সারাদেশ
সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজনের বয়স ৯ মাস এবং আরেকজনের ৮ মাস।
রবিবার (১০ মে) গত ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়।
মৃত শিশুদের একজনের বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা। অপরজনের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। তাদের মধ্যে একজন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে এবং অপরজন ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা গেছে ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৩ শিশু।
এদিকে, বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে ভর্তি আছেন ২৬৮ জন।
গতকাল (শনিবার) সকাল ৮টা থেকে আজ (রবিবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত হয়নি। এই সময়ে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে সিলেটের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২২ জন।
২৫ দিন আগে
মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী আটক
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় মাদকসহ আটক হওয়া এক আসামিকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মী।
শনিবার (৯ মে) রাতে ৮ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক মাদক কারবারিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবির করতে গেলে পুলিশ সদরপুর ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা ও জামায়াতের চার নেতাকর্মীকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর থানার আমলা ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সদরপুর ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কলেজ সড়ক এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নওদা আজমপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রবিউলকে ৮টি ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে গিয়ে মাদক আইনে মামলা দেওয়া হয়।
মাদকসহ রবিউল গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী মিরপুর থানায় উপস্থিত হন। তারা হলেন— সদরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বিএনপি নেতা এনামুল হক এবং স্থানীয় জামায়াতের কর্মী সুজন আলী, আলাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।
থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মাদক ব্যবসায়ীকে মুক্ত করার দাবিতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদবির করতে আসা ওই ৫ জনকেই আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা অনৈতিকভাবে তদবির করছিলেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, তারা হয় এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, অথবা তারা মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এ কারণেই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রবিবার (১০ মে) সকাল ১০ টা পর্যন্ত আটককৃত ৫ নেতাকর্মী ও মাদক কারবারি রবিউল মিরপুর থানা পুলিশি হেফাজতে ছিল।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
২৫ দিন আগে
গাজীপুরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
রবিবার (১০ মে) ভোর ৪টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে ১০-১২ জনের সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের একটি দল একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে জনতা তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দাসহ তিনজনকে আটক করে পিটুনি দেয়। পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ও ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ বিষয়ে ময়নাতদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
২৫ দিন আগে
মহাসড়কে পুলিশি চাঁদাবাজির অভিযোগ: সাভারে অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ
সাভারে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অব্যাহত চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ ব্যাটারিচালিত অটো-রিকশাচালক।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে পাকিজা মোড় এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে সাভারের বিভিন্ন গলি ও শাখা সড়ক থেকে কয়েকশ রিকশাচালক একত্রিত হয়ে পাকিজা মোড়ে অবস্থান নেন। তারা মহাসড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে রিকশা রেখে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ব্যাপী (দুপুর ১২টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত) এই অবরোধ চলাকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের দাবি, মহাসড়কে রিকশা নিষিদ্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে তারা চলাচল করতে বাধ্য হন। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশ ও তাদের সোর্সরা প্রতিনিয়ত চালকদের আটকে ২ হাজার ৬০০ টাকা করে নেয়। এই টাকার কোনো রশিদও দেওয়া হয় না। প্রখর রোদের মধ্যে রিকশা চালিয়ে ৬০০/৭০০ টাকার বেশি ইনকাম করতে পারি না। রিকশা আটকের পর দেখা যায় ধারদেনা করে টাকা এনে ছাড়িয়ে নিতে হয়। আবার পরদিন একই কায়দায় তারা রিকশা আটক করে। পুনরায় টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে হয়।
তারা বলেন, হাইওয়ে পুলিশের এই চাঁদাবাজি থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। সরকার আমাদের রিকশা চালাতে দেবে না, তাহলে রিকশার কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক । আমাদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক, যাতে করে পরিবার নিয়ে দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারি।
বিক্ষুব্ধ চালকদের মুখ থেকে বলতে শোনা গেছে, ‘দিনভর যা আয় হয়, তার বড় একটা অংশ পুলিশকে দিয়ে দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখানো হয়।’
এদিকে, অবরোধের ফলে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে গেন্ডা এবং অন্যদিকে হেমায়েতপুর অভিমুখে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়। তীব্র গরমে বাসে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার গাড়িগুলো যানজটে আটকে থাকে।
পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন আন্দোলনরত রিকশাচালকদের বলেন, হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের একটা ব্যবস্থা করা হবে । পরে তারা পুলিশের এই আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান বলেন, হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার, সিএনজি, ই-বাইক এবং সব ধরনের তিন চাকাবিশিষ্ট যানবাহন চলাচল আইনত নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে চালকদের আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
চালকদের পক্ষ থেকে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে, বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে জানান, এগুলো কোনো ব্যক্তিগত চাঁদা নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়া। অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বা কাগজ থাকলে কেস স্লিপ দিয়ে পরে টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই রিকশাগুলোর কোনো লাইসেন্স বা সঠিক কাগজ না থাকায় তৎক্ষণাৎ মামলা দেওয়া হয়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ৩৯ ধারায় ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা এবং ব্যাংক চার্জ বাবদ ১০০ টাকা, অর্থাৎ মোট ২ হাজার ৬০০ টাকা জমা দেওয়ার পর গাড়ি ছাড়ার বিধান রয়েছে বলে জানান শেখ শাহজাহান।
২৬ দিন আগে
সরকার ক্ষমতায় যেতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে এবং বড় ফাঁকিবাজি করেছে: গোলাম পরোয়ার
জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, গণভোটের ৮৪ টি সংস্কারের পক্ষে সরকার ‘হ্যাঁ’ বলেছে, কিন্তু পার্লামেন্টে তারা উল্টো কথা বলছে। তারা জুলাই সনদ মানবে, কিন্তু গণভোট মানবে না। অথচ ক্ষমতায় যেতে তারাও ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়েছে এবং বড় ফাঁকিবাজী করেছে। সরকার নিজ স্বার্থে জুলাই সনদ ও গণভোট—এ দুটিকে আলাদা করে ফেলেছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও মানবকল্যাণ পরিষদের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরোয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারি দল পার্লামেন্টে বলছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে মানব। এর অর্থ জুলাই সনদে যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে সেই নোট অব ডিসেন্টসহ তারা মানবে। কিন্তু তারা কখনো বলে না যে, গণভোটের রায় তারা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। এর অর্থ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়গুলো তারা নোট অব ডিসেন্টসহ মানবে। অথচ ক্ষমতায় যেতে তারাও ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়েছে এবং বড় ফাঁকিবাজী করেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করব অবশ্যই। এ নির্বাচনটিকে আমরা জাতীয় নির্বানের আগেই চেয়েছিলাম এবং সরকার ‘বিশেষ উদ্দেশ্যে’ সেটি মানেনি।
জামায়াতে ইসলামীর এই সেক্রেটারি আরও বলেন, এখন আমরা দাবি করছি, সরকার বড় অন্যায় করেছে যে ক্ষমতায় এসে পার্লামেন্টে শুরু হবার আগেই উনারা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত করে ফেলেছেন। এটা চরমভাবে গণতন্ত্র এবং সংবিধান-বিরোধী একটি কাজ। কীভাবে একটি নির্বাচিত সরকার এসে সিটি করপোরেশনের মতো গুরুত্বপুর্ণ জায়গায় নির্বাচিত দলীয় লোক দিয়ে দিলেন? এতেই বোঝা যায়, সরকার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে না।
জেলা জামায়াতে আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা সেক্রটারি মোহাম্মদ আলমগীর, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি ফজলে রাব্বিসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ দিন আগে
যশোরে এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েকে সহযোগিতা: প্রধান শিক্ষকসহ কারাগারে ২
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থী নিজ মেয়েকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাদের আটক করা হয় এবং রাতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহানারা খাতুনের মেয়ে ঝিকরগাছা উপজেলার কুলবাড়িয়া বিকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সে বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, গত ২৮ এপ্রিল ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোপনে তার মেয়ের উত্তরপত্রটি সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় উত্তরপত্রের ভুলগুলো সংশোধন করে পুনরায় তা জমা দেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ এবং উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করেন। প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় তাদের দুইজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
একেএম নুরুজ্জামান জানান, তদন্তে অনৈতিক সহযোগিতার সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। পরীক্ষাকেন্দ্রের পবিত্রতা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
ওসি মারুফ হোসেন জানান, গতকাল (শুক্রবার) রাতেই ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৮, ৯, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আজ (শনিবার) সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে শিক্ষার মান ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে বৃদ্ধকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন
লালমনিরহাট সদর উপজেলায় লিবিয়া প্রবাসী ছেলেকে কেন্দ্র করে মো. আব্দুল মোল্লা (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে মসজিদের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। জনসম্মুখে ওই বৃদ্ধকে কাপড় ছিঁড়ে ফেলা, মুখে থুথু নিক্ষেপ এবং মারধর করা হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে সিন্দুরিয়া খামারটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের শিকার ওই বৃদ্ধ বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে অভিযুক্ত মহির উদ্দিনের ছেলে হাসানুর রহমান বৃদ্ধ আব্দুল মোল্লার ছেলে মিজানুর রহমানের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে হাসানুর কর্মস্থলে সমস্যা হওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আব্দুল মোল্লাকে চাপ দেন বিবাদীরা। এ নিয়ে বিরোধ বাঁধে। পরে গতকাল (শুক্রবার) জুমার নামাজ শেষে আব্দুল মোল্লা স্থানীয় জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাকে ঘেরাও করেন।
এরপর তাকে টেনেহিঁচড়ে মসজিদের সামনের একটি আম গাছের কাছে নিয়ে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে ৩-৪ জন ব্যক্তি বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এ ছাড়াও তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন তারা। চরম অপমানজনকভাবে বৃদ্ধের মুখের ওপর থুথু নিক্ষেপও করেন অভিযুক্তরা।
নির্যাতনের একপর্যায়ে বৃদ্ধের গায়ের পাঞ্জাবি ও পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। প্রকাশ্যে জনসম্মুখে তাকে প্রায় বিবস্ত্র করে চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হয় তাকে। এ সময় তার পকেটে থাকা বেশ কিছু টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
নির্যাতনের সময় বৃদ্ধ আব্দুল মোল্লা অঝোরে কেঁদে বারবার ক্ষমা চাইলেও বিবাদীদের মন গলেনি। পরে তাকে বাঁচাতে তার ভাতিজা মিঠু মিয়া এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। এই অমানবিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখে স্থানীয় লোকজন জাতীয় সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মোল্লা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত হলেও শারীরিক আঘাত এবং মানসিক অপমানে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা এবং অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক। আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের সংগ্রহে আছে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২৬ দিন আগে
গাজীপুরে ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা: মরদেহের ওপর মিলল চাঞ্চল্যকর ‘অভিযোগপত্র’
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর মরদেহের ওপর টাইপ করা অভিযোগপত্র রেখে পালিয়েছেন অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীর পরকীয়া ও অর্থ আত্মসাতের ক্ষোভ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল (২২)। শারমিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের শাহাদাত মোল্যার মেয়ে ছিলেন। তার স্বামী ফোরকান মিয়া প্রাইভেট কারের চালক।
আজ সকালে ফোরকানের ফোন কল থেকেই তাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা এসে ঘরের ভেতরে মরদেহগুলো দেখতে পান। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা মো. ফোরকান তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের ওই বাড়িতে গত পাঁচ মাস ধরে ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানানো হয়নি।
মরদেহের ওপর ৫টি অভিন্ন অভিযোগপত্র
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মদের বোতল, চাপাতি ও কম্পিউটারে টাইপ করা একটি অভিযোগপত্রের পাঁচটি অভিন্ন কপি উদ্ধার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে ফোরকান তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, স্ত্রী শারমিন তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর ফোরকান এসব নিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর জেরে গত ৫ মে শারমিন ও তার লোকজন মিলে ফোরকানকে বেঁধে রেখে মারধর করেন।
এছাড়া শারমিন ও তার বাবাসহ কয়েকজন মিলে ফোরকানের উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে তাদের নামে জমি কিনেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রটি উল্লিখিত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের আলামত
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ফোরকান তার পরিবার নিয়ে আগে টঙ্গীতে থাকতেন। মাস পাঁচেক আগে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তিনি কাপাসিয়ার ওই নিরিবিলি এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সেখানে এতদিন ধরে বসবাস করলেও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে তাদের তেমন সখ্যতা ছিল না।
ঘটনাস্থল থেকে মদের খালি বোতল ও চাপাতিসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে সবাইকে চেতনাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ফোরকান নিজেই স্বজনদের ফোনে বিষয়টি জানান এবং এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। নিজের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি নিয়ে তিনি পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন টিম আলাদাভাবে তদন্ত করছে। শিগগিরই ফোরকানকে গ্রেপ্তার এবং খুনের রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
২৬ দিন আগে
এসএসসির খাতায় উত্তর লিখে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত, পটুয়াখালীতে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে কথিত ‘সিক বেডে’ এক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রকাশ্যে গণিত পরীক্ষার খাতায় উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করার ঘটনায় খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ৩ মে গণিত পরীক্ষার দিন অসাদুপায় অবলম্বনের দায়ে খেপুপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ভিজিলেন্স টিম বহিষ্কার করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক জহিরুল ইসলাম (সমাজবিজ্ঞান) ও মেজবা উদ্দিন ওই শিক্ষার্থীকে অঙ্কের সমাধান সংবলিত পরীক্ষার বোর্ডের আলাদা বাড়তি খাতা সরবরাহের প্রমাণ মিলেছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ এ ঘটনার পরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেককে বিষয়টির তদন্তের দায়িত্ব দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, নকল সরবরাহ করা, কথিত ‘সিক বেড’ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। শুধু তা-ই নয়, এই দুই শিক্ষকের যোগসাজশে বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করা হয়েছিল। এমনকি সিসি ক্যামেরাবিহীন ওই কক্ষের মূল দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক শিক্ষক দেবাশীষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নকলে সরাসরি সহায়তার প্রমাণও মিলেছে।
গত ৬ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে শিক্ষা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতায় কয়েকটি অঙ্কের সমাধান লিখে দেওয়ার বিষয়ে সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। শিক্ষার্থীর খাতার হাতের লেখার সঙ্গে অতিরিক্ত খাতার হাতের লেখার মিল নেই। মূল খাতার অর্ধেকের বেশি খালি থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকের সই ও তারিখবিহীন গণিতের সমাধান করা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতা পাওয়া যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার নমুনা পরীক্ষাও করেন। এরপর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর কাছে পাওয়া অতিরিক্ত খাতার লেখার সঙ্গে মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার বহু অক্ষরের মিল পাওয়া গেছে। তারপরও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর বাবা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, তার সন্তানের অসুস্থতার খবর তার জানা ছিল না।
কক্ষপরিদর্শক দেবাশীষ চন্দ্র সিকদার তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, পরীক্ষা চলাকালীন (ঘটনার দিন) শিক্ষক জহিরুল ইসলাম ৯ নম্বর কক্ষে (সিসি ক্যামেরাবিহীন) বহু নির্বাচনি প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। কিছুক্ষণ পরেই সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ওই কক্ষে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীর সৃজনশীল প্রশ্নের ছবি তুলে নেন। এক ঘণ্টা পরে বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত উত্তরপত্রে প্রশ্নের সমাধান করে ওই পরীক্ষার্থীকে তা সরবরাহ করেন। কক্ষ পরিদর্শক দেবাশীষ মেজবা উদ্দিনকে বাধা দিলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে নিবৃত থাকতে বাধ্য করেন। এরপর কেন্দ্র সহকারী জহিরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে নকলে সহায়তা করেন। এমনকি মেডিকেল সনদ ছাড়া সভাপতি কিংবা কেন্দ্রের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডে’ ক্যামেরাবিহীন কক্ষে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মুহাম্মদ মহসিন রেজাকে অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ও জহিরুল ইসলাম চাপ প্রয়োগ করেন বলেও উল্লেখ করেছেন দেবাশীষ।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব জানান, তিনি এই প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। মেডিকেল সনদ ব্যতীত বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডের’ কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষক তাকে চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত এবং ওই দুই শিক্ষকের এ বিষয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও তিনি তদন্ত টিমকে জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার মতামতে উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্র সহকারী কম্পিউটার অপারেটর জহিরুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সিসি ক্যামেরাবিহীন কক্ষে মেডিকেল প্রত্যয়ন ব্যতীত ‘সিক বেডে গণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং বোর্ডের সরবরাহ করা অতিরিক্ত উত্তরপত্রে নকল সরবরাহ করায় একই সঙ্গে অসাদাচারণ ও ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। ঘটনাটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধান-৫২ (২) (জ), ৫২ (২) (ঝ)-এর দণ্ড ও প্রবিধান ৫২-এর অপরাধযোগ্য দণ্ড ও দি পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট ১৯৮০-এর ৮ ও ৯ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তিনি।
এই প্রতিবেদনের আলোকে উপরোক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয় অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বলেন, ‘মূলত কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শক তাদের অপরাধ আমাদের ওপর চাপাচ্ছেন। আমাদের ওপর আনীত অভিযোগ কিংবা দায় সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। কারণ কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকের অনুমতি ছাড়া অন্য কারও কক্ষে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, জড়িত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদন আকারে প্রদান করা হয়েছে। সরকারের নকলমুক্ত পরিবেশকে তারা সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন অপকর্ম করেছেন বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেছেন।
২৬ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মক্তবের ইমাম গ্রেপ্তার
নড়াইলে মক্তবপড়ুয়া এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল সদর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলার চাকই বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে জামিল (৫৭)। উপজেলার রুখালী গ্রামের এই বাসিন্দা চাকই পশ্চিম পাড়া বায়তুস সালাম জামে মসজিদের ইমামতি করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নামাজ শেষে রাতে মসজিদেই থাকেন আমিনুল ইসলাম। প্রতিদিন ভোরে ফজরের নামাজের পরে তিনি এলাকার ছেলেমেয়েদের মসজিদের বারান্দায় মক্তবে আরবি পড়ান। ভুক্তভোগী শিশুটিসহ স্থানীয় আরও দুই মেয়ে শিশু প্রতিদিন সকালে মক্তবে তার কাছে আরবি পড়তে যায়। পড়ানোর মাঝে কোনো এক সময় তাদের যৌন নিপীড়ন করেন আমিনুল।
গত ৫ জুন আমিনুল ভুক্তভোগী শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের ভেতর ডেকে নেন। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। তারা অন্য শিশুদের কাছে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গেও এমন করা হয়েছে বলে জানায়। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বিষয়টি আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে গেলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন স্থানীয়রা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
ওসি অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, আমিনুল রাতে শিশুদের যৌন হয়রানি করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে স্বীকার করেছেন। আজ (শনিবার) তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
২৬ দিন আগে