের গাঁওয়ের সঙ্গে চারুগাঁও এলাকার কয়েকজন যোগ দেন। এতে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ আরও জানায়, সংঘর্ষের কারণে সিলেট–সুনামগঞ্জ সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মধ্যরাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ সময় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
৩০ দিন আগে
রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালাল কারা
নওগাঁয় জুনায়েদ সাকী (৩৭) নামের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ সদর হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মরদেহ রেখে তারা সরে পড়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলিম্যান বাপ্পি জানান, ভোরের দিকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে দুজন লোক মরদেহটি নিয়ে আসে। এরপর জরুরি বিভাগের সামনে গাড়ি থেকে মরদেহটি ট্রলির ওপর ফেলে তারা চলে যায়। পরে তাকে ট্রলিতে উঠিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ওই দুই লোক পালিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে তাদের অনেক ডাকাডাকি করেছি, কিন্তু তারা না শুনে দ্রুতই সটকে পড়ে।
নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নেমে জেলার মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশে এসেছিলেন জুনায়েদ। ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হলুদ রঙয়ের একটি পিকআপ ভ্যান ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর সেখানকার কর্মচারীরা তাকে জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জুনায়েদের পরিচয় নিশ্চিত করে নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কমিশনার রাশেদ আহম্মেদ জানান, জুনায়েদের বাড়ি পিরোজপুর জেলার বলিহারী গ্রামে। তার বাবার নাম মনজুরুল হক। তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা কাস্টমসে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী নওগাঁর একটি কলেজের শিক্ষিকা। আজ (বুধবার) সকালে ট্রেনে করে ঢাকা থেকে সান্তাহারে নামেন। এরপর আর কিছু জানা যায়নি। পরে হাসপাতালে থেকে তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
২৫০ শয্যা নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেহেনুমা মুনমুন বলেন, জুনায়েদকে মৃত অবস্থায় পাই আমরা। প্রাথমিকভাবে তার হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহটি আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছি। পরে থানা পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের স্ত্রী থানায় এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। কারা তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে পালিয়ে গেছে, তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
৩০ দিন আগে
মাটি কাটতে গিয়ে পরিত্যক্ত বোমায় কোদালের আঘাত, বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত
যশোরের শার্শা উপজেলায় মাটি কাটার সময় পরিত্যক্ত বোমা বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের বালুন্ডা দক্ষিণ পাড়ার গনি ঢালির ভিটে নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— বালুন্ডা গ্রামের আব্দুল বারীকের ছেলে জাকির হোসেন (৪৮) এবং একই গ্রামের মৃত নুজ্জাকের ছেলে আব্দুল কাদের (৪৫)। তারা পেশায় মাটি কাটার শ্রমিক।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুরিশ জানায়, সকালে জাকির ও কাদের ওই ভিটায় মাটি কাটছিলেন। একপর্যায়ে মাটির আনুমানিক দেড় হাত গভীরে কোদাল দিয়ে আঘাত করলে সেখানে পুঁতে রাখা একটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জাকিরের শরীরের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তারা দুজনেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটির নিচে বোমাগুলো অনেক আগে থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। তবে এটি পরিকল্পিত কোনো নাশকতার অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩০ দিন আগে
ফেরি থেকে পদ্মায় লাফ দিয়ে যুবক নিখোঁজ, ২৪ ঘণ্টায়ও হয়নি উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামক একটি বড় ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। ডুবুরি দলের ২৪ ঘণ্টার চেষ্টায়ও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে অপেক্ষমান ওই ফেরি থেকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তারপর থেকে তাকে উদ্ধারে চেষ্টা চালায় ডুবুরি দল। এরপর আজ (বুধবার) সকাল ১০টা থেকে পুনরায় অভিযান শুরু করে দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ ওই ব্যক্তির নাম রেজাউল শিকদার (৩৫)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যানবাহনের জন্য অপেক্ষমান ওই ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নদীতে লাফ দেন ওই যুবক। তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল শেখ এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৩ নম্বর ঘাটের ফেরিতে জুয়াড়িরা জুয়া খেলার টাকা নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে রেজাউল ফেরির পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দেন। সঙ্গে সঙ্গে টাকা খোয়ানো ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। পরে ঘাটে থাকা লোকজন ওই যাত্রীকে টেনে তুলতে সক্ষম হলেও রেজাউলকে টেনে তোলার আগে তিনি নদীতে তলিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
নিখোঁজ রেজাউলের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদর বলেন, জমি নিয়ে জুয়াড়ি চক্রের হোতাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি। আমার ভাইকে খুঁজে পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।
ফেরির দ্বিতীয় মাস্টার হাসান আলী বলেন, ফেরিতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরিটি যানবাহন লোডের অপেক্ষায় ছিল। পরে স্থানীয়দের থেকে তিনি এমন ঘটনা শুনেছেন।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, ফেরিতে জুয়াড়িরা কৌশলে এক যাত্রীর টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই যাত্রীর সঙ্গে জুয়াড়িদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে রেজাউল নদীতে লাফ দেন। তাকে ধরতে গিয়ে ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। এ সময় যাত্রীকে টেনে তুলতে পারলেও রেজাউলের কোনো সন্ধান পাননি। যাত্রীটি ওই ফেরিতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া চলে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি। পরে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জ ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজ রেজাউলের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দে ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।
ডুবুরি দলের প্রধান মনিকগঞ্জের আরিচা স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার জয়নাল আবেদিন জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ছয় সদস্যের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পায়নি। আমরা আজ (বুধবার) সকাল ১০টা থেকে পুনরায় তার সন্ধানে ছয় সদস্যের দল অভিযান শুরু করেছি।
৩০ দিন আগে
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে স্কুলছাত্র নিহত
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গোষ্ঠীগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলছিল। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। এর জেরে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ৮ জন গুলিবিদ্ধ হন এবং এলাকায় বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন এরশাদ মিয়া। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) সকালে এরশাদ মিয়ার পক্ষের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না গুলি ছোড়েন। এতে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নিহতের মা শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। তখন হঠাৎ গুলি এসে লাগে। আমরা কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নেই। যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিম নামে এক কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং গুলিটি শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৩০ দিন আগে
খুলনায় ট্রিপল মার্ডারের মূল আসামি গ্রেপ্তার
খুলনার লবণচরা থানার আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের অন্যতম আসামি বিসমিল্লাহ ওরফে বিসমিল্লাহ শেখকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে টুটপাড়া দারোগার বস্তি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা থানার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানা ছিল।
বিসমিল্লাহ টুটপাড়া ২ নম্বর ক্রস রোড কবি নজরুল সড়কের বাসিন্দা।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমরা জানতে পারি আসামি বিসমিল্লাহ টুটপাড়া দারোগার বস্তিতে অবস্থান করছেন। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিসমিল্লাহ দরবেশ মোল্লা গলির আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের আসামি ছিলেন বলেও জানান ওসি।
ট্রিপল মার্ডারের তদন্ত কর্মকর্তা ও লবণচার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. ইউসুফ আলী জানান, তিন খুনের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহমেদসহ আরও কয়েকজন আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিসমিল্লাহর নাম বলেছেন। তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হবে। এর আগে তিনি খুলনা থানায় জিজ্ঞাসাবাদে ট্রিপল মার্ডারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩১ দিন আগে