সারাদেশ
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সিলেটে উৎসবের আমেজ
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে আজ বুধবার সিলেট যাচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে পুরো সিলেট বিভাগজুড়ে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে পুরো বিভাগ উৎসবমুখর। থানা, জেলা ও বিভাগীয় সদরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বের হচ্ছে প্রচার মিছিল। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও জোটভুক্ত দলগুলো প্রচার মিছিল করছে। শুধু সিলেট নয়, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছয় স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।
দলীয় সূত্র, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিলেটের সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলেও জনসভায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমান আজ (বুধবার) রাতে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন। তার সঙ্গে আসবেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যয়ের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও। আগামীকাল সকাল ১০টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপির জনসভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দলটির নির্বাচনি প্রচারণা।
৪৪ দিন আগে
যশোরে জমির বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত খুনি
যশোরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের একজনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫) নামের অন্যজন সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আবুল বাশার।
নিহত রফিকুল যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে এবং পলাশ একই গ্রামের হজরত আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ও পলাশের মধ্যে জমিজমা নিয়ে গত দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সলুয়া কলেজের সামনে রফিকুল ইসলামকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন পলাশ। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে হামলাকারী পলাশকে ঘিরে ফেলে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতার বেধড়ক পিটুনিতে পলাশও গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন, আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রফিকুলকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে রফিকুলেরও মৃত্যু হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৪৪ দিন আগে
পঞ্চগড়ে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত
পঞ্চগড়ে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ জন নারী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার আমলাহা এলাকার মৃত ধীরেন রায়ের স্ত্রী খৈটালি বালা (৫২) এবং ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লি থানার বোর্ড অফিস কাঠালতলি এলাকার আব্দুল সাত্তারের স্ত্রী চম্পা খাতুন (৪৫)।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলেই নিহত হন খৈটালি বালা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে সেখানে মারা যান চম্পা খাতুন । এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪ জন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ জনকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে এবং ১ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতরা হলেন নাছরিন আক্তার, হিমেল, নাসিমা ও মকলেছার।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কয়েকজন যাত্রী নিয়ে দেবীগঞ্জ থেকে বোদা এলাকার দিকে যাত্রা করে। পথের মাঝে বিপরীত দিক থেকে আসা পাথরভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে মাথা ও শরীরে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই খৈটালিবালা নিহত হন। অটোরিকশার বাকি যাত্রীরা আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পথচারীরা তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চম্পা খাতুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হবে। এ ছাড়াও অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪৫ দিন আগে
ঝিনাইদহে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বিষ্ণুদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা যুবদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী ও শৈলকূপা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার সাদাতের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে বিষ্ণুদিয়া গ্রামে মসজিদের জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই নেতার ওই গ্রামের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে গতকাল (সোমবার) সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্ল্যা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সবাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৪৫ দিন আগে
নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
ঝালকাঠি পৌরসভার নতুন চর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম নিলুফা বেগম (৬২)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে সুগন্ধা নদীর পাড়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (সোমবার) রাত ১০টার দিকে নিলুফা বেগম নতুন চর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন হারিয়ে গেছে। তার স্বর্ণের নাকফুল ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা, কারণ তার নাক রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল।
ঝালকাঠি সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান আছে বলে জানান তিনি।
৪৫ দিন আগে
ল্যাম্প পোস্ট চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত, দুই যুবক নিহত
ময়মনসিংহ নগরীর জিলা স্কুল হোস্টেল মাঠে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন— নগরীর মাদরাসা কোয়ার্টার এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে হৃদয় (২৫)। অপরজনের নাম রাকিব মিয়া, তবে তার পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নগরীর জিলা স্কুল হোস্টেল মাঠের পরিত্যক্ত টিনশেডের পেছনে অকেজো ল্যাম্প পোস্ট চুরি করতে ওঠেন রাকিব। তিনি ল্যাম্প পোস্টে উঠে কাটার সময় পাশে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে তার শরীর ঝলসে যায়। বিষয়টি তার অন্য বন্ধু হৃদয় দেখতে পেয়ে তাকে বাঁচাতে যান। বাঁচাতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। এতে ঘটনাস্থলেই রাকিবের মৃত্যু হয়, গুরুতর আহত হন হৃদয়। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে দুজনকে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
৪৫ দিন আগে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন, পুড়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিসহ শত শত ঘর
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোরে সংঘটিত এই আগুনে শত শত ঘর (শেল্টার) ছাড়াও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর ৪টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকায় অবস্থিত ১৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আনিছ রাত পৌনে ৩টার দিকে গ্যাসের চুলায় পানি গরম করতে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এতে চুলা থেকে আগুন ধরে দ্রুত পাশের ঘনবসতিপূর্ণ শেল্টারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরাও অংশ নেন। দীর্ঘ পৌনে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
১৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লকের হেড মাঝি মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, আগুনে ৪৪৮টি ঘর, ২টি মসজিদ, ১০টি স্কুল ও ১টি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন অন্য ব্লকে ছড়াতে পারেনি।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। পাশাপাশি জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অগ্নিকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর আগে, গত ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে একটি হাসপাতাল এবং ২৫ ডিসেম্বর কুতুপালং ক্যাম্পে আগুনে বেশ কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪৬ দিন আগে
নওগাঁয় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী মা-মেয়ে নিহত
নওগাঁর পত্নীতলায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী মা-মেয়ে নিহত হয়েছে। এ সময় ট্রাক ভাঙচুর ও ট্রাকচালককে উৎসুক জনতা মারধর করে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নজিপুর পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পত্নীতলা উপজেলা আকবরপুর ইউনিয়নের উষ্ঠি গ্রামের কাউসার রহমানের স্ত্রী খাদিজা আক্তার (২৮) ও তার মেয়ে ফাতেমা জান্নাত (৯)।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় নজিপুর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কাউসার রহমান। পথে মোটরসাইকেলটি পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। এ সময় সাপাহার থেকে নজিপুর অভিমুখী কাঠবোঝাই একটি ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে মা ও মেয়ে নিহত হন।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি জব্দ ও চালককে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
৪৬ দিন আগে
ভোট এলেই দেওয়া হয় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি
ভোট এলেই কদর বাড়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রামনাথের ভিটা এলাকার দশ গ্রামের মানুষের। আর ভোট শেষ হলেই জনপ্রতিনিধিদের কাছে আর পাত্তা পাওয়া যায় না—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের মুখে একই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে গ্রামগুলোর ভোটাররা এখন চরমভাবে বিরক্ত। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না। ভোট দেব তাকেই, যিনি লিখিতভাবে অঙ্গীকার করবেন, সাঁকোর জায়গায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দেবেন।’
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের আলাই নদীতে একটি সেতু না থাকায় দশ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। নদী পার হতে হয় নড়বড়ে কাঠ ও বাঁশের সাঁকো দিয়ে। অসুস্থ রোগীকে ঘাড়ে করে পার করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোর কারণে নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত সাড়ে তিনশ দরিদ্র শিশু-কিশোর নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় অনেকেই।
আলাই নদীবেষ্টিত এই এলাকায় রয়েছে জামাইপাড়া, মফুরজান, গোয়ালবাড়ি, রামনাথের ভিটা, পোড়াগ্রাম, সর্দ্দার পাড়াসহ অন্তত দশটি গ্রাম। এসব গ্রামের বাসিন্দাদের নদী পার হওয়ার একমাত্র ভরসা রামনাথের ভিটা স্টেশন বাদিয়াখালী এলাকার পাকা সড়কের সঙ্গে সংযোগকারী একটি সাঁকো। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। কেউ কৃষিশ্রমিক, কেউ ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালান, কেউ পোশাক কারখানায় কাজ করেন। আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় নদীবেষ্টিত এসব গ্রামেই তাদের বসবাস। পান না উল্লেখযোগ্য কোনো নাগরিক সুবিধা।
কিছু পরিবারের সামান্য জমিজমা থাকলেও উৎপাদিত ফসল বিক্রির মতো কাছাকাছি কোনো হাটবাজার নেই। এলাকায় তরিতরকারি ও সবজির আবাদ ভালো হলেও যানবাহন চলাচলের সুযোগ না থাকায় নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে, পায়ে হেঁটে বা ঘাড়ে করে সবজি বহন করতে হয়।
স্টেশন বাদিয়াখালীর বাসিন্দা ও মানবাধিকারকর্মী কাজী আব্দুল খালেক বলেন, ‘এসব গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই কাঠ ও বাঁশের তৈরি সাঁকো। দশ গ্রামের মানুষ নিজেরাই চাঁদা তুলে প্রতি বছর সাঁকো তৈরি করেন। ভেঙে গেলে গ্রামে গ্রামে চাঁদা তুলে সেটি মেরামত করেন। নিজেদের টাকায় বাঁশ ও কাঠ কিনে সাঁকো বানানো ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার নারী-পুরুষের দাবি থাকা সত্ত্বেও এখানে দীর্ঘদিনেও একটি সেতু নির্মাণ হয়নি। ভোট এলেই প্রার্থীরা এসে বলেন—ভোট দিলে সেতু করে দেব। সেই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে মানুষ এখন ক্লান্ত।’
তিনি জানান, এই গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কম নয়, অথচ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা হাটবাজার নেই। তেল-লবণ কিনতে হলেও যেতে হয় স্টেশন বাদিয়াখালী হাটে। মাথাব্যথা, পেটব্যথাসহ জরুরি ওষুধ কিনতেও সাঁকো পার হয়ে ওই হাটে যেতে হয়। দশ গ্রামের অন্তত সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে এপারের সরকারি স্কুলগুলোতে আসতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবী, আলাই নদীতে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে গ্রামগুলোর মানুষের জীবনধারায় বড় পরিবর্তন আসবে। শত শত শিশু নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে। গ্রামের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গরুর দুধ হাটবাজারে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা সহজ হবে। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এসব অবহেলিত গ্রামে রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই দ্রুত নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে হাজারো গ্রামবাসীর দুর্দশা লাঘবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া বলেন, সেতু নির্মাণের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। চেয়ারম্যানের সুপারিশে সেখানে বাঁশ ও কাঠের সাঁকো নির্মাণের বরাদ্দ এসেছে। তবে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হলেও এখনও প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া যায়নি।
৪৬ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী নিখোঁজ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর গ্রামে মা ও মেয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহতরা হলেন— আমেনা বেগম (৩২) ও তার মেয়ে মরিয়ম (৮)।
নিহত আমেনার স্বামীর নাম মিজান মিয়া। তিনি কাঠমিস্ত্রী কাজ করেন। তারা ওই গ্রামের নুরুজ্জামান সরকারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, চার মাস ধরে আমেনা ও তার পরিবার ওই এলাকার ভাড়া বাসায় থাকেন। আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা তাদের বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করা হয়। তবে কারো সাড়া না পেয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ভেতরে মা ও মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তারা।
খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ বা পরকীয়াজনিত কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তার স্বামীর ব্যাপারেও খোঁজখবর করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
৪৬ দিন আগে