সারাদেশ
নারায়ণগঞ্জের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ঘাটে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আমির (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ জনে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত বুধবার (১৩ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় ১২ জনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার শংকর নামের একজনের মৃত্যু হয়েছিল। আজ (শনিবার) সকাল ১০টার দিকে আইসিইউতে আমির নামের চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। তার শরীরে ৮০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
তিনি জানান, দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় ৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখনও ৪ জন জাতীয় বার্নে ভর্তি রয়েছেন বলে জানা তিনি।
১৯ দিন আগে
শরীয়তপুরে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর, চিকিৎসকসহ আহত ৫
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক, আনসার সদস্যসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) রাত সোয়া ১টার দিকে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ হামলা ও ভাঙচুর চালান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদরের উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে ব্যথা নিয়ে গতকাল (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। এরপর রাত সোয়া ১টার দিকে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
হামলায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলাম, কর্তব্যরত আনসার সদস্য সোহেল সরদার, কামরুল, আজিজুল হক ও কাউসার গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই আল আমিন নামে একজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
হামলায় গুরুতর আহত চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা আকস্মিকভাবে জরুরি বিভাগে হামলা চালান। এতে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, হাসপাতালে হামলা ও চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আহত চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারীদের পরিচয় যাই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে, জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
১৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাই নিহত
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের সলেডি স্প্যার বাঁধ এলাকায় তিস্তা নদীতে ডুবে তারা নিহত হন।
নিহতরা হলেন— লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের খলাইঘাট নিম্ন মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলামের ছেলে কলেজছাত্র সিফাত আহমেদ (১৮) ও নবম শ্রেণির ছাত্র স্বচ্ছ আহমেদ (১৪)। তারা দুই ভাই লালমনিরহাট ক্যান্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে অন্যান্য দিনের মতো আজ (শনিবার) সকালে গ্রামের সহপাঠীদের সঙ্গে খেলতে যান দুই ভাই সিফাত ও স্বচ্ছ। খেলা শেষে স্বচ্ছ তিস্তা নদীতে গোসলে নেমে গভীর পানিতে ডুবে যায়। ছোট ভাইকে বাঁচাতে নদীতে লাফ দিলে বড় ভাই সিফাতও ডুবে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ডাব্লু অধিকারী তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজনের বয়স ৫ মাস ও আরেকজনের ৮ মাস।
শুক্রবার (১৫ মে) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তারা মৃত্যুবরণ করেছে। এ নিয়ে সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ (শনিবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৫৪ রোগী। বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৩৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তবে এই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩০ শিশুর।
১৯ দিন আগে
আম খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সিলেটে বন্ধুর হাতে প্রাণ গেল কিশোরের
সিলেটের বিয়ানীবাজারে এক কিশোরের ছুরিরকাঘাতে আরেক কিশোর খুন হয়েছে। তারা দুজন একে অপরের বন্ধু ছিল।
শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়াবহর গ্রামের থানাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক কিশোর পলাতক রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, আম খাওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জের ধরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কিশোর তামিম আহমদ (১৪) তার বন্ধু সিয়াম আহমদকে (১৫) ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই সিয়াম মারা যায়। নিহতের পিতার নাম কয়েছ আহমদ।
বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল হক খান জানান, আঘাতটি জোরালো এবং একদম হৃদযন্ত্রের কাছাকাছি গিয়ে লাগে। ফলে ঘটনাস্থলেই ছেলেটির মৃত্যু হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে খোঁজা হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
মাগুরায় নকল শিশুখাদ্য বিক্রি করায় দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা
মাগুরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে অননুমোদিত শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে শহরের এক প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে অভিযান চালিয়ে শহরের জামরুলতলা এলাকার সুভাষ স্টোরকে এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সজল আহমেদ এবং অভিযানে সহায়তা করে মাগুরা জেলা পুলিশ।
সজল আহম্মদ জানান, অভিযানকালে ওই দোকানে বিপুল পরিমাণ নকল নমুনা টাকা, ভেজাল শিশুখাদ্য, মূল্য তালিকার অনুপস্থিতি, শিশুদের আচার, চকলেটসহ বিভিন্ন নিম্নমানের ও নকল ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের কারণে সুভাষ স্টোরের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
১৯ দিন আগে
মৃত্যুর সঙ্গে পাঁচ দিন লড়াই করে হার মানলেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ মনিরা
রাজবাড়ীতে ছুটি শেষে কার্যালয়ের পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হওয়া অফিস সহায়ক সেই মনিরা খাতুন (২৮) মারা গেছেন।
টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার (১৫ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মনিরা খাতুন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের কোলারহাট গ্রামের মেহেদী হাসানের স্ত্রী এবং একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। তার স্বামী মেহেদী হাসানও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মেহেদী হাসান জানান, মনিরা খাতুনের শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই কারণে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাদের সংসারে মাত্র ১০ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মা ছাড়া এই শিশু নিয়ে তিনি অনেক অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
জানা যায়, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক-সংলগ্ন রাজবাড়ী শহরের দক্ষিণ ভবানীপুর পশু হাসপাতাল এলাকায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রাজবাড়ী জেলা কার্যালয় অবস্থিত। গত রবিবার (১০ মে) বিকেলে ছুটি শেষে কার্যালয়ে উত্তোলনকৃত জাতীয় পতাকা নামাতে যান মনিরা। কার্যালয়ে একপাশে স্থাপিত পাইপ থেকে জাতীয় পতাকা নামাতে গেলে অসাবধানতাবশত পতাকাবাহী ইস্পাতের পাইপটি বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের হাইভোল্টেজ তারের ওপর পড়ে। এই অবস্থায় পাইপটি বিদ্যুতায়িত হলে মনিরার পরনের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। সে সময় অফিসে কেউ না থাকায় তাকে উদ্ধার করতে দেরি হয় এবং আগুন ছড়িয়ে শরীরে বেশিরভাগ অংশ দগ্ধ হয়। পথচারীরা টের পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মনিরাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, মনিরা খাতুনের শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঝলসে যায়। তাকে সদর হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে পরিবারের লোকজন ফরিদপুর না নিয়ে ওই দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
রাজবাড়ী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে মনিরা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দিন জরুরি মিটিংয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় বিকেল সোয়া ৪টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত এসে তিনি শোনেন মনিরাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।
গতকাল (শুক্রবার) রাতে গ্রামের বাড়িতে মনিরার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বামী মেহেদী হাসান। তার অকাল মৃত্যুতে কর্মস্থলসহ গোটা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯ দিন আগে
স্বামীকে খুন করে মরদেহ টুকরো করে লুকানোর চেষ্টা, স্ত্রী আটক
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আসমা বেগম (আসমা আক্তার) নামে এক নারীকে আটক করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ।
ঘটনাটি গত বুধবারের (১৩ মে)। ওই দিন দিবাগত রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে চন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে আজ (শুক্রবার) বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার স্বামী জিয়া সরদারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আসমা বেগমের তীব্র ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি লোহার রড দিয়ে স্বামীকে একাধিক আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা বেগম মরদেহ চাকু দিয়ে টুকরো টুকরো করেন। মরদেহের দুই হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। দেহের অন্যান্য অংশ শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে রেখে আসা হয়। এমনকি মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখারও চেষ্টা করা হয়।
বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং অভিযুক্ত নারীর অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা আক্তারকে আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১৯ দিন আগে
ফরিদপুরে বাসচাপায় ঝরল বাবা-ছেলের প্রাণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের চাকা মেরামতের সময় অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় ট্রাকটির চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। নিহত দুইজন সম্পর্কে বাবা-ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোল প্লাজার সামনে বগাইল ও বামনকান্দা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর তাদের মরদেহ সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
নিহতরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৫০) ও তার ছেলে ইয়াকুব আলী (২৬)। ইয়াকুব ট্রাকটির চালক ছিলেন এবং তার বাবা ইউসুফ আলী সহকারী হিসেবে সঙ্গে কাজ করতেন।
এ ব্যাপারে শিবচর হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে ভাঙ্গাগামী একটি মালবাহী ট্রাক ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বগাইল টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির পেছনের একটি চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে সড়কের ওপর একপাশে ট্রাকটি থামিয়ে চালক ইয়াকুব ও তার বাবা ইউসুফ আলী মিলে চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গাগামী দ্রুতগতির একটি বাস পেছন থেকে এসে তাদের দুজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের ট্রাকটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘাতক বাস ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে ছেলে ট্রাকের চালক এবং বাবা সহকারী ছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
১৯ দিন আগে
সিলেটে নিখোঁজ শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্ত বণিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান।
শান্ত বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তেল ও খনিজ প্রকৌশল (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ছিল ঠাকুরগাঁও জেলায়।
পুলিশ জানায়, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে ১০/১১ জনের একটি গ্রুপ বিছনাকান্দি এলাকায় ঘুরতে যান। সেখানে স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটতে নামেন তারা। এ সময় বৃষ্টির কারণে উজান থেকে হঠাৎ ঢল নামলে পানির স্রোত বেড়ে যায়। প্রবল স্রোতের তোড়ে একপর্যায়ে শান্ত বণিক পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। এ সময় তার বন্ধুদের চিৎকার ও চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে নৌকা নিয়ে তাকে উদ্ধারে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা টুরিস্ট পুলিশ ও গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
স্থানীয় ডুবুরিরা দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়েও শান্তকে খুঁজে না পেয়ে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গতকাল রাত ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিছানাকান্দি টুরিস্ট পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শান্ত বণিকের মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
১৯ দিন আগে